শেষ মুহূর্ত


৩ জুলাই ২০২৫ ১২:৩৯

আব্দুস সাত্তার সুমন : হটাৎ করে আমার পিঠে হাতের স্পর্শ পেলাম! পায়ে দড়ির ছোঁয়া। স্থির হয়ে গেলাম। আমি কুরবানি হতে চলেছি! স্রষ্টাকে খুব কাছে মনে হলো। মনে হলো হাত বাড়ালেই আমার আল্লাহ্কে অনুভব করব। এই তো আর কিছুক্ষণ। কিছুটা মুহূর্ত মাত্র!
আমি মাটিতে পড়ে গেলাম।
আল্লাহু আকবর…আল্লাহু আকবর! আর কিছু মনে নেই! সব অন্ধকার হয়ে গেল। চোখের সামনে ভেসে এলো শুধু আলো আর আলো! ইশ এতো আলো!
আমি চলে এলাম এপারে। আমার স্রষ্টার কাছে। হে মহান, শুকরিয়া জানাই তোমার দরবারে। আমাকে তোমার কুরবানির জন্য মনোনীত করেছো বলে! কসাইয়ের ছুরির নিচে পড়ে অন্যের উদরে যাওয়ার চেয়ে, এভাবে কুরবানি হওয়া সত্যিই অনেক সৌভাগ্যের।
সুখের আনন্দে ভাসছি আমি। দূর থেকে দেখছি শুধু আমার নিথর দেহটাকে। এখনো নড়ছে আমার পা, কাঁপছে আমার শরীরের মাংসগুলো। ওহে মানব, একটুখানি অপেক্ষা কর। দেহ থেকে আমার প্রাণটা বের হওয়ার একটু সুযোগ দাও!
কিছুক্ষণের মধ্যেই চামড়াবিহীন নিথর একখণ্ড মাংসপিণ্ড আমি। একসময় সেটাও উধাও হয়ে গেল। পড়ে রইল শুধু রক্তগুলো! কে বা কারা এসে সেগুলোকেও ধুয়ে মুছে নিশ্চিহ্ন করে দিল!
হে মানুষ..
ধন্যবাদ তোমাদের। তোমাদের উসিলায় আমি আজ কুরবান হতে পেরেছি। আল্লাহ্ আমাকে নির্বাচিত করে তোমাদের বাঁচিয়েছেন।
আমার সবকিছু নিশ্চিহ্ন করে দিলেও— প্লিজ… ভুল না আমায়, মনে রেখ।
আমি কুরবানি হয়ে তোমার পুণ্যের ভাগ বাড়াই, আমি কসাইয়ের ছুরির নিচে গিয়ে তোমার পেটের ক্ষুধা মেটাই, রসনার তৃপ্তি বাড়াই!
আর যখন আমায় মনে পড়বে, তখন তোমার পরনের ঐ জ্যাকেট, হাত ঘড়ির ঐ ফিতা, কোমরের ঐ বেল্ট, পায়ের ঐ জুতা, ঘাড়ের ঐ ব্যাগ কিংবা পকেটের ঐ মানি ব্যাগটার দিকে একবার তাকিও। সেগুলোতেও আমি মিশে আছি। আমি…তোমার পাশে আজীবন থাকব বলে!
অন্যায়কারী মানবজাতিকে তুমি ‘অমানুষ’ বল। প্লিজ কখন ‘গরু অথবা ছাগল’ বল না!
আমি পশু তার ডাকে সাড়া দিয়ে যাই
বনের পশু নয়! মনের পশুকে তাড়াই,
আত্মত্যাগ মনে! শুদ্ধতার হাতটি বাড়াই
পশুদের কষ্ট না দিয়ে তাদের পাশে এসে দাঁড়াই।
আমি পশু: শেষ বারের জন্য একটা কথা বলতে চাই, যদিও তুমি আমার কথা বুঝবে না!
তারপরও বলতে চাই বিদায় আমার যত্নকারী, অতএব পরম পূর্ণতা।