রবীন্দ্রনাথের কাব্যে শেলির ভাবধারা


২০ মার্চ ২০২৫ ১৫:০৫

॥ মনসুর আহমদ ॥
বিশ্বকে মানুষের জীবনকে নানা দিক দিয়ে উপলব্ধি করার ব্যাকুলতা কবি রবীন্দ্রনাথকে বিশ্বকবিতে উন্নীত করেছে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ শুধু তার নিজের ভাষা ও সাহিত্যের নয়, সমস্ত পৃথিবীর সাহিত্য বিবর্তনের একটি যুগ সমস্যার সমাধান করেছেন। এজন্য তিনি বিভিন্ন সমাজের কাছ থেকে পাওয়া ভাষা, ভঙ্গি ও ভাবের উপাদানকে একটি রাসায়নিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নিজস্ব সামগ্রী করে তুলেছেন। তিনি দেখিয়েছেন একই জীবনে দেশ-বিদেশের বহু সাহিত্য এবং সারস্বত ধারাকে আত্মস্থ করে আপন বিশিষ্টতাকে জগৎ সাহিত্যের সামনে কেমন করে উপস্থিত করতে হয়। এ কাজটি করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ যেন প্রাচ্য ও প্রতীচ্য-এ দুই মহাদেশকে দুই বাহু দ্বারা নিবিড় আলিঙ্গনে বাঁধার কাজটা করেছিলেন।
‘আমি বলতে চাই সমগ্র প্রাচ্য ও প্রতীচ্য সভ্যতা গত চল্লিশ-পঁয়তাল্লিশ বছরের মধ্যে এ বিরাট পুরুষে কাব্য রূপ লাভ করিয়াছে।… তাকে বিশ্লেষণ করিলে এক দিকে পাওয়া যাইবে ঔপনিষদী প্রজ্ঞা, সুফীর সৌন্দর্যবোধ ও আধ্যাত্মিকতার সমন্বয়।… অন্যদিকে মিলিবে শেলির আকাশাভিযান, কীটসের বর্ণবিলাস ও দ্রুপদী সংযম, ওয়ার্ডস ওয়ার্থের বস্ত সম্পর্কিত অথচ বস্তু অতিক্রমকারী শান্ত সরল সমাহিত প্রীতি।… এসব এবং আরো কত বিচিত্র রস ধাতুতে গঠিত এ রবীন্দ্র সাহিত্য। নানা বিরুদ্ধতার সমন্বয়ে নানা বৈচিত্র্যের মিশ্রণে রবীন্দ্র সাহিত্যজগৎ সাহিত্যে অপূর্ব ও অতুলনীয়। (সুখ রঞ্জন রায়-রবীন্দ্র কথা- কাব্যের শিল্প -সূত্র)।
রোমান্টিক যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি শেলি। শেলির বিভিন্ন ভাবধারা রবীন্দ্র সাহিত্যে ভিন্নতর রূপে প্রস্ফুটিত হয়ে রবীন্দ্র কাব্যজগৎকে অধিকতর আলোকিত ও মোহনীয় করে তুলেছে। এ ব্যাপারে প্রথমে ‘প্রকাশ’ কবিতাটিকে লওয়া যাইতে পারে। খসড়ায় ইহার নাম ‘ধরা-পড়া’- অবশ্য বন্ধনীর মধ্যে ‘প্রকাশ’ শব্দটি লিখিত আছে।…
খসড়া হইতে খানিকটা উদ্ধার করা যাইতে পারে।
‘চাঁদের সাথে চকোরীর
নলিনী সাথে তপনের
মেঘের সাথে বিজুরির
প্রণয় শুধু স্বপনের;…’
চারু বন্দ্যোপধ্যায় ‘রবি রশ্মি’ গ্রন্থে বলিয়াছেন যে, কবিতাটিতে প্রেরণার মূলে শেলির ‘Love’s philosophy’র আইডিয়া বর্তমান। কথাটি সত্য বলিয়াই মনে হয় । খসড়ার শেষ কটি ছত্র শেলির কবিতার শেষ কটি ছত্রের প্রায় ভাবানুবাদ-
কহিল সুখে মুখ চুমি –
‘পড়িল ধরা ত্রিভুবন
পড়িনু ধরা আমি তুমি,’
শেলির কবিতায় আছে-
What are all these kissings worth
If thou kiss not me?
