ক্ষমতার স্থিতির চ্যালেঞ্জে সরকার
৫ নভেম্বর ২০২৬ ১৫:৩৫
॥ ফারাহ মাসুম ॥
বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমান সরকারের সাফল্য নির্ভর করবে শুধু নির্বাচনী ম্যান্ডেটকে প্রশাসনিক ক্ষমতায় রূপান্তর করার ওপর নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়া, রাজনৈতিক বিরোধীদের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণ এবং ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মতো শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বঙ্গোপসাগর, আঞ্চলিক বাণিজ্যপথ, গভীর সমুদ্রবন্দর, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল— সবকিছু মিলিয়ে ঢাকার প্রতিটি বড় সিদ্ধান্ত এখন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক হিসাব-নিকাশেরও অংশ।
তারেক রহমান সরকারের সামনে তাই দ্বিমুখী পরীক্ষা : দেশের ভেতরে রাজনৈতিক বৈধতা ও কার্যকর শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাইরে জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো। একদিকে সংস্কার ও জবাবদিহির প্রত্যাশা; অন্যদিকে কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাত এবং বিনিয়োগের চাপ। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের পুনর্বিন্যাস, চীনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও নিরাপত্তাগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষার প্রশ্ন।
এই পরিস্থিতিতে সরকারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কোনো একটি বিচ্ছিন্ন সংকট নয়; বরং একাধিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ একই সময়ে তীব্র হয়ে ওঠা। আর সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো— বাংলাদেশকে এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, যার সঙ্গে সব পক্ষ কাজ করতে চাইবে, কিন্তু যার নীতি কোনো একক শক্তির পছন্দের ওপর নির্ভরশীল হবে না।
১. নির্বাচনী সংখ্যাগরিষ্ঠতা বনাম রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির পরীক্ষা
তারেক রহমানের সরকার ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির বড় বিজয়ের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসে। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রায় দুই দশক বিরতিতে বিএনপি আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়। নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসন অর্জন করে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট জাতীয় সংসদে একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করে; জাতীয় নাগরিক পার্টিও সংসদে প্রতিনিধিত্ব পায়। তবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ থাকায় রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটি পুরোপুরি মীমাংসিত হয়নি।
সরকারের জন্য প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে রাজনৈতিক আধিপত্যের পরিবর্তে কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনে রূপ দেওয়া। নির্বাচনী বিজয় সরকারকে আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণের ক্ষমতা দিয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের দায়িত্বও বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন ও বিরোধীপক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস, প্রশাসনের দলীয়করণ, মামলা-গ্রেফতার নিয়ে বিতর্ক এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। নতুন সরকার এসব প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা দ্রুত হতাশায় পরিণত হতে পারে।
বিরোধীদলকে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া, সংসদীয় কমিটিগুলোকে কার্যকর করা, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং বিরোধী মতের প্রতি সহনশীলতা দেখানো তাই সরকারের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের সামনে কঠিন প্রশ্নটি হলো— রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কীভাবে আইনের শাসনের অধীনে আনা যায়। প্রতিশোধের রাজনীতি অব্যাহত থাকলে ক্ষমতার পালাবদল ঘটবে, কিন্তু রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটবে না।
২. জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও সংস্কারের বাস্তবতা
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করে। এর পেছনে ছিল কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, বৈষম্য, কর্মসংস্থানের সংকট এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা। সেই অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। তারেক রহমান সরকারের জন্য এখন প্রশ্ন হচ্ছে— এসব সংস্কারের কোনগুলো স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে এবং কোনগুলো রাজনৈতিক দরকষাকষির কারণে থেমে যাবে।
বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ, জনপ্রশাসন এবং আর্থিক খাতের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এসব ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যকর হলে তা শুধু বর্তমান সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে না; ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর জন্যও ক্ষমতার অপব্যবহার কঠিন করে তুলবে। কিন্তু সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপির রাজনৈতিক স্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ওপর সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চাইলে সংস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতা দুর্বল হবে।
