নির্বাচনভীতি প্রীতিতে পরিণত করার পরই নির্বাচন
১৩ জুন ২০২৫ ০৭:৪২
॥ হারুন ইবনে শাহাদাত ॥
গণতন্ত্রের অন্যতম পূর্বশর্ত নির্ভয়ে বাধাহীনভাবে নিজের পছন্দের নেতা বাছাই করার সুযোগ। এ সুযোগ জনগণ লাভ করে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে। তার মানে এই নয় যে, নির্বাচন আর ভোটই গণতন্ত্র। নির্বাচনকে গণতন্ত্রে প্রবেশের দরজা হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এ দরজা অতিক্রম করার পরই শুরু হয় গণতন্ত্র চর্চা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকে নিয়ে নির্বাচন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের ইতিহাস সুখের নয়। কথিত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর যারা সরকার গঠন করেন তাদের আচরণ এবং ৩৬ বিপ্লবের পর একটি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং ফ্যাসিস্ট শক্তিকে সহযোগিতা করার চিত্র স্মরণে আসার পর ‘নির্বাচন’ শব্দটি শোনার সাথে সাথে সাধারণ জনগণ আতঙ্কিত হয় পড়ে। অথচ নির্বাচন হওয়ার কথা জাতীয় উৎসবের মতো একটি অনুষঙ্গ।
রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, সরকার, রাজনৈতিক দল, সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের দায়িত্ব জনমনের এ আতঙ্ক দূর করা। কোনো মিথ্যে আশ্বাস নয়, রাষ্ট্র, সরকার ও নির্বাচন ব্যবস্থার যথাযথ সংস্কারের মাধ্যমে এমন পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যাতে নির্বাচনের দরজা পার হয়ে সরকার গঠন করার পর কোনো রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি রাজা-মহারাজা, জমিদার হওয়ার সুযোগ না পায়। সত্যিকার জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়। সরকার পরিচালনাকারী দল ও ব্যক্তিরা ক্ষমতা লাভ করেছেন এমনটা মনে না করে যেন নিজেদেরকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী এবং জনগণের সেবক মনে করেন।
নির্বাচনের মাধ্যমে ওপরে উল্লেখিত শর্ত পূরণ হলেই জনগণের আতঙ্ক দূর হবে। তারপর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। এদেশের জনগণের নির্বাচন আতঙ্ক বা ভীতির কারণ পর্যবেক্ষকদের মতে, ১৯৭৩-এ আওয়ামী লীগের আমলে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচন। যা হেলিকপ্টারে ব্যালট ছিনতাইয়ের নির্বাচন নামে পরিচিত। এরপর ২০০৮ সালে আওয়ামীসেনা ব্যাক নির্বাচন এবং ২০১৪-এর একতরফা, ২০১৮ সালের রাতের ভোটের এবং ২০২৪ এর ডামি নির্বাচন। ভোটাধিকার নির্বাসনে পাঠানোর প্রতিটি নির্বাচন, নাটকের যবনিকা পতনে জনগণের ঘাড়ে চেপে বসেছিলো ফ্যাসিস্ট দুঃশাসনের কালো জাহেলিয়াত। নির্বাচন দরজার ওপারে তারা গণতন্ত্র নয় দেখেছে ফ্যাসিজম। অবশ্য এর ব্যতিক্রমও এদেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে, ১৯৯১ থেকে নিয়ে তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর সাবেক জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস), ভাষাসৈনিক ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ফ্যাসিস্ট হাসিনার নির্যাতনে কারাগারে শাহাদাত বরণ করা প্রবীণ নেতা অধ্যাপক গোলাম আযমের অনন্য উদ্ভাবন কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থার অধীনে ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১-এ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইতিহাসে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের অনন্য নজির হয়ে আছে।
২০০৮-এ আওয়ামীসেনা ব্যাক নির্বাচনে শেখ হাসিনা ক্ষমতা দখলের পর কেয়ারটেকার ব্যবস্থা বাতিল করে ফ্যাসিজম কায়েম করে। এরপর থেকেই জনগণ ভোটাধিকার বঞ্চিত হচ্ছে। জনগণের মনে বাসা বেঁধেছে নির্বাচন আতঙ্ক। আতঙ্ক দূর করার আগে নির্বাচনে জনগণের আগ্রহের ভাটা কাটবে না। কিন্তু উপায় কী? সংকট উত্তরণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও রাজনীতি বিশ্লেষকরা তাদের অভিজ্ঞতালব্ধ সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করেছেন। তার আলোকে সামনে এগিয়ে গেলে তবেই দেশে আবার নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক আবহ ফিরে আসবে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। গণতান্ত্রিক দুনিয়ায় মাথা উঁচু করে বাঁচতে হলে অবশ্যই তা করতে হবে। কারণ গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য জনগণের অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ নির্বাচনের কোনো উত্তম বিকল্প নেই।
