ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ‘ডামি’ নির্বাচনের মাজেজা


১০ জুলাই ২০২৫ ১১:১৮

॥ সরদার আবদুর রহমান ॥
১৪ দলীয় জোট সমর্থিত পদত্যাগী ও পলাতক আওয়ামী লীগ সরকারের মঞ্চস্থ সর্বশেষ নির্বাচন ছিল দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন। এটি অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি। পূর্ববর্তী নির্বাচনী অভিজ্ঞতার আলোকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ সরকারবিরোধীরা এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে।
এই ভোটের আয়োজক নির্বাচন কমিশনের প্রধান ছিলেন সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল। কমিশনের সদস্যরা ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সাবেক সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর, আরেক সাবেক সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ বেগম রাশিদা সুলতানা এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা আহসান হাবিব খান। গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। পরদিনই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। তারই ধারাবাহিকতায় হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন ইসিও পদত্যাগের ঘোষণা দেয়।
আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে- এমন কোনো নির্বাচনকেই পর্যবেক্ষকরা ‘স্বচ্ছ’ বলে আর বিশ্বাস করতে চান না। নির্বাচনগুলো যে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সমাহারে পরিপূর্ণ ছিল, তা আর কোনো লুকাছাপা বিষয় নয়। গত সপ্তাহে সোনার বাংলায় কেএম নূরুল হুদা কমিশনের ‘রাতের ভোট’ সম্পর্কে বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে। এবার হাবিবুল আউয়াল কমিশনের ‘ডামি’ নির্বাচন সম্পর্কে বিশ্লেষণ থাকছে।
ইতোমধ্যে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সর্বশেষ অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে তদন্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এগুলো হলো- ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন। অন্যদিকে এসব নির্বাচনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। আর ২০১৮ ও ২০২৪-এর নির্বাচন কমিশনের দুই প্রধান কেএম নূরুল হুদা এবং কাজী হাবিবুল আউয়াল ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।
ডামি প্রার্থী দাঁড় করানোর উদ্দেশ্য
আওয়ামী লীগ আমলে অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচনই বিশেষ অভিধায় পরিচিত হয়েছে। যেমন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘ডামি প্রার্থী’র নির্বাচন হিসেবে পরিচিতি পায়। এই ‘ডামি’ প্রার্থী হওয়ার পটভূমি হলো, বিরোধীদল নির্বাচন বর্জন সত্ত্বেও তাতে নির্বাচন যেন থেমে না যায়, তার বিকল্প ব্যবস্থা। আবার বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের পূর্বতন ধারার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সেটি ঠেকানো। সরকারি দল হোক, পাতানো বিরোধীদল হোক আর স্বতন্ত্রই হোক- সকলকেই যেন ‘নির্বাচিত’ দেখানো যায়, তার একটি ফর্মুলা এটি। এর আবিষ্কারকও হলেন শেখ হাসিনা। আর তার মঞ্চায়ন করে হাবিবুল আউয়াল কমিশন।
প্রকাশিত রিপোর্টে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা “বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলীয় কেউ নির্বাচিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে” বলে সতর্ক করেন। একইসঙ্গে নির্বাচনে দলীয় বিকল্প (ডামি) প্রার্থী রাখার নির্দেশনা দেন। এছাড়া নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক করার নির্দেশ দেয়া হয় দলীয় তরফে। হাসিনা নির্দেশনা দেন, “কোনো আসনে যেন একক প্রার্থী না থাকে। নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে প্রয়োজনে ‘ডামি’ প্রার্থী রাখতে হবে। বিরোধীদলীয় কেউ সংসদ সদস্য প্রার্থী হলে তাকে সহযোগিতা করতে হবে।”
এর ফলাফল হিসেবে দেখা যায়, সাধারণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ছাড়াই নৌকার প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে। আর স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিতরা ছিলেন মূলত ‘ডামি’ প্রার্থী। এদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ৫৮ জনই আওয়ামী লীগের সমর্থক। একটি রিপোর্টে বলা হয়, বর্তমান (বিলুপ্ত) জাতীয় সংসদের ‘নির্বাচিত’ ৬১ জন স্বতন্ত্র সদস্যের ৫৮ জনই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাকি ৩ জনের একজন জাতীয় পার্টির, ১ জন একটি ‘ইসলামী’ দলের সঙ্গে জড়িত এবং একজন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এমপিরা দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়সহ মূল দল অথবা সহযোগী সংগঠনের কোনো না কোনো পদে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। এ নির্বাচনে ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২২৩টিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জয়লাভ করেছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়। আর সংসদে প্রধান বিরোধীদল বলে ঘোষিত মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি পায় মাত্র ১১টি আসন এবং ৬১ জন ‘স্বতন্ত্র’ হিসেবে নির্বাচিত হন।