এখানে সংসদের বিরোধীদল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, পেশাজীবী সংগঠন এবং তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা যেমন গঠনমূলক রাজনীতির লক্ষণ নয়, তেমনি সরকারের সব সিদ্ধান্তকে সংস্কারের নামে সমর্থন করাও গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন এমন একটি সংস্কারব্যবস্থা, যেখানে সরকার পরিবর্তিত হলেও নির্বাচন, বিচার, প্রশাসন ও আর্থিক খাতের মৌলিক নীতিগুলো ব্যক্তিনির্ভর হয়ে পড়বে না।
৩. অর্থনীতি : রাজনৈতিক স্থিতির সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয়, কিন্তু একে একা যথেষ্ট বলা যায় না। তারেক রহমান সরকার এমন একটি অর্থনীতি পেয়েছে, যেখানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, সীমিত রাজস্ব আহরণ, জ্বালানি অনিশ্চয়তা এবং বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা পরস্পরকে প্রভাবিত করছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ১৬ জুলাই ২০২৬-এর মূল্যায়নে আর্থিক খাতের চাপ, মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব সংক্রান্ত দুর্বলতার কথা বলা হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, সিদ্ধান্তমূলক সংস্কার না হলে ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এটি একটি পূর্বাভাস, নিশ্চিত ফল নয়; তবে অর্থনীতির ঝুঁকির মাত্রা বোঝার জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সরকারের সামনে তিনটি তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার রয়েছে।
প্রথমত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা। খাদ্য, পরিবহন, বাসস্থান ও বিদ্যুতের ব্যয় বাড়তে থাকলে রাজনৈতিক স্থিতি থাকা সত্ত্বেও সরকারের প্রতি অসন্তোষ বাড়তে পারে।
দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা। তরুণদের জন্য মানসম্মত চাকরি সৃষ্টি, কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন, রপ্তানির বহুমুখীকরণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের অর্থায়ন সহজ করা জরুরি। কেবল সরকারি প্রকল্প বা অবকাঠামোগত ব্যয় দিয়ে কর্মসংস্থানের দীর্ঘমেয়াদি সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়।
তৃতীয়ত, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। খেলাপি ঋণ, অনিয়মিত ঋণ বিতরণ, প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতাদের দায়মুক্তির সংস্কৃতি এবং ব্যাংক পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে।
গত ১ নভেম্বর রোববার প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় বিলম্ব এবং আর্থিক খাতে দ্বৈত নিয়ন্ত্রণের সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি— দুটিই জরুরি।
সরকারের রাজনৈতিকভাবে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি হবে— অর্থনৈতিক সংস্কারের খরচ কে বহন করবে। ভর্তুকি কমানো, করের আওতা বাড়ানো, ব্যাংক পুনর্গঠন এবং লোকসানি প্রতিষ্ঠানের সংস্কার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু এসব পদক্ষেপের খরচ যদি নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর বেশি পড়ে, তাহলে সংস্কারের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হবে।
অতএব অর্থনৈতিক সংস্কারকে সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। শুধু সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক উন্নত করা নয়, সেই উন্নতির সুফল মানুষের জীবনে পৌঁছানোই হবে সরকারের প্রকৃত সাফল্যের মানদণ্ড।
৪. ভারত : প্রতিবেশীনির্ভরতা ও সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ভারসাম্য
তারেক রহমান সরকারের সবচেয়ে সংবেদনশীল কৌশলগত চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন। ভৌগোলিক অবস্থান, বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, নদীর পানি এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের কারণে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে সম্পর্ক রাখতে হবে।
শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও তাকে প্রত্যর্পণের প্রশ্ন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে আছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই বিরোধ উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগকে জটিল করেছে; তবে পানি, জ্বালানি ও বাণিজ্যের মতো ক্ষেত্রে পারস্পরিক নির্ভরতা দুই দেশকে আলোচনায় ফিরতে বাধ্য করছে।
বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো— ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কী অতীতের মতো একমুখী রাজনৈতিক সমীকরণে পরিচালিত হবে, নাকি তা পারস্পরিক স্বার্থ ও সমতার ভিত্তিতে নতুনভাবে বিন্যস্ত হবে? এক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান হওয়া উচিত সমমর্যাদার ভিত্তিতে। প্রত্যর্পণ, সীমান্তে প্রাণহানি, বাণিজ্যিক বাধা এবং পানিবণ্টনের মতো বিষয়গুলোয় দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান প্রয়োজন।
গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো কার্যকর সমঝোতা না হলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অবিশ্বাস আরও বাড়তে পারে। একইসঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, তিস্তার পানি এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনার সুযোগও রয়েছে।
অন্যদিকে ভারতকেও বুঝতে হবে— বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তিত হয়েছে। ঢাকার জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্যতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা টেকসই হবে না।
৫. চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান : ভারসাম্য নাকি নতুন নির্ভরতা?
