আয় ৪০০ কোটি, ঋণের কিস্তি ৭৪০ কোটি টাকা

মেট্রোরেলের আয়ে ঋণের কিস্তি উঠছে না

স্টাফ রিপোর্টার
৭ আগস্ট ২০২৫ ১৩:৪৬

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার মেট্রোরেলে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে যাত্রী আসা-যাওয়া করেন। ঢাকাবাসীর কাছে জনপ্রিয় এ মেট্রোরেলের অধিকাংশ ট্রিপেই যাত্রী ঠাসাঠাসি করে চলাচল করছেন। বিশেষ করে অফিস শুরু ও ছুটির ব্যস্ত সময়ে অনেকেরই প্রথম চেষ্টায় মেট্রোরেলে উঠা অনেক কঠিন। এরপরও যাত্রী-ভাড়া থেকে মেট্রোরেলে যে আয় হয়, তা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করা যাবে না।
মেট্রোরেলের বর্তমান আয়ের ধারা এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। মেট্রোরেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারকে ভর্তুকি দিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল করছে। দিনে গড়ে চার লাখের মতো যাত্রী চলাচল করেন। মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের সম্প্রসারণের কাজ চলমান। মেট্রোরেলের এ লাইনের নাম এমআরটি-৬।
এমআরটি-৬ প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ব্যস্ত সময়ে সাড়ে তিন মিনিট পরপর ট্রেন চলাচল করবে। এখন ৮-১২ মিনিটের ব্যবধানে ট্রেন চলাচল করে। এছাড়া রাত ১০টার পর মেট্রোরেল চলাচল করে না।
বর্তমানে মেট্রোরেলের আয় ও ঋণের কিস্তি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত অর্থবছরে টিকিট বিক্রি থেকে অনিরীক্ষিত (প্রভিশনাল) আয় ছিল ৪০০ কোটি টাকার মতো। সেখানে আগামী ২০৩০-৩১ সাল পর্যন্ত বছরে ঋণের কিস্তি হিসেবে ৪৬৫ কোটি থেকে ৭৪০ কোটি টাকা দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আশপাশের দেশের তুলনায় ঢাকার মেট্রোরেলের যাত্রী-ভাড়া বেশি। এ অবস্থায় ভাড়া বাড়িয়ে আয় বৃদ্ধি করার সুযোগ খুব একটা নেই। মেট্রোরেলের চলাচল বাড়ানো, স্টেশনের কাছে গাড়ি পার্কিং ও বিপণিবিতান ভাড়া দিয়েও আয় বৃদ্ধির সুযোগ আছে।
ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, মেট্রোরেলের নির্মাণকালীন ১০ বছর পর্যন্ত জাইকার ঋণের মূল কিস্তি দিতে হয়নি, যা গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে পরিচিত। ২০২৩ সালের জুন থেকে সীমিত আকারে ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত ৭৫ কোটি টাকার মতো পরিশোধ করা হয়েছে। এ বছর আরও ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। তবে আগামী বছরের মে থেকে বড় অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করতে হবে। সব মিলিয়ে তখন থেকে পরবর্তী এক বছরে প্রায় ৪৬৫ কোটি টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হবে।
ডিএমটিসিএল সূত্র জানিয়েছে, এরপর পর্যায়ক্রমে ঋণের কিস্তি পরিশোধের পরিমাণ আরও বাড়বে। ২০৩০-৩১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে এমআরটি-৬ নির্মাণে নেওয়া ঋণের কিস্তি হিসেবে ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করতে হবে। অর্থাৎ এ সময়ে গড়ে বছরে ৭৪০ কোটি টাকা ঋণের কিস্তি বাবদ পরিশোধ করতে হবে।
এমআরটি-৬ প্রকল্পের জন্য পাঁচটি আলাদা চুক্তির মাধ্যমে জাইকার কাছ থেকে ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। এ ঋণ সুদ-আসলে প্রতি বছর দুটি কিস্তিতে আগামী ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের কিস্তির টাকার পরিমাণও বেড়ে যাবে।
ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিএমটিসিএলের অনিরীক্ষিত (প্রভিশনাল) আয় ৪০০ কোটি টাকার মতো। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে টিকিট বিক্রি করে আয় ছিল প্রায় ২৪৪ কোটি টাকা। ২০২২ সালে আংশিক চালুর পর ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ২২ কোটি টাকার বেশি।
ট্রেনের সংখ্যা এবং মেট্রোরেলের চলাচলের সময় বাড়িয়ে সেটা ৫০০ কোটি টাকায় নেওয়া যাবে। কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হতে আরও বছর দুয়েক লাগবে। তখন আয় আরও বাড়বে। তবে দিন দিন মেট্রোরেলের পরিচালনা খরচও বাড়বে। কারণ এখনো রক্ষণাবেক্ষণ এবং যন্ত্রপাতির দেখভাল করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আগামী বছর জানুয়ারি থেকে ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষকেই রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় করতে হবে।
মেট্রোরেল পরিচালনায় যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, টিকিট বিক্রি থেকে আয় ৭০০ কোটি টাকা হলেও নির্মাণ ব্যয় তুলতে ৫০ বছর লেগে যাবে। মেট্রোরেল যত পুরোনো হবে, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা ব্যয় বাড়বে।