মাত্র ৫ জনকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয় বিভিন্ন দল থেকে
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এতে সরকারবিরোধী দল বা কোনো ব্যক্তি নেই। এ নির্বাচনে জয়ী ২৮০ জনই আওয়ামী লীগের মনোনীত ও দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এর বাইরে নির্বাচিত ১৩ জন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক ও মিত্র। মাত্র পাঁচজন সংসদে এসেছেন ভিন্ন দল বা মতের। তবে তাঁদের মধ্যে তিনজনকে জেতার আশ্বাস দিয়ে ভোটে আনা হয়েছে। ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জাতীয় সংসদের সদস্যদের বিষয়ে এমন চিত্র পাওয়া যায়। নির্বাচনে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী রাখা এবং ভিন্ন দল বা মতের তিনজনকে জিতিয়ে আনা- এসব কিছুই পরিকল্পনামতো হয়। মিত্রদের সঙ্গে আসন সমঝোতা থেকে শুরু করে ভোটের প্রচার এবং নির্বাচনের দিন তা বাস্তবায়নে প্রভাবশালী বেশ কয়েকটি মহল কাজ করে। এমনকি কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ কোনো কোনো নেতা হেরে যাচ্ছেন জেনেও কোনো হস্তক্ষেপ করা হয়নি। শুরুতে ভিন্ন দল ও মতের আরো বেশ কিছু প্রার্থীকে জিতিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শেষ দিকে এর অনেক কিছু কাটছাঁট করে দলের প্রার্থীদের জেতার সুযোগ করে দেয়া হয়।
একতরফা ভোটেও কারচুপি, অনিয়ম
২০২৪ সালের এ নির্বাচন একতরফা হলেও ভোটের হার নিয়েও প্রবল সন্দেহে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সে সময় বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়ার হার নিয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেয়া ভোটের হারকে ‘বিস্ময়কর’ বলে উল্লেখ করছেন। নির্বাচন কমিশন সর্বশেষ এদিন ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পড়ার তথ্য দিয়েছে। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল সাংবাদিকদের বলেন, “ভোটের হার নিয়ে কারো সন্দেহ থাকলে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন।” ভোটগ্রহণ চলার সময় তিন দফা ভোটের শতকরা হার ঘোষণা করেছিল ইসি। সেই হিসাব অনুযায়ী, দুপুর ১২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত গড়ে সাড়ে ১৮ শতাংশ ভোট পড়ে। এরপর বেলা ৩টা পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ ভোট পড়ার কথা জানিয়েছিল ইসি। তখন বলা হয়েছে, সব জায়গার হিসাব পাওয়া যায়নি। ভোটের হারে কিছু হেরফের হতে পারে। বিকেল ৪টায় ভোট শেষ হওয়ার ঘণ্টা দেড়েক পর প্রেস ব্রিফিংয়ে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল শুরুতে বলেন, ভোট পড়েছে ২৮ শতাংশ। পরে তাঁকে পাশ থেকে একজন সংশোধন করে বলেন, সংখ্যাটি ৪০ শতাংশ হবে। সিইসি তখন ভোটের হার ৪০ শতাংশ হতে পারে বলে জানান। তিনি বলেন, এটা নিশ্চিত হিসাব নয়। বাড়তে পারে, না-ও পারে। এই হিসাব অনুযায়ী ভোট গ্রহণের শেষ এক ঘণ্টাতেই ১৩ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। তবে সর্বশেষ ইসি প্রায় ৪২ শতাংশ ভোট পড়ার কথা জানায়। এই হার অনুযায়ী ভোট গ্রহণের শেষ এক ঘণ্টাতেই ভোট পড়েছে ১৪ শতাংশের বেশি।
এমন একদলীয় ও একতরফা ভোটেও কারচুপি আর অনিয়মের ধারা থেমে থাকেনি। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিপরীতে অন্য প্রার্থীদের এজেন্ট বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছিলেন না। এজেন্ট না থাকার কারণেও অনেক জায়গায় জয়ী প্রার্থীদের পক্ষে বেশি ভোট দেয়া হয়েছে। এবার স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে ৮০ থেকে ১০০টি আসনে। জাল ভোট ঠেকানো, ভোটে সিল মারাসহ নানা অনিয়ম প্রতিরোধের কাজগুলো সাধারণত এজেন্টরাই করে থাকেন। সিইসি ঢাকায় নিজেও ভোট দিতে কেন্দ্রে গিয়ে নৌকার বাইরে কারো এজেন্ট পাননি। এছাড়া ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রতিপক্ষের এজেন্টকে টাকা দিয়ে নিজের পক্ষে নিয়ে নেয়ার অভিযোগও ওঠে। অনেক আসনে টাকার ব্যবহার ও প্রশাসন, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকা নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এ নির্বাচনটি কিশোর ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের দিয়ে জাল ভোট দেয়া, কেন্দ্র দখল, ‘কৃত্রিম সারি’ তৈরি করে ভোটার উপস্থিতি দেখানোর চেষ্টা ও অর্থ দিয়ে ভোটার কেনা হয়।
