অপপ্রচারে লিপ্ত ফ্যাসিস্টদের দোসররা
৭ আগস্ট ২০২৫ ১৩:৪৮
স্টাফ রিপোর্টার : সরকারের কঠোর অ্যাকশন না থাকায় বিদেশে নয়, দেশের মাটিতে বসেই জুলাই অভ্যুত্থানের নায়কদের জঙ্গি ও সন্ত্রাসী বলে আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসররা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললেই এমন পোস্ট পাওয়া যাচ্ছে অহরহ। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিকে পুলিশ হত্যা দিবস বলেই ঘোষণা করছে কোনো কোনো ফ্যাসিস্টরা। বিদেশে বসে নামে-বেনামে অপপ্রচারের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের মাটিতে বসেই এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছে কেউ কেউ। দেশে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে যারা হত্যা মামলার প্রকৃত আসামি, তারাও রয়েছে নিরাপদে। শুধু অপপ্রচারেই সীমাবদ্ধ নয় তারা, গোপনে গোপনে সংগঠিত হচ্ছে তারা। স্বপ্ন দেখছে ফের ফ্যাসিস্টের রাজত্ব প্রতিষ্ঠার। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের দায়িত্বে একাধিক নেতার সঙ্গে বিভিন্ন সময় কথা হয় এ প্রতিবেদকের এ সময় জানা যায় শতসহস্র মানুষকে গুলি করে হত্যা করার পরও দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। উল্টো ফের আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বিভোর তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ ব্যাপক অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। আওয়ামী দলীয় সমর্থিত একাধিক সাইবার নেটওয়ার্ক পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম; বিশেষ করে ফেসবুক, ইউটিউব ও এক্স (সাবেক টুইটার) ব্যবহার করে বিরোধী রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে অশান্ত করতে এ ফ্যাসিস্ট দোসররা ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা ও মিডিয়া বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রোপাগান্ডা এখন একটি নতুন ধরনের রাজনৈতিক যুদ্ধ। এখানে অপতথ্যই অস্ত্র। আওয়ামী লীগ দলগুলো অনলাইনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে গিয়ে নৈতিকতা ও সত্যতা উপেক্ষা করছে, যা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। এ অপপ্রচারের প্রবণতা শুধু একটি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আত্মগোপনে থাকা এই দলের সমর্থকরাও একইকাজে জড়িয়ে পড়ছে, যা সামাজিকমাধ্যমকে বিষাক্ত করে তুলছে। প্রতিদিনই আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকরা নিজেরা গুজব রটিয়ে সরকারকে এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে। ৫ আগস্ট হাসিনা পালানোর পরও ন্যূনতম লজ্জা অনুভব করছে না পতিত সরকারের সমর্থকরা।
সাজিদা হক (ঝযধলবফধ ঐধয়ঁব) ঢাকার একজন সংবাদকর্মী। যিনি ফেসবুকে নিয়মিত প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। প্রতিনিয়তই এ নারী অপপ্রচার চালায়। গত ৫ আগস্ট মঙ্গলবার যখন এ প্রতিবেদন লেখা হচ্ছিল, ঠিক তখনো (৫ আগস্ট বেলা ১টা ৩ মিনিট) লাইভে এসে প্রোপাগান্ডা ছড়ান তিনি। শুধু সাজিদা হক একা নন, এমন হাজারো আইডি থেকে চালানো হচ্ছে অপপ্রচার।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে সরকারের সাইবার ক্রাইম ইউনিট এসব গুজব বা অপপ্রচারগুলো দেখেন কিনা, তা কেউ নিশ্চিত নন। অপপ্রচার চালানোর দায়ে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বা কারো বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অথচ অনলাইন অপপ্রচারের বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে দেখা জরুরি।
প্রসঙ্গত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন রাজনীতির প্রধান এক ফ্রন্টলাইন হয়ে উঠেছে। এ প্ল্যাটফর্মে তথ্য প্রচারের স্বাধীনতা যেমন গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অপপ্রচার ও গুজব একটি সুস্থ রাজনীতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এক্ষেত্রে সব পক্ষের উচিত এ বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং নাগরিকদের তথ্য সচেতনতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।