‘ নির্বাচন’ আতঙ্ক দূর করার উপায়
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জনমনের আতঙ্ক দূর করতে জনগণের বক্তব্য ও সাথে সাথে রাজনৈতিক দলের অবস্থা ব্যাখ্যা করা জরুরি। জনগণ মনে করছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে আগের চেয়ে ভালো। যতটুকু অবনতি লক্ষণীয় তার নেপথ্যে রয়েছে, ফ্যাসিস্ট অপশক্তি এবং একটি রাজনৈতিক দলের আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবজি, দখলবাজি এবং বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা বিলি-বণ্টনের দ্বন্দ্ব। তারা সহযোগী ও বন্ধুপ্রতীম দলগুলোকে বঞ্চিত করতে পেশী-শক্তির দাপট দেখাচ্ছে। অন্যদলের সিনিয়র নেতাদের গায়ে হাত তুলছে এমনকি নিজ দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা করতেও তাদের হাত-বুক কাঁপছে না। বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, বিএনপির সন্ত্রাসী হামলায় ৩৬ জুলাই থেকে নিয়ে গত ১০ মাসে নিহত ১২৪ জন। নিহতদের তালিকায় বিএনপির নিজ দলের কর্মী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীও আছে। এমনকি জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিএনপি নামধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। অবশ্য বিএনপির দাবি ১২৪টি হত্যাকাণ্ডের খবরের মধ্যে অন্তত ২০টি খবর বিভ্রান্তিকর (মিসলিড)। ১৩টি সংবাদে তথ্যগত ভুল ছিল (হত্যাকাণ্ডগুলো রাজনৈতিক কারণে নয় বলে দাবি করা হয়েছে)। এছাড়া ৫৯টি ঘটনার খবর তথ্যগত ঠিক ছিল। সর্বশেষ গত ১১ জুন নারায়ণগঞ্জে জনতার হাতে আটক আওয়ামী লীগ নেতাতে ছাড়াতে ছাত্রদল নেতার গুলিতে নিহত হয়েছেন একজন। সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অবশ্য জনগণের অভিমত হলো, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, অস্ত্র উদ্ধার এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর আগে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব। নির্বাচন কমিশন নিয়েও কোনো কোনো দল প্রশ্ন তুলেছে। নির্বাচন প্রচলিত পদ্ধতিতে হবে নাকি সখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে হবে সেই বিতর্কও শেষ হয়নি। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, উল্লেখিত বিষয়গুলো সমাধান করে, জনগণের সামনে তা সুস্পষ্ট করতে হবে। তার আগে জনমনের আস্থার সঙ্কট কাটবে না।
৩৬ বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জনগণ যেনতেনভাবে নির্বাচন চায় না। ফ্যাসিস্ট দুঃশাসনে নির্যাতিতদের জন্য ন্যায়বিচার, নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার, জুলাই ঘোষণাপত্রের বাস্তবায়ন, সমতল মাঠ এবং সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত হলেই রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্বাচন সম্ভব। টানা তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জনগণ প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম, যারা প্রথমবার ভোটার হয়েছেন, তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এখন জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ‘দেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট অবসানের জন্য জাতীয় ঐকমত্য ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা অপরিহার্য। সংকট নিরসনই এখন জাতির প্রধান দাবি। সংকট নিরসনে প্রধান উপদেষ্টা সহযোগিতা চাইলে জামায়াতে ইসলামী তা বিবেচনা করবে।’
স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হলেও ঢাকার বাইরে মানুষের মতামতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রাধান্য পাচ্ছে। ঢাকার বাইরে মতবিনিময় করতে গিয়ে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন এ চিত্র পাচ্ছে। আমরা ঢাকার বাইরে গিয়ে যেসব মতামত পাচ্ছি, সেখানে মানুষের কাছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রাধান্য পাচ্ছে। তবে ঢাকায় রাজনীতিবিদদের মধ্যে এ বিষয়ে তেমন কিছু শোনা যাচ্ছে না। যেসব দল দ্রুত নির্বাচন চাইছে, সেসব দলের স্থানীয় নেতারা দুটি নির্বাচনের কথাই বলছেন। কেউ কেউ আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বলছেন। কেউ কেউ একই দিনে জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বলছেন।