দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত সৈয়দপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র


২৭ মার্চ ২০২৫ ১৬:২৭

নীলফামারী সংবাদদাতা : জেলার সৈয়দপুর ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোরছালিনের স্বেচ্ছাচারিতায় দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এর প্রতিবাদ করায় জাতীয়তাবাদী শক্তির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গণহারে বদলি করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তার দুর্নীতির কারণে কাক্সিক্ষত সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রাহক সাধারণ। যে কোনো সময় বদলি ও হয়রানির আতঙ্কে থাকে অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।
জানা যায়, ১৫০ মেগাওয়াট নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঠিকাদারদের ওয়াপদার ভেতরের পরিত্যক্ত ভবনের সংরক্ষিত লাখ লাখ ইট ঠিকাদারদের কাছে গোপনে বিক্রি করে দেন। তার বিক্রীত পুরনো ইট ভেঙে ঠিকাদাররা খোয়া তৈরি করে বর্তমানে বিভিন্ন প্রকল্পের রাস্তাসহ একাধিক নির্মাণকাজ করছেন। বিদ্যুৎ শ্রমিকদের পোশাক সরবরাহে ঠিকাদারদের সাথে মোটা অংকের কমিশন বাণিজ্য করে নিম্নমানের পোশাক ক্রয় করেছেন। এসব সরবরাহকৃত ব্যবহারের অযোগ্য পোশাক ব্যবহার করতে পারছে না শ্রমিকরা। তিনি যোগদানের পর হতে প্রতি মাসে ভুয়া টি.এ ডি.এ বিলের মাধ্যেমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছেন। ডিপিএস’র সরঞ্জাম ও ২০০০ টাকার বৈদ্যুতিক বাতি টেন্ডারের মাধ্যেমে ১০ হাজার টাকায় ক্রয় করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ৫ জানুয়ারি ২০২২ সালে পুরনো ৩২ মেগাওয়াট ডিপিএস তেল ট্যাঙ্কার ভেঙে ১ হাজার টন স্ক্যাপ লোহাকে তিনি মাত্র ৫০০ টন দেখিয়ে নিলামকারী প্রতিষ্ঠানকে ১ হাজার টন লোহা বুঝিয়ে দেন। অতিরিক্ত ৫০০ টন লোহা দেয়ার সময় স্থানীয় সাংবাদিক ও জনতার বাধার মুখে গেট পাস নিয়ে আউট হওয়া ১০০ টন লোহা রংপুর হতে পুনরায় ফেরত নিয়ে এলেও বাকি ৪০০ টনের কোনো হদিস নেই। অফিস চত্বরে স্তূপকৃত ৩ লাখ ইট ৬০ হাজার ইট দেখিয়ে ইট বেরকালীন স্থানীয় জনতার বাধার মুখে পড়েন। ইটের গাড়ি পাচারের সময় স্থানীয়রা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দিলে ইট ডেলিভারি বন্ধ করে দেন। অফিস চত্বরের প্রতি বছরে পৌরসভার কর্মচারী দিয়ে ঘাস কেটে তিনি ভুয়া ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা নিজেই আত্মসাৎ করেন। নির্বাহী প্রকৌশলী তার নির্ধারিত বাড়িতে না থেকে অবৈধভাবে ভিআইপি রেস্ট হাইসে নামমাত্র মূল্যে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ বসবাস করে আসছেন।
মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় চাকরি করার সুবাদে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়গুলোয় তিনি নিজেকে সর্বেসর্বা বনে গেছেন বলে অভিযোগে প্রকাশ। একই কর্মস্থলে তিনি দীর্ঘ ৫ বছর ধরে কর্মরত থাকায় এবং আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট হওয়ার কারণে নিজেকে সব কিছুর ঊর্ধ্বে ভেবে তার দুর্নীতি নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন হলেও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এছাড়া তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন রকম ট্যুরসহ নানারকম সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় জনগণ ও অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ওই প্রকৌশলীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করলে বিদ্যুৎ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের নীলফামারী জেলা শাখার বিএনপি সমর্থিত সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ ৭ জন সেটআপ কর্মচারীকে অন্যত্র বদলি করেন।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী জানান, নির্বাহী প্রকৌশলীর দুর্নীতি এখনো ওপেন সিক্রেট, প্রতিবাদ করলেই বদলি। তার দুর্নীতির অনুসন্ধান করলে আরো বড় দুর্নীতির সন্ধান পাওয়া যাবে বলে তারা মনে করেন।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গফুর জানান, বদলিকৃতরা সবাই জাতীয়তাবাদী আদর্শের, তাদেরকে অন্যায়ভাবে বদলি করা হয়েছে। বদলিকৃতদের পাওয়ার স্টেশনে খুবই প্রয়োজন অথচ আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় নিয়োগপ্রাপ্তদের কোনো প্রয়োজন না থাকার পরও তিনি তাদের রেখে দিয়েছেন। নির্বাহী প্রকৌশলীর অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি করেন তিনি।