নির্বাচনের জন্য চাই পরিচ্ছন্ন হাইওয়ে
২৭ মার্চ ২০২৫ ১৬:১৯
॥ মাহবুবুল হক ॥
নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই অনৈক্য বাড়ছে। ততই গীবত, নিন্দা, কাদা ছোড়াছুড়ি বিস্তৃত হচ্ছে। শুধু কী নিন্দা, শুধু কী গালাগালি, শুধু কী চরিত্র হরণÑ তা নয়, বাড়ছে হানাহানি। বাড়ছে ঝগড়া-বিবাদ, বাড়ছে কলহ-কোন্দল এবং বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। দেশপ্রেমিক জনগণ নানা আশঙ্কার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। যারা দেশপ্রেমিক, যারা দেশকে ভালোবাসেন, দেশের মজলুম মানুষকে ভালোবাসেন, তারা সবসময় পজিটিভ চিন্তায় থাকেন। তারা ভাবেন, এতবড় একটা বিপ্লব হলো, নিশ্চয়ই এবার মানুষ ভালো হবে। মানুষের আচার-আচরণে সুনীতি বাড়বে। মানুষের মধ্যে স্নেহ, প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা সৃষ্টি হবে। সবল দুর্বলের কাছে যাবে, দুর্বল কষ্ট করে সবলের কাছে যাবে, পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ কমে যাবে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই হাতে হাত রেখে বাঁচার জন্য দেশকে সমৃদ্ধ করবে। আন্দোলনের সময় দেখা গেছে পতিত দলটি ছাড়া বা দলের মানুষ ছাড়া সবাই একজোট হয়ে সংগ্রাম করেছে। সেই ঐক্য, একতা বা জোটবদ্ধতা হঠাৎ করে কেন যেন বিলীন হতে চলেছে। সংবাদপত্রে বিভাজনের যত খবর আসে, তার থেকে হাজার গুণ বেশি দুঃসংবাদ ও বিভক্তি অনেক বেশি আসে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এতে আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পেরেশানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। মনে হচ্ছে নির্বাচনের পূর্বেই বড় আকারের দ্বন্দ্ব-কলহ বা বিবাদ-বিসম্বাদ দেশময় ছড়িয়ে পড়বে। আল্লাহ না করুন, গৃহযুদ্ধের দিকে না যায়।
শুধু যে বিভিন্ন দলের ভেতর মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব-কলহ সৃষ্টি হয়েছেÑ তাই নয়, প্রতিটি দলের মধ্যেও মারামারি, চেয়ার ছোড়াছুড়ি, বিভক্তি ও বিভাজন চরম আকার ধারণ করছে। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে এ অবস্থা। শুধু যে কেন্দ্রীয়ভাবে বা শহর-বন্দর-নগরে এ অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছেÑ তা নয়, তৃণমূল ক্ষেত্রেও এ অনৈক্যের বীজ উপ্ত হচ্ছে। ধীরে ধীরে যদি দেশটা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়, তাহলে সুষ্ঠু-সুন্দর নৈতিক নির্বাচন কী করে সম্ভব হবে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ বলছেন, ‘গত ১৬ বছরে স্বৈরাচারী সরকার যে বীজ বপন করেছে, তারই গাছ এখন মহীরুহ হয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। শুধু যদি এটুকুই হতো, তাহলে এ বিষাক্ত বৃক্ষগুলোকে জনগণের সহযোগিতায় উৎপাটন করা সম্ভব হতো। পতিত দলের সাঙ্গ-পাঙ্গরা বিভাজনের বীজতলা খুব সন্তর্পণে সংরক্ষণ করেছে। তারা বিভাজনের বৃক্ষগুলো পাহারা দিচ্ছে। বিভক্তির চারাগাছগুলোর মূলে পানি ঢালছে এবং নিত্যকার মতো বীজতলা থেকে চারাগাছ ও বীজ বপন করেই চলছে। এটাই যেন পতিত দলের বড় কাজ ছিল, এখনো তা আছে। সাথে যোগ হয়েছে প্রতিবেশী দেশ, সেক্যুলার বিশ্ব আরও অনেক কিছু।
আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে একটি গোষ্ঠী বলছে, পতিত দলকে নির্বাচন করতে দিলে তারা কিছুটা হাত গুটাবে, কীসের হাত? অপকর্মের হাত, ষড়যন্ত্রের হাত, দুষ্কর্মের হাত এবং আরও অনেক কিছুর…। অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন যদি তাদের নির্বাচন করার সুযোগ না দেয়, তাহলে তারা নির্বাচনের সবকিছু ভণ্ডুল করে দেবে- দেশের অভ্যন্তর থেকে এবং বিদেশের নানারকম এজেন্সি ও পকেট থেকে এ ধরনের অপবার্তা বা শয়তানি বার্তা অহরহ পাওয়া যাচ্ছে। কোনটা ঠিক আর কোনটা বেঠিক, সেটা নিরূপণ করা সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজ নয়। তবে পতিত ফ্যাসিস্টদের খতিয়ান নিলে সহজেই আঁচ করা যায় বা অনুমান করা যায়, তাদের প্রয়োজনে তারা নিজেদের নাক কেটে পরের যাত্রা অবশ্যই বন্ধ করবে।
সরকার, নির্বাচন কমিশন, সুশীল সমাজ, আংশিক বুদ্ধিজীবী মহল, আংশিক রাজনৈতিক মহল এ বিষয়ে যেসব কথাবার্তা, আলাপ-আলোচনা করছেন, তাতে বেশ বোঝা যায় ফ্যাসিস্টদের প্রেতাত্মারা এখনো সক্রিয়, তারা চাচ্ছে না পতিত রাজনৈতিক দলকে নিশ্চিহ্ন, উৎখাত বা নির্মূল করা হোক। তাদের যুক্তি হলোÑ দলের রুই-কাতলদের তো ধরা হচ্ছে। যারা দেশে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রি করার চেষ্টা করেছে এবং করছে, অবারিত ও অবিরতভাবে দেশের সকল সাঙ্গ-পাঙ্গকে নিয়ে দেশের সম্পদ লুট করেছে। ব্যাংকের টাকা লুট করে নিজেদের বাড়িতে বাড়িতে মাঝারি ধরনের ব্যাংক সৃষ্টি করেছে। খুন, গুম, অত্যাচার, লুণ্ঠন, ডাকাতি ইত্যাদি করেছে, তাদেরকে তো ধরা হচ্ছে, গ্রেফতার করা হচ্ছে, মামলা রুজু করা হচ্ছেÑ এ ধরনের দেশবিরোধী, মানবতাবিরোধী ও সুনীতিবিরোধীদের বিচার এবং শাস্তির প্রক্রিয়া তো চলছে। কিন্তু তাদের বাইরে পতিত দলের যারা আছেন, তারা সবাই কি ক্রিমিনাল? তাদের সবাই কি দুর্নীতিগ্রস্ত? গড়-পড়তায় এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা করা তো ‘মানবতাবিরোধী কাজ’। অপরাধের অভিযোগ থাকলেই বা মামলা থাকলেই কোনো মানুষকে অপরাধী বলে সাব্যস্ত করা যায় না। আত্মপক্ষ সমর্থন করাসহ সুবিচার প্রতিষ্ঠিত করে অভিযুক্তজনকে চিহ্নিত করতে হবে। তিনি যে ধরনের অন্যায় ও অপরাধ করেছেন বলে প্রমাণ হবে, সেই স্তরের শাস্তি তাকে অবশ্যই ভোগ করতে হবে। এসব আপ্তবাক্য, সনাতন বাক্য, শাশ্বত বাক্য, বলতে গেলে চিরকালীন বাণী। বাংলাদেশে স্বচ্ছভাবে উপযুক্ত বা যথাযথভাবে কখনো বিচার-আচার হয়েছে বলে স্মরণ করা যায় না।
বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর থেকে আইনকানুন, সুবিচার, ন্যায়বিচার, মানবতা, মানবিকতা, সুনীতি, পরমতসহিষ্ণুতা, সহনশীলতা, উদারতা, মহত্ত্ব, ধৈর্য, সহ্য, পরোপকার, সততা, সমতা, একনিষ্ঠতা, আন্তরিকতা, প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা, স্নেহ-মমতা, বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা, ঐক্য, আদর্শ, ধর্ম, নৈতিকতা, শোভনতা, গণতন্ত্র নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল। এখনো তা নির্বাসনে আছে এবং নির্বাসনে থেকে ধুঁকে ধুঁকে মরছে।
শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিবাদী ৪০ হাজার, মতান্তরে ৩০ হাজার যুবকসহ গণতন্ত্রকে হত্যা করে তিনি স্বৈরাচারী ও একনায়কে রূপান্তরিত হয়েছিলেন।
