শামসুল হুদা কমিশন ও ডিগবাজির নির্বাচন


২৪ জুলাই ২০২৫ ০৯:৪০

॥ সরদার আবদুর রহমান ॥
বাংলাদেশের নির্বাচন ও ভোট ব্যবস্থাকে আওয়ামী লীগ এবং তার দোসররা খাদের কোন গভীরে নিক্ষেপ করেছিল, তার কিছু বিবরণ পূর্ববর্তী কলামগুলোয় বর্ণনা করা হয়েছে। এ দফায় ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে আলোকপাত করা হচ্ছে।
জাতির কাছে এ নির্বাচনকে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে। আর সেই মডেলের ‘ম্যান্ডেট’ হাসিল করেই ক্ষমতায় আসীন আওয়ামী জোট ২০১১ সালে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা উচ্ছেদ করে ফেলে। যদিও আওয়ামী লীগের ইশতেহার বা নির্বাচনী ঘোষণায় এ সংক্রান্ত কোনো বিষয় উল্লেখ ছিল না। ফলে এটি ছিল জাতির সঙ্গে একটি বড় রকম প্রতারণা।
২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচন ছিল ফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিনের সাথে আঁতাতের একটি প্রক্রিয়া মাত্র। আর এ প্রক্রিয়ার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি। স্বভাবতই প্রণব বাবু আওয়ামী লীগের জন্য পথ প্রশস্ত করে দেন এবং এরই ধারাবাহিকতায় তারা পরবর্তী আরো তিনটি নির্বাচনকে নিজেদের ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করার লাইসেন্স পেয়ে যায়।
নির্বাচনের পটভূমি
এ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন সাবেক আমলা ড. এটিএম শামসুল হুদা। অপর দুজন কমিশনার ছিলেন মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বহুল আলোচিত সামরিক বাহিনীর সমর্থনে ক্ষমতাসীন ফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিন নেতৃত্বাধীন জরুরি সরকারের অধীনে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ ও ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কের জেরে যথাসময়ে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। সামরিক সরকার ২০০৭ সালের শুরুর দিকে জরুরি অবস্থা জারি করে, যা ২০০৮ ডিসেম্বর তুলে নেয়া হয়। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে।
এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০ আসনে জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। বাংলাদেশ জাতীয়তবাদী দল-বিএনপি ২৯, জাতীয় পার্টি (এরশাদ) ২৭, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ৩, ওয়ার্কার্স পার্টি ২, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি ১, জাতীয় পার্টি-বিজেপি ১, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৪টি আসনে জয়ী হন। এ নির্বাচন বাহ্যত ও দৃশ্যত সুষ্ঠু বলে উল্লিখিত হলেও পরবর্তীকালে এর অভ্যন্তরীণ মেকানিজম নিয়ে নানা কথা উঠে আসে।
এদিনের নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার বিষয়ে গণমাধ্যমের কর্মীদের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, কোনো কোনো আসনে মধ্যরাত পর্যন্ত ধানের শীষ বিজয়ী বলা হলেও রাত গড়ানোর সাথে সাথে সেখানে নৌকাকে বিজয়ী বলে ফোন করে জানানো হয়। ফলে রিপোর্ট সংশোধন করে পরিবর্তিত প্রার্থীর নাম বসাতে হয়। যে কারণে অনেকেই সেই নির্বাচনকে ‘ডিগবাজির ভোট’ বলে আখ্যা দেন।
একটি বিশ্লেষণ
এ বিষয়ে রাজনীতিক ও লেখক মওদুদ আহমদ পূর্বাপর ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করে ‘সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০০৭-২০০৮’ শীর্ষক গ্রন্থে উল্লেখ করেন- “বেগম জিয়া উপলব্ধি করতে পারলেন যে, দেশকে একটি গভীরতর সংকটের দিকে ঠেলে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। ৪ দফা দাবি পূরণ না করে সরকারের ঘোষণা এবং আগের মতো করেই নির্বাচনের তারিখ বহাল রাখায় এটা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, বিএনপিকে বাইরে রেখেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং সেনাশাসিত সরকার একটি একদলীয় নির্বাচনই অনুষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। এ পরিস্থিতিতে দলের স্ট্যান্ডিং কমিটি এবং জোট নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পরে ২০০৮ সালের ২০ নভেম্বর পরিস্থিতির চাপে পড়ে খালেদা জিয়া ঘোষণা করলেন যে, ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন থেকে জরুরি অবস্থা পুরোপুরিভাবে প্রত্যাহার, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯১(৬) ধারা বাতিল ও উপজেলা নির্বাচন এক মাস পিছিয়ে দিলে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন। এই ঘোষণা শর্তসাপেক্ষ হলেও সকল স্তরের জনগণ এতে এ ভেবে