নির্বাচন ইস্যুতে সরকারকে চাপে রাখতে চায় বিএনপি
১০ এপ্রিল ২০২৫ ১৩:০৮
স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে নির্বাচনী রোডম্যাপ চাইবে। সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচনের জন্য সরকারকে মৃদু চাপের অংশ হিসেবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের ওই সিদ্ধান্তের আলোকে গত ৮ এপ্রিল মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে সময় চেয়েছে বিএনপি। কিন্তু গত ৯ এপ্রিল বুধবার এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত বিএনপির প্রতিনিধি দলের সম্ভাব্য সাক্ষাতের সময় ঠিক করেনি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের বাইরে রয়েছেন, আগামী ১৬ এপ্রিল তার দেশের ফেরার কথা রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফিরলে ওই বৈঠক হতে পারে এমনও আলোচনা রয়েছে দলটির মধ্যে।
বিএনপি এখন সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে বেশি মনোযোগী। প্রকাশ্যে নির্বাচন দাবিতে যেভাবে সোচ্চার, ঠিক একইভাবে অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি এবং দ্রুত নির্বাচন দিতে সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে রাজপথে কর্মসূচি দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, চাপ প্রয়োগ করতে পারলে নির্বাচনের সময় আরও এগিয়ে আসবে। অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগ রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সংস্কার চলছে, তার মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনের চাপ বাড়াতে চায় দলটি। তৃণমূল পর্যায়ের দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি এবং বিভিন্ন স্থানে দখলবাজির যে অভিযোগ উঠছে এতে প্রতিনিয়তই দলটির ব্যাপারে সাধারণ মানুষের ধারণা নেতিবাচক হচ্ছে। ইতোমধ্যে এসব অনিয়মের জন্য সারা দেশের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হয়েছে দলটিকে। এমনকি ঢাকা মহানগর বিএনপির সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতাকেও পদচ্যুত করতে হয়েছে। সময় দীর্ঘ হলে দলের বদনাম বেশি হতে পারে এবং রাজনীতিতে নানা কৌশলে দলটির বর্তমান অবস্থান আরও তলানিতে যাওয়ার আশঙ্কাও মাথায় রাখছে বিএনপি। আর এসব কারণে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে নির্বাচনের দাবিতে সরকারকে চাপে রাখতে সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে বেশ কিছুদিন ধরে বিএনপির সিনিয়র বেশ কয়েকজন নেতাকে রাজনৈতিক অঙ্গনে কথা কম বলতে দেখা যাচ্ছে। এটি দলটির কৌশলগত কোনো কারণ নাকি সর্বোচ্চ মহল থেকে কম কথা বলার নির্দেশনা এসেছে, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া বেশ কিছুদিন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধেও গলা নিচু করে কথা বলছে বিএনপি। খুব বেশি বিষোদ্গার করতে দেখা যায় না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বৈষম্যহীন, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ চাইলে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।