অবরুদ্ধ দিল্লি


১০ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৩৮

বিক্ষোভ দমাতে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী দিল্লিকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে। শনিবার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

দিল্লি জুড়ে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি:ক্ষুব্ধ শশী থারুর

দিল্লিতে পুলিশের পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনীর ‘যুদ্ধকালীন মোতায়েনকে’ লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ও জাতিসংঘের সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক শশী থারুর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, রাত ২টার পর দিল্লিতে ফিরে এমন পরিস্থিতি খুব কমই দেখেছেন।
থারুর বলেন, ‘মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা পুরোপুরি কেড়ে নেয়া হয়েছে।’ তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে নাগরিকেরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে প্রশ্ন তুলতে না পারেন, সে জন্যই এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে আটক হওয়ার পর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন শীর্ষ নেতার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে দলটি।

নেতারা হলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের দুই নেতা সৌরভ দাশ ও আশুতোষ রাঙ্কা। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির বিমানবন্দরে প্লেনের ভেতর থেকেই তাদের আটক করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি বলেছে, প্লেনের ভেতর থেকে আটক করার পর থেকে এই তিন নেতার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়ারও সমালোচনা করেছেন তিনি।
তাঁর ভাষায়, এটি সবচেয়ে পশ্চাৎমুখী ও দমনমূলক পদক্ষেপগুলোর একটি। থারুর আরও বলেন, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন এড়াতে যে সরকার নিজের রাজধানীকেই দুর্গে পরিণত করে, তারা আসলে মানুষের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে।

তিনি বলেন, ‘ব্যারিকেড দিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা ফেরানো যাবে না। জনসাধারণের প্রশ্নের জবাব যত দ্রুত দেয়া হবে, পরিস্থিতি তত দ্রুত শান্ত হবে।’

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বামপন্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার থেকেই থমথমে দিল্লি। বিক্ষোভ দমাতে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী দিল্লিকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে। শনিবার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

‘আটকের পর থেকে খোঁজ নেই’

পোস্টে বলা হয়েছে, অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাশ ও আশুতোষ রাঙ্কাকে প্লেন অবতরণের পরপরই আটক করা হয়। এরপর থেকে তাদের অবস্থান সম্পর্কে আর কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

পোস্টের সঙ্গে প্রকাশিত একটি ছবিতেও তিন নেতার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, তাদের পরিবারের সদস্যদের আটকের বিষয়ে জানানো হয়নি।

তিন নেতাকে পৃথক স্থানে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে সিজেপি। তবে তাদের কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আইনজীবীর সঙ্গেও যোগাযোগ নেই

সিজেপি আরও জানিয়েছে, আটক তিন নেতার সঙ্গে বাইরের কারও যোগাযোগ নেই। তাদের আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছে দলটি।

তবে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা

ভারতেরপ্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি।

তবে দিল্লি পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি আন্দোলনে যোগ দিতে আসা কয়েকজনকে আটক করা হয়।

এরই মধ্যে সিজেপির তিন শীর্ষ নেতার অবস্থান নিয়ে দলের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

আন্তর্জাতিক দিল্লি

অবরুদ্ধ দিল্লি
১০ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৩৮

সম্পর্কিত খবর