শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড


৫ নভেম্বর ২০২৬ ১৬:০০

॥ একেএম রফিকুন্নবী ॥
মহান আল্লাহ শেষ নবী মুহাম্মদ সা.কে নবুয়্যতের ১ম দিনেই প্রত্যাদেশ পাঠালেন ‘ইকরা’ পড়। মানব জাতির পিতা আদম আ. পৃথিবীর প্রথম শিক্ষক। আমাদের বর্তমান সমাজে প্রাতিষ্ঠানিক যেমন শিক্ষার প্রচলন আছে। আবার ঘরে বা অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবেও আমাদের দেশের মানুষ শিক্ষার সাথে পরিচিত।
বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কেউই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন না। ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করেও নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।
আমাদের এবারের এইচএসসির রেজাল্টে প্রায় ৫৮% ছাত্রছাত্রী কৃতকার্য হতে পারেনি। দেশের ১১টি বোর্ডে প্রায় ৬ লাখ ছাত্রছাত্রী কৃতকার্য হতে পেরেছে। ১৪৯টি প্রতিষ্ঠানে ১০০ ভাগ পাস করেছে আর ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানে কেউই পাস করতে পারেনি। বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। কেউই পাস করতে পারবে না— এটা বিশ্বাসযোগ্য? যে প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীরা সবাই ফেল করেছে, ঐ প্রতিষ্ঠানে তো শিক্ষক-শিক্ষিয়ত্রীদেরও ছেলেমেয়ে পড়ে। তারাও ফেল করল? আমাদের শিক্ষা বিভাগকে ভাবতে হবে তারা কীভাবে তাদের বিভাগগুলো পরিচালনা করছেন। রাজধানী থেকে উপজেলা পর্যন্ত শিক্ষা অধিদপ্তরের লোকজন এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেখাশুনা করেন। অডিট করেন বলে আমার জানা আছে। রাজধানী ও মফস্বলে আমি বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। সেখানে তো কোনো কোনো বিভাগে ১০০% পাস করেছে আবার ৮৫%-এর নিচে নয়।
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষক-শিক্ষিকা আছেন। ক্লাসে যাতায়াত করেন। সরকারি ভাতা ছাড়াও প্রতিষ্ঠান থেকেও ভাতা দেয়া হয় অনেক প্রতিষ্ঠানে। তাহলে বাড়ি থেকে গিয়ে স্কুল-কলেজে পড়ানো খুব একটা অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। আমাদের শিশু যুগে ১ মাইল দূরে ব্যাগ ছাড়া হাতে বই নিয়ে স্কুলে যেতাম সময়মতো। নাশতা অনেক সময় পকেটে নিয়ে যেতে হতো। আমাদের বন্ধু-বান্ধব তো লেখাপড়া ঠিকই করেছে। স্কুলবন্ধু হাইকোর্টের জজ হয়েছে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী, আমলা স্কুল-কলেজের শিক্ষক হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।
প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার সাথে যারা জড়িত তারা অভিভাবক ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকের সমন্বয়েই শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। অভিভাবকের কাছেই ছাত্র-ছাত্রীরা অধিক সময় অবস্থান করে। থাকা-খাওয়া, ঘরে পড়াশোনায় অনেক সময় থাকে। অভিভাবকদের ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার দিকে একটু নজর দিতে হবে। কমপক্ষে দেখতে হবে ছেলেমেয়েরা ঘরে বসে শুধু মোবাইল টিপছে নাকি পড়াশোনায় ব্যস্ত আছে। মাঝেমধ্যে পাশেই অভিভাবকরা পত্রিকা বা বই পড়তে পারেন। যাতে করে আপনার ছেলেমেয়েরা আপনার দেখাদেখি পড়াশোনায় মন দিতে পারে।
