মাফিয়া দুর্নীতিবাজদের ধরছে না দুদক


১০ জুলাই ২০২৫ ০৭:৪৬

স্টাফ রিপোর্টার : দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বসে নেই। তারা প্রতিদিনই কোনো না কোনো দুর্নীতির বিরুদ্ধে সক্রিয় রয়েছে। কিন্তু কমিশনের এ সক্রিয়তায় সন্তোষ প্রকাশ করতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। কারণ কমিশনের একক উদ্যোগে বড় ধরনের কোনো দুর্নীতি ধরা পড়ার খুব একটা নজির নেই। কেউ দুর্নীতির অভিযোগ করলে বা খবরের কাগজে দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হলে তা নিয়ে অনুসন্ধান চালায় দুদক। আর যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি যদি প্রভাবশালী বা ক্ষমতাশালী হন, তাহলে সেখানে অনেকটাই নীবর ভূমিকায় থাকে স্বাধীন এ সংস্থাটি। দুদকের চোখের সামনে দিয়ে পার হয়ে যাচ্ছে বড় বড় দুর্নীতিবাজরা।
ক্ষমতাসীন সঙ্গে থাকা প্রভাবশালীদের বিষয়ে নখদন্তহীন বাঘে রূপ নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন।
গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের যাত্রা শুরু হয়। এ কমিশন গত ১৫ বছরে যেসব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তরে দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে সেগুলোর অনুসন্ধান শুরু করেছে। সরকারের উচ্চপদস্থ অনেক আমলা সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন, দুদক সেসব দিকে খেয়াল করছে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দাখিল করার কথা থাকলেও তারা সেটি করেনি। স্বাধীন এ সংস্থাটি চাইলে উচ্চপদস্থ অন্তত এক হাজার কর্মকর্তার তালিকা করে তাদের সম্পদ অনুসন্ধান করতে পারে। একজন সরকারি চাকরিজীবীর আয় কত? তার সংসার ও অন্যান্য ব্যয় কত এবং তার পক্ষে মাসে ঠিক কত টাকা সঞ্চয় করা সম্ভব, তার একটা সম্ভাব্য নির্ণয় করে অনুসন্ধান চালালে দুদকের হাত থেকে কেউ রক্ষা পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু দুদক তা করে না। তবে কিছু নিয়মিত কাজ তো করছেই। স্বৈরাচার হাসিনার পতনের পর গত ১১ মাসে ১ হাজার ২৬৪ জনের বিরুদ্ধে ৩৯৯টি মামলা করেছে দুদক। একই সময়ে ১ হাজার ৩৫৬ জনের বিরুদ্ধে ৩২১টি চার্জশিট আদালতে দাখিল করেছে দুদক। ব্যাংকের মাফিয়া এস আলম, বীমার মাফিয়া শেখ কবির, বিদ্যুতের মাফিয়া সামিট, স্বাস্থ্যের মাফিয়া মিঠু সিন্ডিকেটসহ শত শত বড় দুর্নীতিবাজ ধরাছোঁয়ার বাইরে। একটি বড় গ্রুপ অব কোম্পানির মালিককে সম্প্রতি তলব করার পর তিনি পাত্তাই দেননি, কিন্তু দুদক তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
দুদকের জনসংযোগ দপ্তর সূত্র বলছে, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১১ মাসে ১২ হাজার ৮২৭টি দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছে দুদক। এর মধ্যে আগস্টে ৮৪৭টি, সেপ্টেম্বরে ৮৯৮টি, অক্টোবরে ১ হাজার ৬৮৭টি, অক্টোবরে ৩ হাজার ৪০৬টি, ডিসেম্বরে ৬৬টি, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৩৫০টি, ফেব্রুয়ারিতে ৫৫১টি, মার্চে ৯৫১টি, এপ্রিলে ৮০৩টি, মে মাসে ১ হাজার ৯৩৪টি এবং জুন মাসে ১ হাজার ৩৩৪টি। বর্তমানে সংস্থাটিতে ৩ হাজার ৫০০ অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। দুদকের তথ্যমতে, গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সময়ে ৩৯৯টি মামলায় মোট ১ হাজার ২৬৪ জনকে আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী ৩৪৩ জন, বেসরকারি চাকরিজীবী ৪৪৭ জন, ব্যবসায়ী ১১৪ জন, রাজনীতিবিদ ৯২ জন, জনপ্রতিনিধি ৩১ জন এবং অন্যান্য ২৩৭ জন। একই সময়ে ৩২১টি মামলার তদন্ত শেষ করে বিচারিক আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। চার্জশিটে ১ হাজার ৩৫৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।