ছড়া কবিতা


৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:৩০

বাংলা ভাষা
আমিনুল ইসলাম কাইয়ুম

‘বাংলা ভাষা’ মধুর ভাষা,
বাংলা মায়ের কোল॥
‘বাংলা ভাষা’ বুকের মাঝে,
দোলে দোদোল দোল॥
দোলনায় দুলে কচি-কাঁচারা,
‘বাংলা ভাষা’ বলে॥
দোল দেয় যে দাদা দাদি,
কাঁঠাল বৃক্ষের তলে॥
আনন্দ মনে খুশির বাণে,
বলেন বাংলা ভাষা॥
কামার-কুমার-জেলে-মাঝি
দিনমজুর-চাষা॥
তাই তো বাংলা বলে সবে,
বাংলায়-সাধ জাগে॥
বাংলা যেন বিধির দান,
এই বিশ্বের বাগে॥
সেই না সাধ বাংলা বলা,
মায়ের কোলে বসে॥
মমতা মাখানো মা যে,
বলেন তো অবশেষে॥
বাংলা মনের মধুর ভাষা,
এটাই আসল আদি॥
বাংলায় বলো বলেন মাগো
মাম্মা-দাদা-দাদি॥

মা-বাবা
কাজী আবুল কাসেম রতন

মাকে নিয়ে
একটা ছড়া লিখবো,
বাবাকে নিয়ে
একা কবিতা বলবো॥
মা আমার
ভালোবাসা,
বাবা আমার
স্বপ্ন আশা॥
ভালোবেসে
মা কখনো
মা-বাবা বলে ডাকে,
স্বপ্ন আশায়
বাবা আমাদের
বাঁচিয়ে রাখে॥
মা-বাবা সবার প্রিয়,
সব কাজেতে
তাদের দোয়া নিও।

 

 

জীবনের গান
আবুল খায়ের বুলবুল

রোজ সকালে ওঠাও মাগো
পড়বো ফজর নামাজ
আল্লাহ তায়ালার নিয়ম মেনে
গড়বো সেই সমাজ।

যতই আমি থাকি ঘুমে
উঠবো তোমার ডাকে
তুমি আমার মুয়াজ্জিন মা
হৃদয় পুষে থাকে।

ভোরের হাওয়া ছুঁইবো আমি
প্রতিটি সকালে
গোলাপ বেলির ফোটা দেখবো
দুপুর ও বিকেলে।

নামাজ রোজা সব কিছুতে
তোমার মতো হবো
বড় হয়ে সেই পথে যে মা
আমি ঠিকই থাকবো।

পড়ালেখা করবো আমি
সত্যি ভালোমতো
জীবনটাতে ঢেলে দিবো
রাগ অনুরাগ যতো।

যুদ্ধে আমি যাবো না মা
তোমায় কথা দিলাম
জিহাদের অনুমতি দিয়ে
করতে দিও সালাম।

 

একটি শিশু
ফরিদ আহমদ ফরাজী

একটি শিশু ইটের ভাটায় কাজ করে
একটি ফুলের পাপড়িগোড়ে মৌ ঝরে।
একটি শিশুর মা-জননী ভীষণ জ্বরে
তাই শিশুটি স্বপ্ন বেচে সেবা করে।
জীবন নামের যুদ্ধমাঠে বাবা নেই
করোনায় মারা গেছেন তিনি কবেই।
একটি শিশু শ্রম বিকায় নিঃস্ব তাই
ছোট বোনটি কেঁদে বলে খাওন চাই।

ক্ষুধায় কাতর সেই শিশুটি কাজ করে
অবুঝ তবু ভাবতে হয় চাল নেই ঘরে।
শিশু শ্রম বিকায় কেন খোঁজ নাও আগে
মানবতার হাত বাড়িয়ে ভোজ দাও আগে।

সবুজের সমারোহ
এইচ. এম. কাওছার হোসাইন

দূর নীলিমায় তাকাই আমি
দেখি সবুজময়,
সবুজে ঘেরা দেশটা আমার
এমনি যেন রয়।
গ্রামীণ ওই পথের ধারে
গাছের সারি সারি,
সবুজময় থাকে সে পথ
সবার উপকারী।
বাসাবাড়ির ছাদে কিংবা
বাড়ির আঙিনায়,
চারা গাছের রোপণ করি
বানাই সবুজময়।
থাকুক আমার দেশের মাটি
সবুজ রঙে ভরা,
চোখের সামনে উঠুক ফুটে
সবুজময় ধরা।

ধৈর্য ধরো
মো. আব্দুল্লাহিল কাফি (ডাবলু)

সবুর করো, সবুর করো
সবুর করো ভাই
শুকুর সবুর করলে পরে
বড় হওয়া যায়।
ধৈর্য ধরো সবুর করো
উড়িয়ে দেখ ছাই
ছাইয়ের মাঝে মনি আছে
চেয়ে দেখ তাই।
জ্ঞানী হও এই সমাজে
পাবে যে সম্মান
ধৈর্য ধরো এমনি করে
গাও সুখেরি গান।
যেখানে যাও উড়াও না ছাই
মিলতে হীরা-মতি
আলোর স্রোতে ভেসে যাবো
হবে না তো ক্ষতি ॥

 

আমার মোনাজাত
জেহান মোবারক

মাথা নত করি তোমার
রুকু সিজদাতে,
তুমি প্রভু দাও সাড়া দাও
আমার মোনাজাতে

প্রিয় নবীর নামে দরূদ
পড়ি সাল্লে আলা,
শান্তির সুবাতাসে দাও গো
ওহে সুবহান আল্লাহ

পাপে লিপ্ত আদম সন্তান
সৃষ্টির সেরা জাতি,
তোমার কাছে চাই যে সদা
প্রজ্জ্বলিত বাতি।

এই পৃথিবী সৃষ্টি তোমার
কুদরতি এক হাতে,
চাইলে তুমি ধ্বংসস্তূপে
ফেলতে সাথে সাথে।

প্রভু তোমার তাসবীহ পড়ি
প্রতিটা-দিন রাতে,
স্বদেশ পানে রহমতস্বরূপ
বৃষ্টি দাও নিজ হাতে।

অর্থ চাহিদা
মোস্তাহিদুর রহমান

এ জাতি মোরা সৃষ্টির সেরা
জগতে করি যে বাস
যদিবা মহৎ কেউবা অনাথ
শ্রেষ্ঠ খোদার দাস।
প্রীতি বন্ধনে সুখ সন্ধানে
অগ্র আশাতে থাকি।
হলেও পূর্ণ যে আশার চাহিদা
মন বলে আজো বাকি
ক্ষণকাল তরে স্বপ্নের মাঝে
বাঁধি যে বাসা বাঁধনে
এ বাসা নহে চিরকাল তার
পূর্ণ পাওয়া সাধনে।
পর অর্থে কাতর এমন
পেতে কেন এত আশা
নীতির বালাই চূর্ণ করে
দুনিয়াতে বেঁধে বাসা
অর্থ চাহিদা কারো বা ফুরায়
সারাদিন রাত খেটে
নিয়মের কত শৃঙ্খল ভেঙে
অর্থ চাহিদা মেটে।

এখনো সমাজ আঁধার
রুনা লাইলা

এখনো সমাজ থেকে কাটেনি আঁধার
আসেনি সোনালি সেই আলোকিত ভোর,
এখনো অন্যায় আর দুর্নীতিতে
সর্বদা মন কেন থাকে যে বিভোর॥

মুসলিম দেশে কেন থাকি পরাধীন
বাজেনি দেশে আজো কুরআনের বীণ
এখনো মনটা কারো হয়নি তো সাফ
কাটেনি হৃদয় থেকে অমানিশা ঘোর॥

এখনো নিউজ হয় গুম আর খুন
মুক্ত হয়নি আজো প্রিয় এই দেশ।
এখনো শোনা যায় ঐ হায়েনার দল
দেশ থেকে ইসলাম করে দেবে শেষ॥

নিজেকে শোধরানোর এখনি সময়
সবে মিলে দেশটাকে করি মধুময়।
ইসলাম প্রতিষ্ঠা হয় যদি দেশে
সকলের বুকে ফিরে আসবেই জোর॥

যুদ্ধ চালাও কলমযোদ্ধা
আসাদুজ্জামান খান মুকুল

যুদ্ধ চালাও কলমযোদ্ধা
যেথা অন্যায় ছল,
ঝড় তুলে দাও অসন্তোষের
দক্ষ বীরের দল।

কাব্যধারার অগ্নিশিখায়
পোড়ো শয়তান চেলা,
ছারখার করো ভণ্ডামি আর
ভাঁওতাবাজির খেলা!

উৎপীড়কের দহন জ্বালায়
যেথায় মানুষ কাঁদে,
প্রলয় নৃত্য ওঠাও সেথায়
ফেলতে পীড়ক ফাঁদে!

তপ্ত লেখায় হোক না ধরায়
ধর্ষকে মানহানি,
বজ্রের ন্যায়ে আঘাতটা তার
মৃত্যুকে দিক আনি!

তরুণ লেখক কলমযোদ্ধা
চালাও সবাই অসি,
জালিম শাহের তামাম প্রাসাদ
যাক না লেখায় ধসি!

তোমরা লেখক জাগ্রত প্রাণ
সদা নির্ভীক বীর !
ন্যায়ের পক্ষে ওড়াও ঝাণ্ডা
ঊর্ধ্বে উঁচিয়ে শির!

 

তুমি শূন্য নও
খন্দকার জাহাঙ্গীর হুসাইন

ভুলে গেছে যারা আজ
থাক তারা দূরেতেই
তুমি একা, একা থাকো
ঘিরে নিজ সুরেতেই।

কাকে ভেবে গুজরান
হয় দিবা যামীও
কারো সাথে পথ যেতে
কিছু সময় থামিও।

নইলে সে ভেবে নেবে
তাকে ছাড়া তুমিও
চলাফেরা জানো নাকো
এক পা ভূমিও।

সোজা পথ সোজা নয়
কিছু পথ বাঁকা-ও
কিছু পথ চলা থেকে
ভালো বসে থাকা-ও।

তাই তুমি ভেবো নাকো
তুমি শুধু শূন্য
জেনে বুঝে চলো পথ
জমা হবে পুণ্য।

তরুণ সেনা
সাদমান হাফিজ শুভ

কলঙ্কী এক দিগন্ত ওই
অরুণ দ্যুতি মেখেছে,
টগবগে সব তরুণ সেনা
রক্তলালে এঁকেছে।

বিষণ্ন এক পাংশু-গোলাপ
রক্তিম আভায় হেসেছে,
শাহাদাতের মিষ্ট সুবাস
দিগি¦দিকে ভেসেছে।

বিক্ষত এক রুষ্ট ঈগল
পাখনা আবার মেলেছে,
ইচ্ছেরা সব জড়ো হয়ে
মরচে-পিদিম জ্বেলেছে।

ঝিমধরা এক শ্রান্ত কেতন
পতপতিয়ে উড়েছে,
সভ্যতার ওই ভ্রান্ত চাকা
যুগান্তরে ঘুরেছে।

পুতহারা এক মায়ের হিয়া
অশ্রুতে হায় ভেসেছে,
শূন্যতাকে ভরিয়ে দিতে
লক্ষ তরুণ এসেছে।

তরুণরা এক গিরিপথে
শপথ-সঙ্গিন ধরেছে,
আসবে গিরি ভাঙবে গিরি
শিরটা উঁচু করেছে।

ভোরের পাখি
আব্দুস সাত্তার সুমন

কাকাতুয়া ময়না টিয়ে
মিষ্টি ভোরের পাখি,
কোকিল কণ্ঠে অমন করে
মধুর সুরে ডাকি।

সকাল সকাল উঠে তুমি
ঘুম ভাঙাও সবার,
ভুট্টা দানা তোমায় আমি
খেতে দিব এবার।

দেশ থেকে দেশান্তরে
ঘুরে তুমি বেড়াও,
সকাল সন্ধ্যা কত বার্তা
নিয়ে এসে দাঁড়াও।

ভোরের পাখি ভোরের পাখি
ভালো আমি বাসি,
সকাল সকাল ডেকো তুমি
সদা দিবা নিশি।

শহীদের চিঠি
মুশফিকুর রহমান তামিম

নিশীথ রাতের হাড়কাঁপানো শীতের অন্তে
নির্লজ্জের মতো সূর্যটা হেসে উঠল পূব দিগন্তে।
মায়ের পান চিবানো দাঁতের পাটিদ্বয় দিল ছুঁয়ে-
এক টুকরো মিষ্টি রোদের আভা।
কী অপরূপ সেই উচ্ছ্বাস; মনোলোভা!
শিমের লতাটাও হিমে হিমে গেছে নুয়ে।
মা অপলক চেয়ে আছে পথের পানে-
কোথায় খোকা? কখন আসবে, কে জানে!

সকাল পেরিয়ে অস্ত গেল দুপুরে।
সূর্যটাও তার খরতাপ সমেত মাথার উপরে।
মা তখনো খোকার প্রতীক্ষায় পথের পানে চেয়ে,
মুখে বিষণ্নতার ছাপ!
চোখে অপরাহ্ণর দুর্বল ঝিলিক।

অবশেষে-
অপেক্ষার নিরসন করে খোকা আসল।
একা নয়, দশ বারোজনের কাঁধে চড়ে।
খোকা নয়, কফিন! খোকার কফিন!

চিঠিটা তার বুকপকেটে ছিল।
খামের ওপর আলপিন গুঁজা,
কর্দমাক্ত, চটচটে, রক্তে ভেজা।
মাগো!
ভালোবাসা নিও।
এই চিঠি যখন তোমার কাছে পৌঁছবে,
তখন হয়তো আমার প্রাণ
সবটা ভরে লুফে নেবে ফেরদৌসের ঘ্রাণ!
খেচরের মতো উড়াল দিবে সবুজ পাখিদের ভিড়ে।

চেয়ে দ্যাখো মা-
হুতাশীর হা-হুতাশ, আর্তের আর্তনাদ, ক্ষুধার্তের বোবাকান্না চারদিকে
ত্রিশ লাখের ত্যাগের নহর, পুরোটাই যেন ফিকে।
আমাদের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন; সংকটে
আমাদের নিশ্চিহ্ন করার পাঁয়তারায় লিপ্ত ওরা
খোদার দীনকে ওরা মসজিদেই সীমাবদ্ধ দেখতে চায়।
নিভিয়ে দিতে চায় ফুঁৎকারে, দীনের প্রদীপ।
বলো মা, তা কি হয়?

আজ সমাবেশের ডাক পড়েছে।
হয়তো, এখান থেকেই বিপ্লবের সূত্রপাত ঘটবে
সূচনা ঘটবে একটি নতুন দ্বার উন্মোচনের
একটি সূর্যের উদয় হবে, নতুন দিনের সূর্য
বিজয়কেতন উড়বে ওই আসমানে।
নতুন পুষ্প প্রস্ফুটিত হবে এ অঙ্গনে-
যার সুবাসে মুখরিত হবে দিগি¦দিক।
আগমন ঘটবে একটি সোনালি প্রভাতের।
যেখানে থাকবে না কোন মিথ্যার অবয়ব,
অপসাংস্কৃতির কোলাহল,
ফ্যাসিবাদের দূষিত জাঁতাকল।

সেখানে কেবলই থাকবে রাশেদার প্রতিচ্ছবি
কুরআনী আইন, বিধান, সংবিধান।
অটোমানদের জলন্ত প্রদীপ, জ্ঞান-বিজ্ঞানের মশাল।
যেখানে কারো প্রার্থনায় ধ্বনিত হবে না-
“রব্বানা আখরিজনা মিন হাজিহিল ক্বারিয়াতিয্ জালিমি আহলুহা..
ওজায়াল লানা মিল্লাদুনকা ওলিয়া,
ওজায়াল লানা মিল্লাদুনকা নাসীরা”

মাগো!
অভিমান নিও না।
শহীদরা মরে না।
“লা তাকুলূ লিমান্ ইউকতালু ফি সাবিলিল্লাহি আমওয়াত…
কুরআনের চোখে চোখ রেখে সান্ত্বনা খুঁজে নাও-
তুমি শহীদ জননী, শহীদের মা!”