কোনো অপশক্তির কাছে জামায়াতে ইসলামী মাথানত করে না
২০ মার্চ ২০২৫ ১২:৪৭
জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে শক্তিশালী ও বৃহৎ ইসলামী দল উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, এত জুলুম-নির্যাতন, রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রয়োগ করেও জামায়াতে ইসলামীকে নিঃশেষ করা যায়নিÑ এটাই তার দৃষ্টান্ত। আজকেও যারা জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছে, অপপ্রচার চালাতে চাচ্ছে, তাদের অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী এক আল্লাহ ব্যতীত কাউকে ভয় করে না, করবেও না। কোনো অপশক্তির কাছে জামায়াতে ইসলামী মাথানত করে না। যারা শাহাদাতের তামান্না লালন করে, তাদের ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না। বরং ষড়যন্ত্রকারীদেরই নিঃশেষ হতে দেখা গেছে।
গত ১৮ মার্চ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ঐতিহাসিক বদর দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বদর যুদ্ধের যেই ঐতিহাসিক ঘটনা আমাদের জন্য শিক্ষণীয় এবং করণীয়। বদর যুদ্ধের প্রধান কারণ ছিল মুসলমানদের সম্পদ লুটপাট করে নেওয়া এবং মুসলমানদের মদিনা থেকে মক্কায় হিজরত করতে বাধ্য করা, এজন্যই বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। বদর যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর যোদ্ধা ছিলেন ৩১৩ এবং কুরাইশ বাহিনীর যোদ্ধা ছিল ১০০০ জন। যুদ্ধের যাবতীয় অস্ত্রশস্ত্র কুরাইশদের ছিল। মুসলিম বাহিনীর কাছে তেমন কোনো অস্ত্রশস্ত্র ছিল না। যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় হয়। এ যুদ্ধে আল্লাহ নিজে সরাসরি ফেরেশতা দিয়ে মুসলমানদের সহযোগিতা করেছেন। সত্য প্রতিষ্ঠার যেকোনো আন্দোলনে সাহায্য করা আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে যায়। যার বাস্তব চিত্র জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের জনগণ দেখেছে। আগামীতেও যেকোনো সত্য প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যাবে। সেজন্যই জামায়াতে ইসলামী সত্য প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বরাবরই নেতৃত্ব দিয়ে থাকে।
সভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, রমজান হচ্ছে ঈমানদারদের প্রশিক্ষণের মাস। বদর যুদ্ধের মাধ্যমে মুসলমানদের পরীক্ষা হয়েছে তারা কী কুরআন শুধু পাঠ করে এবং বুঝে, নাকি কুরআনের বিজয়ও নিশ্চিত করতে পারে। কদরের পেছনে মুসলমানরা যেভাবে ছুটছে, বদরের পেছনেও ছুটতে হবে। আল্লাহ নিজে বলেন, কুরআন দেওয়ার পরও তোমরা কেন মানুষের মতবাদের পেছনে ছুটছো? কুরআন বাদ দিয়ে যারা মানুষের তৈরি আইন প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে তারা আবু জাহেলের ভূমিকায় নিজেকে নিয়োজিত করল। যারা নিজেদের বড় দল বলে জামায়াতে ইসলামীকে ছোট করতে চায়, তাদের বলবো, এই ছোট দলগুলোই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মাঠে ছিল। আপনারা কোথায় ছিলেন? নতুন করে আওয়ামী লীগের কণ্ঠে সুর মিলিয়ে কেউ কেউ এখন আবার জঙ্গি নাটক সাজাতে চেষ্টা করছে। জঙ্গির তকমা এদেশের জনগণ আর মেনে নেবে না। ভবিষ্যতে যদি কেউ আবার ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা করে তাদেরও আল্লাহ আবু জাহেলের মতো শিশু দিয়ে নিঃশেষ করে দেবে।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদের সদস্য যথাক্রমে আবদুস সালাম, কামরুল আহসান হাসান, শাহীন আহমেদ খান প্রমুখ। এছাড়া সভায় ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের বিভিন্ন থানার দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।