শহীদ জিয়াউর রহমানের সময় তিনি ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে; বিশেষ করে মুসলিম লীগার, সমাজতন্ত্রী, কমিউনিস্টদের তার পক্ষকুটে আশ্রয় দিয়েছিলেন। যে কমিউনিস্টরা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, সম্পদশালী মানুষের গলা কেটেছিল, সেসব তথাকথিত সর্বহারা, নীতিহারা, অমানুষদের আশ্রয়ও তিনি দিয়েছিলেন এবং একতরফাভাবে চীনপন্থী রাজনীতিকদের অথবা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর শিষ্যদের পরিপূর্ণভাবে পুনর্বাসন করেছিলেন। একদিক থেকে এসবও উদারতা ও মহত্ত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু এত নির্ঘণ্ট নিয়ে শাসনক্ষমতায় থেকে যে দল তিনি প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, সেই দল তার নীতি-নৈতিকতা, সততা ও একনিষ্ঠতাকে মূল্য দিতে পারেনি। তার শাহাদাতের পর তার মতবাদ ও আদর্শ সেভাবে আর সমুজ্জ্বল হয়নি।
সুতরাং মানবিক মূল্যবোধগুলো মাঝে মাঝে আবেগের বশে আমাদের জাতীয় জীবনে প্রবেশ করলেও উপযুক্তভাবে আদর-আপ্যায়ন না পেয়ে তা আবার নির্বাসনে ফিরে গেছে। সেসব অনেক দুঃখের কথা।
এরশাদ সরকার দারুণভাবে দুর্নীতি ছড়িয়ে দিয়েছিল। অমানবিকভাবে রাষ্ট্র শাসন করার চেষ্টা করেছিল। তাকে এবং তার দলকে উৎখাত করার জন্য অন্যসব দল একজোট হয়েছিল। ঐক্য বা বন্ধনের একটা আলো আমরা তখন প্রত্যক্ষ করেছি। ঐক্যের সে মূল্যবোধ দুর্ভাগ্যবশত এদেশে বেশিদিন টেকেনি। নির্বাসন থেকে একতার বন্ধন ছুটে এসেছিল। ক্ষণিকের বিভ্রান্তির পর তা আবার নির্বাসনের অবস্থানে ফিরে গেছে।
গত ১৬ বছর সুবচন ছিল নির্বাসনে। কুবচনে, কুবচনে দেশবাসী একাকার হয়ে গিয়েছিল। অহংকারসুলভ কথাবার্তা, দম্ভসুলভ আচরণ ছিল আমাদের নিত্যকার জীবনের ভূষণ। ব্রাহ্মণদের তুই তোকারি জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। একটা নিকৃষ্ট পরিভাষার উদ্ভব ঘটেছিল, একটা নবতর অপসংস্কৃতি দারুণভাবে সৃষ্টি হয়েছিল। ওপর কাঠামো ছাড়া গোটা জাতি যেন নমঃশূদ্রে পরিণত হয়েছিল। ধমক শুনতে শুনতে গোটা জাতি নিস্পৃহ ও নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। তারপর দেয়ালে যখন পিঠ ঠেকে গেল, জাতির যুবকরা যখন প্রতিবাদে উদ্বেলিত হয়ে উঠল, তখন শাসকরা জাতিকে যেন চিতায় পাঠিয়ে দিল। থাক সেসব।
কথা হচ্ছিল নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই আমরা বিনাশী প্রত্যয়ে সমুজ্জ্বল হচ্ছি। বিভাজন ও বিভক্তি বাড়ছে। যে তরুণরা উল্কার মতো আলো ছড়ালো, তারাও এখন বিভক্ত এবং বিভাজিত। এ সন্ধিক্ষণে দেশপ্রেমিক চিন্তাশীল মানুষ ভাবছেন নির্বাচনে গিয়ে যদি আবার ফ্যাসিস্টরা ফিরে আসে তাহলে তো নির্বাচন না করাই ভালো। অথবা ন্যূনতম পক্ষে যতদিন পর্যন্ত নির্বাচনের জন্য সহিহ সালামতের পরিবেশ সৃষ্টি না হবে, ততদিন পর্যন্ত মানুষের কল্যাণের জন্য নির্বাচন স্থগিত রাখতে হবে। বেহুদা কথা বলে লাভ নেই এবং চাপে পড়ে অন্তর্বর্তী সরকার যে ঘোষণা দিচ্ছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করতে হবেÑ এ ধরনের ঘোষণা দ্বন্দ্বমুখর পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। হিতে বিপরীত হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। বিপুল বনিআদমের জীবন ও তাদের পরিবারের ধ্বংসের আশঙ্কা রয়েছে।
নিন্দা ও অপবাদ করা শরিয়তে নেই। কিন্তু ইসলামী দলগুলো এ শরিয়তবিরোধী কাজ সমানে করে যাচ্ছে। সবচেয়ে আশ্চর্য লাগেÑ যখন তারা সেক্যুলার রাজনীতি থেকে শিক্ষা ও দীক্ষা গ্রহণ করে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। ‘তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনেশুনে সত্য গোপন করিও না।’ সূরা বাকারার আয়াত ৪২। এসব পজিটিভ কথা তারা যেন একদম মনে রাখে না।
