পানের দাম পানির দর ॥ চাষিরা হতাশ
৭ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৫৮
সরওয়ার কামাল, মহেশখালী (কক্সবাজার) : মহেশখালীতে মিষ্টি পানের বাম্পার ফলন হলেও পানের মূল্য পানির দরে হওয়ায় চাষিরা চরম হতাশ। চলতি মৌসুমে উপজেলায় পানের উৎপাদন বেড়েছে, কিন্তু বিক্রিতে পানির দর। মাস কয়েক আগে ভালো দাম পাওয়া গেলেও এখন হঠাৎ পানের দাম কমে গেছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা। বর্তমানে পানের বিড়া বিক্রি হয়েছে ১৫০-১০০ টাকায়।
বর্তমানে কৃষিপণ্য, শ্রমিকসহ সবকিছুর মূল্য বেড়ে যাওয়ার কারণে পান বিক্রির টাকা দিয়ে ঘর সংসার, পানের বরজ সামলানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাই তারা সরকারিভাবে সহজ শর্তে ও অতিরিক্ত মুনাফাবিহীন লোনের দাবি করেছে।
হোয়ানক রাজুয়ারঘোনা এলাকার পান চাষি আব্দুর রাজ্জাক জানান, দুই সপ্তাহ আগে প্রতি বিড়া পান ৪-৫শ’ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে সে পানের দাম ১৫০ টাকা।
স্থানীয় পান চাষিরা জানান, তিন বছর ধরেই পানের দাম পতনের দিকে। মাঝেমধ্যে দাম বাড়লেও তা এক মাসের বেশি স্থায়ী হয় না।
ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন জানান, পানের মূল্য কম হওয়ার কারণে চাষি চরম হতাশায় ও পরিবারের গ্লানি টানতে কষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি পানের মূল্য পানির দরে হওয়ায় পানের ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছি না, ক্ষতিগ্রস্তের মধ্যে আছি।
বড় মহেশখালীর মুন্সিরডেইল গ্রামের পান চাষি আব্দুল গফুর বলেন, ১০ শতক জমিতে একটি পানের বরজ করেছি। পানের চারা কেনা, নির্মাণ সামগ্রী এবং শ্রমিকের মজুরিসহ সব মিলিয়ে ২ লাখ টাকা খরচ করেছি। এখন পান সংগ্রহের ভরা মৌসুমে পানের দর পতনের কারণে পুঁজি উঠে আসবে কিনা সন্দেহ দেখা দিয়েছে। অন্যান্য এলাকায় উৎপাদিত পানের চাইতে মহেশখালীতে উৎপাদিত পানের স্বাদ আলাদা। মহেশখালীর মিষ্টিপান সৌদি আরব, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে।
মহেশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, মহেশখালীতে মিষ্টি পানের চাষি প্রায় ২৭ হাজারেরও বেশি। ৪ হাজার একর জমিতে ছোট-বড় প্রায় ১৩ হাজার বরজ রয়েছে।
চলতি অর্থবছরে (২০২৪-২৫) বরজগুলোয় প্রতি হেক্টরে ২০ টন মিষ্টি পান উৎপাদিত হয়েছে।
বড় সাইজের পানের বিড়ার মূল্য ১৫০ টাকা, মাঝারি ১০০ টাকা ও ছোট পান ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সুতরাং চাষিরা পানের চাষ করে এবারে বেশি লাভবান হতে পারছেন না। তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে, তাই তারা পরিবার পরিজন কষ্টে দিনাতিপাত করছে। মানবিক দিক চিন্তা করে সরকার কর্তৃক সহজ শর্তে ও বিনা সুদে লোন দিয়ে সহযোগীতা করলে তারা সহজে স্বাবলম্বী হতে পারবে।