৯ বিদ্যালয় নদীগর্ভে, বদলে যাচ্ছে মানচিত্র
১৩ জুন ২০২৫ ০৮:৪৫
আতিকুর রহমান হিরা, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) : জামালপুর জেলার সর্ব উত্তরে ও ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গাড়ো পাহাড় ঘেষে অবস্থিত দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা। এ উপজেলার পশ্চিমে যমুনা নদী ও পূর্বে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদী বয়ে যায়। গত দু’দশকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ি, চিকাজানী, বাহাদুরাবাদ, হাতিভাঙ্গা ও সানন্দবাড়ী ইউনিয়নের শত শত বিঘা ফসলি জমি, বাড়িঘর, গাছপালা, স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ, কবরস্থান, হাট বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা যমুনা নদীর করাল গ্রাসে বিলিন হয়ে গেছে। নদী ভাঙন অব্যাহত আছে। গত ১৩ মে ২০২৫ হলকার চর গ্রামের সুমন দাস নামে এক যুবক নদীর পাড়ে মাছ ধরার জন্য অপেক্ষা করতে ছিল। সে সময় নদীর পাড় ভেঙে তার ওপর পড়লে সে ডুবে যায়। ডুবুরিগণ তার লাশ উদ্ধারে ব্যর্থ হয়। দু’দিন পর সুমন দাসের লাশ ভেসে ওঠে। দু’দশকে যমুনার ভাঙনে বড়খাল উচ্চ বিদ্যালয়, বড়খাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাকোয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর হলকা হাবড়া বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খোলাবাড়ী উচ্চবিদ্যালয়, খোলাবাড়ী-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর মাগুরীহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সর্বশেষ গত ১ মাস পূর্বে চর ডাকাতিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি করালগ্রাসী যমুনার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বিলীন হয়ে যায় ব্রিজ, কালভাট ও রাস্তা-ঘাট। ভিটে মাটি হারিয়ে অনেকে আশ্রয় নিয়েছে রাস্তায়, সরকারি বাঁধে ও রেললাইনের পার্শ্বে। এতে দু’দশকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নের ভৌগলিক মানচিত্রই পরিবর্তন হয়েছে। নদী ভাঙনে এক গ্রামের লোক অন্য গ্রামে বসতি স্থাপন করেছে, পরিবর্তন হয়েছে অনেকের ঠিকানা। অনেকে বাড়ি-ভিটা হারিয়ে কাজের সন্ধানে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করছে বলে জানা গেছে। করালগ্রাসী যমুনার ভাঙন রোধে দেওয়ানগঞ্জ থেকে সানন্দবাড়ী পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে দেওয়ানগঞ্জবাসী।