গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত


৫ নভেম্বর ২০২৬ ১৫:৫০

॥ হারুন ইবনে শাহাদাত ॥
‘অজদেব সঅল বিহাণি ভইলা।/ভুসুকু অপণা পআঁ মইলা।’— আধুনিক বাংলা চর্যাপদের এ পদটি হলো, ‘আজ দিনটি সফলভাবে ভোর হলো, অথচ ভুসুকু নিজের দোষেই নিজে মরে রইলো। চর্যাপদের কবি ভুসুকুর এ পদটি শুধু ব্যক্তি নয়, দেশের নেতৃত্বের ব্যর্থতা প্রসঙ্গেও সমান প্রযোজ্য বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।
বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় চলে গেছে। নিজেদের দোষে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না। প্রায় ছয় দশকেও একটি গভীর সমুদ্রবন্দর এ জাতিকে উপহার দিতে পারেনি, ব্যর্থ রাজনৈতিক ও আমলা নেতৃত্ব। অথচ নিজেদের সুযোগ-সুবিধা ঠিকই বাড়িয়েছে জনগণের রক্তচোষা অর্থে।
সেই ব্রিটিশ আমলে ১৯২৬ সালে চট্টগ্রামকে ‘মেজর পোর্ট’ বা প্রধান বন্দর ঘোষণা করা হয়েছে। পাকিস্তান আমলে ১৯৬০ সালের জুলাই মাসে ‘চট্টগ্রাম পোর্ট কমিশনার’-কে পুনর্গঠন করে ‘চট্টগ্রাম পোর্ট ট্রাস্ট’ গঠন করা হয়। কিন্তু সেই কাজ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বেশি এগিয়ে নিতে পারেনি তৎকালীন সরকার। এরপর গত ৫৫ বছরেও স্বাধীন বাংলাদেশের নীল সাম্রাজ্য বঙ্গোপসাগরে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ হয়নি। ফলে প্রধান বন্দর চট্টগ্রাম এবং দ্বিতীয় বন্দর মোংলার গভীরতা কম হওয়ায় (১০ মিটারের কম) বড় ‘মাদার ভেসেল’ বা বড় মালবাহী জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারে না। সিঙ্গাপুর, কলম্বো, মালয়েশিয়া ট্রানজিট বন্দরের ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ। এ পরনির্ভরতা কাটিয়ে দেশ প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। প্রথমে সোনাদিয়ায় এ বন্দর হওয়ার কথা থাকলেও সেই প্রকল্প বাদ দিয়ে এখন বেছে নেওয়া হয়েছে মাতারবাড়ী।
দক্ষিণ এশিয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক এ পরিকাঠামো উন্নয়ন একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গত ২৬ অক্টোবর থেকে চার দিনের জাপান সফরের পর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন এবং এতে জাপানের সম্পৃক্ততা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মহলে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কেন এ বিতর্ক
বঙ্গোপসাগর শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (Bay of Bengal Industrial Growth Belt) সংক্ষেপে যা ‘বিআইজি-বি’ (BIG-B) প্রকল্প নামে পরিচিত। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর কেবল একটি বাণিজ্যিক পরিকাঠামো হবে না; এর মাধ্যমে গড়ে উঠবে দক্ষিণ এশিয়ার সংযোগ কেন্দ্র (Connectivity Hub)। এটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলোর অর্থনৈতিক বিকাশে বিরাট প্রভাব ফেলবে। এ দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই গত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, সাগরের এ শক্তি ব্যবহার করে আমরা ভারতের সেভেন সিস্টার্স শুধু নয়, গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আঞ্চলিক অভিভাবকের ভূমিকা পালন করব। ভারত তার এ বক্তব্যে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায়। কিন্তু এর কারণ কী? বিশ্লেষকরা মনে করেন, তিনি সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং চীনের সহযোগিতায় করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি অবশ্য চীন, আমেরিকা, জাপান কারো নাম উল্লেখ করেননি। তারপরও ভারতের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার কারণ ‘আঞ্চলিক অভিভাবক’ হবে বাংলাদেশ— এমন কথা মেনে নিতে পারেনি বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। কিন্তু বাস্তবতা ভারতকে মানতেই হবে। কারণ ভারতের সাত রাজ্যের সাথে সংযোগ স্থাপনে বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করলে অভিভাবকত্ব না দিয়ে তারা বিনা মাশুলে ‘মাফিয়াদের’ মতো শক্তির জোরে সুবিধা নিতে পারবে না। বাংলাদেশের জনগণ কোনো সরকারকে এমন দেশবিরোধী চুক্তি করতে দেবে না। প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর এ প্রসঙ্গে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
