ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণসহ জড়িতদের শাস্তির দাবি

সাইদুর রহমান রুমী
১৩ জুন ২০২৫ ০০:২৭

॥ সাইদুর রহমান রুমী॥
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে দেয়া ফাঁসির আদেশটি ছিল বিচারের নামে অবিচার। এ রায়ের মাধ্যমে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা বদলে দেয়া হয়েছিল যা বিশ্বব্যাপী নজিরবিহীন। সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণসহ ঐতিহাসিক এ রায়ের পর হতে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া। বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিচারবহির্ভূত এসব জুডিশিয়াল কিলিংয়ে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরনের দাবি জানান। পাশাপাশি পূর্ববর্তী রায়গুলোর পুনর্বিবেচনার জন্য রিভিউ বোর্ড গঠন করে, যাতে মৃত্যু পরবর্তীতে হলেও যাদের সাথে যে অন্যায় করা হয়েছে, অবিচার করা হয়েছে, তাদের পরিবার, তাদের দল ও মানুষগুলো যেন ন্যায়বিচার পেতে পারে।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ গত ২৭ মে এটিএম আজহারের মামলাটির পর্যবেক্ষণে জানান, আওয়ামী লীগের সময় দায়ের করা এটিএম আজহারের মামলাটিতে বাংলাদেশসহ এ ভারতীয় উপমহাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা বদলে দেওয়া হয়েছিল, এটা ছিল সবচেয়ে বড় ভুল। দ্বিতীয়ত, আদালতের সামনে উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ কোনো অ্যাসেসম্যান্ট ছাড়াই এটিএম আজহারুল ইসলামকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছিল। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি ছিল বিচারের নামে অবিচার। ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ রায়ে বলেছেন, যেসব তথ্য-প্রমাণ আদালতের সামনে হাজির করা হয়েছিল, অতীতের আপিল বিভাগ সেটা সঠিকভাবে বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই অনতিবিলম্বে এটিএম আজহারুল ইসলামকে মুক্তি দেয়া হোক।
আইনজ্ঞদের অভিমত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক ছাত্রদের সংগঠন বাংলাদেশ আইন সমিতির আহ্বায়ক ও আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ এডভোকেট মনির হোসেন সোনার বাংলাকে বলেন, আওয়ামী লীগ মূলত ভারতকে খুশি করতেই তাদের নির্দেশে এ কথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালটি করেছিল। যার মাধ্যমে বাংলাদেশে ভারতের স্বার্থ হাসিলে বাধা সৃষ্টিকারী বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলী, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, আবদুল কাদের মোল্লাদের সাজানো সাক্ষী সাবুদের মাধ্যমে দ্রুত ফাঁসি দেয়া হয়। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবকে দেয়া হয় আজীবন কারাদণ্ড। এটিএম আজহারুল ইসলামের রায়ের মাধ্যমে আবারো প্রমাণিত হলো আওয়ামী লীগের সময় দেয়া এসকল ফাঁসিগুলো ছিল পুরোপুরি সাজানো এবং জুডিশিয়াল কিলিং। ফ্যাসিস্ট হাসিনা তার আজ্ঞাবহ বিচার বিভাগের মাধ্যমে পছন্দমতো রায় দিয়ে যেনতেনভাবে ফাঁসি কার্যকর করেছে যা পুরো দুনিয়াতে ভয়ংকর নজিরবিহীন। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনির হোসেন বলেন, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে শেখ হাসিনা ভারতের ‘র’-এর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশে জনপ্রিয় মেধাবী মুসলিম নেতাদের একে একে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিতে ঝোলায়। যা এটিএম আজহারের আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। তিনি বলেন, ভারত ভালো করে জানে জামায়াতকে শায়েস্তা করতে পারলেই তারা বাংলাদেশে তাদের স্বার্থ হাসিল করতে পারবে। তাই হাসিনা পুরো বিচার বিভাগকে নিজের খেয়াল খুশিমতো ব্যবহার করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের আরেক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ মামুন এ বিষয়ে বলেন, এটিএম আজহারের ইতোপূর্বের বিচারের প্রক্রিয়ায় ফৌজদারি ও সাক্ষ্য আইনসহ মৌলিক অনেক আইনের ব্যত্যয় করা হয়েছে। যা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় একটি খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি করেছিল।
হাইকোট বিভাগের সিনিয়র আইনজীবী আশরাফ উজ জামান সোনার বাংলাকে বলেন, এটিএম আজহারুল ইসলামের বিষয়ে আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণসহ রায়টির মাধ্যমে প্রমাণিত হলো আওয়ামী লীগের আমলের ইতোপূর্বেকার রায়গুলো ছিল সম্পূর্ণ সাজানো প্রশ্নবিদ্ধ। এগুলো বিচার বলা যায় না। এগুলো ছিল প্রহসন। বিগত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ অন্যান্য বিভাগগুলোর মতোই বিচার বিভাগকেও তার আজ্ঞাবহ হিসেবে তৈরি করেছিল। সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ছিল সুদূর পরাহত। জামায়াত-বিএনপি নেতাদের ফাঁসি, জেল-জুলুম দেয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনা এদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল, হয়ে উঠেছিল ফ্যাসিস্ট। আমি আশা করব এটিএম আজহারের রায়ের পর অন্যান্য রায়গুলো নিয়ে একটা কিছু হবে যাতে অন্তত বোঝা যাবে তারাও নির্দোষ ছিলেন।
আইনজীবী শিশির মনির এটিএম আজহারের রায় প্রসঙ্গে বলেন, আপিল বিভাগের এ রায়ের মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা হয়ে থাকবে। এর মাধ্যমে আমরা মনে করি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সত্য বিজয়ী হয়েছে, মিথ্যা পরাভূত হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অতীতের অনেক রায় সম্পর্কে এ রায়ে অনেক পর্যবেক্ষণ থাকবে। আমরা মনে করি সরকারের উচিত হবে এ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর একটি রিভিউ বোর্ড গঠন করে অতীতের রায়গুলোকে পুনর্বিবেচনা করা, যেন মৃত্যু পরবর্তীতে হলেও যাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে, অবিচার করা হয়েছে, তাদের পরিবার, তাদের দল ও এদেশের মানুষ ন্যায়বিচার পেতে পারে।
আইনজীবী শিশির মনির আরো বলেন, ‘এই মামলার আগের রায়ে বাংলাদেশেসহ এ ভারতীয় উপমহাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা বদলে দেওয়া হয়েছিল, যেটা ছিল সবচেয়ে বড় ভুল। এছাড়া আদালতের সামনে উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ কোনো অ্যাসেসম্যান্ট ছাড়াই এটিএম আজহারুল ইসলামকে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছিল। যেটি ছিল বিচারের নামে অবিচার। আর যেসব তথ্য-প্রমাণ আদালতের সামনে হাজির করা হয়েছিল, অতীতের আপিল বিভাগ সেটা সঠিকভাবে বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়। রায় ঘোষণাকালে আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেনÑ প্রথমত, অতীতের রায়ে বাংলাদেশসহ এ ভারতীয় উপমহাদেশে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার পদ্ধতি পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছিল, এটা ছিল সবচেয়ে বড় ভুল। দ্বিতীয়ত, আদালতের সামনে উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করা ছাড়াই এটিএম আজহারুল ইসলামকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তৃতীয়ত, পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি ট্রাভেস্টি অব ট্রুথ অর্থাৎ বিচারের নামে অবিচার। চতুর্থত, যেসব তথ্য-প্রমাণ আদালতে হাজির করা হয়েছিল, অতীতের আপিল বিভাগ তা সঠিকভাবে বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে খালাস দিয়ে দেওয়া রায়ে আপিল বিভাগ বলেছে, দাখিলকৃত বস্তুগত প্রমাণ এবং আইনি যুক্তির পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন করে দেখা গেছে, তাকে দোষী সাব্যস্ত করা ছিল ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মৌলিক নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন। এতে ন্যায়বিচারের প্রতি চরম অবহেলা প্রদর্শিত হয়েছে। আইনজীবী শিশির মনির বলেন, আদালত তার রায়ে দুঃখের সঙ্গে স্বীকার করছে যে, পূর্ববর্তী রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের বৃহত্তর প্রেক্ষাপট এবং রাষ্ট্রপক্ষের মামলার অন্তর্নিহিত প্রমাণের দুর্বলতাগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। ফলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে এটিএম আজহারুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্তকরণ এবং তার সাজা বহাল রাখা আর সম্ভব নয়।
আইন বিশ্লেষকরা জানান, এই রায় দেশের উচ্চ আদালতের আত্মসমালোচনামূলক একটি নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি যুদ্ধাপরাধের নামে কথিত বিচারের বিচারিক মানদণ্ড, নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতার প্রশ্নে ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করছেন তারা।
বিশিষ্ট ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ এডভোকেট মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ হায়দার সোনার বাংলাকে বলেন, এটিএম আজহারসহ অন্যান্য নেতাদের বিচার প্রক্রিয়ায় মৌলিক মানবাধিকার ও ফৌজদারি কার্যবিধি পুরোপুরি লঙ্ঘন করা হয়েছে। যেভাবে সাক্ষী সাজানো হয়েছে এবং বিচারপতিদের বিরুদ্ধে স্কাইপিসহ বিভিন্নভাবে কেলেংকারির তথ্য মিডিয়ায় আসার পরও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়া, সাক্ষীকে আদালত চত্বর হতে অপহরণ করে প্রতিবেশী দেশ ভারতে নিয়ে যাওয়াÑ এসব কিছু প্রমাণ করে পুরো বিচার প্রক্রিয়ায় ভারতের প্রত্যক্ষ ইশারা ও ইন্ধন ছিল এবং এ বিচারগুলো পরিকল্পিত-সাজানো ছিল।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশে সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)’র সভাপতি শহীদুল ইসলাম সোনার বাংলাকে বলেন, এটিএম আজহারসহ পূর্বেকার জামায়াত-বিএনপি নেতৃবৃন্দের বিচার প্রক্রিয়াগুলো আসলে আন্তর্জাতিক বা দেশীয় কোনো পর্যায়েই পড়ে না। আওয়ামী লীগ মূলত বিরোধী দল-মতকে শায়েস্তা করতে পরিকল্পিতভাবে সম্পূর্ণ গায়ের জোরে এ রায়গুলো কার্যকর করেছে। যা কোনো বিচারিক মানদণ্ডেই পড়ে না। বর্তমানে ৫ আগস্ট পরবর্তী আপিল বিভাগ এটিএম আজহারুল ইসলামের ফাঁসির দণ্ড মওকুফ করে যে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে তা দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে নজিরবিহীন। আল্লাহর রহমতে এটিএম আজহার বেঁচে যাওয়ায় বিগত আওয়ামী লীগ সময়ের অবিচারগুলো বেরিয়ে এসেছে।
ডিইউজে সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, ইতোপূর্বে সাজানো রায়ে মীর কাশেম আলী, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুহাম্মদ মোজাহিদ, কামারুজ্জামানসহ যাদের অন্যায়ভাবে ফাঁসির দণ্ড দেয়া হয়েছিল তাদের রায়গুলোও যে একপেশে ছিল তার জন্য ব্যবস্থা করতে হবে। পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার পাশাপাশি উক্ত রায়গুলোও পরিকল্পিত ও সাজানো ছিল তা প্রমাণে যথাযথ আইনী উদ্যেগ নেয়া জরুরি।
