নীলফামারীতে সরকারি জায়গা দখল করে বিক্রি, প্রশাসন নীরব


২৭ মার্চ ২০২৫ ১৬:২৭

নীলফামারী সংবাদদাতা : নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বোড়াগাড়ী হাটের সরকারি জায়গা দখল করে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সাবেক স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে।
সরেজমিন দেখা যায়, জেলার ডোমার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বোড়াগাড়ী হাটের সরকারি জায়গা নিজের দাবি করে সম্প্রতি একটি ৩০ হাত লম্বা টিনের ঘর তুলে দখল করে নেয় মটুকপুর নদীয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসানুল হক নামে এক ব্যক্তি। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলেও অজ্ঞাত কারণে নীরব স্থানীয় প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে অবৈধ দখলদারের সাথে প্রশাসনের যোগসাজশের। এলাকাবাসী জানান, ডোমার থানা-পুলিশসহ বোড়াগাড়ী ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশীলদার) তহিদুল ইসলাম ঘর তৈরিতে বাধা প্রদান করে লাল পতাকা টাঙিয়ে দিয়ে অবৈধ দখলদারকে সেখানে কোনো প্রকার নির্মাণকাজ না করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে তহশীলদার উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নিকট হাটের ওই জায়গাটি সরকারি খাস খতিয়ানের তোহা বাজারভুক্ত হিসেবে প্রতিবেদন দাখিল করেন। জায়গাটি তোহা বাজারভুক্ত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রতি সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার সেখানে খোলামাঠে শুঁটকির দোকান ও অনেকে কাঠের তৈরি রেডিমেড চেয়ার, টেবিল, খাট, পালংকের ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। পাশাপাশি বিভিন্ন কাঁচা সবজির চারা যেমনÑ বেগুন, মরিচ, কপি, পেঁয়াজ, রসুন, ওলকপি, বাঁধাকপিসহ নানান জাতের সবজির চারা বিক্রি করে থাকেন। ঘর নির্মাণের ফলে তাদের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায় বিঘ্ন ঘটছে বলে ব্যাবসায়ীদের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, ঘর উত্তোলনের পর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে শিক্ষক হাসানুল হক অনেকের কাছে দখলকৃত পজিশন বিক্রি করে দিচ্ছেন। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে নির্মাণাধীন ঘরে বেড়া লাগাচ্ছেন। এ নিয়ে হাট এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। হাট ব্যবসায়ীগণ হাটের জমি উদ্ধারে প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েও কোনো ফল পাচ্ছে না বলে অভিযোগে প্রকাশ।
এ ব্যাপারে হাটের সরকারি জমিতে ঘর উত্তোলনের বিষয়ে হাট ইজারাদার সাইদার রহমান সাংবাদিকদের জানান, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমাকে কোনো কিছু জানানো হয়নি। এ ব্যাপারে দখলদার শিক্ষক হাসানুল হক সরকারি জায়গায় ঘর নির্মাণের বিষয়টি স্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, আমি দোকানের পজিশন বিক্রি করিনি। ধীরে ধীরে ঘরটি ঘিরে নিচ্ছি মাত্র।
এ ব্যাপারে বোড়াগাড়ী ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশীলদার) তহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষক হাসানুল হক সেখানে কাজ করতে পারবেন না। এছাড়া সরকারি জমি বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি যদি আইন অমান্য করেন, তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।