ফুলবাড়ীর সংবাদ
৫ জুলাই ২০২৫ ০৮:৩৪
জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় যাওয়ার রাস্তাটির বেহাল অবস্থা
মো. আফজাল হোসেন, দিনাজপুর : ফুলবাড়ী উপজেলার সরকারি কলেজের পেছনে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো অবস্থিত। ডাকবাংলোয় যাওয়ার রাস্তাটি মেরামত না করায় এক যুগ ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। রাস্তাটির ওপরের কার্পেটিং উঠে গিয়ে ইট-খোয়া বের হয়ে গেছে। তার পাশে রয়েছে শহীদ মিনারটি। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি মেরামত না করায় নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া একমাত্র জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় যাওয়ার একটি রাস্তা। পূর্ব দিকে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর বিশাল গেইট থাকলেও সেই দিক দিয়ে রাস্তা করার পরিকল্পনা থাকলেও সেই দিক দিয়ে কোনো রাস্তা অদ্যবধি জেলা পরিষদ নির্মাণ করেননি। এতে সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তারা এই ভাঙা রাস্তা দিয়ে ডাকবাংলোটিতে যাতায়াত করছেন। সরকার এখান থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছেন। মূল রাস্তা না থাকায় ডাকবাংলো যাওয়া কষ্টসাধ্য। যে রাস্তাটি দিয়ে ডাকবাংলোয় যাতায়াত করা হচ্ছে। সেই রাস্তাটি সরকারি কলেজের বলে দাবি করেন। পাশে রয়েছে জেলা পরিষদের জায়গা। কবে নাগাদ জেলা পরিষদের রাস্তাটি নির্মাণ হবে তার কোনো সঠিক তথ্য কেউ দিতে পারে না। তবে জেলা পরিষদের উচিত হবে এ ডাকবাংলোর পূর্ব দিকে স্থায়ী রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা করা।
তা না হলে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোটি বছরের পর বছর এভাবেই পড়ে থাকবে। এ ব্যাপারে ফুলবাড়ীর বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল, সুধিজন, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী মহল দ্রুত মূল রাস্তা নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পরিবেশদূষণ বাড়ছে
ফুলবাড়ী পৌরসভায় আর্বজনা ফেলার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকায় যমুনা নদীতে পৌরসভার আবর্জনা ফেলায় পরিবেশদূষণ বাড়ছে। ফুলবাড়ী পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়ায় জনসাধারণ তেমন কোনো পৌর সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। রাস্তাঘাট, লাইটিং, পানি নিষ্কাশন বিশুদ্ধ পানির অভাবতো রয়ে গেছে। এরপর ফুলবাড়ী পৌর শহরের ওপর দিয়ে বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করায় ধুলাবালির শহরে পরিণত হয়েছে। ১৯৮৩ সালে ফুলবাড়ী পৌরসভা স্থাপিত হওয়ার পর ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও কাক্সিক্ষত উন্নয়ন হয়নি। যার যার মতো পৌরসভাটি পরিচালনা করে আসছেন। বর্তমান বাসাবাড়ি, হোটেল রেস্তোরার আবর্জনাগুলো ব্রিজের নিচে ফেলে দেওয়ায় সেখানে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। আবার মাঝে মাঝে কে বা কারা আগুন জালিয়ে পুুড়িয়ে দিচ্ছেন। এখন ব্রিজের নিচে আবর্জনায় নদী ভরাট হচ্ছে। বর্ষা কালের এ আবর্জনাগুলো নদীতে জমে গিয়ে জমাট বেঁধে থাকছে। যেহেতু নদীতে পানি চলাচল নেই। নদীর চরগুলো এখন চাষাবাদ করছে কৃষক। ফুলবাড়ী পৌর শহর এখন পরিবেশের দিক দিয়ে নিম্নপর্যায়ে নেমে গেছে। শহর পরিষ্কার কল্পে পৌর মেয়রের সদ ইচ্ছা থাকলেও শহরের আবর্জনা কোথায় ফেলানো হবে তার নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই।
গভীর রাতে ব্রিজের দুই ধারে, ঊর্ব্বশী হলের পেছনে ব্রিজের নিচ্ছে আবর্জনার স্তূপ জমা হচ্ছে। ফুলবাড়ী শহরের বিভিন্ন এলাকায় এখন আবর্জনার শহর হিসেবে গড়ে উঠছে। নদীতে প্লাসটিক জমে ভরে গেছে নদীর মূল ভূখণ্ডে এতে কারো মাথাব্যথা নেই। এ ব্যাপারে পৌর বাসি পরিবেশ রক্ষার্থে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
যমুনা নদীর জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে, দেখার কেউ নেই
ফুলবাড়ীতে যমুনা নদীর জায়গা দখল করে নিচ্ছে প্রভাবশালী মহল, দেখার কেউ নেই। সরকার নদী রক্ষায় ও নদী খনন কল্প হাতে নিলেও দিনাজপুরের ফুলবাড়ী শহরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনা নদীটি খনন না করায় পূর্ব দিকে পলি মাটি জমে চর জেগে গেছে। নদীর ধারে যাদের বাড়িঘর রয়েছে তারা অনেকে প্রভাবশালী। সুযোগ বুঝে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নদীর জায়গা দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ করছে।
এভাবে যমুনা নদীর জায়গা দখল হয়ে গেলে নদী আর থাকবে না। নালায় পরিণত হয়ে যাবে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও ফুলবাড়ী যমুনা নদীর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীটি খনন না করায় নালায় পরিণত হয়ে। চর পরে এখন আর নদী নাই। ফুলবাড়ী যমুনা নদীটি এখন মরা নদী হিসেবে পরিণত হয়েছে। নদীটি খনন করা হলে সাড়া বছর নদীতে পানি ধরে থাকলে কৃষিতে উৎপাদন বাড়বে। কিন্তু কারো কোনো খবর নেই এ নদীটি রক্ষার্থে। এখন আর এ নদী, নদী নাই যার যার ইচ্ছামতো জায়গা দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ করছে। নদীতে নামার একসময় রাস্তা ছিল। সেই রাস্তা বন্ধ করে প্রভাবশালীরা বাড়িঘর নির্মাণ করে ফেলেছে। জনৈক একা চৌধুরী স্বাধীনতার পর প্রভাব খাটিয়ে বেশকিছু জায়গা দখল করে নিয়েছে, সেই জায়গা দিয়ে রাস্তা ছিলো নদীতে নামার। জনসাধারণ নদীতে নেমে গোসল করতো। হিন্দু-সম্প্রদায়ের পরিবারেরা প্রতি বছর সেখানে নেমে ঘাট পূজা করতো তাও তাদের নামার জায়গাটুকু নাই। সেখানে হিন্দ-সম্প্রদায়ের পূজা করার একটি মন্দির ছিলো। এখন সেই মন্দিরও সেখানে নেই।
দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালী চৌধুরীরা। হয়তো আর এ নদীর জায়গা যারা দখল করে নিয়েছে, তা উদ্ধার সম্ভব নয়। পরিবেশবাদীরা নদী রক্ষার্থে আন্দোলন করলেও তেমন কোনো সাড়া মেলে না। হাতেগোনা দেশের কয়েকটি নদীর পাড় উদ্ধারের অভিযান হলেও ফুলবাড়ীর যমুনা নদীর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনা নদীর পাড় দখল কবে উদ্ধার হবে কেউ জানে না? এ ব্যাপারে ফুলবাড়ীবাসী অতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।