কিন্তু তারপরও চীনকে বাদ দিয়ে জাপানের সহযোগিতায় মাতারবাড়ীতে সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলায় ভারতের বিনাশুল্কে বা স্বল্পমূল্যে ট্রানজিট সুবিধা লাভ এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে চীনা অর্থায়নে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পক্ষে যুক্তি দেওয়া বিশ্লেষকদের মতে, চীনের প্রকল্প গ্রহণ না করায় বাংলাদেশ বৃহৎ শক্তির মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষার সুযোগ হারাচ্ছে। আবার বিপরীত স্রোতে থাকা আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিশ্লেষকরা মনে করেন, চীনের অর্থায়নে সোনাদিয়া প্রকল্প এগোলে বাংলাদেশ চীনা ‘ঋণের ফাঁদে’ (Debt Trap) পড়বে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর চরম ভূরাজনৈতিক রোষের মুখে পড়ার ঝুঁকি বিষয়টিকে তারা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন।
সোনাদিয়া বনাম মাতারবাড়ী
সোনাদিয়া বনাম মাতারবাড়ী বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শুরুতে কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপে বন্দর নির্মাণের প্রস্তাব অত্যন্ত প্রাগ্রসর ছিল।
২০০৯-২০১০ সালে চীন সরকারের উদ্যোগে ‘চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি’ সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরির প্রস্তাব দেয়। চীনের এই প্রস্তাবের পেছনে কাজ করছিল বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI) এবং ভারত মহাসাগরে তাদের ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ (String of Pearls) কৌশল। বঙ্গোপসাগরে ভারতের পূর্ব নৌঘাঁটি (বিশাখাপত্তনম) ও কলকাতার নিকটবর্তী সোনাদিয়ায় চীনা উপস্থিতি ভারত ও মার্কিন নিরাপত্তার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাদের সাথে বিরোধ এড়াতে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশ সরকার পরবর্তীতে সোনাদিয়া প্রকল্প স্থগিত ও বাতিল করে।
সোনাদিয়ার বিকল্প হিসেবে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (JICA) অর্থায়নে ১৮.৫ মিটার গভীরতার একটি গভীর সমুদ্রবন্দর ও শিল্প বেল্ট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। মাতারবাড়ী নিয়ে প্রধান তিন ধারার বিতর্ক তুলে ধরেছেন বিশ্লেষকরা— ১. মাতারবাড়ী বন্দর ব্যবহার করে ভারতে পণ্য সরবরাহ এবং আঞ্চলিক ট্রানজিট চাইবে বিনাশুল্কে। ভূরাজনীতিবিদ এবং গবেষক অধ্যাপক ড. সাহাব এনাম খান মনে করেন, জাপানের মূল কৌশল হলো বঙ্গোপসাগর থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল (Northeast India) এবং বাংলাদেশকে একটি একক শিল্প মূল্য শৃঙ্খলে (Industrial Value Chain) যুক্ত করা। ভারত এই বন্দরের মাধ্যমে তাদের শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’-এর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে।
অনেক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, যদি ভারত মাতারবাড়ী বন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে ন্যায্য মাশুল বা ট্রানজিট ফি না দেয় এবং সরাসরি চট্টগ্রাম-আগরতলা অবকাঠামো ব্যবহার করে বিনাশুল্কে পণ্য পরিবহন করে, তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়বে এবং প্রত্যাশিত রাজস্ব আয় অর্জিত হবে না। এটি বাংলাদেশকে শুধুই একটি ‘করিডোর রাষ্ট্রে’ পরিণত করতে পারে।