অন্যদিকে গ্রেফতারের পর কাজী হাবিবুল আউয়াল আদালতে দাঁড়িয়ে বিচারকের সামনে স্বীকার করেন, “তার অধীনে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচন ছিল একটি প্রহসনের নির্বাচন।” কাঠগড়ায় তিনি এক ঘণ্টা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পিপির বক্তব্য শেষ হওয়ার পর কথা বলার জন্য অনুমতি চান। আদালতের অনুমতি নিয়ে তিনি বলেন, “আমার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কোনো প্রকার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। অর্থ আত্মসাৎ করিনি। তবে আমি স্বীকার করছি, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি ‘ডামি নির্বাচন’ হয়েছে, প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে।”
‘কারচুপি’র কথা বলেন নৌকার প্রার্থীরাই
একটি প্রথম শ্রেণির জাতীয় দৈনিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, গত ৭ জানুয়ারির (২০২৪) অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে ‘কারচুপি’, ‘জালভোট’ ও ব্যাপক ‘অনিয়ম’ হওয়ার কথা বলেছেন খোদ সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতা ও নৌকার প্রার্থীরা। নির্বাচনের পর থেকে কেউ না কেউ এ দাবি ও অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগকারী এসব পরাজিত প্রার্থী হয় নৌকা প্রতীকের অথবা আ’লীগের কোনো না কোনো পর্যায়ের পদধারী। এসব অভিযোগ সংবাদ সম্মেলন করে প্রকাশ করা হয়েছে অথবা নির্বাচন কমিশন বা রিটার্নিং অফিসারের নিকট অভিযোগ আকারে প্রদান করা হয়েছে। যদিও এসব পরাজিত প্রার্থী নিজ নিজ আসনে এ কারচুপি ও অনিয়মের কথা বলছেন, কিন্তু এর ফলে সামগ্রিক নির্বাচনের ওপরেই গড় অভিযোগ এসে পড়ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
এ নির্বাচনে ‘কারচুপি’ হওয়ার দাবি করেছেন এমন উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ১৪ দলের গুরুত্বপূর্ণ শরিক জাসদ সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আরেক প্রধান শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক নৌকার প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক সরকারের অতি বিশ্বস্ত ব্যক্তি আবদুল কাহার আকন্দ, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বরগুনা-১ আসন থেকে পাঁচবারের নির্বাচিত এমপি ও সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সংসদীয় কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ (শম্ভু), দলের প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও কৃষক লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান দোলন প্রমুখ। এর মধ্যে মোটাদাগে হাসানুল হক ইনুর অভিযোগ, ‘প্রশাসনের ছত্রছায়ায় কারচুপি করা হয়েছে’। ফজলে হোসেন বাদশার দাবি, ‘হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসতে পারেনি’। আবদুস সোবহান গোলাপের অভিযোগ, ‘সূক্ষ্ম কারচুপি ও ষড়যন্ত্রের কারণে হেরেছি’। ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর অভিযোগ, ‘নির্বাচনের ফলাফলে ব্যাপক কারচুপি, অনিয়ম ও বেআইনি কার্যকলাপ হয়েছে’। আবদুল কাহার আকন্দ দাবি করেছেন, ‘ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে’। ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক প্রশ্ন তুলেছেন, ‘২৭% ভোটার উপস্থিতি দুই ঘণ্টার ব্যবধানে ৫৫% হওয়া নিয়ে’।
একটি নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়, শুধু বিরোধীদলগুলো নয়, গত সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া বেশ কিছু দল ও প্রার্থীর পাশাপাশি দেশি-বিদেশি গবেষকরাও নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন ও নানারকম অভিযোগ তোলেন। নির্বাচনে ভোটের হার নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁদের মধ্যে স্বয়ং সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদেরও আছেন। বেশ কিছুদিন আগে তিনি লিখেছেন, ‘৪২ শতাংশ ভোট পড়ার দাবি বাস্তবসম্মত নয় মনে করি। বরং ৫ থেকে ১০ শতাংশ ভোটার উপস্থিত হয়ে ভোট দিয়েছেন।
নির্বাচনব্যবস্থা কিভাবে ভেঙ্গেছে
নির্বাচনগুলো যে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সমাহারে পরিপূর্ণ ছিল, তা আর কোনো লুকাছাপা বিষয় নয়। গত সপ্তাহের পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের ‘বিজয়’ ঘটেছে এমন প্রতিটি নির্বাচনের বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। তার আগাপাশতলা খুঁটিয়ে দেখে সেগুলোর ঘাপলা, ইচ্ছাকৃত ত্রুটি, দল ও ব্যক্তির বক্তব্য ও ভূমিকা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিবরণ প্রকাশ করা জরুরি।
মূলত সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা তুলে দেয়ার পরিণতিতে দেশে কেবল একদলীয় শাসনব্যবস্থাই প্রতিষ্ঠিত হয়নি, সামগ্রিক নির্বাচন ও ভোটব্যবস্থাও ধ্বংস হয়ে গেছে। এ নির্বাচনী প্রক্রিয়া মূলত ঘুরে ফিরে একটি রাজনৈতিক শক্তিকেই ক্ষমতায় আসীন করা এবং ভোটের প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে সেই ক্ষমতাকে দীর্ঘ মেয়াদে নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়।