নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ


১৩ মার্চ ২০২৫ ১৫:৫০

সোনার বাংলা রিপোর্ট : নারী ও শিশু নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। বিবৃতি প্রদান, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনসমূহ প্রতিবাদ জানায়। তারা নারীর প্রতি সহিংসতারোধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার কার্যকর করার দাবি জানান।
ইসলামী ছাত্রী সংস্থা : ক্রমাগত নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং সহিংসতার বিপরীতে বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনের ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা। গত মঙ্গলবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কেন্দ্রীয় সভানেত্রী মুনজিয়া গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।
তিনি বলেন, গত ৫ মার্চ মাগুরার নিজনান্দুয়ালিতে ৮ বছরের শিশু আছিয়ার সাথে ঘটে যাওয়া পাশবিক ঘটনা আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কলঙ্কজনক এবং মানবতার জন্য চরম অবমাননাকর। কিন্তু এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়- নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার এ ঘৃণ্য প্রবাহ থামছে না, বরং প্রতিনিয়ত আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত ৯ মার্চ রাতে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীও গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। গত ১০ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৭০ বছরের বৃদ্ধের বিরুদ্ধে তৃতীয় শ্রেণির এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
তিনি বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু বার বার দেখা যাচ্ছে, বিচারহীনতা, নয়তো বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে এ ধরনের ঘটনা কমছে না, বরং বাড়ছে। ধর্ষক ও নারী শিশু নির্যাতনকারীদের প্রতি কোনো প্রকার সহানুভূতি বা শিথিলতা দেখানোর সুযোগ নেই। তাই আমরা সরকার ও প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি- ধর্ষকদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে। নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক নৈতিক মূল্যবোধ ও ইসলামী আদর্শের চর্চা বাড়াতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের নৈতিক অবক্ষয় রোধ করা যায়।
সম্মিলিত নারী প্রয়াসের মানববন্ধন : সম্মিলিত নারী প্রয়াস নামক সামাজিক সংগঠনে মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণ মামলা নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন। এ সময় বক্তারা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনার শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে জাতি হিসেবে আমরা গর্বিত। শিশু, কিশোরী-তরুণী, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি সকল ধর্ষণের মামলার বিচারের মাধ্যমে ধর্ষককে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় এনে আরো একবার শান্তি প্রতিষ্ঠায় ড. ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানান সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সদস্যরা। গত ৯ মার্চ সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা এ আহ্বান জানান।
নারী অধিকার আন্দোলন : নির্যাতন বন্ধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে নারী অধিকার আন্দোলনের সভানেত্রী মমতাজ মান্নান এবং সেক্রেটারি নাজমুন নাহার যৌথভাবে এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, মূলত আগামী বিশ্বের স্থায়িত্ব ও স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে নারী বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের ওপর। বিশ্বজুড়ে যে বিপর্যয়গুলো দেখা দিয়েছে- খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, অপুষ্টি, দারিদ্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ইত্যাদির সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হলো নারী। নারীকে যথাযথ ক্ষমতায়নের মাধ্যমে বিশ্বের এ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। আমরা বিশ্বাস করি, ইসলামী মূল্যবোধ অনুযায়ী নারী তার প্রাপ্য মর্যাদা এবং সুরক্ষা পেতে পারে, যা শুধুমাত্র নারী দিবসের প্রচারণার মাধ্যমে নয়, বরং ইসলামের বিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব।
মহেশপুরে বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ : বিএনপির সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে মহেশপুর মহিলা জামায়াতের বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে।
আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান মহেশপুরে মহিলা জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার খোঁজখবর রাখছেন। তিনি এ ঘটনায় বিস্মিত ও স্তম্ভিত। তাঁর নির্দেশে গত ১১ মার্চ মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসাইন মহেশপুরে গিয়ে মহিলা জামায়াত আয়োজিত বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মোবারক হোসাইন বলেন, নারীদের মাথা ঢেকে রাখা ইসলামের একটি ফরজ বিধান। বিএনপির সন্ত্রাসীরা ইসলামী শরিয়তের একটি মৌলিক ফরয বিধানকে ন্যক্কারজনকভাবে অবমাননা করেছে। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর এমন ইসলামবিরোধী চক্রান্ত দেশবাসী কিছুতেই মেনে নেবে না। এ অবমাননাকর ঘটনায় সারা দেশের ইসলামপ্রিয় জনতা ফুঁসে উঠেছে। বিএনপির হাইকমান্ডকে এ ইসলামবিরোধী ঘটনার যথাযথ তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। যদি এর ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে দেশবাসী বিএনপিকে ইসলামবিরোধী শক্তি হিসেবে গণ্য করবে।
উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ রোববার সকাল ১০টায় ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের কুল্লোপাড়া গ্রামের খাইরুল ইসলামের বাড়িতে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উপলক্ষ্যে স্থানীয় নারীদের নিয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা চলাকালে বিএনপির স্থানীয় সন্ত্রাসী আল আমিন, ঝুমুর, সাহেব, সোহেল ও আশরাফুল হাতুড়ি, কাঁচি ও বাঁশের লাঠি নিয়ে জামায়াতের মহিলা নেত্রী হাসিনা খাতুনসহ নিরীহ ১০-১২ মহিলার ওপর অতর্কিত হামলা করে বেধড়ক পেটাতে থাকে এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। বিএনপির সন্ত্রাসীরা জামায়াত নেত্রী হাসিনা খাতুনকে ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি নির্দয়ভাবে পেটাতে থাকে এবং গালে-মুখে প্রচণ্ড চড় মারতে থাকে। বিএনপির সন্ত্রাসী আল আমিন, সাহেব ও সোহেল হাসিনা খাতুনের মাথার ওড়না টান দিয়ে খুলে ফেলে এবং রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে রেখে হেনস্তা করে।
মহেশপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক ফারুক আহম্মদের সভাপতিত্বে ও উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য ইসমাইল হোসেন পলাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন অঞ্চল টিম সদস্য আলমগীর বিশ্বাস, জেলা আমীর অধ্যাপক আলী আজম মোহাম্মাদ আবু বকর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান। বক্তব্য রাখেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল আওয়াল ও সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল হাই। প্রতিবাদ সমাবেশে মহিলাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালিকা মাসুমা পারভীন, ঝিনাইদহ জেলা সেক্রেটারি ইয়াসমিন আরা, মহেশপুর উপজেলা মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি রেহেনা বেগম, সহকারী সেক্রেটারি জোবাইদা খানম, জামায়াতের মহিলা নেত্রী হাসিনা বেগম, শাহানারা বেগম, আমিনা খাতুন প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।