বাড়ি ভাড়া জটিলতা, ১২ হাজার হজযাত্রীর হজপালন অনিশ্চিত
১০ এপ্রিল ২০২৫ ১৩:০৬
স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৫ অথবা ৬ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আগামী ২৯ এপ্রিল প্রথম হজ ফ্লাইট জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবে। এ বছর বাংলাদেশ থেকে ৮৭ হাজার ১০০ জন হজে যাওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন পাঁচ হাজার জন। এসব সরকারি হজযাত্রীর বাড়ি ভাড়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে প্রস্তুতি নেওয়া ৮২ হাজার ১০০ যাত্রীর মধ্যে গত ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ৭২ থেকে ৭৫ হাজার বাংলাদেশি হজযাত্রীর মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন হয়েছে। বাকিদের বাড়ি বা হোটেল ভাড়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফলে কয়েক হাজার হজ পালনে ইচ্ছুক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির হজ পালনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এদিকে চলতি বছরের হজযাত্রীদের ভিসা ৩ এপ্রিল থেকে দেওয়া শুরু করেছে সৌদি আরব। দুই দফা সময় বাড়িয়ে ৩ এপ্রিল রাত ১২টায় সৌদি আরবে হজযাত্রীদের বাড়ি ভাড়ার সময় শেষ হয়েছে। নতুন করে সময় বৃদ্ধি করা না হলে কয়েক হাজার বাংলাদেশি মুসলিমের ফরজ এ ইবাদত পালন অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।
হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) সূত্রে জানা গেছে, বাড়ি ভাড়ার সময়সীমা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হয়েছে হাব। এজেন্সি মালিকরা বলছেন, ‘মূলত সৌদি আরব ও বাংলাদেশে সরকারি ছুটির কারণে ব্যাংক বন্ধ ছিল। সৌদি আরবের অনেক হোটেল ও বাড়ির তাসরিয়া (অনুমোদন) ছিল না। এছাড়া সৌদি সরকার হজের ব্যাপারে নতুন করে সিট প্ল্যান করেছে বলে অনলাইনে অনেক বাড়ি ভাড়া করা যায়নি। জানা গেছে, সৌদি আরবে হজযাত্রীদের এখনো বাড়ি বা হোটেল ভাড়া সম্পন্ন করতে পারেনি এমন হজ এজেন্সির তথ্য চেয়ে ইতোমধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয় জরুরি চিঠি দিয়েছে।
প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি, চলছে ভিসা নিষেধাজ্ঞা
সৌদি আরব হজ মৌসুমের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটি হজ নির্বিঘ্ন করতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে হাজিদের যাতায়াত, বাসস্থান, ধর্মীয় পবিত্র স্থানগুলোয় গমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় হজের মৌসুমে সৌদি নাগরিক এবং বিদেশিদের জন্য নানাবিধ নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। সম্প্রতি বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সৌদি আরব। এ নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে প্রযোজ্য নয়; বরং জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে। ব্যস্ত হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের আগমন নিয়ন্ত্রণ এবং ধর্মীয় কর্তব্য পালনের সুষ্ঠু সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সৌদি আরবের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। এ স্থগিতাদেশ ওমরাহ, ব্যবসায়িক এবং পারিবারিক ভিসাসহ বিভিন্ন ভিসা অন্তর্ভুক্ত। তবে যাদের ওমরাহ ভিসা আছে তারা ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন। এ তারিখের পরে কোনো ওমরাহ ভিসাধারী সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন না। ভিসা নিষেধাজ্ঞার পেছনে আসন্ন হজ মৌসুম ছাড়া অন্য কূটনৈতিক কারণও থাকতে পারে। কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশ বাদ দিলে মূলত দুটি বড় কারণ সামনে আসে। আগের বছরগুলোয় বহু মানুষ প্রবেশযোগ্য ভিসা নিয়ে হজ মৌসুমে সৌদি আরবে এসে অবৈধভাবে হজে অংশ নেন। এতে অতিরিক্ত ভিড় এবং নিরাপত্তাজনিত সমস্যা দেখা দেয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রতি বছরই এ ধরনের ঝামেলা এড়াতে চায়। তাই হজ মৌসুমে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। যেমনÑ গত বছর সৌদি আরব সরকার ভিজিট ভিসাধারী ও পর্যটকদের হজ পালন এবং মক্কায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। তেমনি অস্থায়ী ভিসা যেমন- স্টুডেন্ট ভিসা বা শেনজেন ভিসাধারীদেরও হজ পালন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ জারি করে। স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, হজ পালনের অনুমতি পেতে হলে একজন ব্যক্তিকে সৌদি হজ ভিসাধারী হতে হবে অথবা হজ পারমিট নিতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটালে কঠোর শাস্তির ঘোষণা দিয়ে পরিপত্র জারি করে সরকার। ধারণা করা হচ্ছে, ১৪ দেশে ভিসা নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও অন্যান্য বছরের মতো আরও কিছু নির্দেশনা জারি করবে সৌদি। সেসব না মানলে শাস্তির ব্যবস্থাও রাখা হবে।
ফ্লাইট ২৯ এপ্রিল থেকে শুরু
পবিত্র হজ পালনের লক্ষ্যে আগামী ২৯ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে। ৩১ মে পর্যন্ত এই ফ্লাইট পরিচালিত হবে। ইতোপূর্বে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায় জানানো হয়েছে, এ বছর ৮৭ হাজার ১০০ হজযাত্রী বাংলাদেশ থেকে পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন। হজযাত্রীদের পরিবহন ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস মোট হজযাত্রীর ৪৩ হাজার ৫৫০ জন (৫০ শতাংশ) এবং সৌদিয়া এয়ারলাইনস (৩৫ শতাংশ) এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস (১৫ শতাংশ) অবশিষ্ট ৪৩ হাজার ৫৫০ জন হজযাত্রী পরিবহন করবে। এ বছর ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা বিমান ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। সভায় ফ্লাইট শিডিউল, বিদেশে রেজিস্ট্রেশনকৃত বাংলাদেশিদের হজ ফ্লাইট, প্রতিটি ফ্লাইট পরবর্তী যাত্রীসংখ্যা ও অন্যান্য তথ্য পোর্টালে আপলোড করা, হজযাত্রীদের লাগেজ ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা এবং হজযাত্রীদের পরিবহনসেবা নিশ্চিতকরণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।