পীরগাছায় প্রমত্ত তিস্তা এখন ধু-ধু বালুচর
২০ মার্চ ২০২৫ ১৫:১৯
# পানির অভাবে সেচকাজ বিঘ্নিত
# দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি এলাকাবাসীর
ইসরাফিল মিয়া, পীরগাছা (রংপুর) : রংপুরের পীরগাছা এলাকায় তিস্তা নদী এখন যৌবনহীন। কোথাও কোনো পানি নেই, বুক জুড়ে শুধু ধু-ধু বালুচর।
গত ১১ মার্চ দুপুরে উপজেলার ছাওলা ও তাম্বুলপুর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তার নদী পরিদর্শনকালে দেখা যায়, যে নদীতে একসময় বিশাল জলরাশি ভেদ করে নৌকা চলাচল করত, এখন তার বুকে পলিমাটি আর বালু। কোথাও কোনো পানি নেই।
পরিদর্শনকালে গাবুড়ার চরের কৃষক কাইয়ুম আলী জানান, ‘যখন আমাদের পানি দরকার নাই, তখন ভারত পানি ছাড়ে। এখন আমাদের পানি দরকার, কিন্তু ভারত পানি দিচ্ছে না।’ তাই তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন চাই। এ সময় একইচরের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী হামিদা বেগম বলেন, ইতিপূর্বে ১৫-১৬ বার তিস্তা আমার বাড়ি ভেঙে নিয়ে গেছে। তখন সারা বছর নদীতে পানি থাকতো। তারপর অন্য কোথাও গিয়ে বসতি স্থাপন করি নাই। তিস্তাপাড়েই পড়ে আছি। অথচ এখন তিস্তা আর আগেরমত নেই, মৃতপ্রায়। তিস্তায় কোনো পানি নেই। তাই নদী তীরবর্তী কৃষকরা তাদের কৃষি জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। আমার কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে আছে।
নদীপাড়ের জেলে আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, ‘পানির অভাবে মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছেনা, এখন রিকশা চালাই।’ চলমান পরিস্থিতির কারণে নদীকেন্দ্রিক জীবিকার উৎস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বেকার হয়ে পড়েছেন শত শত কৃষক, শ্রমিক ও জেলে। তারা পেশা বদল করতে বাধ্য হয়েছেন।
শিক্ষিত যুবক ফুয়াদ শাহরিয়ার প্রতিবেদককে বলেন, যখন পানির দরকার নেই, তখন ভারত পানি ছাড়ে। পানির তোড়ে আমাদের জমি ভেঙে যায়। এখন পানি দরকার অথচ ভারত পানি দিচ্ছে না। তাই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
নদী বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘ভারতের বাঁধ ও সেচ প্রকল্পের কারণে বাংলাদেশের অংশে তিস্তা নদীতে এখন ন্যূনতম পানিপ্রবাহও নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয়ের হিমবাহ গলনের প্রক্রিয়া বদলে গেছে।’
বাংলাদেশ বহুদিন ধরে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির জন্য আলোচনা চালাচ্ছে, কিন্তু কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি। গত ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি তিস্তাপাড়ের লাখো মানুষ পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।