শহীদ পরিবারগুলোর প্রতিক্রিয়া
এটিএম আজহারুল ইসলামের আপিল বিভাগের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় শহীদ কামারুজ্জামানের স্ত্রী নূরুন নাহার জামান জানান, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা তার হিংসা চরিতার্থ করতে জামায়াত নেতাদের একে একে ফাঁসি দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন জটিলতায় হয়ত এটিএম আজহারুল ইসলামের ফাঁসিটি সম্পন্ন করতে পারেনি। কোনো ধরনের আইন ও ন্যায়বিচারের তোয়াক্কা না করে হাসিনা এত বছর বাংলাদেশের মানুষের ঘাড়ে চেপে বসেছিল। আমার স্বামী শহীদ কামারুজ্জামানসহ অন্যান্য জামায়াত নেতাদের সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তড়িঘড়ি করে আন্তর্জাতিক আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে ফাঁসি দেয়া হয় যা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। এটিএম আজহার ভাইয়ের রায়ের মাধ্যমে আদালত স্বীকার করে নিল যে, এসব বিচারগুলো ছিল প্রকৃতপক্ষে বিচারের নামে সম্পূর্ণ প্রহসন এবং রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থ করা। সর্বশেষ জুলাই-আগস্টে ক্ষমতা ধরে রাখতে সাধারণ ছাত্র-জনতার উপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ প্রমাণ করে হাসিনা কতবড় ঠাণ্ডা মাথার খুনি ছিল। আমরা আশা করবো বর্তমান সরকার ইতোপূর্বে দেয়া অন্যায় রায়গুলোও এটিএম আজহারের রায়ের মতো অবিচার ছিল তার ব্যবস্থা করবে।
জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ যিনিও জুডিশিয়াল কিলিংয়ের শিকার ছিলেন। এ প্রসঙ্গে তার ছেলে আলী আহমাদ মাবরুর সোনার বাংলাকে বলেন, আসলে এটিএম আজহারুল ইসলাম সাহেবকে বেকসুর খালাস দেয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত হয়েছি কারণ তিনি আমার বাবার অত্যন্ত পছন্দের সহকর্মী। তাছাড়া আমরা এ ভেবে সন্তুষ্ট যে, অন্তত একজন মজলুম মানুষ ন্যায়বিচার পেয়েছেন। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের মন বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়েছে এ ভেবে যে, এরকম একটি রায় আমরাও আমাদের বাবার মামলায় আশা করেছিলাম। তখন যদি বিচার বিভাগ আজকের মতো নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের সুযোগ পেত এবং নির্বাহী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ মুক্ত হয়ে রায় দিতে পারতো তাহলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আমার বাবাও আজহার সাহেবের মতো একইভাবে নির্দোষ হয়ে বেকসুর খালাস পেতেন।
আমরা পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে আইনজীবীদের সাথে আলোচনা করবো। ঈদের ছুটির পরে তাদের সাথে এখনো আলাপ হয়নি। তবে আমি মিডিয়ার মাধ্যমে যেটুকু জেনেছি তা হলো, বাংলাদেশে আপিল বিভাগের রায়ের পরে নতুন করে আর কেইস ওপেন করার উদাহরণ নেই। সেক্ষেত্রে আমাদের আইনজীবীরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মতো একটি রিভিউ বোর্ড যেন আমাদের দেশেও চালু করা হয়। তাহলে ট্রাইব্যুনালের মামলায় যে অসঙ্গতিগুলো ছিল, কিংবা আজহার সাহেবকে যে গ্রাউন্ডগুলোতে খালাস দেয়া হয়েছে, ঠিক একই গ্রাউন্ড যদি আমার বাবার মামলাসহ পূর্ববর্তী মামলাগুলোতেও থেকে থাকে, তাহলে এটুকু যেন স্বীকার করা হয় যে, আমার বাবার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। আমরা আমার বাবাকে আর ফিরে পাবো না। কিন্তু রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যদি এ অন্যায়ের কথা স্বীকার করে নেওয়া হয় তাহলেও আমরা কিছুটা স্বস্তি পাবো।