আবদুল হালীম খাঁ-এর কবিতা

ট্রিওলেট গুচ্ছ


২০ মার্চ ২০২৫ ১৪:৩৪

॥ ১ ॥
স্বৈরাচারীর অনলে জ¦লে
উঠেছে জেগে ছাত্র-জনতা।
পুড়ে নিজেই গিয়েছে গলে
স্বৈরাচারীর অনলে জ¦লে।
পনেরো বছর কত ছলে
দখল করেছিল ক্ষমতা।
স্বৈরাচারীর অনলে জ¦লে
উঠেছে জেগে ছাত্র-জনতা।

॥ ২ ॥
স্বৈরাচারী এমনি মরে,
পুড়ে নিজের অনলে জ¦লে।
দেখে আসছি জীবন ভরে
স্বৈরাচারীরা এমনি মরে।
নিজের ক্ষতি নিজেই করে
পালিয়ে গিয়েছে দলে-বলে।
স্বৈরাচারীরা এমনি মরে
পুড়ে নিজের অনলে জ¦লে।

॥ ৩ ॥
পালিয়ে গিয়ে করেছ বেশ
ওগো স্বৈরাচারী বেলেহাজ।
বেঁচে গিয়েছে জনতা দেশ
পালিয়ে গিয়ে করেছ বেশ।
নইলে জনতা ছিঁড়ে কেশ
খুলে ফেলতো শাড়ির ভাঁজ
পালিয়ে গিয়ে করেছ বেশ
ওগো স্বৈরাচারী বেলেহাজ।

॥ ৪ ॥
জগদ্বাসী গিয়েছে জেনে
কেমন বীর ছাত্রজনতা।
অন্যায় কভু নেয় না মেনে
জগদ্বাসী গিয়েছে জেনে।
গদি থেকেও নামায় টেনে
আছে তাদের সব ক্ষমতা।
জগদ্বাসী গিয়েছে জেনে
কেমন বীর ছাত্র-জনতা।

॥ ৫ ॥
পালিয়ে গিয়েছে নেচে নেচে
বাঁচাতে পেরেছ নিজ জান।
সত্যিই কি তুমি আছো বেঁচে
পালিয়ে গিয়েছ নেচে নেচে।
দেশটা পরের হাতে বেচে
আমাদের করে অপমান।
পালিয়ে গিয়েছ নেচে নেচে
বাঁচাতে পেরেছ নিজ জান।

॥ ৬ ॥
দেশটা করে আয়নাঘর
করেছ কত যে নির্যাতন।
এতদিনে জেনেছি খবর
দেশটা করে আয়নাঘর।
সোনার বাংলা করে চর
লুটে নিয়েছ সকল ধন।
দেশটা করে আয়নাঘর
করেছ কত যে নির্যাতন।

॥ ৭ ॥
লুটেছ ব্যাংক করেছ খুন
পিওন করেছ কোটিপতি।
ছিল তোমার অনেক গুণ
লুটেছ ব্যাংক করেছ খুন।
কত ঘরে দিয়েছ আগুন
কতজনের করেছ ক্ষতি।
লুটেছ ব্যাংক করেছ খুন
পিওন করেছ কোটিপতি।

॥ ৮ ॥
কত ছিল তোমার পা-চাটা
কতজন ছিল ভেটধারী।
বিচারক ছিল ভাড়া খাটা
কত ছিল তোমার পা-চাটা।
ছিল অনেক বলীর পাঁঠা
দাঁড়িয়ে থাকত সারি সারি।
কত ছিল তোমার পা-চাটা
কত জন ছিল ভেটধারী।

॥ ৯ ॥
বাপকা বেটি হে স্বৈরাচারী
ঘুম কি এখন আসে রাতে!
থাকবে ক’দিন দাদাবাড়ি
বাপকা বেটি হে স্বৈরাচারী।
ছাত্র-জনতা ভেঙেছে হাঁড়ি
ছাই ফেলেছে যে বাড়া ভাতে।
বাপকা বেটি হে স্বৈরাচারী
ঘুমাতে এখন পারো রাতে!

