৫ আগস্টের পর ষড়যন্ত্র বৃদ্ধি পেয়েছে : মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান


২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৬:০৯

মিজানুর রহমান ও সাইফুল ইসলাম, ঝিনাইদহ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ৫ আগস্টের পর ষড়যন্ত্র বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা বার বার পরাজিত হয়েছে। এবারো তারা পরাজিত হবে। তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে বলেন, শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশে ফিরে আসবে না। দেশের মানুষ তাকে আর ফিরতে দেবে না। তবে মানুষ তাকে ফিরিয়ে আনবে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য, তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য। তিনি অবিলম্বে শেখ হাসিনাসহ ফ্যাসিবাদের দোসর যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে তারা দেশ অথবা দেশের বাইরে যেখানেই থাকুক না কেন তাদের গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে বিচার করে ফাঁসিতে ঝোলানোর জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আহ্বান জানান। তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা আপনার আশপাশেও ফ্যাসিবাদের দোসররা রয়েছে। তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এটা আঠার কোটি মানুষের চাওয়া। তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান, যেসকল দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের একতরফা ভোটগ্রহণে সহযোগিতা করেছে তাদেরও চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
ঝিনাইদহে জেলা শিবিরের সাবেক শিবির জনশক্তি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকালে শহরের আলহেরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আয়োজনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঝিনাইদহ জেলা শাখার আমীর অধ্যাপক আলী আজম মো. আবু বকর। সম্মেলনে বক্তৃতা করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা তাজুল ইসলাম, কাজী সগীর আহম্মেদ, কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা রবিউল ইসলাম, শহর জামায়াতের আমীর এডভোকেট ইসমাইল হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের শহর সভাপতি মেহেদী হাসান রাজু, জেলা শিবিরের সভাপতি প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আব্দুল হাই।
বাংলাদেশের মাটিতে আর ফ্যাসিবাদের উত্থান হতে দেয়া হবে না
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, গত সাড়ে ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ তাদের মনের কথা বলতে পারেনি। বিরোধীদলের তিনজনকে একসাথে কথা বলতে দেখলে পুলিশ তাদের ধরে নিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী মামলা দিতো। সারা দেশে ফ্যাসিবাদের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। তিনি বলেন, সরকারের ভেতরে ও বাইরে যারা ফ্যাসিবাদের দোসর লুকিয়ে আছে, তাদের চিহ্নিত করে বিচার করতে হবে। বাংলাদেশের মাটিতে আর ফ্যাসিবাদের উত্থান হতে দেয়া হবে না।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রোববার বিকাল ৩টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর সরকারি এইচ.সি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহা. ইজ্জত উল্লাহ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, সাবেক এমপি কাজী নজরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা নাবেয়ে আমীর শেখ নুরুল হুদা, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সনাতন ধর্মাবলম্বী সন্দীপ কুমার মণ্ডল প্রমুখ।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচন নামের ষড়যন্ত্র করে শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেছিল। সেই প্রহসনের নির্বাচন ছিল মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন ও ভারতীয় ‘র’র পাতানো নির্বাচন। ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ জামায়াত নেতাদের নামে মিথ্যে মামলা দিয়ে ১১ নেতার কাউকে ফাঁসি দিয়ে, কাউকে জেলখানায় হত্যা করা হয়েছে। তারা জামায়াতের নেতাকর্মীকে হত্যা করে দেশ থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নির্মূল করতে চেয়েছিল। জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে যারা মিথ্যা মামলা, সাক্ষী ও বিচার করেছিল, তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। প্রধান অতিথি আরও বলেন, শাপলা চত্বরে ঘুমন্ত মানুষের ওপর গুলি করে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। আজকের এ কর্মী সম্মেলন থেকে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে অনুরোধ জানাবো শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিচার করতে হবে। বিডিআর হত্যাকাণ্ডে প্রকৃত খুনিরা আড়ালে আড়ালে রয়ে গেছে। ওই ঘটনার প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করে তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। জুলাই বিপ্লবে দুই হাজারের বেশি মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের দায়ে ইতোমধ্যে শেখ হাসিনাসহ দোষীদের ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়েছে। বিচারের রায় অবিলম্বে ঘোষণা করতে হবে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে সকল দোষীদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে বিচারের রায় কার্যকর করতে হবে।
তিনি অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানকে উদ্দেশ করে বলেন, বিরোধীদলের তিন-চারটা খুনী মামলার আসামিরা মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম এখনো জেলে আছে। অবিলম্বে এটিএম আজাহারুল ইসলামকে মুক্তি দিতে হবে। এ দাবি শুধু জামায়াতের নয়, বাংলাদেশের মুক্তিকামী ১৮ কোটি মানুষের দাবি। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে এটিএম আজহারুল ইসলামকে মুক্তি না দিলে আপনারা ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। রফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, দেশে যেনতেন কোনো নির্বাচন মানুষ মানবে না। দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। আবু সাঈদ ও মুগ্ধরা মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়েছে। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে যতটুকু সংস্কার করার দরকার সেটুকু করে একটি ফ্রি ফেয়ার গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের করা ভোটার তালিকা থেকে ২ কোটি ভুয়া ভোটার বাদ দিতে হবে।
প্রধান অতিথি আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী বর্তমান বাংলাদেশে সবচেয়ে সুশৃঙ্খল ও সুগঠিত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে আজ দাঁড়িয়ে গেছে। জামায়াতকে যদি মানুষ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তাহলে আমরা রাজা হবো না দেশের মানুষের সেবক হবো।