স্থিতিশীলতা নেই নিত্যপণ্যের বাজারে
১০ জুলাই ২০২৫ ১১:০২
স্টাফ রিপোর্টার : নিত্যপণ্যের মূল্য কিছুটা ওঠানামা করছে। কোনো পণ্যের মূল্য কমেছে আবার কোনো কোনো পণ্যমূল্য বেড়েছে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে সবজির মূল্য কম থাকলেও এখন তা ক্রমাগত বাড়তে শুরু করেছে। চালের মূল্যও ছিল কমতির দিকে, কিন্তু গত কুরবানির ঈদের পর থেকে এ চালের মূল্য ক্রমান্বয়ে বাড়তে শুরু করেছে। মাছের মূল্য রয়েছে স্থিতিশীল, তবে কমতির দিকে নয়, অনেকটা বাড়তির দিকেই রয়েছে। এর মধ্যে আশার দিক হচ্ছে, অতি নিত্যপণ্য হিসেবে পরিচিত গোল আলুর মূল্য খুব একটা বাড়েনি। বাজার ও মানভেদে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ টাকার মধ্যে রয়েছে গোল আলুর কেজি। পেঁয়াজ, রসুনসহ মসলার মূল্য বাড়েনি। কমেছে রাজধানীবাসীর জন্য অতিপ্রয়োজনীয় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য। জুলাই মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৯ টাকা কমানো হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদন বলছে, সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। নিত্যপণ্য মূল্য কমায় মূল্যস্ফীতিতে সুখবর মিলেছে।
বেড়েছে চালের মূল্য
দীর্ঘ এক মাস ধরেই (কুরবানির ঈদের পর থেকে) বাড়ছে চালের দাম। কেজিতে ৮ টাকা বেড়ে মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৭৮ টাকায়। বৈশাখে নতুন চাল বাজারে আসায় সে সময় দাম কমায় বেশ স্বস্তি ছিলো। তবে সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হলো না। চালের দাম আবারো কেজিতে ৭-৮ টাকা বেড়ে মিনিকেট মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৮ টাকা কেজি। বাড়তি অন্যান্য চালের দরও। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই স্থিতিশীল রয়েছে নাজিরশাইল চাল।
বেড়েছে সবজি ও মুরগির মূল্য
বেশ কিছুদিন সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও এখন তা আর নেই। ক্রেতারা মনে করেন, সবজির দাম আরও কমানো সম্ভব। তবে বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টি সত্ত্বেও বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। মুরগির বাজারে ব্রয়লার এবং সোনালি আগের দামে বিক্রি হচ্ছে না, এই দুই জাতের মুরগির মূল্যই বেড়েছে। বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়, বরবটি ৭০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, ধুন্দুল ৭০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করল্লা কেজিপ্রতি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে পটোলের দাম কিছুটা কমেছে। প্রতি কেজি পটোল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। অপরদিকে গোশতের দামও বাড়তির দিকেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। এছাড়া সোনালি মুরগি প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকায়, লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায়। আগের মতোই একই দাম বজায় রয়েছে গরু ও খাসির বাজারে। প্রতি কেজি গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ টাকায়। খাসির গোশত বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায়।
পণ্যমূল্য কম থাকায় ২৭ মাসে সর্বনিম্ন মূল্যস্ফীতি
দেশে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশে, যা গত ২৭ মাসে সর্বনিম্ন। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিলো ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ। জুন মাসে তা ০ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমেছে। দীর্ঘদিন পর মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশের নিচে নামলো। মূল্যস্ফীতির এ পতনের প্রধান কারণ খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যহ্রাস। খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি জুন মাসে নেমে এসেছে ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশে, যা গত মাসে ছিল ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কিছুটা কমায় সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছে। অপরদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ হয়েছে- যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের মুদ্রানীতিগত শৃঙ্খলা ও বাজারে কিছুটা সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় মূল্যস্ফীতিতে এ ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।