কথা উঠেছে, গত ১৬ বছরে ক্ষমতায় অবগাহন করে যারা দেশবিরোধী ও মানবতাবিরোধী জঘন্যতম অপরাধ করেছে, তাদের বিচার ও যথাযথ শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন করা যাবে না। শাস্তির রায় ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা যাবে নাÑ এ বিষয়টিকে আপ্তবাক্য হিসেবে ধরে নিয়ে কেন সবাই একত্রিত হতে পারছে না, কেন সবাই ঐকমত্য হতে পারছে না, সাধারণ মানুষের তা বোধগম্য নয়। সাধারণ মানুষ এখনই নির্বাচন চাচ্ছে না। তারা চাচ্ছে জাতি ঐক্যবদ্ধ হোক, জাতির মধ্যে মিনিমাম ঈমানদারী ফিরে আসুক এবং একটা মিনিমাম শৃঙ্খলার মধ্যে জাতি সংঘবদ্ধ হোকÑ এসব দুরাশা নয়, স্বপ্ন নয়, একটা সময় নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা বাড়ালে বিষয়টি স্বচ্ছ হতো বলে আমাদের ধারণা।
যারা সবসময় বলে থাকেন, ‘ব্যক্তি থেকে দল বড়, আবার দল থেকে দেশ বড়।’ এখনো তারা সেই পুরনো বুলি আওড়াচ্ছেন। কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে দেশ, জাতি বা রাষ্ট্রের ওপরে নিজেদের দলকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। দলের লোকেরা ক্ষুধার্ত, ১৬ বছর ধরে তারা অভুক্ত এবং অত্যাচারিত ও নিষ্পেষিত, তাদের ক্ষমতায় না আনলে দল থাকবে না, দলের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে, সে কারণে তারা অহরাত্রি নির্বাচনের কথা বলছেন। কিন্তু তারা একবারও ভাবছেন না সুষ্ঠু ও ভালো নির্বাচনের জন্য সুস্থ, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ দরকার। সুস্থ মন-মানসিকতার ভোটার দরকার। এ মুহূর্তে রাজনৈতিক কর্মীরা অস্থির। তারা ক্রোধ, লোভ, মোহ ও মাৎস্যর্যে অবগাহন করছে। মুদ্রার অন্য পিঠে কামপ্রবণতা দারুণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ দেশবাসীর একটা বিরাট অংশ নানা চাপে বিধ্বস্ত হচ্ছে। নীতি-নৈতিকতা নির্বাসন থেকে মাঝে ফিরে এলেও আবার যেন নির্বাসনে চলে গেছে। স্বৈরাচারীরা যা করেছে তা যদি দেশবাসীর একাংশ সেই তাণ্ডবে উন্মত্ত হয়, তাহলে সুস্থতার পথে, সহজতার পথে, স্বচ্ছতার পথে অগ্রসর হওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। নির্বাচনের পথে এগুলোর জন্য একটা ‘সিরাতুল মুস্তাকিমের’ পথ তৈরি করতে হবে। যে পথ দিয়ে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের মুগ্ধতায় ঈদের মাঠের দিকে যাত্রার মতো নতুন এক অভিযাত্রার সোপান গড়ে তুলতে হবে। ভুল বললাম, রাস্তা নয়, এক মহা হাইওয়ে তৈরি করতে হবে। এ হাইওয়েটি ঝকঝকে-তকতকে থাকবে। কোনো বাধার বৃন্দাচল থাকবে না। সামনে পেছনে পাশে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। শুধুই চলা। উদ্দাম গতিতে চলা। হাইওয়েটা মসৃণ থাকবে। থাকবে সহজ-সরল, সোজা ও সাবলীল। ঠিক যেন বিশ্বের এক শ্রেষ্ঠ শহর থেকে আরেক দূরত্বের শহরে যাওয়ার হাইওয়ে, এ ধরনের রাস্তায় ভাঙা গাড়ি চলে না। আমাদের দেশের হেলপার দিয়ে সে পথের গাড়ির ড্রাইভার হওয়া যায় না। উন্নত নির্বাচনের জন্য, উন্নত ভোটার চাই। কোথায় সেই ভোটার। ভোটারদের মোরালকে এখন ‘বুস্টআপ’ করতে হবে। যত কষ্টই হোক এবং পরিশ্রম সাপেক্ষ হোক, বুঝতে হবে দেশবাসী এখন শুধু ভালো নির্বাচন চায় না, চায় উন্নত, উত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নির্বাচন। মাত্র কিছুদিন আগে জনগণের মনের এ কথাটি প্রধান উপদেষ্টা বলেছিলেন।