ইতিবাচক স্বস্তি অনুভব করলেন যে, বিএনপি এবার নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপিকে সর্বক্ষেত্রে অসুবিধায় ফেলে বহিঃশক্তি প্রভাবিত একটি শক্তিশালী মহল, খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে তার প্রস্তাবিত নির্বাচনের নয়া তারিখকে সমর্থন করলেন। আওয়ামী লীগের বিজয় সম্পর্কে একরকম নিশ্চিত হয়ে তারা দেখলেন যে, আওয়ামী লীগের একদলীয় নির্বাচনের চেয়ে বিএনপির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভবিষ্যতের অদেখা দুর্যোগ সামাল দেয়া সহজ হবে। একটি অভিজ্ঞ রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগও তার দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন পেছানোর দাবিকে সমর্থন করলো। শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালের ২৩ নভেম্বর জরুরি আইনের কড়া নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন (পরে তা ২৯ ডিসেম্বরে পরিবর্তন করা হয়) ও ২০০৯ সালের ২৯ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠানের নয়া তারিখ ঘোষণা করে। সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য ৩০ নভেম্বর এবং উপজেলা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ৩ ডিসেম্বর তারিখ স্থির করা হয়।
এভাবে সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ বিঘ্নসংকুল রেখেই একইসঙ্গে দুই নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা বহাল রাখা হয়।
পরদিন ৩০০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য হাতে মাত্র ৫ দিন বাকি রেখেই বিএনপি বাকি তিনটি দাবি পূরণসাপেক্ষে পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে মনোনয়ন লাভের আবেদন পেশ করার প্রকাশ্য আহ্বান জানায়। এর আগেই ২০৯৩ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র জমা দিলেও বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা, এ ব্যাপারে তখন পর্যন্ত কেউ নিশ্চিত ছিলেন না। সময় স্বল্পতার কারণে আগের ঐতিহ্য অনুসরণ না করে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড প্রত্যেকের কাছ থেকে ২১ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে এককভাবে প্রতিটি প্রার্থীর জন্য ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা না করে বরং জেলা ভিত্তিতে একসঙ্গে অনেকের সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করে। এর ফলে প্রার্থীদের মধ্যে একটা হতাশাবোধ দেখা দেয়। এভাবে প্রার্থী বাছাই করতে গিয়ে যথাযথ নির্ণায়ক অনুসরণ না করায় অনেক নির্বাচনী এলাকায়ই উপযুক্ত প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া সম্ভব হয়নি।”
ধোঁকার কবলে বিরোধীরা
আওয়ামী লীগ বিরোধীরা সেসময় ধোঁকার কবলে পড়ে বিশ্লেষণ করলে নিম্নরূপ পরিস্থিতি দাঁড়ায়-
* অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে পেছনের দরজা দিয়ে সমঝোতা করে রাখায় আওয়ামী লীগের জন্য এ ছিল অনেক সহজ ও সুনিশ্চিত একটি পদক্ষেপ। সকল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সমর্থন তাদের পক্ষে ছিল।
* একটি অভিজ্ঞ ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচনের আগে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার কিংবা শেখ হাসিনার পরিপূর্ণ মুক্তিসহ তাদের কোনো দাবি মেনে নেয়া হোক বা না হোক, সর্বপর্যায়ে দলটি নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
ক্ষমতায় টিকে থাকার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত না হওয়ায় এবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে একটিকে বেছে নেয়ার প্রশ্ন দেখা দিলে সেনাপ্রধান এবং প্রধান উপদেষ্টার নিশ্চিত পছন্দ ছিল আওয়ামী লীগ।
তারা নিশ্চিত ছিলেন- যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরে তারা যে বিএনপির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে পরস্পরের সহযোগিতায় দলটিকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছেন, সেখানে বিএনপির চেয়ে তারা আওয়ামী লীগের কাছে সুনিশ্চিত আশ্রয় ও নিরাপত্তা পাবেন। তাদের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূল চাবিকাঠি ছিল আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন।
* আইনের কোনো প্রক্রিয়া ছাড়াই একটি নির্বাহী নির্দেশে শেখ হাসিনাকে ২০০৮ সালের ১১ জুন তাঁর পুরোপুরি স্বাধীনতা নিশ্চিত করে মুক্তি দেয়া হয়। অথচ ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে কারাগারে আবদ্ধ রাখার পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জামিনে তিনি মুক্তি পান।