২. চীনা অর্থায়নে ঋণের ফাঁদ’ এবং মার্কিন রোষের আশঙ্কা সোনাদিয়ায় চীনা প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ার পক্ষে যুক্তি দেওয়া অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা ভিন্ন দৃষ্টিকোণ তুলে ধরেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষক ও লেখক মাইকেল কুগেলম্যান এবং অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, চীন শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা কিংবা পাকিস্তানের গোওয়াদারে যেভাবে ঋণ প্রদান এবং পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, সোনাদিয়ায় চীনা মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব একই রকম ঝুঁকির মুখে পড়তে পড়ার আশঙ্কা আছে।
বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত জলসীমায় চীনা সামরিক ও সামুদ্রিক উপস্থিতি প্রতিহত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোয়াড (Quad) কাঠামোর মাধ্যমে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সোনাদিয়ায় চীনকে বন্দর করতে দিলে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার (যেমন পোশাক খাতে সুবিধা হ্রাস বা জিএসপি সংক্রান্ত বিষয়) ঝুঁকিতে পড়তে পারত বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক সি ডব্লিউ কেয়ার্নি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
৩. সোনাদিয়ার পক্ষের বিশ্লেষকরা মনে করেন, চীনের উচ্চ নির্মাণ সক্ষমতা এবং দ্রুত অর্থায়ন বাংলাদেশকে কম সময়ে গভীর সমুদ্রবন্দরের সুবিধা দিতে পারত।
আন্তর্জাতিক নীতি বিশ্লেষক ড. মারুফ মল্লিকের মতে, সব সুবিধা এক দেশের (জাপান-ভারত অক্ষ) হাতে তুলে না দিয়ে চীনের সাথে সোনাদিয়া বন্দর এগিয়ে নিলে বাংলাদেশ একাধিক বৃহৎ শক্তির ওপর ভারসাম্য বজায় রাখতে পারত। চীনের উচ্চ নির্মাণ সক্ষমতা এবং দ্রুত অর্থায়ন বাংলাদেশকে কম সময়ে গভীর সমুদ্রবন্দরের সুবিধা দিতে পারত।
সরকারের বক্তব্য
জাপান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, ‘জাপানের সহায়তা ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে আমাদের অবস্থান শক্তিশালী করতেই ব্যবহৃত হচ্ছে।’ টোকিওতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করেন যে, মাতারবাড়ী বন্দর জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে জাতীয় নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে এবং এটি সর্বজনীন আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বা ভারতকে কোনো ‘বিনাশুল্ক ট্রানজিট সুবিধা’ প্রদান-সংক্রান্ত গুঞ্জন খণ্ডন করে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, সফরকালে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা ট্রানজিট করিডোর নিয়ে চুক্তি হয়নি। বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কিত যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে, তাতে দেশের রাজস্ব আদায় ও আঞ্চলিক কানেক্টিভিটির পারস্পরিক সুবিধা (Reciprocal Benefit) নিশ্চিত করা হবে।
বিরোধীদলের বক্তব্য
১১ দলীয় জোটের শীর্ষনেতা জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে কোনো উদ্যোগ বা সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই। দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব সবার আগে— তা চীন, জাপান বা অন্য যেকোনো রাষ্ট্রের সঙ্গেই সম্পর্ক হোক না কেন।’
১১ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষনেতা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকার জাপান সফরকে ব্যবহার করে ব্যাকডোর দিয়ে ভারতে পণ্য পরিবহনের করিডোর সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, যা দেশের সড়ক ও বন্দর অবকাঠামোকে ঝুঁকিতে ফেলবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার উদ্যাগ নিতে হবে। দেশের সীমানা কত বড় বা ছ্টো এটি কোনো বিষয় নয়। সিঙ্গাপুর কত ছোট দেশ, কিন্তু তারা তাদের গভীর সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে এশিয়ার রাজনীতি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ কেন পারবে না? তবে এক্ষেত্রে প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে সতর্ক। যেন চীন ও আমেরিকার মতো শক্তির দ্বন্দ্বের মাঝে বাংলাদেশ যেন কোনো একক অক্ষের (ভারত-জাপান-মার্কিন) ভূরাজনৈতিক শিকার না হয়, সেই বিষয়টি সবসময় মাথায় রাখতে হবে।