হায়ফায় কাদিয়ানিদের বার্ষিক সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট ও ভারতীয় রাষ্ট্রদূত


২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:৪০

হায়ফায় কাদিয়ানিদের বার্ষিক সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট ও ভারতীয় রাষ্ট্রদূত

ইসরায়েলের হায়ফা শহরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অমুসলিম কাদিয়ানি (আহমদীয়া) সম্প্রদায়ের ২৯তম বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই সম্মেলনে গণহত্যাকারী ইসরায়েলেরপ্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ এবং ইসরায়েলে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জে পি সিং সরাসরি অংশ নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। বিশ্বে মুসলিম নিধনে শীর্ষে অবস্থানে থাকা ইসরায়েল ও ভারত কর্তৃক অমুসলিম কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে ‘মুসলিম সম্প্রদায়ের মডেল’ হিসেবে তুলে ধরে প্রশংসা করায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন ইসলামি বিশ্লেষক ও আলেম সমাজ। গত ১৭ সেপ্টেম্বর হায়ফায় অনুষ্ঠিত সম্মেলন বা ‘জলসা সালানা’য় ঐতিহাসিক মদিনার সনদের দোহায়  দিয়ে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে যৌথ নাগরিকত্ব, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সম্পর্ক, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ধর্মের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ কাদিয়ানিদের কথিত ‘সহাবস্থান ও সহনশীলতার প্রতীক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং গোষ্ঠীটিকে মুসলিম সম্প্রদায় হিসেবে তুলে ধরে মুসলিম-ইহুদি সংলাপে তাদের কথিত ভূমিকার প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জে পি সিং কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তাদের নীতিকে বিশ্ব দরবারে অনুসরণের আহ্বান জানান।

প্রেসিডেন্ট হারজোগের পাশাপাশি হায়ফার মেয়র ইয়োনা ইয়াহাভ, ইহুদি ধর্মীয় অনেক নেতা, শিক্ষাবিদ, নেসেটের (ইসরায়েলের পার্লামেন্ট) সদস্য, হায়ফার প্রাক্তন মেয়র এবং ভারতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জেপি সিং সহ কয়েকটি দেশের কূটনৈতিকরা অতিথি হিসেবে এতে যোগ দেন। সম্মেলনের পরের দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট লেখেন, “বিশ্বের আরও মানুষ যদি এই জমায়েত দেখতে পেত এবং ইসরায়েলি সমাজের এই সুন্দর রূপটি জানতে পারত!” তিনি সম্প্রদায়টির নেতা আমির মুহাম্মদ শরীফ ওদাহকে উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য ধন্যবাদ জানান। সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বলেন, “আহমদিয়া সম্প্রদায়ের হৃদয়ে ভারত এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।” তিনি আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মূল বাণী—”সবাইকে ভালোবাসো, কাউকেও ঘৃণা করো না”—উদ্ধৃত করে বলেন যে, এটি আমাদের সকলের সমষ্টিগত জীবনদর্শনের অংশ হওয়ার যোগ্য একটি নীতি। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বের প্রধান প্রধান ইসলামি সংস্থা এবং সর্বসম্মত আলেম সমাজ কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে তাদের মৌলিক আকীদাগত ভিন্নতার কারণে অমুসলিম হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর প্রেক্ষিতে সচেতন আলেম সমাজের মতে, ঐতিহাসিক মদিনা সনদের দোহাই দিয়ে নিজেদের আসল পরিচয় ঢেকে রাখার অপচেষ্টা চালালেও কাদিয়ানিদের ভয়ঙ্কর রূপ বরাবরই উম্মোচিত হয়েছে। ইসরায়েল ও ভারতের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় প্রমাণ করে এই সম্প্রদায়টি মূলত তাদেরই প্রক্সি গোষ্ঠী।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে যেখানে ইসরায়েল ও ভারতের মুসলিমবিরোধী নীতি ও নিপীড়ন নিয়ে সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিদ্যমান, সেখানে এই দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে ‘আদর্শ মুসলিম প্রতিনিধি’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশ্বমঞ্চে প্রকৃত মুসলিমদের কণ্ঠস্বরকে আড়াল করতে এবং সাধারণ মানুষের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই এই প্রক্সি গোষ্ঠীটিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে বিশ্বে মুসলিমদের অস্তিত্ব অস্বীকারকারী হিন্দুত্ববাদী ও জায়নবাদীরা।

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট ও ভারতীয় রাষ্ট্রদূত

সম্পর্কিত খবর