॥ ১০ ॥
ভীষণ অন্ধ ভূতের মতো
বসেছিলে এদেশের ঘাড়ে।
খেয়েছ মানুষ কত শত
ভীষণ অন্ধ ভূতের মতো।
জনতা করেছে ছেষ্টা কত
সরাতে তোমাকে বারে বারে।
ভীষণ অন্ধ ভূতের মতো
বসেছিলে এদেশের ঘাড়ে।

॥ ১১ ॥
ভূত ছাড়াতে এলো তো শেষে
এমন সব পাগলা ওঝা।
বাজি রেখে প্রাণ বীরবেশে
ভূত ছাড়াতে এলো শেষে।
ডানে বামে নয় ওরা হেসে
আগুন দিল গদিতে সোজা।
ভূত ছাড়াতে এলো শেষে
এমন সব পাগলা ওঝা।

॥ ১২ ॥
লাগে আগুন ভূতের গায়
গদি থেকে করে হায় হায়।
দেশে থাকা হলো বড় দায়
লাগে আগুন ভূতের গায়।
মাঝি মাল্লারা কে কোথায়
এখন কী করি কী উপায়।
লাগে আগুন ভূতের গায়
গদি থেকে করে হায় হায়।

॥ ১৩ ॥
উড়াল দিলে দাদার বাড়ি
বাবার ছিল ঠিকানা ঠাঁই।
সেখানে আছে মধুর হাঁড়ি
উড়াল দিলে দাদার বাড়ি।
তাকে ছেড়ে কি থাকতে পারি
দাদা ছাড়া তো উপায় নাই।
উড়াল দিলে দাদার বাড়ি
বাবার ছিল ঠিকানা ঠাঁই।

॥ ১৪ ॥
দাদা আমার মনের বল
দেবার কিছু রাখিনি বাকি।
দিয়েছি দেশ নদীর জল
দাদা আমার মনের বল।
দাদা যে গায়ের কম্বল
তার উসিলায় বেঁচে থাকি।
দাদা আমার মনের বল
দেবার কিছু রাখিনি বাকি।

॥ ১৫ ॥
যখন দাদা চেয়েছে যাহা
দিয়েছি প্রাণ দিয়েছি মন।
বাদ রাখিনি তো দিতে তাহা
যখন দাদা চেয়েছে যাহা।
তাকে আমি কী দেব না আহা!
দাদা যে প্রাণের প্রিয়জন।
যখন দাদা চেয়েছে যাহা
দিয়েছি দেশ দিয়েছি মন।

॥ ১৬ ॥
দাদা আছে বলে আমি আছি
আমার এ দেহে আছে প্রাণ।
দাদা আমার ভোমর মাছি
দাদা আছে বলে আমি আছি।
তার জন্যই তো আমি নাচি
আমার যা কিছু তার দান।
দাদা আছে বলে আমি আছি
আমার এ দেহে আছে প্রাণ।

॥ ১৭ ॥
ভাবি বসে বসে সারারাত
কোথা থেকে এলো রাজাকার!
স্বদেশে আমার নাই ভাত
ভাবি বসে বসে সারারাত।
কেমনে হলাম কুপোকাত
রইল না বিশ্বে মান আর।
ভাবি বসে বসে সারারাত
কোথা থেকে এলো রাজাকার।

॥ ১৮ ॥
দেশে লোক নাই- আছে শুধু ছারপোকা
তাই মারতে গড়েছিলাম আয়নাঘর।
মেরেছি অনেক ঝাঁক ধরে ঝোকা ঝোকা
দেশে লোক নাই-
আছে শুধু ছারপোকা।
কোথা থেকে এলো রাজাকার থোকা থোকা
শহর বন্দর অলিগলি- ভর ভর।
দেশে লোক নাই- আছে শুধু ছারপোকা
মারতে চেয়ে গড়েছিলাম আয়নাঘর।

॥ ১৯ ॥
সহজে আমি মানবো হার!
আমি হলাম শেখের মেয়ে।
দেখিয়ে দেব এদেশ কার
সহজে আমি মানবো হার!
যুদ্ধ শুরু করেছি এবার
বাইরে থেকে খেয়ে না খেয়ে।
সহজে আমি মানবো হার
আমি হলাম শেখের মেয়ে।

॥ ২০ ॥
আমি কভু ছাড়ছি না আশা
ফের দখল করব গদি।
ছারপোকার ভাঙবো বাসা
আমি কভু ছাড়ছি না আশা।
জানি এ জীবন কাঁদাহাসা
একটু সুযোগ পাই যদি।
আমি কভু ছাড়ছি না আশা
ফের দখল করব গদি।

॥ ২১ ॥
আমার আছে সোনার ছেলে
আমার গলায় দেবে মালা।
কত শত্রু মেরেছে হেসেখেলে
আমার আছে সোনার ছেলে।
একটু খানি সুযোগ পেলে
ভাঙবে সব জেলের তালা
আমার আছে সোনার ছেলে
আমার গলায় দেবে মালা।