এলেঙ্গা-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক অনিয়মের অভিযোগ


১৩ জুন ২০২৫ ০৮:৪৪

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা: টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা-ভূঞাপুর চরগাবসারা আঞ্চলিক মহাসড়কের ১২ কোটি টাকা বরাদ্দের সংস্কার কাজে ধীরগতি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। ফলে সড়কের কাজ নিম্নমানের হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা। এতে এ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিনই বিকল হচ্ছে যানবাহন।
জানা গেছে, এলেঙ্গা-চরগাবসারা ভায়া ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে ডাবল বিটুমিনাস সারভেস ট্রিটমেন্ট পদ্ধতিতে সংস্কার কাজের প্রকল্প গ্রহণ করেছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। প্রায় ১২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার এ সংস্কার কাজ চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা। এতে পাথর, বিটুমিন ও কেরোসিনের সংমিশ্রণে সড়কে কার্পেটিং করার অভিযোগ উঠেছে। ২২ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৯ কিলোমিটারের কাজ শেষ করা হয়েছে। তবে সড়কে খানাখন্দ ও ফাটল সংস্কার না করেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে এভাবেই কার্পেটিং করায় বেশিদিন সুফল না পাওয়ার আশঙ্কা সড়ক ব্যবহারকারীদের। এর আগেও গত বছর দুইবার এ সড়কের সংস্কার করেছে সওজ কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিন দেখা গেছে, এলেঙ্গা-ভূঞাপুর সড়কের কুচটি এলাকায় সংস্কার কাজ করছে ঠিকাদারের লোকজন। পূর্বে কার্পেটিং করা পাথরের ওপর ছোট পাথর দিয়ে পুনরায় কার্পেটিং করা হচ্ছে। এতে সড়কে ফেলানো পাথরগুলো গাড়ির চাকায় উঠে আসছে। ঠিকাদারের দাবি ৩৫ ভাগ পাথর উঠে পড়বে। তবে সেই পাথরগুলো সড়কেই থাকবে। একসময় সে পাথরগুলো সড়কে লেগে যাবে।
পরিবহন চালকরা জানায়, আগের সড়কটিই ভালো ছিল। তবে যে অংশটুকুতে খানাখন্দ বা ফাটল ধরেছিল সেটাই সংস্কার করা দরকার ছিল। এভাবে পুরো সড়ক পাথর ছিটিয়ে কাজ করা ঠিক হয়নি। স্থানীয়রা জানান, সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার না করে এভাবে ভালো সড়ক সংস্কারের নামে নিম্নমানের কাজ করায় সরকারের কোটি কোটি টাকা নষ্ট হচ্ছে। এতে ঠিকাদার ও কর্মকর্তারা লাভবান হচ্ছে।
সড়কের সাব ঠিকাদার ফারুক হোসেন বলেন, নিয়মানুযায়ী সড়কের সংস্কার কাজ হচ্ছে সওজ কর্তৃপক্ষের নিদের্শেই। অনেকেই বুঝেনি তাই হয়তো এমন কথা বলছে। কাজটা এভাবেই করতে হবে। টাঙ্গাইলের সড়ক ও জনপদ বিভাগের কার্য সহকারী রুবেল হোসেন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যেভাবে নির্দেশ দিয়েছে সেভাবেই কাজ হচ্ছে। বিটুমিনের কাজ এভাবেই হয়।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী সিনথিয়া আজমেরি খান জানান, সংস্কার কাজের মান ভালো হচ্ছে। বরাদ্দ কম থাকায় ডাবল বিটুমিনাস সারভেস ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে।