আমাদের ঈদ সংস্কৃতি
২৭ মার্চ ২০২৫ ১৬:৪১
॥ নূরুন্নাহার নীরু ॥
বিশ্ব মুসলিমের বৃহত্তর উৎসব হচ্ছে বছরের দুটি ঈদ। ঈদ মানে আনন্দ। মূলত এ ঈদগুলো নিছক আনন্দ উদযাপনে দিবস কাটিয়ে দেয়া নয়, বরং এর মাধ্যমে যে বিষয়গুলো বিশ্বমানবতার জন্য মূর্ত হয়ে ওঠে, তা নিম্নরূপ- ১. পৌত্তলিকতা ও শিরকমুক্ত সংস্কৃতি চালু করা, ২. ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠার সংস্কৃতি গড়া, ৩. মোলাকাত, মোয়ামেলাতের মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করা, ৪. শ্রেণিভেদ ভুলে যাওয়া, সবার তরে সবাই আমরা, এ নীতিতে চলা, ৫. হৈহুল্লোড়, অতি আড়ম্বরিতা নয়, বরং সৌম্য-স্নিগ্ধ-মৌন পরিবেশে নিজ প্রভুকে স্মরণ করার মাধ্যমে সুস্থ বিনোদনের প্রচলন রাখা।
আর এজন্যই বোধ করি মহানবী সা. যখন মদীনায় হিজরত করে যাবার পর দেখলেনÑ হিজরী ২য় বর্ষে মদীনাবাসীরা একটি বিশেষ দিনে বিশেষ আনন্দ উৎসবে মত্ত; তখন তিনি প্রথমে জানতে চাইলেন এর কারণ। আমরা সাহাবী আনাস রা. হতে বর্ণিত হাদীস থেকে বিষয়টা জানতে পারি স্পষ্টভাবে। তিনি বর্ণনা করেছেন; তৎকালীন মদিনাবাসী বছরে ২টি উৎসব পালন করত। যথাÑ “নওরোজ ও মিহিরজান।” যেগুলো সেকালীন বাসিন্দাদের ধর্ম ও গোত্রের রীতি অনুযায়ী একটি ‘শরতে’, আরেকটি ‘বসন্তকালে’ উদযাপিত হতো।
মহানবী সা. মদীনায় হিজরত করে এলে পরে সে মূহূর্তে আগেই যেহেতু মহান আল্লাহ তায়ালা রমজানে সিয়াম সাধনার হুকুম ও ১ শাওয়ালের রোজা ভঙ্গের হুকুম এবং ঈদুল ফিতর উদযাপনের দিক নির্দেশনা দিয়ে দেন; সেহেতু মহানবী সা. স্বগৌরবে ঘোষণা দেন যে, “মুসলিমদের জন্য এর চেয়েও দুটি উত্তম উৎসব রয়েছে, যা যথাক্রমে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা নামে অভিহিত।” এ ঘোষণার মাধ্যমে প্রধানত যে ক’টি বিষয় প্রতিষ্ঠা পায়, তা যথাক্রমেÑ ১. আল্লাহর রাজ্যে আল্লাহর বান্দারা আল্লাহরই মনোনীত দীন মানার সাথে সাথে জীবনের আনন্দ উৎসবও তাঁরই কাক্সিক্ষত পথে পরিচালিত করবে। ২. যেহেতু মহানবী সা. দুনিয়ায় এসেছেনই শিরকের মূলোৎপাটন করতে, কাফের ও মুসলিম সংস্কৃতি এক নয়। তাই জাহিলি যুগের ধ্যান-ধারণার ওপর কুঠারাঘাত হানার জন্যই রাসূল সা. দুই ঈদের প্রচলন করেন। নওরোজ ও মিহিরজান বাতিল ঘোষণা করেন। ৩. ইসলামী জিন্দেগী নির্মল ইচ্ছাকে অস্বীকার করে না। নির্মল বিনোদনবিমুখ কোনো বিধান নয়। ইসলামী বিনোদনের লক্ষ্য আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করা।
একটি বিখ্যাত হাদীসে বর্ণিত, “যারা রমজান পেয়েও গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারলো না, তাদের ওপর লা’নত।” জিব্রাইল আ.-এর দ্বারা প্রেরিত এ ঘোষণা শুনে মহানবী সা. তৎক্ষণাৎ পড়েছিলেন “আমিন” তার মানে যারা গুনাহ মাফ করাতে পারলো না তাদের আবার ঈদ তথা আনন্দ কি?