অবশ্য শেলির কবিতার সঙ্গে কাব্যশিল্প হিসেবে কবিতাটির তুলনা হয় না।… (শ্রী প্রমথনাথ বিশী -রবীন্দ্র সাহিত্য বিচিত্রা)
কবি রবীন্দ্রনাথের ওপর শেলির প্রভাব সম্পর্কে আলোচনায় শ্রী প্রমথনাথ বিশী বলেন, “বিদেশি কবিদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের ওপর শেলির প্রভাব গভীরতম। অনেকের ধারণা ‘সন্ধ্যা সংগীত’ হইতে শেলির প্রভাবের যুগ-বাস্তবিক তাহা নয়। ‘কবি কাহিনী’ ও ‘বনফুল’ এও শেলির প্রভাব অবিরল। শেলির সমাজ অসহিষ্ণুতা, তাহার শ্রেণিবর্ণ শাসনহীন সমাজ-পরিকল্পনা, তাহার মানবহীন বিশুদ্ধ প্রকৃতির প্রতি ঐকান্তিক আকর্ষণ, আর প্রকৃতির হাতেই যে মানব জীবনের সর্বদুঃখের সর্বৌষধ আছে এই ধারণা- এসবই পূর্বোক্ত দুই কাব্যে আছে।
শেলির ভাব ও অলংকারের অতিশয্যজাত অসংযম, ছবির পরে ছবি আঁকিয়া রেখান্যাস অস্পষ্ট করিয়া ফেলা, রঙের পর রঙ ঢালিয়া ঝাপসা করিয়া দেওয়া- শেলির এসব শিল্প রীতির অনেকগুলোই কবি কাহিনী হইতে আরম্ভ হইয়াছে। বস্তুত বৈষ্ণব কবিদের চেয়েও কালিদাস ও শেলির প্রভাব তাহার কাব্যে ও সাহিত্যে অধিকতর গভীর ও দীর্ঘতর স্থায়ী। ইহার সঙ্গে আছে ঔপনিষদের তত্ত্ব।”
উদাহরণস্বরূপ রবীন্দ্রনাথের দু-একটি কবিতা নিয়ে অলোচনা করা যেতে পারে। যেমন ‘ধর্মশেষ’ কবিতাটি হইতেছে কবির- de to the west wind. শেলির Make me thy wyre-এর মতো এই কবিও (রবীন্দ্রনাথ) ঝঞ্ঝা-ঝড়কে বলিতেছেন-
‘শঙ্খের মতন তুলি একটি ফুৎকার হানি দাও
হৃদয়ের মুখে।’
তার মন শেলির স্কাই লার্ক, প্রথম সুযোগেই সে সংসারের ধূলিজালকে ঝাড়িয়া ফেলিয়া তথ্য ভাবমুক্ত অকাশে ছুটিয়া গিয়া অনন্ত সুধার কাতর প্রার্থনায় দিগ্মণ্ডলকে ব্যাকুল করতে থাকে। শেলির স্কাইলার্ক –
In the golden lightning
of the sunken sun.
o’ver which clouds are brightning
Thou dost float and run .
Like an unbodied joy whose race is just begun.
এদিক দিয়ে শেলির প্রতিভার সঙ্গে রবীন্দ্র প্রতিভার বিস্ময়কর ঐক্য বিদ্যমান।
কবি শেলি ছিলেন আস্তিক, সর্বশক্তিমান এক সত্তায় বিশ্বাসী। সেই সত্তার সান্নিধ্যে পৌঁছার জন্য প্রয়োজন সৌন্দর্যও ভালোবাসার পথ ধরে এগিয়ে চলা। এ মহাবিশ্বের পেছনে যে বিরাট একক সত্তা বিরাজমান তার সন্নিধ্যে মানবতার পৌঁছে যাওয়া সম্ভব বলে শেলি বিশ্বাস করতেন। তার ভাষায়-
Soul is not more pollinated than the beams
Of heaven’s pure orb ere round heir rapid lines
The taint of earth–born atmosphere arise.
কবি রবীন্দ্রনাথের সাথে শেলির রয়েছে এখানে একটা গভীর মিল। বাঙালি কবির হৃদয়ে সৃষ্টির একটি অখণ্ডরূপ বার বার প্রতিভাত হয়েছ। তিনি অনুভব করেছেন মহাবিশ্বের মহারহস্যের অন্তস্তলে বসে অনন্তময় আত্মা মহাসংগীতের সুর আপন মনে বাজিয়ে চলেছেন।
‘বিশ্বনৃত্য’ কবিতায় তিনি বলেন,
‘ওগো, কে বাজায়, বুঝি শোনা যায়,
মহা রহস্যে বসিয়া,
চিরকাল ধরে গম্ভীর স্বরে
অম্বর পরে বসিয়া।
এভাবে দেখা যায় শেলি ও রবীন্দ্রনাথের ধর্মচিন্তা যেন এক ধারায় মিশে গিয়েছে।
শেলির জীবন দর্শন সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে কবি রবীন্দ্রনাথ বলেছেন,In shelly we clearly see the growth of his religion through periods of vagueness and doubt , struggle and searching . But he did at length come to a positive utterance of his faith though he died young. Its final expression is in his human to intellectual beauty. By the tittle of the poem the poet evidently means a beauty that is not merely a passive quality of particular things, but a spirit that manifest itself through the apparent antagonist of the unintellectual life…. Religion in shelly grew with his life . It was not given to him in fixed and readymade doctrines; he rebelled against them. He had the creative mind which could only approach truth through its joy in creative effort.
