অলিগার্কদের লুটপাট
১০ জুলাই ২০২৫ ১১:১২
সর্বস্বান্ত হয়েছিল জনগণ
॥ ফেরদৌস আহমদ ভূইয়া ॥
মূল্যস্ফীতি হচ্ছে অর্থনীতির এমন একটি কম্পোনেন্ট তথা উপাদান, যেটা একটি দেশের সাধারণ মানুষ তথা কৃষক-শ্রমিক, মুটে, মজুর, হকার, ফেরিওয়ালা, রিকশাওয়ালা, ঠেলাওয়ালা, ভ্যানওয়ালা থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও বস্তিবাসী সর্বস্তরের জনগণকে স্পর্শ করে। তবে এ মূল্যস্ফীতিতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও উচ্চবিত্তকে তা স্পর্শ করে না, বরং উচ্চবিত্তদের একটি গ্রুপ টাকার পাহাড় গড়ে তোলার সুযোগ পায়। শুধু তাই নয়, এ মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে রাষ্ট্র ও সরকার যেসব টুলস ব্যবহার করে, সেসব দিয়েই ক্ষমতাসীনরা সাধারণ জনগণকে অতি সংগোপনে শোষণ করে নিজেরা ধনিকশ্রেণি তথা অলিগার্ক হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতাসীনরা এ কাজটাই করেছে, তারা মূল্যস্ফীতিকে ব্যবহার করে লাখকোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছে। এ মূল্যস্ফীতির কারণে ধনীরা আরো ধনী হয় আর গরিবরা আরো গরিব হয়, সরকার অতি সংগোপনে ও নীরবে জনগণের সম্পদ কুক্ষিগত করতে থাকে এবং মূল্যস্ফীতি যে শোষণের একটি অন্যতম হাতিয়ার এ কথা বলেছেন আধুনিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অনেক রাষ্ট্রনায়ক ও অর্থনীতিবিদ।
ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জন মেইনার্ড কেইনস বলেছেন, ‘মূল্যস্ফীতির মাধ্যমে সরকার নিঃশব্দে এবং অদৃশ্যভাবে তাদের নাগরিকদের সম্পদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আত্মসাৎ করতে পারে।’ মূল্যস্ফীতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার সংগোপনে জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করছিল। যার প্রতিফলন সাধারণ মানুষের জীবনে দেখা গিয়েছিল।
মূল্যস্ফীতির কারণে ধনীরা আরো ধনী হয় আর গরিব আরো গরিব হতে থাকে। আর এটারই প্রতিধ্বনি করে যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্র জ্যাকসন বলেছেন, ‘মূল্যস্ফীতি ধনীদের আরও ধনী করে তোলে, আর গরিবদের আরও গরিব।’
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির যে উল্লম্ফন দেখা গিয়েছিল তার মাধ্যমে আওয়ামী ক্ষমতাসীনরা পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ কায়দায় জনগণকে শোষণ করে নিজেদের সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছিল। যখন কোনো একটি নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়, তখন এক দুটি শিল্পগোষ্ঠী তথা গ্রুপ অত্যধিক লাভ করে শত শত কোটি টাকা অর্জন করে; অপরদিকে কোটি কোটি সাধারণ মানুষ ক্ষতির সম্মুখীন হন। এককথায় সাধারণ মানুষের পকেটের টাকা ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী অথবা ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী সমর্থিত শিল্প গ্রুপগুলোর হাতে চলে যায়। এভাবে যখন অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেতে থাকে এটার পুরো সুবিধাটা পায় দেশের কিছু শিল্পগোষ্ঠী আর ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। একটি গাণিতিক উদাহরণ দিয়ে বললে বিষয়টি আরো পরিষ্কার হবে। মূল্যস্ফীতির কারণে যদি একটি পরিবারকে প্রতি মাসে এক হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হয়, তাহলে বাংলাদেশের চার কোটি পরিবারকে প্রতি মাসে চার হাজার কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। আর এ চার হাজার কোটি টাকা মুষ্টিমেয় কিছু শিল্পগোষ্ঠীর পকেটে যায়। এভাবে এক বছরে মিনিমাম ৪৮ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত মুনাফা করে শিল্পগোষ্ঠীগুলো। অপরদিকে এ মূল্যস্ফীতির কারণে প্রতিটি পরিবার আর্থিক দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের সঞ্চয়ের ক্ষমতা কমেছে এবং জনগণ প্রতিনিয়ত সর্বস্বান্ত হয়েছে; অপরদিকে একটি গোষ্ঠী ধনী থেকে আরো ধনী হচ্ছে। মুনাফালোভী এ শিল্পগোষ্ঠীগুলো হয় সরকারের নিজস্ব লোক অথবা সরকারকে সুবিধা দিয়েই মূল্যস্ফীতিকে বজায় রাখার বাজার কৌশল করে থাকে। আওয়ামী লীগ সরকার এ নিত্যপণ্যের মূল্যস্ফীতিকে এভাবে ব্যবহার করে তাদের একটি অলিগার্ক শ্রেণি তৈরি করেছিল যারা লুটপাট করে দেশে বিদেশে লাখকোটি টাকার সম্পদ গড়েছিল। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগ নেতাদের লাখকোটি টাকার সম্পদের তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ হওয়ার দ্বারা তাই প্রমাণিত হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর মূল্যস্ফীতি কমানোর টার্গেট নিয়ে তদনুযায়ী নীতি ও কৌশল গ্রহণ করেছেন। আর এ টার্গেটটা হচ্ছে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনা। মূল্যস্ফীতি কমানোর যে টার্গেট নিয়েছিল তার কিছুটা হলেও পূরণ হতে যাচ্ছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যানে জানা গেছে যে, দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বিগত ৩৫ মাসের মধ্যে কমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। খাদ্যে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। বিগত বছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ছিল ১১ দশমিক ৬৬। খাদ্যে মূল্যস্ফীতি কমা মানে সাধারণ মানুষের খাদ্য কেনায় স্বস্তি ফিরে আসা। মানুষের মৌলিক কয়েকটি চাহিদার অন্যতম হচ্ছে খাদ্য। একটি রাষ্ট্রের সরকার ও প্রশাসন যদি যথাযথ নীতিমালা ও উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে তার সুফল জনগণ পায় মূল্যস্ফীতি কমার মাধ্যমে তার একটি প্রমাণ পাওয়া গেল। বর্তমান সরকারের গণমুখী নীতিমালা ও পদক্ষেপের ফলাফল সাধারণ জনগণ পেতে শুরু করেছে। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “অন্তর্র্বর্তী সরকারের ‘সুচিন্তিত’ নীতি-কৌশলের ফলে মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমছে।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের হাল ধরে অন্তর্র্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মুহাম্মদ ইউনূস মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন। তারই আলোকে নতুন অর্থবছরের বাজেটে আগামী অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। সে মোতাবেক সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে ।
আধুনিক বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য নির্ধারণ বা ইনফ্লেশন টার্গেটিং করতে হয়। আর বেশিরভাগ দেশেরই টার্গেট থাকে মূল্যস্ফীতি ২ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে রাখা। বাংলাদেশে ইতোপূর্বেকার সরকারগুলোর মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার টার্গেট নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু তারা এ সিঙ্গেল ডিজিটের মধ্যে আনতে পারেননি। বরং বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের শেষ মাসে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি পৌঁছেছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে।
বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মাসে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ৩৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খাদ্যপণ্যের দাম কমে আসার কারণেই দেশের মূল্যস্ফীতি কমে এসেছে। আর খাদ্যপণ্যের দাম কমা মানেই সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি।
গত ৭ জুলাই সোমবার প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সবচেয়ে কম।
মুদ্রা সরবরাহে লাগাম দিতে বার বার সুদের হার বাড়ানো হয়। এতে অর্থের চাহিদা কমায় সরকারের পরিসংখ্যানেও মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখিতা লক্ষ করা যাচ্ছে।
আধুনিক বিশ্বে মূল্যস্ফীতি সরকার ও জনগণ উভয়ের জন্যই একটি সমস্যা। মূল্যস্ফীতি বাড়লে সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রা দুসহ হয়ে ওঠে। অপরদিকে মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারের প্রতি জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। তাই বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষ আইনি কাঠামোর মাধ্যমে জবাবদিহি করতে হয়।
বিশ্বের প্রায় সব দেশেই মূল্যস্ফীতির জন্য জবাবদিহির একটা নির্দিষ্ট কাঠামো আছে। যেমন ভারতে আরবিআই অ্যাক্ট ৪৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক ইন্ডিয়া (আরবিআই) যদি পরপর তিন প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তাহলে আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারকে লিখিত প্রতিবেদন দিতে হয়। সেই প্রতিবেদনে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কর্মপরিকল্পনা এবং কত দিনের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, তার সম্ভাব্য সময়সীমাও লিখে দিতে হয়। ব্যর্থ হওয়ার ঠিক এক মাসের মধ্যে আরবিআই গভর্নর এ চিঠি লিখতে বাধ্য।
যুক্তরাজ্যেও জবাবদিহির অংশ হিসেবে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে না থাকলে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নরকে খোলাচিঠির মাধ্যমে অর্থমন্ত্রীকে জানাতে হয়। সেই চিঠিতে গভর্নরকে জানাতে হয় কেন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য পূরণে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তাও বলতে হয়। এই চিঠি খোলাচিঠি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।
তৃতীয় বিশ্বের দেশ ফিলিপাইনেও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে দেশের প্রেসিডেন্ট ও দেশের মানুষের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখতে হয়, যা তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। আফ্রিকান দেশ জ্যামাইকার গভর্নরকেও মুদ্রানীতি ঘোষণার আগেই দেশটির অর্থমন্ত্রীকে প্রস্তাবিত নীতির কথা জানিয়ে চিঠি লিখতে হয়। জ্যামাইকার আইনেই এ চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশের কথা বলা আছে।
