সবজিতে নেই স্বস্তি, স্থিতিশীল মাছের বাজার
৭ আগস্ট ২০২৫ ১৩:৪৭
স্টাফ রিপোর্টার : নিত্যপণ্যের মূল্য প্রতিদিনই বাড়ছে। বেশ কিছুদিন স্থিতিশীল থাকার পর এখন নিত্যপণ্য স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। চালের মূল্যবৃদ্ধির পর এখন স্থিতিশীল। অর্থাৎ বাড়ার পর কমেনি। ফলে মানুষ বাড়তি দামেই কিনছে চাল। মাছের মূল্যও তুলনামূলক অনেক বেশি। রুই, পাঙাশ, তেলাপিয়া ছাড়া সাগরের মাছে হাত দিতে পারছেন না স্বল্প আয়ের মানুষ। টানা বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়ে বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে সব ধরনের সবজি। অতি প্রয়োজনীয় সবজি আলু ও পেঁয়াজের মধ্যে আলুর মূল্য কম থাকলেও লাফিয়ে বেড়েছে পেঁয়াজের মূল্য। অর্থাৎ সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সুখবর নেই।
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দীর্ঘদিন ধরে পেঁয়াজের মূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ছিল। ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি ছিল পেঁয়াজের মূল্য, আর এখন বর্তমান সরকারের সময় সর্বোচ্চ মূল্যে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। গত ৫ আগস্ট মঙ্গলবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের মূল্য ৭০-৭৫ টাকা বিক্রি করতে দেখা গেছে। রাজধানীর মাতুয়াইল বাদশাহ মিয়া রোডের এক নম্বর গলিতে নিয়মিত পেঁয়াজ ও আলু বিক্রি করেন ৬০ বছরের বেশি বয়সের এক মুরুব্বি। তার কাছে এ প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়Ñ কেন পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে? তিনি জানান, ৪০ টাকা থেকে হঠাৎ মূল্য হয়ে গেল ৫০ টাকা। সেখান থেকে ৫৫, এরপর ৬০ টাকা হলো পেঁয়াজের মূল্য, কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এখন মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজি ৭৫ টাকা। এ বিক্রেতা জানান, প্রতি কেজি ৭১ টাকা করে তিনিই ক্রয় করেছেন। আনতে খরচ আছে, অর্থাৎ পরিবহন খরচ, এরপর একজন ব্যক্তিকে সময় দিতে হয়। প্রতি কেজি ক্রয়মূল্যের চেয়ে ৪ টাকা বেশি বিক্রি না করতে পারলে তো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মাঠে মারা যাবে। এদিকে এক পাল্লা (৫ কেজি) আলু এখনো খুচরা বাজারে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১১০ টাকায়।
রাজধানীর খুচরা কাঁচাবাজারে খবর নিয়ে জানা গেছে, ফের বাড়তে শুরু করেছে ব্রয়লারসহ সব মুরগির দাম। কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে এসব মুরগির মূল্য। অবশ্য আগের মতোই রয়েছে গরু ও খাসির গোশতের মূল্য। বাজারে খবর নিয়ে জানা গেছে, ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়, এক সপ্তাহ আগেও সেটি ছিল ১৬০ টাকা। সোনালি মুরগির দামও বেড়ে এখন ৩০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এদিকে রাজধানীর বাজারে গরু ৭৫০ থেকে ৭৮০, খাসি ১১০০ আর ছাগলের গোশত ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় স্থিতিশীল রয়েছে রুই ও কাতল মাছ। বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজিতে। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৭০০, টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০, শিং ৪০০ থেকে ৪৫০, কৈ ২০০ থেকে ২২০ এবং তেলাপিয়া ও পাঙাশ পাওয়া যাচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। স্বল্প আয়ের মানুষ অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে বিক্রি হচ্ছে- এমন পণ্যের দিকেই ঝুঁকছেন।