রবীন্দ্র সাহিত্যে আধ্যাত্মিক চিন্তার যে প্রকাশ দেখা যায় তার উৎস মূলে একটি ধারা ছিল বাউল ফকিরদের গান। ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য বলেন, রবীন্দ্র মানসে আধ্যাত্ম চিন্তার উৎস সন্ধান করতে গেলে উপনিষদ কিংবা কোন পাশ্চাত্য দর্শনের পরিবর্তে এখানেই তা সন্ধান করত হবে। এমনকি তার মধ্যে পরবর্তীকালে উপনিষদের চিন্তা যখনই স্থান লাভ করেছে, তখন তাকে তিনি বাউল সাধন তত্ত্বের সঙ্গে সমন্বয়সাধন করে নিয়েছিলেন। ঔপনিষদিক তত্ত্বের সঙ্গে যেখানে বাউল তত্ত্বের সামঞ্জস্য লক্ষ করেছেন, সেখানেই তিনি উপনিষদের তত্ত্বকে গ্রহণ করেছেন। বাউল তত্ত্বের সেই বিখ্যাত গান-
‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখী কেমনে আসে যায়
ধরতে পারলে মনো বেড়ী দিতাম পাখীর পায়।’
রবীন্দ্রনাথের মনে এ গানটি যেমন মিষ্টিক অনুভবের দুয়ার খুলে দিয়েছিল তেমনি তার মনে শেলির মিষ্টিক অনুভব (pleasure) আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। রবীন্দ্রনাথ ১৯২৫ সালের ভারতীয় দর্শন মহাসভায় বলেছিলেন-It reminds me of shelly’s poem in which he sings of the mystical spirit of beauty.
The awful shadow of some unseen power
Floats, though unseen , among us visiting
The various world with us constant wing
As summer winds that creep flower to flower,
Like moon beams that behind some piney mountain shower, It visits with inconstant glance.
Each human heart and countenance.
That this unknown is the profoundest reality though difficult of comprehension, is equally admitted by the English pot as by the nameless village singer of Bengal , in whose music vibrate the wing beats of the unknown bird, -only Shelly’s utterance is for the cultured few, while the while the Baul song is for the tillers of the soil, for the simple folk of our village households who are never bored by its mystic transcendentalism.
রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য জন্মদাত্রী প্রকৃতি শক্তির যে ধারণা তার সাথে একটি গভীর মিল লক্ষ করা যায়- শেলির ভাবধারার সাথে সব প্রাকৃতিক বিবর্তনে সঙ্গে সঙ্গে পরম পুরুষের পরিকল্পনাতে কবির ব্যক্তিসত্তায় যে বিবর্তন ঘটেছিল, তা ফুটে উঠেছে রবীন্দ্র্রনাথের লেখায়। মহাবিশ্বের সর্বত্র একটি পরিবর্তন কিন্তু পরম এক ও অদ্বিতীয় সত্তায় কোনো পরিবর্তন নেই এ কথাটি ফুটে উঠেছে শেলি ও রবীনদ্রনাথে। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন,
‘তৃণে পুলকিত যে মাটির ধরা-
লুটায় আমার সামনে-
সে আমায় ডাকে এমনি করিয়া
কেন যে তা কব কেমনে।
মনে হয় যেন সে ধূলির তলে
যুগে যুগে আমি ছিনু তৃণে জলে
বাহির হয়েছি ভ্রমণে।’
রবীন্দ্রনাথের সর্বেশ্বরবাদী চিন্তাধারা লুকিয়ে আছে তার বিভিন্ন কবিতায় যেমন-
হেরি অহরহ তোমারি বিরহ
ভুবনে ভুবনে রাজ হে।
কত রূপ ধরে কাননে ভুধরে
আকাশে সাগরে সাজ হে।
এই একই ভাবধারা লক্ষ করা যায় শেলির কাব্যে। প্লাটোর অনুরূপ শেলি বিশ্বাস করতেন যে, এই জড় বিশ্বের রয়েছ এক অজড় চেতনা সমৃদ্ধ আত্মা- সর্বক্ষমতার অধিকরী নিত্য সহচর। এ কথাই তিনি প্রকাশ করেছেন Adonais কবিতায়।
The one remains, the many change and pass;
The one spirit’s plastic stress
Sweeps through the dull dense world compelling there
All new successions to the forms they were
কবি শেলির ‘The one remains, the many change and pass.’