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, তৃণমূল পর্যায়ে দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের জন্য তেমন জোরালো কোনো দাবি কেউ করেননি এ কমিশনের কাছে। স্থানীয় পর্যায়ে মানুষ আগে স্থানীয় সরকার নির্বচানের পক্ষে জোরালো দাবি জানিয়েছে। তারা কমিশনের কাছে তাদের মতামত তুলে ধরে বলেছেন, তারা একটি শূন্যতার মধ্যে আছেন। সেবা পাচ্ছেন না। কার কাছে যাবেন, সেটা বুঝতে পারছেন না। তাই তারা এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়ে যাওয়া উচিত বলে মনে করছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের মধ্যেও এ মতামত আছে।
অবশ্য বিএনপি দ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচন চাচ্ছে। তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে জাতীয় নির্বাচনের পক্ষে অনড়। তাদের অবস্থান প্রসঙ্গে বিশ্লেষকদের অভিমত হলো, ‘৩৬ জুলাই বিপ্লবে সামনের সারিতে ভূমিকা পালন করা ছাত্ররা নতুন দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিএনপির মধ্যে আলোচনা হচ্ছে ছাত্রদের দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও সারা দেশে এখনো তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন হলে তাদের সাংগঠনিক প্রক্রিয়া খুব একটা ভিত্তি পাবে না। ফলে জাতীয় নির্বাচনে তাদের প্রার্থী থাকলেও প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় নির্বাচন হলে সারা দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে তারা প্রার্থী ঘোষণা করবে। স্বাভাবিকভাবেই তাদের একটি সাংগঠনিক ভিত্তি দাঁড়িয়ে যাবে।’
বিএনপি এখনই নির্বাচনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ চাইলেও, জাতীয় নাগরিক পাটি (এনসিপি) সেখানে এ মুহূর্তেই রোডম্যাপ দরকার মনে করছে না। বরং এনসিপি জোর দিচ্ছে, দলগুলোর মধ্যে আগে ঐক্য প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে একমত হওয়ার ওপর। তারা জাতীয় নির্বাচনের আগে ঐক্য ও সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার কথা বলেছে। তারা নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার, সরকার ও রাষ্ট্র সংস্কার এবং বিচার- এই তিনটি বিষয়ে রোডম্যাপ একসঙ্গে প্রকাশ করা উচিত বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছে। তারা মনে করে, নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়েই যখন ঐকমত্য হয়নি তখন নির্বাচনের দিনক্ষণ কীভাবে ঠিক হবে? এনসিপির দাবি, ইসলামী আন্দোলন, জামায়াত, গণঅধিকার পরিষদ এবং আমরা চাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে হোক।
প্রীতিতে পরিণত হবে নির্বাচনভীতি
রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, উল্লেখিত দাবিগুলোর প্রশ্নে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো এক জায়গায় আসতে পারেনি। যদি সংখ্যানুপাতিক ইস্যুতেই বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য দলগুলোর বিরোধিতা শুরু হয়, তখন সরকারের পক্ষে এটা মিনিমাইজ করা অনেক কঠিন হবে। এ প্রশ্নে ঐকমত্যের আগে সরকারের পক্ষ থেকে এখনই নির্বাচনের একটা দিন ঘোষণা করা মানে দেশকে নতুন আরেক সঙ্কটে ফেলা। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, জাতীয় নির্বচানের দিনক্ষণ ঘোষণার সাথে সাথে সংস্কার এবং ফ্যাসিস্টদের বিচার থেকে ফোকাস নির্বাচনের দিকে পড়বে। তখন রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থার সংস্কারের স্বপ্ন নিয়ে ৩৬ জুলাই যারা শহীদ হয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন, রক্ত দিয়েছেন, তাদের সেই স্বপ্ন মাঠে মারা যাবে, যা হবে চরম বিশ্বাসঘাতকতা। শহীদদের রক্তের সাথে এমন চরম বিশ্বাসঘাতকদের ইতিহাস কোনো দিন ক্ষমা করবে না। তাই দ্রুত যেনতেন নির্বাচন নয়। আঁটসাঁট বেঁধে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ একটি নির্বাচন তিনি জাতিকে উপহার দিবেন- এ অঙ্গীকারের কথা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বার বার জাতিকে স্মরণ করাচ্ছেন। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, তাঁর এ অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হলে বিগত দেড় দশক ধরে চলমান জাতির মনে চেপে বসা নির্বাচন আতঙ্ক দূর হবে। নির্বাচনভীতি কাটিয়ে নির্বাচনপ্রীতিতে জেগে ওঠবে এ জাতি।