লবণের কৃষক ঠকে মাঠে আর ভোক্তারা ঠকে হাটে : হামিদুর রহমান আযাদ
১৩ মার্চ ২০২৫ ১৬:৪১
গত শনিবার (৮ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কৃষক ও ভোক্তা পর্যায়ে লবণের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, লবণশিল্পকে বাঁচনোর দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ
সোনার বাংলা ডেস্ক: ‘লবণের কৃষক ঠকে মাঠে আর ভোক্তারা ঠকে হাটে।’ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মহেশখালী-কুতুবদিয়া ফোরামের উদ্যোগে কৃষক ও ভোক্তা পর্যায়ে “লবণের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, লবন চাষিদের ন্যায্য অধিকার আদায়, দেশের প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাহিদা দেখিয়ে অসাধু সিন্ডিকেট কর্তৃক অপ্রয়োজনীয় লবণ আমদানি নিষিদ্ধকরণ, কার্যকরী লবণ বোর্ড গঠনসহ লবণশিল্পকে বাঁচনোর দাবিতে” সমাবেশ ও মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহেশখালী-কুতুদিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এসব কথা বলেছেন। মহেশখালী-কুতুবদিয়া ফোরাম এর উদ্যোগে গত শনিবার (৮ মার্চ) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কৃষক ও ভোক্তা পর্যায়ে “লবণের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ, লবণ চাষিদের ন্যায্য অধিকার আদায়, দেশের প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাহিদা দেখিয়ে অসাধু সিন্ডিকেট কর্তৃক অপ্রয়োজনীয় লবণ আমদানী নিষিদ্ধকরণ, কার্যকরী লবণ বোর্ড গঠন’সহ লবণশিল্পকে বাঁচনোর দাবিতে” সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধান অতিথি ছিলেন মহেশখালী কুতুদিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
সংগঠনের আহ্বায়ক এ এম শহীদুল এমরানের সভাপতিত্বে সমাবেশ ও মানববন্ধনটি জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন সাবেক সিআইপি আব্দুস সুক্কুর, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, কক্সবাজার জেলা লবণ চাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি এডভোকেট সাহাব উদ্দিন, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জাকের হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমির খসরু, সহিদুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মঈনুদ্দিন জাহাঙ্গীর, শিক্ষাবিদ মো. নাছির উদ্দীন, মাসুদুর রহমান, আমীর খসরু, কবি মনির ইউসুফ, মুসলিম উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আশরাফ উল্লাহ খান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আসিফ হাসনাত শুভ প্রমুখ। সমাবেশ ও মানববন্ধনে কক্সবাজার জেলার প্রান্তিক অঞ্চলের লবন চাষি, লবণ ব্যবসায়ী, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি লবণ চাষিদের ১২ দফা ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়ে বলেন, লবণের কৃষক ঠকে মাঠে আর ভোক্তারা ঠকে হাঠে। যে লবণ চাষির কেজিপ্রতি বিক্রি করে ৫-৬ টাকা সেই লবণ আমাদের খুচরা বাজার হতে ক্রয় করতে হয় ৪০-৪৫ টাকায়। অবিলম্বে লবণের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।
তিনি বলেন, অবিলম্বে কার্যকরী লবণ বোর্ড এবং লবণ গবেষণা ইনস্টিটিউট গঠন করে লবণের মূল্য ও মান নিশ্চিত করতে হবে এবং মাট পর্যায়ে লবণের উৎপাদন খরচ কমাতে হবে ।
বক্তারা ১২ দফা দাবির পক্ষে বক্তব্য রেখে বলেন, প্রায় ৯৫ শতাংশ লবণ উৎপাদন হয় কক্সবাজার জেলায় মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার সদর, ঈদগাঁও, পেকুয়া, চকরিয়া উপজেলায় এবং অবশিষ্ট ৫ শতাংশ লবণ উৎপাদন হয় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়। গত মৌসুমে প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় দেশীয় উৎপাদিত লবণ দেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি অর্থবছরে আরও ২ লাখ ২২ হাজার মেট্রিক টন লবণ মজুদ রয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় লবণ উৎপাদন প্রক্রিয়া ভালোভাবেই চলছে। প্রায় ৬৫ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদন হয়, যা ক্রমান্বয়ে আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশীয় লবণ শিল্পের সাথে ৬৫ হাজার চাষিসহ ১০ লাখ মানুষ লবণ শিল্পের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। লবণ চাষিদের দাবি, মাঠ পর্যায়ে লবণের উৎপাদন ভালো থাকা সত্ত্বেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। লবণ মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে লবণের দাম কমিয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন। মাঠপর্যায়ে বর্তমানে লবণ মণ প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা থেকে ২৩০ টাকা। অথচ এক মণ লবণের উৎপাদন খরচ ৩০০ টাকা থেকে সাড়ে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত। লবণ মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে দেশীয় লবণশিল্পকে ধ্বংস করার জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণের নাম দিয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে লবণ আমদানি বন্ধ করতে হবে। যদি লবণ চাষিদের যুক্তিসঙ্গত দাবি মেনে নেওয়া না হয় তাহলে আগামীতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে ।