অধিকাংশ বই হাতে পেয়েছে শিক্ষার্থীরা
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৪:৪১
ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সব বই পৌঁছাবে
স্টাফ রিপোর্টার : বিনামূল্যে বিতরণের জন্য শতভাগ পাঠ্যবই কবে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাবে, এ নিয়ে নানা কথা হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর যথাসময়ে বই প্রকাশ করতে পারেনি বলেও সমালোচনা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ শিক্ষাঙ্গনেও। এ প্রসঙ্গে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) বলছে, এ বছর বইয়ের প্রথম টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। বই পরিমার্জন করা হয়েছে, নতুন করে টেন্ডার চূড়ান্ত করতে নভেম্বর পর্যন্ত সময় লেগেছে। এরপরও ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব বই পৌঁছে যাবে শিক্ষার্থীদের হাতে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে জানান, গত বছরও (২০২৪ সাল) সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে ৭ মার্চ। এবার কিন্তু মার্চ পর্যন্ত যেতে হচ্ছে না। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে শিক্ষার্থীরা সব বই পেয়েছে ১৭ মার্চ। ২০২২ সালে শিক্ষার্থীরা বই পেয়েছে ২৪ মার্চ। ২০১৯ সালে শিক্ষার্থীরা বই পেতে প্রায় চার মাস সময় লেখেছে। ওই বছর শিক্ষার্থীরা সব বই পেয়েছে ২৭ এপ্রিল। ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ শিক্ষার্থীরা সব বই পেয়েছে। ২০১৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সব বই পেয়েছে শিক্ষার্থীরা। ২০১৬ সালে শিক্ষার্থীরা সব বই পেয়েছে ২২ মার্চ। ২০১০ সালে ২১ জুলাই অর্থাৎ বই পেতে প্রায় সাত মাস লেগেছে এবং ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠনের প্রথম বছর শিক্ষার্থীরা সব বই পেয়েছে ২৬ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ ৯ মাস সময় লেগেছে বই পেতে।
এনসিটিবি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এ বছর ৪০ কোটি বেশি বই ছাপানোর কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। এর অধিকাংশ বই প্রকাশিত হয়েছে। ইতোমধ্যে ২২ কোটিও বেশি বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ৫৫ শতাংশ বই শিক্ষার্থীরা পেয়েছে। বাকি বই ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে পাবে। এনসিটিবির চেয়ারম্যান জানান, অন্য বছরের চাইতে এ বছর বই ছাপানোর কাজ অনেকটাই ভিন্ন প্রক্রিয়ায় হয়েছে। এ বছরের বই ছাপানোর জন্য গত বছরের শুরুতেই টেন্ডার দেয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। কারণ জুলাই বিপ্লবের পর পাঠ্যবইয়ে পরিমার্জন করার উদ্যোগ নেয়া হয়। বিপ্লবের ইতিহাস বইয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে বেশকিছু সময় ব্যয় হয়। আগের বছরে বই পরিমার্জনের কোনো কাজ ছিল না। পূর্বেই বই প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার পরিমার্জন করতে বেশি সময় লেগেছে। এরপর টেন্ডার আহ্বান করা হয়। টেন্ডারেও পরিবর্তন আনা হয়েছে, ব্যয়ও বেড়েছে। এ বর্ধিত ব্যয় নির্ধারণ ও পাস হতেও সময় লেগেছে। অন্য বছরের চাইতে এবার ৫২৩ কোটি বই বেশি প্রকাশ করতে হচ্ছে। ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় কারণ। সবকিছু সামলে টেন্ডার চূড়ান্ত করতে নভেম্বর-২০২৪-এ গিয়ে ঠেকেছে। নভেম্বরে টেন্ডার চূড়ান্ত হলে ডিসেম্বরের মধ্যে সব বই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত ছিল। কিন্তু মুদ্রণ শিল্প-মালিক সমিতি আমাদের আশ্বস্ত করেছিল তারা এক মাসের মধ্যে সব বই ছাপিয়ে দেবে এবং এমন সক্ষমতা তাদের রয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল তারা যা বলেছে, বাস্তবে তা করতে পারেনি। ১১৬টি প্রতিষ্ঠানকে এ ৪০ কোটি বই ছাপাতে দেয়া হয়। তারা যৌথভাবে দৈনিক গড়ে এক কোটি ৪২ লাখ বই ছাপিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেয়। সে অনুযায়ী মাত্র ২৮ দিনেই সব বই ছাপার কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু তারা সক্ষমতা নিয়ে যে তথ্য দিয়েছে, বাস্তবে তারা তা করে দেখাতে পারেনি। তারা গড়ে বই ছাপতে পারছে মাত্র ৪০ লাখ। অর্থাৎ দৈনিক ছাপার ঘাটতি থাকছে এক কোটি দুই লাখ। ফলে শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে বই হাতে পায়নি।