কবিতায়। কবি শেলির The one remains, the many change and pass. কবিতায় অন্তর্লীন ঈশ্বর শক্তির প্রভাব পরিদৃশ্যমান। এ অন্তর্লীন বিশ্বাতীত রহস্যকে তার নানা বিভিন্ন বিভূতি বা ঐশ্বর্য দ্বারাও উপলব্ধি করা যায়; কথা, জ্যোতি, আনন্দ, শান্তি, সৌন্দর্য, শুভ, প্রেম ইত্যাদি। … শেলির আলোর বিচিত্র ঝলমলানি, অনন্তের বিভাব intellectual beauty ‘-এর লীলা, spirit of delight- এর আবাহন, প্রেমের পূজা- এসব থেকে তার আধ্যাত্মিক রসের বিচিত্র ও উচ্চতম অধিকার অস্বীকার করার উপায় নেই।’
কবি শেলির অধিকাংশ কবিতায় রয়েছে বিষাদের সুর। কিন্তু যখনই মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে লিখেছেন, তখন সেই বেদনার সুর পরিবর্তিত হয়েছে আনন্দের লহরীতে। কবির Ode to the west wind. কবিতাতে তার আহ্বান শুরু হয়েছে প্রাণবন্ত আবেগের সুরে। তিনি উইন্ডকে দেখেছেন বর্তমান শৃঙ্খলাকে চুরমারকারী হিসেবে, ভবিবষ্যতের অগ্রদূত হিসেবে। এক স্তরে কবিতায় বেজে উঠেছে হতাশার সুর । কিন্তু ভবিষ্যতের ভাবনা তার এ বিষাদকে হরিষে রূপান্তরিত করল। শেলি তার কবিতটিকে শেষ করলেন স্মরণীয় আশাবাদী বাণী দিয়ে, ‘The trumpet of a prophecy! O! Wind,
If winter comes, can spring be far behind.
“আশ্বাস যা কিছু তা সেই বেদনাকে গ্রাহ্য করার মধ্যেই। ‘de to the west wind’-এর মধ্যে শীতের নির্মমতাকে স্বীকার করা হয়েছে। কেননা শীতকে গ্রাহ্য করলেই বসন্তকে পাওয়া যায়।”
west wind এর মর্মবাণী ছড়িয়ে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের কাব্য ভুবনে। “ফুলের মতো জীর্ণ পুষ্পদলকে ধ্বংস ভ্রংশ করিয়া পুরাতন জীবনের পর্ণপুটকে দীর্ণ বিকীর্ণ করিয়া এই ‘নতুন’ জীবনের মধ্যে পরিপূর্ণ আকারে প্রকাশিত।” এ সত্য বার বার ফুটে উঠেছে রবীন্দ্র কাব্যে অনুভবের মধ্য দিয়ে। যেমন-
‘শ্রাবণের স্নেহ নামে আঘাতের ছল করে,
সবুজ মঞ্জরী এগিয়ে চলে দিনে দিনে
শিষগুলি কাঁধে তুলে নিয়ে
অন্তহীন স্পর্ধিত জয় যাত্রায়।
কবি শেলি west wind-কে দেখেছেন অপ্রয়োজনীয় ও অনিষ্টকর দ্রব্যগুলোকে উড়িয়ে নিয়ে যেতে। তাই তিনি বলেন, Thou from whose unseen presnce the leves dead
Are driven , like gosts from an enchanter fleeing.
শেলির অনুরূপ ভাবধারা প্রবাহিত হয়েছে রবীন্দ্র নাথের ‘বৈশাখ’ কবিতাটিতে। বৈশাখ কবিতায় কবির আহ্বান :
‘জ¦লিতেছে সম্মুখে তোমার
লোলুপ চিহ্ন শিখা লেহি লেহি বিরাট অম্বর
নিখিলের পরিত্যক্ত মৃতস্তূপ বিগত বছর
করি ভস্মসার
চিতা জ¦লে সম্মুখে তোমার।
এভাবে শেলি ও রবীন্দ্রনাথের কাব্যভুবনকে দেখার সুযোগ হলে দেখা যাবে যে, ‘কবি শেলি মানব ও প্রকৃতিরূপী painted vail বা চিত্রিত অবগুণ্ঠনের কথা বলেছেন এবং তার স্বল্প পরিসর জীবনে সেই যবনিকার আড়ালে অপর লোকের দিকে উঁকি দিয়ে গেছেন। রবীন্দ্রনাথ সেই যবনিকা তুলে ধরে শুধু অন্তরাল বাসিনীর সৌন্দর্যের ধ্যানই করেননি, পরপারের রহস্যকে এ পারের মরলোকের কাছে তুলে ধরেছেন।… এভাবেই যেন রবীন্দ্রনাথের মধ্যে শেলির প্রতিভা সার্থক হয়ে উঠেছে, দিব্যরূপ লাভ করেছে।