আমাদের শিক্ষার্থীরা এবার ইংরেজি ও আইসিটিতে খারাপ করেছে। ফাইনাল পরীক্ষার পূর্বে কিন্তু কয়েকটি পরীক্ষা হয়। তাতে যারা যে বিষয়ে দুর্বল, তাদের অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে প্রস্তুত করতে পারলে ফেল শব্দটি প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় নেবে। দীর্ঘ ৪০ বছর যাবত বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জড়িত থাকার কারণে ১০০% ফেল করার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। একদিকে অভিভাবকের আর্তনাদ, ছেলেমেয়েদের হতাশা আর শিক্ষকদের দুর্দশা সবই আমাদের জাতির জন্য হতাশার জন্ম দেবে।
আমরা হতাশায় কেউই ভুগতে চাই না। যা হয়ে গেছে, তা পেছনে ফেলে সামনে এগোতে হবে। এবারে যারা ১/২ বিষয়ে পাস করতে পারেনি, তাদের সহসা আবার পরীক্ষার সুযোগ দেয়া হবে। আমরা আশা করব অভিভাবক, শিক্ষক ও ছেলেমেয়েরা যত দ্রুত সম্ভব প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে এবং পাস করতে হবে। যাতে করে এই সেশনেই উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া যায় এবং আরো ভালো কীভাবে পড়াশোনা করা যায়, তার চেষ্টা করতে হবে।
খেলাধুলার সময় খেলাধুলা করতে হবে। খাওয়ার সময় খেতে হবে, আর পড়াশোনার সময় মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। এখানে কোনো ফাঁকফোকর রাখা যাবে না। মনে রাখতে হবে— পড়াশোনা কিন্তু ভাই-বোনদের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে না। তাই পড়াশোনা ভালো করলে নিজের লাভ, পরিবারের লাভ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লাভ, জাতির লাভ, সর্বোপরি দুনিয়ার লাভ, আখিরাতের লাভ। এ লাভ কোনোভাবেই হারানো যাবে না।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। দল-মত, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে পড়াশোনার সুযোগ থাকতে হবে। দলীয় প্রভাবমুক্ত শিক্ষকও সেভাবে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় ফেরাতে হবে। ইদানীং দলীয় লোকদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভিসি, প্রিন্সিপাল, হেড মাস্টার নিয়োগের ধারা চালু করার চেষ্টা চলছে। অবশ্যই শিক্ষক নিয়োগের সময় মেধাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ মেধা না থাকলে ছাত্র-ছাত্রীদের মেরুদণ্ড শক্ত করে দাঁড় করানো যাবে না। আমরা আমাদের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় নামিদামি শিক্ষক পেয়েছিলাম। যেমন ঢাকা কলেজে জালাল আহমদ, অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ, কাজী ফারুখ, মতিউর রহমান, অধ্যাপক নোমান স্যার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পেয়েছি অধ্যাপক দুর্গাদাস, অধ্যাপক আকিল আহমদ, ভিসি আ. হালিম চৌধুরী, তালুকদার মনিরুজ্জামানসহ আরো অনেক নামিদামি শিক্ষকবৃন্দ।
বর্তমানেও ভালো শিক্ষক প্রচুর রয়েছে এবং তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেই এখনো শিক্ষার মান ধরে রাখা যাচ্ছে। অতি দলবাজি শিক্ষককে পদে বসানো যাবে না।
শিক্ষার মূল বিষয় যেন নৈতিকতা ও মানবিকতার প্রভাব সর্বক্ষেত্রে থাকে। নৈতিক মান এবং মানবিকতার প্রভাব ছাড়া দুনিয়া ও আখিরাতের ফল পাওয়া যাবে না। গোটা দেশে ৯ বোর্ডে ভালো রেজাল্টের দিকে ঢাকা সবার ওপরে আর পাস না করার দিকে বরিশাল বিভাগ। এবারও তা’মীরুল মিল্লাত মাদরাসা পাসের দিকে ওপরে। মাদরাসা বোর্ডের শতকরা পাসের হারও অধিক। মোট ৬৩%-এর বেশি।
অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে— যারা পাস করতে পারেনি, তাদের প্রতি একটু বেশি নজর রাখতে হবে। কারণ অনেকে হতাশায় ভোগে আর আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়, যা খুবই ক্ষতিকারক। তাই অভিভাবকদের ছেলেমেয়েদের নজর রাখতে হবে— যাতে তারা হতাশায় না ভোগে। তাদের সাহস দিতে হবে— যাতে করে তারা আবার পরীক্ষা দেয়ার জন্য ভালো করে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারে। অনেকে ফেল করা ছাত্র-ছাত্রী ভবিষ্যতে ভালোও করে এর প্রমাণ আছে।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থা অবশ্যই আমাদের দেশ উপযোগী করতে হবে। কোনোভাবেই দলীয়ভাবে ব্যবহার করা যাবে না। গত ৫৫ বছরে আমরা যে শাসন পেয়েছি, তারা কেউই শিক্ষার গুরুত্ব দিয়ে সামনে এগোয়নি। ফলে মান্ধাতা আমলের শিক্ষাব্যবস্থাই জারি রয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু পাস করলেই হবে না। চাকরির খাত অনুযায়ী পড়ার মান তৈরি করতে হবে। শুধু পাস করে বসে থাকলে বেকার তৈরি ছাড়া কিছুই হবে না। অনেকে বিদেশে গিয়ে অড চাকরি করে কোনোমতে জীবনযাপন করার চেষ্টা। আমরা শিক্ষাকে কর্মমুখী করার পক্ষে। স্কুল জীবন থেকে কর্মমুখী শিক্ষা চালু করলে মান্ধাতা আমলের কেরানী তৈরির শিক্ষা আর থাকবে না। কৃষি, মেডিকেল, বিদ্যুৎ, গাড়ি মেরামত, এসি মেরামত থেকে শুরু করে জীবন চলার পথে যে সমস্ত কারিগরি সহযোগিতা লাগে সবই আমাদের শিক্ষার আওতায় আনতে হবে।
২৯৩ কলেজে কেউই পাস করেনি। এতে ছাত্র-ছাত্রী প্রায় ৬ লাখ। তাদের সমাজ থেকে ফেলে দেয়া যাবে না। তাদের আদর ও স্নেহ দিয়ে আবার দাঁড়াতে সাহায্য করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষক-অভিভাবকদের দায়িত্ব বেশি। অন্যদিকে নির্বাচিত এমপি-মন্ত্রীদেরও দায়িত্ব রয়েছে তার এলাকার অনোন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানে নজর দেয়া। মাসে একবার হলেও যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান থেকে একজনও পাস করেনি, তাদের দেখভাল করতে হবে এবং মনিটরিং করে শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহ দিতে হবে। খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে হবে— যাতে তারা মানসিকভাবে চাঙ্গা হয়। আমার সাথে সম্পর্কিত প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই ৫০%-৮৫% ছাত্র-ছাত্রী পাস করেছে এবার এইচএসসিতে। তাই আমরা যদি অভিভাকরা সন্তানের প্রতি দরদ নিয়ে দেখাশুনা করি আর শিক্ষকরা যদি ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার দিকে সঠিক যত্ন নেয়, তবে ছাত্র-ছাত্রীরা ফেল করার অপবাদ থেকে মুক্তি পাবে।
আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ঢেলে সাজাতে হবে। পূর্বের ধ্যান-ধারণা ফেলে দিয়ে উন্নত দেশগুলো থেকে অনলাইনে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে নতুনভাবে শিক্ষার কারিকুলাম বানাতে হবে। আমাদের নাতি-নাতনিরা যে সমস্ত আধুনিক প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে, তারা সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে অগ্রসর। একই প্রতিষ্ঠানে বাংলা, ইংরেজিও পড়ছে আবার আল-কুরআন ও হেফজ করছে এবং এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানে অভিভাবকরা অধিক মনোযোগী এবং ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাও বেশি। তাদের পড়াশোনা কিন্তু প্রতিষ্ঠানেই হয়ে যায়।
যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাস করেনি, সেই সমস্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার চিন্তা করা যাবে না। তাদের নিয়ে স্থানীয়ভাবে এবং শিক্ষা অধিদপ্তরের লোকেরা যারা উপজেলাকেন্দ্রিক আছে, তারা মনিটরিং বাড়িয়ে শিক্ষকদের মোটিভেশন করতে হবে। বেতন সরকারি ও বেসরকারি থেকেও হয়ে থাকে, তাই তাদের কাজ দিয়ে বুঝে নিতে হবে। অন্যদিকে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা খুবই কম। তাদের বেতন-ভাতা বাড়াতে হবে অন্যান্য চাকরির আদলে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, ৯ বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। তাদের সিলেবাস একই ছিল কিনা, তা পর্যালোচনার দাবি রাখে। ইংরেজি ও আইসিটি আমাদের সিলেবাসের বড় অংশ। ইংরেজি বিদেশি ভাষা হওয়ার কারণে এর গুরুত্ব দিয়ে পড়াতে হবে। একবার ছাত্র-ছাত্রীদের পড়া ধরিয়ে দিতে পারলে ইংরেজিতেও ভালো করবে, সন্দেহ নেই। আইসিটি টেকনিক্যাল বিষয়। একবার ছাত্র-ছাত্রীদের মনোযোগী করে তুলতে পারলে তারা ভালো করবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রশিক্ষকের আওতায় আনতে হবে। সবাইকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় ও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষকরাই কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীদের মূল গাইড। অতএব তাদের সাবজেক্ট অনুযায়ী বইয়ের সিলেবাস কভার করতে হবে। বারবার রিভিও করতে পারলে ছেলেমেয়েরা ভালো ফল করতে পারবে, কোনো সন্দেহ নেই। ছেলেদের চাইতে মেয়েরা ভালো করছে। কারণ ছেলেরা বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে আড্ডা পেটে, সিনেমা দেখে, টেলিফোন নিয়ে বসে সময় কাটায়। সে তুলনায় মেয়েরা বাসায় বসে লেখাপড়ায় মনোযোগ দিয়ে সময় কাটায়। আমাদের ছেলে ও মেয়েদের উভয়কে ভালো করতে হবে পড়াশোনায়— যাতে করে কর্মজীবনে তারা ভালো পারফরমেন্স করতে পারে।
আমরা আগেই বলেছি, ছাত্র-ছাত্রীদের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ দিয়ে হাতে-কলমে পড়াশোনা করাতে হবে। আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজ বেশি। কারণ একদিকে কারিকুলাম তাদেরই বানাতে হবে। আর শিক্ষকদের সুপারভাইজ করাও তাদেরই দায়িত্ব।
এক্ষেত্রে আমি বলব নির্বাচিত এমপিরা জনগণের প্রতিনিধি। তাই তাদের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে যে, তাদের আওতায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নাম্বার ওয়ান বানাতে হবে। শুধু দলীয় প্রোগ্রাম নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলাদা সময় দিয়ে প্রমাণ করতে হবে আপনার এলাকার শিক্ষার পরিবেশ ভালো। দলবাজি নয়, প্রকৃত শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে লক্ষ করছি জামায়াত-শিবিরের লোকেরা তাদের এলাকায় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুচারুরূপে চালাচ্ছে এবং ভালো ফল পাচ্ছে। আমার জানা মতে, তাদের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফেল করা প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত নয়।
তাই আসুন, আমাদের ৩৫০ জন পুরুষ-মহিলা এমপি তাদের এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিযোগিতামূলকভাবে ভালো প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নিন। যেহেতু এমপি, তাই সরকারি সব বিভাগই তাদের সহযোগিতা করবে। আমাদের মেরুদণ্ড ঠিক করতে পারলে দেশও ভালো হতে বাধ্য। কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। ইচ্ছা করলেই প্রতিটি সংসদীয় এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমরা এক নম্বরে আনতে পারব।
লেখক : সাবেক সিনেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ই-মেইল : rnabi1954@gmail.com