অক্টোবরের মধ্যেই শেষ হচ্ছে প্রস্তুতি

ইসির টার্গেট ডিসেম্বর


১০ এপ্রিল ২০২৫ ১৩:০৪

প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ
স্টাফ রিপোর্টার : দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস একাধিকবার বলেছেন, আগামী ডিসেম্বর অথবা ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। তবে তার এ বেঁধে দেওয়া সময় শেষ পর্যন্ত ঠিক থাকবে কিনা, তা নিয়েও নানা মহলে সংশয় রয়েছে। সাধারণত জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু এবারের নির্বাচনী প্রেক্ষাপট অন্য সময়ের চাইতে সম্পর্ণ ভিন্ন। এবার কমিশন চাইলেও নির্বাচনী দিনক্ষণ ঠিক করতে পারবে না। কারণ গত বছরের ৭ জানুয়ারি ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা জুলাই বিপ্লব পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। এ অবস্থায় সরকারের সদিচ্ছা, রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ওপরই নির্ভর করবে জাতীয় নির্বাচন আসলে কবে অনুষ্ঠিত হবে। তবে বর্তমান নির্বাচন কমিশন আসছে ডিসেম্বরে সম্ভাব্য নির্বাচন হতে পারেÑ এমনটাই মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় কেনাকাটা, ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন এবং নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দেওয়ার মতো কাজগুলো সাধারণ ভোটের তফসিলের আগেই শেষ করতে হয়। কমিশন এখন সেই কাজগুলোই করছে। দিনক্ষণ ঠিক না হলেও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ করবে ইসি। তফসিল ঘোষণার আগে সেই সংলাপের পরিকল্পনা নির্বাচন পরিচালনাকারী এ সংস্থাটির।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে ইসি সব প্রস্তুতি শেষ করতে চায়। কারণ ইসি ডিসেম্বরকে টার্গেট করেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইসি সূত্র জানায়, ডিসেম্বরে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এজন্য একটি খসড়া কর্মপরিকল্পনা করা হয়েছে। কর্মপরিকল্পনায় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিন তারিখ ঠিক করা না হলেও প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইসি মনে করছে, জুনের মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া ও জাতীয় ঐকমত্য গঠনের প্রক্রিয়া একটি রূপ পাবে। তখন সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা সহজ হবে। ইসির নিজস্ব প্রস্তুতির বাইরে নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনপ্রশাসনের ভূমিকা। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও ভাবতে হচ্ছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী; বিশেষ করে পুলিশ এখনো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। পুলিশকেই তফসিলের আগে দুর্বলতা কাটিয়ে লাইনে তুলতে হবে সরকারকে।
২০ লাখের বেশি মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী জুনে ভোটার তালিকার হালনাগাদ কার্যক্রম শেষ করার চিন্তা করছে ইসি। সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ করাও ইসির সাংবিধানিক দায়িত্ব। ৩০০ আসনের সীমানা নির্ধারণ করা আছে। আইন অনুযায়ী কোনো আদমশুমারির পর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের আগে এবং ইসি চাইলে যেকোনো জাতীয় নির্বাচনের আগে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করতে পারে।
এদিকে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। গত ৮ এপ্রিল নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট দেওয়ার পদ্ধতি নির্ধারণ’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনকালে এসব কথা জানান তিনি। এ সময় চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির সিনিয়র সচিব উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচন কর্মকর্তাসহ অন্তত ৮০ জন অংশ নিয়েছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ‘প্রক্সি ভোটিং’ পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইসি এক কর্মশালার আয়োজন করে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, এমআইএসটি, সরকারি ও বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
সিইসি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই দেখা করেন, তাদের ভোট দেয়ার সুযোগ করে দিতে বলেছেন। তবে আমরা যেটা দেখলাম এটা খুব সহজ নয়। অনেক পর্যালোচনার পর আমরা তিনটি পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছি। পোস্টাল ভোটিং, যেটি আমাদের এখন আছে। অনলাইন ভোটিং এবং প্রক্সি ভোটিং নিয়েও আমরা কাজ করছি। অন্তর্বর্তী সরকারের মতো আমরাও (ইসি) আগামী নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রুশ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৬
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:০৩