ফ্যাসিবাদবিরোধী স্লোগানে ‘৩৬ জুলাই’ উদযাপন
৭ আগস্ট ২০২৫ ১৩:২২
স্টাফ রিপোর্টার : গত বছরের ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এ উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে গত ৫ আগস্ট মঙ্গলবার আয়োজন করা হয় ‘৩৬ জুলাই উদযাপন’ অনুষ্ঠানের। কেউ জাতীয় পতাকা উড়িয়ে, কেউ মাথায় জাতীয় পতাকার ব্যান্ডানা পরে হাজির হন সেখানে। দুপুর থেকেই মানিক মিয়া এভিনিউয়ে জড়ো হতে থাকেন ছাত্র-জনতা। বিকাল গড়াতেই স্বৈরাচারের পতনের দিনটি উদযাপনের এ অনুষ্ঠানে সব বয়সের ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে। দিনব্যাপী এ আয়োজনে একে একে গান পরিবেশন করেন দেশের জনপ্রিয় শিল্পী, ব্যান্ড ও বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠী।
গত ৫ আগস্ট দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জুলহাজ্জ জুবায়ের ও সারা আলম। ‘সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী’র পরিবেশনায় দেশের গান দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু। শিল্পীরা একে একে গান পরিবেশন করেন- ‘এই দেশ আমার বাংলাদেশ’, ‘আয় তারুণ্য আয়’, ‘জীবনের গল্প’, ‘ওমা আর কেঁদো না’, ‘যাদের জন্য পেলাম আবার নতুন বাংলাদেশ’ এবং জারিগানসহ ইসলামিক সংগীত। এরপর ‘কলরব শিল্পীগোষ্ঠী’ মঞ্চে এসে পরিবেশন করে ‘তোমার কুদরতি পায়ে’, ‘দে দে পাল তুলে দে’, ‘ধন ধান্য পুষ্পভরা’, ‘ইঞ্চি ইঞ্চি মাটি’ ও ‘দিল্লি না ঢাকা’। এরপর কণ্ঠশিল্পী নাহিদ পরিবেশন করেন ‘পলাশীর প্রান্তর’ ও ‘৩৬ জুলাই’ গানদ্বয়। পরে তাশফির কণ্ঠে শোনা যায় ‘নোঙর তোলো তোলো’, ‘তুমি প্রিয় কবিতা’, ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’, ‘চল চল’ ও ‘ধন ধান্য পুষ্পভরা’।
এদিকে বেলা ২টা ২৫ মিনিটে শেখ হাসিনার পলায়নের এক বছর উপলক্ষে ‘ফ্যাসিস্টের পলায়নের ক্ষণ’ পালন করে ছাত্র-জনতা। প্রতীকী গ্যাস বেলুনের ‘হেলিকপ্টার’ উড়িয়ে এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এদিন বিকাল পৌনে ৫টায় দেয়া হয় নামাজের বিরতি।
এরপর জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠের অনুষ্ঠান শুরু হয়। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়ার পর অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতারা উপস্থিত ছিলেন। ঘোষণাপত্র পাঠের পর শুরুতে ড. ইউনূসের সঙ্গে করমর্দন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এরপর এগিয়ে এসে ড. ইউনূসের সঙ্গে কোলাকুলি করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। একে একে মঞ্চে থাকা অন্যান্য রাজনীতিকের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান। এ তালিকায় অন্যদের মধ্যে ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর সৈয়দ রেজাউল করীম, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক নুরুল হক নূর ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব সাজিদুর রহমান। রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠানের মঞ্চে ছিলেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেমন্তি।
এদিকে বাস্তবায়নের স্পষ্ট কোনো নির্দেশিকা না থাকায় জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঘোষণার পরপরই সভাস্থল থেকে বেরিয়ে যান দলটির নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘোষণাপত্রে হতাশ, জাতি হতাশ।’
জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠের পরপরই মঞ্চে ওঠেন সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান। এ সময় তিনি বেশ কয়েকটি গান পরিবেশন করেন।
পরে বেসিক গিটার লার্নিং স্কুলের পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর এফ মাইনর, পারশা তাদের পরিবেশনা করে। মাগরিবের নামাজের বিরতির পর মঞ্চে ওঠেন এলিটা করিম। বেশ কয়েকটি গান তিনি পরিবেশন করেন। রাত পৌনে ৯টায় শুরু হয় জনপ্রিয় ব্যান্ড আর্টসেলের পরিবেশনা। আকাশ মেঘলা থাকায় নির্ধারিত সময়ের বেশ পরে রাত ১১টায় প্রদর্শিত হয় ড্রোন ড্রামা ‘ডু ইউ মিস মি?’