কিন্তু বাংলাদেশে এ জবাবদিহির ব্যবস্থাটি বিগত ৫৪ বছরেও গড়ে তোলা হয়নি। তাই আমাদের দেশে মূল্যস্ফীতি কোনো সময়ই কাক্সিক্ষত মাত্রায় থাকে না, বরং অসহনীয় পর্যায়েই পৌঁছে যায়। তার পরিণতি ভোগ করতে হয় সাধারণ তথা প্রান্তিক জনগণকে।
জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পরের কয়েক মাস সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৯ ও ১০ শতাংশের মধ্যেই ওঠানামা করছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় সরকার মূল্যস্ফীতি কমার তথ্য দিচ্ছে।
সর্বশেষ মে মাসে ৯ দশমিক ০৫ শতাংশে মূল্যস্ফীতি নেমে আসার তথ্য দেয় বিবিএস, যা ছিল ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর বা ২৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এবার তা আরও কমে আসার তথ্য দিল সরকার।
“জুন ২০২৫ মাসের উপাত্ত অনুযায়ী পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের তুলনায় ২ শতাংশ-বিন্দু (পয়েন্ট) কম। খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়ে ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও কমতে শুরু করেছে এবং আগামীতে তা খুব দ্রুত কমে আসবে।”
বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, দেশে খাদ্যে মূল্যস্ফীতিও কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্র্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ঠেকেছে ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে শহর ও গ্রামে খাদ্য কেনায় খরচ বেশ কমেছে। এ খাতে শহরে জুন মাসে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ; যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ। অন্যদিকে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি জুনে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশে, যা মে মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ।
গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি মে মাসের ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে সামান্য কমে জুনে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শহরে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি মে মাসের ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ থেকে কমে জুনে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৩ শতাংশে।
অবশ্য অন্তর্বর্তী সরকার উচ্চ মূল্যস্ফীতি উত্তরাধিকার সূত্রেই পেয়েছে। সরকার গত বছর আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণ করে তখন ১০ দশমিক ৪৯ আর খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৩৬। আশার কথা মাত্র ১১ মাসে মূল্যস্ফীতি কমে ৮-র ঘরে নেমে এসেছে। এ উচ্চ মূল্যস্ফীতি শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের দিকে। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের একের পর এক ভুল পলিসি ও পদক্ষেপের পরিণতিতে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়। আ’লীগ সরকার এতটাই রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা শুরু করে যে, দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনা বা পরিকল্পনা করেনি। বরং আওয়ামী লীগ সরকার সুদের হার বাড়াতে থাকে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়, সরকার বাংলাদেশ থেকে টাকা ছাপিয়ে ঋণ নিতে থাকে; অপরদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ ছিল না, বরং প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও মজুদদারদের দৌরাত্ম্য বাড়তে থাকায় মূল্যস্ফীতি হু-হু করে বাড়তে থাকে। আর আওয়ামী লীগ সরকার ছিল নির্বিকার যেন জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায় নেই।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান মূল্যস্ফীতি ও রাজনীতিকদের নিয়ে যে কথা বলেছিলেন, তারই প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের রাজনীতিকদের মধ্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিগান বলেছিলেন, ‘আমাদের দেশে মূল্যস্ফীতি হয়, কারণ রাজনীতিকেরা খুব আরামে থাকে।’ মূল্যস্ফীতিতে যখন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছিল, তখন আওয়ামী রাজনীতিকরা নাকে তেল দিয়ে আরামে ঘুমাচ্ছিল। তাদের সম্পদ হু-হু করে বাড়ছিল, তারা দেশে-বিদেশে গাড়ি বাড়ি তৈরি করছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মূল্যস্ফীতি কমেনি, বরং প্রতিনিয়তই বাড়ছিল। অথচ অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরের মধ্যেই মূল্যস্ফীতি কমেছে। সরকার যদি সৎ ও দেশপ্রেমিক হয়, তাহলে যে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব তা প্রমাণিত হলো।