* মোট ১৪৬টি নির্বাচনী এলাকায় সীমানা পুনঃচিহ্নিতকরণের পর বিএনপিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সীমানা পুনঃচিহ্নিতকরণের আগে সেসব নির্বাচনী এলাকার মধ্যে বিএনপি জয়লাভ করে ৮৮টি নির্বাচনী এলাকায়, যেখানে আওয়ামী লীগের দখলে ছিল ২১টি আসন। কিন্তু সীমানা নতুনভাবে চিহ্নিতকরণের পর বিএনপির ৮৪টি আসনের ওপর সরাসরি প্রতিক্রিয়া পড়ে এবং প্রায় ৫৬টি আসনে দলের পরাজয়ের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ফলে সীমানা নতুনভাবে চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয়া বিএনপির বিপুল ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা দেখা দেয়।
* বহিঃশক্তিগুলো ছাড়াও দেশের তিনটি প্রধান অভ্যন্তরীণ শক্তি, অর্থাৎ সেনাবাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন ও পুলিশবাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের অধীন প্রশাসনযন্ত্র, সবাই ছিল খালেদা জিয়ার বিপক্ষে এবং নির্বাচনকালে কোনো ধরনের নিরপেক্ষতা ও লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ডের আভাসমাত্র না থাকায় জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও বিএনপির পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসার প্রশ্ন ছিল সুদূরপরাহত।
অভিযোগ ওঠে যে, ভোটের দিনে কোথাও কোনো গোলযোগের আভাস না পাওয়া গেলেও এবং দৃশ্যত একটি নির্ভেজাল, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও নির্বাচনের ফলাফল ছিল অবিশ্বাস্য ও অস্বাভাবিক।
সব রকমের ত্রুটি, বিচ্যুতি, অসুবিধা ও বিপর্যয় থাকা সত্ত্বেও বিএনপি পরপর দুবার নিকট অতীতে বিপুল ভোটে সরকারে নির্বাচিত হওয়ার পর এই নির্বাচনে জাতীয় সংসদে মাত্র ২৭টি আসনে এবং পরবর্তী বিবেচনায় আরো ৩টি আসনে জয়লাভ করবে তা মেনে নেয়া ছিল কষ্টকর। কাজেই চারদিকে এ সন্দেহ পরিব্যাপ্ত হয়ে পড়তে থাকে যে, গোটা নির্বাচনই অনুষ্ঠিত হয়েছে তৎকালীন সামরিকবাহিনীর এক পরিকল্পনা ও ‘নীল নকশা’ অনুযায়ী, যার মধ্যে ছিল-
(১) বিশেষ একটি প্রিন্টিং প্রেসে ব্যালট পেপারের অংশবিশেষ ছাপানো।
(২) নির্দিষ্টসংখ্যক ব্যালট পেপার আগে থেকেই ভোটবাক্সে গুঁজে দিয়ে চিহ্নিত ভোটকেন্দ্রগুলোয় বাছাইকৃত প্রিসাইডিং অফিসারদের কাছে আলাদা কক্ষে সংরক্ষিত রাখা এবং ভোটের পরে কায়দা করে তা অন্যান্য বাক্সের সঙ্গে মিলিয়ে গণনা করা। প্রতি ভোটকেন্দ্রে ৪-৫টি করে বুথে ৪-৫ জন এজেন্ট থাকা সত্ত্বেও ভোট গণনার সময় প্রতি প্রার্থীর মাত্র একজন করে প্রতিনিধি থাকার ব্যবস্থা করায়, মোট কয়টি বাক্সে ভোট নেয়া হয়েছে, তা জানা কারো পক্ষেই সম্ভব ছিল না।
(৩) জরুরি অবস্থার কারণে এবং চলাফেরার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপিত থাকায়, জনগণের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা ও উদ্দীপনার অভাবে বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্রে দুপুরের পরে কোনো পুরুষ ভোটার দেখা যায়নি। এরপরও ৮৬ শতাংশ ভোটদান ছিল অস্বাভাবিক।
(৪) মোট ৮৫টি নির্বাচনী এলাকায় ভোটদানের সংখ্যা ছিল ৯০ থেকে ৯৫.৪৩ শতাংশ এবং ১,৭৭,২৭৭টি ভোটকেন্দ্রে প্রতি মিনিটে একটি করে ভোট দেয়া হয়, যা কার্যত অসম্ভব। এমনকি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ ধরনের ফলাফলকে অস্বাভাবিক ও অচিন্তনীয় বলে মনে করেন। কিন্তু তার যেনো কিছু করার ছিল না।
(৫) বিপুলসংখ্যক লোক ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত ছিলেন না এবং অসংখ্য ভোটার আইডি কার্ড ও সিরিয়াল নম্বরের জটিলতায় ভোট দিতে পারেননি।
(৬) এজেন্টদের কাছে ফটোসংবলিত কোনো ভোটার তালিকা না দেয়ায় তারা ভোটের সময় প্রকৃত ভোটারদের শনাক্ত করতে পারেননি, যার ফলে পোলিং ও প্রিসাইডিং অফিসাররা নানা রকম অনিয়ম করার সুযোগ পান।
(৭) কোনো কোনো নির্বাচনী এলাকায় কিছু কিছু স্থানীয় সেনা অফিসারকে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে সমর্থন জানাতে দেখা যায়।
দুঃখ ও ক্ষোভের সঙ্গে বলতে হয় যে, নির্বাচনের এ অবস্থার কথা জাতির সামনে পরিপূর্ণভাবে উপস্থাপিত হতে পারেনি। এর প্রধান দুটি কারণ হলোÑ এক. গণমাধ্যমের প্রায় একতরফা আচরণের মাধ্যমে তথাকথিত বিজয়ীদের পক্ষ অবলম্বন করা এবং দুই. আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার দেশি-বিদেশি উদগ্র প্রচেষ্টার কাছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আত্মসমর্পণ। যে কারণে ‘সুষ্ঠু ও অবাধ’ তকমা দিয়ে ভেতরের বিক্ষুদ্ধ অবস্থাকে চাপা দিয়ে রাখা হয়।