গল্প-আড্ডা জমলেও জমেনি বেচাকেনা
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৪:৩০
স্টাফ রিপোর্টার : চলছে একুশে বইমেলা। বেচাকেনা জমেনি, তবে জমে উঠেছে আড্ডা। বিকেল হলেই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আর বাংলা একাডেমির মেলা প্রাঙ্গণ লেখক ও বইপ্রেমীদের। শুধু তারাই নয়, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ মেলায় মিলিত হচ্ছেন। এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বইমেলা ঘিরে তারুণ্যের আবেগও ফুটে উঠছে। রয়েছে উচ্ছ্বাসও।
গত ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই মেলা চলবে মাসজুড়ে। মেলায় দশনার্থীর সরব উপস্থিতি থাকলেও এখনো বিক্রি জমেনি। স্টলে দায়িত্বরত বিক্রয়কর্মীরা বলছেন, এখনো বিক্রি কম। পাঠক আসছেন দেখছেন, আর আমরাও কিছুটা গোছগাছ করছি। দর্শনার্থীরা আসছেন, বই নেড়ে-চেড়ে দেখছেন। এখনো তেমন বিক্রি শুরু হয়নি। আশা করছি শিগগিরই মধ্যে বিক্রি বাড়বে।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, “প্রকাশকসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কমিটি স্টলের বিষয়ে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই প্যাভিলিয়নের বদলে স্টল বরাদ্দ পাওয়ায় বইমেলা বয়কট নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।
প্রতিদিনই বইমেলায় নতুন নতুন বই আসছে। প্রথম এবং দ্বিতীয় দিন মিলে সর্বমোট বই এসেছে ৪৫টি। তৃতীয় দিনে এসেছে ৩২টি নতুন বই। চতুর্থ দিনে এসেছে ৪৭টি নতুন বই। অর্থাৎ প্রথম চার দিনে মোট ১২৪টি নতুন বই এসেছে মেলায়। এসব বইয়ের মধ্যে রয়েছে, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা, গবেষণা, শিশুসাহিত্য, জীবনী, বিজ্ঞান, ভ্রমণ, ইতিহাস এবং রাজনীতি। এছাড়া অন্যান্য কিছু বইমেলায় স্থান পেয়েছে।
প্রসঙ্গত, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান : নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে অমর একুশে বইমেলা-২০২৫ উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গত ১ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় মেলার উদ্বোধন করেন তিনি। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী দেশের বৃহত্তম এ বইমেলা চলবে। এর আগে ৩০ জানুয়ারি একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বইমেলা কমিটির সদস্য সচিব ড. সরকার আমিন জানান, এ বছরের বইমেলার প্রতিপাদ্য বিষয় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান : নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ’। এ সময় তিনি অমর একুশে বইমেলা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘মেট্রোরেল স্টেশনের কাছাকাছি হওয়ায় বহির্গমন গেটটি মন্দিরের গেটের কাছাকাছি সরানো হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্ল্যান্ট ও ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের কাছে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য চারটি পয়েন্ট থাকবে’। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে শুরু করে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে এ বইমেলা।