এ ব্যবস্থার ফলে আমরা দেখছি, শিখছি ঈদুল ফিতরের সংস্কৃতি হচ্ছে:
১. ঈদের নামাজের আগেই গরিব-দুঃখীর মাঝে ঈদ উদযাপনে অংশগ্রহণ করার মতো সাদাকা বণ্টন করা, যা ‘সাদকাতুল ফিতর’ নামে পরিচিত। এর জন্য প্রতি বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে একটা ‘হার’ নির্ধারণ করা হয় ফিতরা হিসেবে প্রদানের জন্য, সে অনুপাতে যথাযথভাবে তা প্রদান করা সকল মুসলিমের দায়িত্ব।
রমজানে এ বছর বাংলাদেশে ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা ও সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর (২০২৪) সর্বনিম্ন ফিতরা ছিল ১১৫ টাকা ও সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৭০ টাকা। গত ১১ মার্চ রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভায় ১৪৪৬ হিজরি সনের ফিতরার এ হার নির্ধারণ করা হয়।
ফিতরা বা সদকাতুল ফিতর হলো সেই নির্ধারিত সাদাকা, যা ঈদের নামাজের আগে প্রদান করতে হয়। একে জাকাতুল ফিতরও বলা হয়। ঈদের দিন সকালবেলায় যিনি নিসাব পরিমাণ সম্পদের (সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বাহান্ন ভরি রুপা বা সমমূল্যের ব্যবসাপণ্যের) মালিক থাকবেন, তাঁর নিজের ও পরিবারের ছোট-বড় সবার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা তাঁর প্রতি ওয়াজিব। রুপার হিসাবে বর্তমান বাজারমূল্যে এটি ৯০ হাজার টাকা প্রায়।
২. এছাড়া রমজানের সারা মাস রোজা পালনের মাধ্যমে গুনাহ মাফির প্রচেষ্টা চালানোর সাথে সাথে দান-সাদাকাসহ যাকাত প্রদানকারীদেরে যাকাত দানে উদ্বুদ্ধ করা হয়, তারা সক্রিয় হয়, দানে তৃপ্ত হয়। ঈদের আগেই এ যাকাত, সাদাকা প্রদান সম্পন্ন করতে হয়। যাতে ঈদের আনন্দ সবাই সমভাবে উপভোগ করতে পারে।
৩. ঈদুল ফিতর তথা শাওয়ালের চাঁদ দেখার সাথে সাথেই দোয়া পড়তে হয়, “আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। হে আল্লাহ! আপনি এই নতুন চাঁদের সূচনা করুন কল্যাণ, নিরাপত্তা ও ঈমানের সাথে। শান্তি ও ইসলামের সাথে এবং আমাদের প্রভু! যা ভালোবাসেন ও পছন্দ করেন তা পালনের তাওফিকের সাথে। হে নতুন চাঁদ! তোমার রব এবং আমাদের রব আল্লাহ।” এ সময়ে একে অপরকে দোয়ার মাধ্যমে সম্ভাষণ জানানো; এমনকি রাত জেগে আল্লাহর শোকর আদায় করার জন্য নফল ইবাদতের পালাও চলতে থাকা একটা রীতি।
৪. দিনের শুরুতেই রাসূলের দেখানো রীতি হিসেবে গোসল করে পবিত্র হয়ে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন বা নতুন কাপড়েই সজ্জিত হয়ে, সুগন্ধি মেখে, একটু মিষ্টিমুখ করে (যাতে রোজা ভঙ্গের দৃষ্টান্ত রাখা হয়) ঈদের মাঠে চলে যাওয়া। মূলত মহা প্রভুর স্মরণ দিয়েই একটি নির্মল আনন্দের ভীত রচনা করার রীতি গড়া হয়।
৫. বিশ্ব মুসলিম এক কাতারে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তাঁরই সামনে সিজদায় লুটিয়ে পড়েÑ আর নিজেকে এভাবে নিবেদিত করার আনুগত্যেই তাদের আনন্দ উপচেপড়ে। (কী মহান দৃশ্য! নয় কোনো ঢোলবাদ্য, নয় কোনো আকাশবাতাস প্রকম্পিত শব্দ) একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা হয়।
৬. বিনয় ও আনুগত্যের মাঝেই (সালাত আদায়) মুসলিমদের যে কোনো বিজয়োল্লাস করার রীতি চালু করা, যা শেখানো হয়েছে সূরা আন নাসর। তারই মূর্তপ্রতীক ঈদের সালাত উদযাপন। সবাই বুকে বুক মিলিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধের দৃষ্টান্ত স্থাপন। এভাবেই ঈদুল ফিতর শেখায় আমাদেরে নবসংস্কৃতি। তাই তো কাজী নজরুল ইসলাম বলে গেছেন-
“ঈদুল ফিতর আনিয়াছে তাই নব বিধান,
ওগো সঞ্চয়ী উদ্বৃত্ত যা কর তা দান।
ক্ষুধার অন্ন হোক সবার,
ভোগের পেয়ালা উপচায়ে পড়ে তব হাতে,
তৃষ্ণাতূরের হিস্যা আছে ও পেয়ালাতে।
দিয়া ভোগ কর বীর দেদার।”
হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈদুল ফিতর পুরস্কার প্রাপ্তির দিন। (জামেউল আহাদিস)।
ঈদুল আযহা: জিলহজ মাসের ১০ তারিখে উদযাপিত হয় এ ঈদ। এ ঈদ প্রমাণ করে ত্যাগ-তিতিক্ষার এক পরম একনিষ্ঠতার চিত্র। আমরা যে কুরবানির আমল করি তা হযরত ইব্রাহীম আ.-এর সুন্নত। ইব্রাহীম খলিলুল্লাহকে দিয়ে আর তার প্রতিষ্ঠা ও বিকাশ ঘটেছে আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সা.-এর মাধ্যমে। তাই তো ইব্রাহীম আ. তার পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর আদেশে কুরবানি দিতে যাবার ঘটনা এক অনন্য ইতিহাস। আল্লাহর রাহে ত্যাগের উদাহরণ এবং নতুন সংস্কৃতি। মহানবী সা. এসে সে সংস্কৃতির চর্চার মাধ্যমে বিশ্ববাসী শিখিয়েছন “আনন্দ ভোগে নয় ত্যাগে।”
সূরা বাকারার ১৯৬নং আয়াতে বলা হয়েছে, “তবে তোমাদের যে ব্যক্তি হজের সময় আসা পর্যন্ত ওমরাহর ফায়দা গ্রহণ করে। সে যেন সামর্থ্য অনুযায়ী কুরবানি দেয়, আর কুরবানি দেয়া সম্ভব না হলে সে তিনটি রোজা হজের সময়ে আর সাতটি ঘরে ফিরে এ দশটি রোজা রাখবে।” এছাড়া ৯ জিলহজ হচ্ছে আরাফার দিন, যা এক ঐতিহাসিক দিবস। এটি হচ্ছে মুক্তির দিবস। এ দিবসে প্রথম মানব-মানবী মহান আল্লাহর অসীম কৃপায় বহুদিন বিচ্ছিন্ন থাকার পর একত্রিত হোন এবং আল্লাহর ক্ষমা লাভ করেন। সেই রীতি অনুযায়ী এ দিনটি বিশ্ব মুসলিমের গুনাহ মাফের এক মহিমান্বিত দিবস। তাই এ দিনে; এমনকি জিলহজের প্রথম ১০ দিনই নফল রোজা ও ইবাদতে কাটানোর জন্য মুমিনদের এক অভূতপূর্ব সময়। এ ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্যে দিয়েই ঈদুল আজহা উদযাপন মুমিনের হৃদয়কে গড়ে তুলে উদার ও ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের এক মহান শক্তিতে। ঈদুল আহা বা কুরবানির ঈদও যে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশিত তা আমরা জানতে পারি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত হাদীস থেকে। তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন আমাকে ‘ইয়াওমুল আজহার’ নির্দেশ করা হয়েছে। এ দিবসকে আল্লাহ সুবহানুতায়ালা আমার উম্মতের জন্য ঈদ হিসেবে মনোনীত করেছেন।” মুসনাদে আহমাদ। কুরআন মজীদ ও সহীহ হাদীসে এ ঈদকে সুন্নতে ইব্রাহীম বলা হয়েছে।
ঈদুল আজহায় কুরবানির গোশত দিয়ে দিনের খাওয়া-দাওয়া শুরু করা সুন্নত। তারপর কুরবানি করা পশুর গোশত বিতরণ সে এক মহাতৃপ্তিকর পরিবেশ। দানেও যে কত আনন্দ সে এক বিশ্ব মুসলিমই বুঝে থাকে। এ দুই ঈদকে কেন্দ্র করে সে আবহই মূলত ফুটে ওঠে।
হযরত হাসান (রা.) এতে আরো কিছু বৃদ্ধি করে বর্ণনা করেন যে, “ঈদুল ফিতর হলো নামাজ আদায় করা ও সাদকা করা। আর ঈদুল আজহা হলো সালাত আদায় করা ও কুরবানির পশু জবেহ করা অর্থাৎ তোমরা কুরবানির প্রাণী জবেহ করবে।” (বায়হাকী, শুয়াবুল ঈমান)।
আমার নিবন্ধের মূল কথা হচ্ছে চলমান এ “ঈদ সংস্কৃতি” আমাদের অর্থাৎ মুসলিমের সংস্কৃতি। কিন্তু আমরা দেখছি ঈদকে কেন্দ্র করে কত আয়োজন! এই যেমন ঈদের পোশাক, ঈদের খাবার, ঈদ স্পেশাল রেসিপি, ঈদ নাটক, ঈদ গান, ঈদ ছায়াছবি আরো কত কী? এ সবই ঈদকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক উত্তরণ! কিন্তু হাস্যকর বিষয় হলো ঈদকে আর্থিক উত্তরণের পাথেয় হিসেবে নিলেও এরা প্রত্যেকেই ঈদের যে প্রকৃত শিক্ষা-ত্যাগের মহিমা তুলে ধরে না। সংস্কৃতির নামে তারা অপসংস্কৃতির চর্চাই করেন, এসব ঈদ নিয়ে বাণিজ্যকারীরা। এদের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে ঈদের তাৎপর্য ও ঐতিহ্য।
বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. আব্দুর রহমান সিদ্দিকী তাঁর ‘অভিঘাতের মুখে ঈদ সংস্কৃতি : চাই নবজাগরণ’ শীর্ষক নিবন্ধে ঈদের নামে প্রচলিত অপসংস্কৃতির এক সুনিপুণ চিত্র এঁকেছেন, “এখন শোনা যাচ্ছে ঈদের নাটক, ঈদের নাচ, ঈদের গান, ঈদের কনসার্ট, ঈদের ফ্যাশন শো, ঈদের রেসিপি, ইত্যাকার বিচিত্র সব বিষয়ের কথা। ঈদের সাথে এসবের আদৌ কোনো যোগসূত্র নেই। তবুও ঈদ উপলক্ষে এসব হাজির হয় কোটি দর্শকের সামনে। ঈদকে তার আপন মহিমা থেকে হটিয়ে ভিন্নতর এক মাত্রায় উপস্থাপন করা হয়। বিশেষভাবে নবীন প্রজন্মের সামনে ঈদকে একটা হৈহুল্লোড়, রং-তামাশা, গান-বাজনা, গলাগলি, ঢলাঢলির উপলক্ষ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টায় ব্যস্ত কতক মিডিয়া। তাদের বিবেচনায় ‘ঈদ মানে জোছনা রাতে হাস্নাহেনার গন্ধে’ ফষ্টিনষ্টি করার মাহেন্দ্র সুযোগ। ঈদ যে রমজানের শিক্ষা-সংযম, ত্যাগ ও তৌহিদী চেতনার পরিসীমার মধ্যে সম্পাদ্য একটি ধর্মীয় আচার ও ইবাদতের অংশ তা ভুলিয়ে দিয়ে নবীন প্রজন্মকে ভিন্নদিকে ধাবিত করানো হচ্ছে।”
বিদগ্ধ জনদের অভিমত, সংস্কৃতির এই আগ্রাসন থেকে ঈদ সংস্কৃতিকে তার আপন মহিমায় ফিরিয়ে আনা সময়ের অনিবার্য দাবি। ঈদের মূল চেতনা জাগ্রত করে শরিয়ত নির্ধারিত বিধিবিধান পালন ও এ সম্পর্কিত সব কুসংস্কার দূর করতে হবে। এসব অপঘাত থেকে বাঁচতে অবশ্যই কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে আমাদেরই: ১. সমাজে এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে যেÑ যারা রোজা পালন করেনি, রোজার শিক্ষা জীবনে বাস্তবায়ন করেনি, কুরআন অধ্যয়ন করেনি, কুরআনের আয়নায় নিজের জীবনকে অবলোকন করেনি, ঈদ যে তাদের জন্য আনন্দের নয়। বরং তাদের জন্য কষ্টের কারণ এ অনুভূতি প্রকাশ করেছেন স্বয়ং রাসূল সা.-এর অন্যতম সাহাবী দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর রা.। তিনি ঈদের দিন সকালে ঈদের খুতবাহ প্রদান না করে হুহু করে কান্না করতেন। কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলতেন, “আসলেই কি আমার জন্য ঈদ? আমি কি রোজার হক্ক আদায় করতে পেরেছি? আল্লাহ কি আমাকে রমজানে ক্ষমা করেছেন?” সুবহানাল্লাহ! এ অনুভূতিকে দৃষ্টান্তস্বরূপ জাগ্রত করতে হবে। ২. চাঁদ দেখার দোয়া পড়ার সংস্কৃতি চালু করতে হবে শিশু-বৃদ্ধ পর্যন্ত। ৩. দুই ঈদেই আছে তাকবীর পাঠ। বেশি বেশি ছড়িয়ে দিতে হবে তা। ৪. দুই ঈদে পালনকৃত সুন্নতগুলো ছড়িয়ে দেয়া ব্যাপক হারে। ৫. পাড়া-প্রতিবেশী আত্মীয়দের মাঝে সুস্থ সংস্কৃতির প্রচলন করার জন্য ঈদ গেট-টুগেদার করে গঠনমুখী নির্মল আনন্দ-বিনোদনের মধ্যে দিয়ে ঈদ শিক্ষা-চেতনা জাগ্রত করতে হবে। ৬. ঈদুল আজহার মাস শুরু হলে প্রথম ১০ দিনের রোজা রাখাসহ প্রচুর নফল ইবাদতের প্রচার প্রসার ঘটাতে হবে। ৭. সামাজিকভাবে কুরবানির গোশত বিলিবণ্টনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিতে হবে। পরিশেষে বিশিষ্ট কলামিস্ট মুসা আল হাফিজের ভাষায় বলতে হচ্ছে, “সব ধরনের কুসংস্কার থেকে মুক্ত হওয়া ইসলামী সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য। কুসংস্কার একটি সামাজিক ব্যাধি, যা সমাজের অধঃপতন ঘটায়। সমাজের মধ্যে অশান্তিও অমঙ্গল টেনে আনে। এর কারণেই ঘটে সামাজিক অবক্ষয়।” আমরাও চাই ঈদকে ঘিরে কোনো কুসংস্কার গড়ে না উঠুক। বরং প্রতিষ্ঠিত হোক একটি সুস্থ-সুষ্ঠু সংস্কৃতি।
লেখক: অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।