হজ বরাদ্দ কোটা পূরণ হয়নি
৩১ জানুয়ারি ২০২৫ ১২:০০
স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদ দেখা সাপেক্ষে হিজরী ১৪৪৬ বা ২০২৫ সালের হজ আগামী ৫ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সে অনুয়ায়ী প্রস্তুতিও নিচ্ছে সৌদি আরব। এছাড়া যেসব দেশ থেকে সৌদিতে হজ করার জন্য ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা যাচ্ছেন, সেসব দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও সঠিক সময়ে এবং নিরাপদে হজযাত্রা সম্পন্ন করতে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এ বছর সৌদি সরকার বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের হজ পালনের কোটা বরাদ্দ করেছে। এ বছর জনপ্রতি ৩ লাখ টাকা জমা দিয়ে হজে যেতে প্রস্তুতি নিয়েছেন ৮৭ হাজার ১০০ যাত্রী। অর্থাৎ এবারও সেই বরাদ্দকৃত কোটা পূরণ হচ্ছে না। এজন্য অতিরিক্ত ব্যয়কে দায়ী করছেন হজ গমনেচ্ছুকরা। যদিও গতবারের চেয়ে এবার খরচ কিছুটা কমানো হয়েছে। তবুও অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে হজে যাওয়ার খরচ অনেক বেশি।
খবর নিয়ে জানা গেছে, খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০২৪ সালে প্রায় ৩৩ শতাংশ কোটা পূরণ হয়নি, সে সময় হজে গিয়েছিলেন ৮৫ হাজার ২৫৭ জন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. আবু বকর সিদ্দীক গত ২৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, এবার প্রাক-প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন এক লাখের মতো মুসল্লি। যারা জনপ্রতি ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাক-প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন। যারা চূড়ান্তভাবে হজে যেতে ইচ্ছুক, তারা জনপ্রতি ৩ লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন। ২০২৫ সালের হজে যেতে এমন নিবন্ধনকারী ৮৭ হাজার ১০০ জন। এর মধ্যে ৫ হাজার ২০০ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাচ্ছেন। বাকিরা সাধারণ বা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাচ্ছেন। এর সঙ্গে গাইড হিসেবে যুক্ত হচ্ছে আরও বেশকিছু যাত্রী। প্রতি ৪৪ যাত্রীর সঙ্গে একজন করে গাইড হিসেবে যাচ্ছেন। সে হিসাবে গাইড হিসেবে যাচ্ছেন ১ হাজার ৯৭৯ জন। অর্থাৎ প্রায় ৮৯ হাজার যাত্রী এবার হজে যাচ্ছেন। আবু বকর সিদ্দীক আরও জানান, খুবই জরুরি কোনো ব্যাপার না থাকলে এ সংখ্যা কমবে না।
হজ এজেন্সিস অব বাংলাদেশের (হাব) সাবেক নেতা মাওলানা ইয়াকুব শরাফতীর ভাষ্য, হজে মূলত তারাই যায়, যার জন্য ফরজ। সেক্ষেত্রে এরকম লোক যদি কম হয়, সেটা তো আর বাড়ানোর সুযোগ থাকে না। তিনি বলেন, এ বছর হজযাত্রী যা আছে, তারা সবাই প্রকৃত হজযাত্রী। কেননা অন্যবারের মতো পলিটিক্যাল হাজী নেই এ বছর। তারপর যারা অবৈধভাবে টাকা-পয়সা কামিয়েছে, এদের মধ্যে অনেকে বার বার হজে যেত, তারা এবার যাচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, খাবার খরচ যুক্ত করে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ঘোষিত সাধারণ হজ প্যাকেজে এবার ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা, আর বিশেষ হজ প্যাকেজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। এর সঙ্গে কুরবানি বাবদ ৭৫০ রিয়ালের সমপরিমাণ অর্থ সঙ্গে নিতে হবে। অন্যদিকে এবার উড়োজাহাজ ভাড়া প্রায় ২৭ হাজার টাকা কমিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনার প্যাকেজের মূল্য কমানো হয়েছে। তবে এবার খাবার খরচ হজ প্যাকেজে ধরা হয়নি। সরকারিভাবে এবার প্যাকেজ-১ এর সর্বনিম্ন খরচ ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা। আর যারা সাধারণ প্যাকেজ-২ নেবেন, তাদের সর্বনিম্ন খরচ দিতে হবে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০ টাকা। এর সঙ্গে খাবার বাবদ আরও ৪০ হাজার টাকা এবং কুরবানি বাবদ ৭৫০ সৌদি রিয়ালও গুনতে হবে।