জুড়ী বিএনপিতে আ’লীগ নেতা!


২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৬:০৫

জুড়ী (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা : মৌলভীবাজার জেলার জুড়ীতে সদর জায়ফরনগর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে আওয়ামী লীগপন্থী সিরাজুল ইসলাম সদস্য হিসেবে স্থান পাওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. মোস্তাকিম হোসেন বাবুল, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী মাছুম রেজা ও যুগ্ম আহ্বায়ক মতিউর রহমান চুনু স্বাক্ষরিত ১১ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলার সদর জায়ফরনগর ইউনিয়ন কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে সদস্য হিসেবে সিরাজুল ইসলামের নাম আসার পর উপজেলাজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জুড়ী উপজেলায় টক অফ দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।
কমিটি ঘোষণার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে সিরাজুল ইসলামের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিএনপি নেতাকর্মীরা এ ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে নিন্দার ঝড় তুলেছেন। যুবদল নেতা আসাদুজ্জামান খান মোবারক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, আমি যতটুকু জানি এবং দেখেছি উনি আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এখন সুযোগ বুঝে বিএনপিতে চলে আসতে চান, কিন্তু তাদের মতো দালালদের বিএনপিতে ঠাঁই নাই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ মিফতা লিখেছেন, এটা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে তাড়াতাড়ি যেন এর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রাণের প্রিয় দলকে যদি কেউ নিজের ব্যক্তিস্বার্থের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত করে তাহলে এটা শুভ হবে না। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম এ বিষয়ে মন্তব্য করে লিখেছেন, ১৫ বছরে মন্ত্রী-এমপি নেতাদের সাথে ছবি ওঠার সুযোগ কপালে হয় নাই! হায়রে সরকারি দল।
জানা যায়, সিরাজুল ইসলাম উপজেলার সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের নয়াগ্রাম এলাকার প্রাচীন আওয়ামী লীগ পরিবারের একজন সদস্য। তারা জন্মসূত্রে বংশ পরম্পরায় আওয়ামী লীগ করে আসছেন। তার চাচাতো ভাই আব্দুল লতিফ উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় সদস্য। তার ভাতিজা আব্দুস সাত্তার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার আরেক ভাতিজা মনিরুল ইসলাম ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য (শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মামলায় পলাতক আসামি)। এছাড়া সিরাজুল ইসলাম আওয়ামী সমর্থক হওয়ায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জুয়েল রানার প্রতিষ্ঠান জুড়ী আধুনিক প্রাইভেট হসপিটালের বিজনেস পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের শাসনামলে সিরাজের প্রতিষ্ঠান জুড়ী আধুনিক হাসপাতালে থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম। সকাল থেকে রাত অব্দি এখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভির লেগেই থাকতো। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সিন্ডিকেট সকল ব্যবসার সাথে সিরাজুল ইসলাম জড়িত রয়েছেন।
বিএনপির ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি কমিটিতে দলের এত ত্যাগী নেতা থাকা সত্ত্বেও আওয়ামীপন্থী সিরাজুল ইসলামকে কেন স্থান দেয়া হলো। এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে তাকে আনা হয়েছে। দলের মধ্যে এখনো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসররা রয়েছে। আওয়ামী লীগের সেই দোসররা তাদের ফায়দা হাসিলের জন্য এমন ন্যক্কারজনক কাজ করেছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা আশা করছি, অবিলম্বে সিরাজুল ইসলামকে কমিটি থেকে বহিষ্কার করে দলের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জুড়ী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. মোস্তাকিম হোসেন বাবুল বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে সিরাজুল ইসলামের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।