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে বহুমুখী করার প্রবণতা বাড়িয়েছে। তবে এই বহুমুখীকরণকে এক দেশ থেকে সরে অন্য দেশের বলয়ে প্রবেশ হিসেবে দেখলে কৌশলগত বাস্তবতা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হবে।
২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তারেক রহমান সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি মূলত আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বাড়িয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা বাড়ানোর চেষ্টা। চীন, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণ সেই প্রচেষ্টার অংশ। কিন্তু নতুন অংশীদারত্ব যদি অতিরিক্ত বাধ্যবাধকতা তৈরি করে, তাহলে বৈচিত্র্যকরণের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হতে পারে।
চীনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রয়োজন অবকাঠামো, শিল্পায়ন, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগ। চীন বাংলাদেশের বড় অর্থনৈতিক অংশীদার এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু অবকাঠামো বা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে— যাতে ঋণঝুঁকি, প্রযুক্তিগত নির্ভরতা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাগত দায় বাংলাদেশের নীতিগত স্বাধীনতা সীমিত না করে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রপ্তানি, তৈরি পোশাকশিল্প, বিনিয়োগ, শ্রম অধিকার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার অর্থ শুধু বাণিজ্যিক সুবিধা অর্জন নয়; বরং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোও।
জাপানের ভূমিকা আরও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে তারেক রহমানের জাপান সফর এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট বা বিগ-বি উদ্যোগ সম্প্রসারণের আলোচনা আঞ্চলিক শিল্প ও যোগাযোগব্যবস্থার নতুন সম্ভাবনা সামনে এনেছে। এ উদ্যোগে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত করার সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। এখানেই বাংলাদেশের কৌশলগত সিদ্ধান্তের গুরুত্ব।
গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্পাঞ্চল, রেল ও সড়ক যোগাযোগ এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পারে। একইসঙ্গে এগুলো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার অংশও হয়ে উঠতে পারে। চীন এসব প্রকল্পে নিজের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান দেখতে পারে। ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যোগাযোগ ও নিরাপত্তার সুবিধা খুঁজবে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিষয়টি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাণিজ্যপথ, সরবরাহব্যবস্থা ও কৌশলগত ভারসাম্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। জাপান দেখবে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতির সুযোগ।
তবে এসব দেশের প্রত্যেকের উদ্দেশ্য একই নয় এবং তাদের প্রতিটি পদক্ষেপকে সামরিক প্রতিযোগিতার প্রমাণ হিসেবে ব্যাখ্যা করাও ঠিক হবে না। বাংলাদেশের জন্য সঠিক নীতি হলো— প্রতিটি প্রকল্পের অর্থনৈতিক লাভ, পরিবেশগত প্রভাব, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং নিরাপত্তাগত পরিণতি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা। কোনো দেশের আপত্তির কারণে লাভজনক প্রকল্প বাতিল করা যেমন উচিত নয়, তেমনি কোনো শক্তির কৌশলগত পছন্দ পূরণের জন্য জাতীয় স্বার্থবিরোধী দায় গ্রহণও গ্রহণযোগ্য নয়।
অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা ও নিরাপত্তাগত ঝুঁকি একই কাঠামোয় মূল্যায়ন করতে হবে।
তারেক রহমান সরকারের সামনে সুযোগ হলো— বাংলাদেশকে এমন একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে ভারত, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো পারস্পরিক স্বার্থে যুক্ত হতে পারে।
৭. জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্পায়নের বাধা
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ জ্বালানি সরবরাহের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। গ্যাসের ঘাটতি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়, আমদানিনির্ভর জ্বালানি এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ শিল্প উৎপাদন ও বিনিয়োগের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। এখানে সরকারের সামনে দ্বৈত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে; অন্যদিকে ভর্তুকি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ কমাতে হবে।
শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বিদ্যুৎ সঞ্চালন, বিতরণ, জ্বালানি মিশ্রণ, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং শিল্পে জ্বালানির দক্ষ ব্যবহারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জাপান ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে শিল্পায়ন ও অবকাঠামো সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নিশ্চিত করতে হবে— প্রকল্পগুলো বাস্তব উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াচ্ছে কি না। একইভাবে চীনের সঙ্গে সহযোগিতায় প্রযুক্তি হস্তান্তর ও স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
জ্বালানি খাতের সংস্কার ব্যর্থ হলে তার প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ বিলের মধ্যে সীমিত থাকবে না; তৈরি পোশাক, ক্ষুদ্রশিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
৮. নিরাপত্তা, সামাজিক সংহতি ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা
সরকারের আরেকটি বড় পরীক্ষা হলো— আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক সংঘর্ষ, জনতার হাতে বিচার তুলে নেওয়ার প্রবণতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রাষ্ট্রের কার্যকর সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
২০২৬ সালের মার্চে সিঙ্গাপুরের এস. রাজরত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষণে নতুন সরকারের সামনে নিরাপত্তা, উগ্রবাদ মোকাবিলা, অর্থনীতি এবং বৈদেশিক নীতির চ্যালেঞ্জগুলোকে পরস্পরসম্পর্কিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
এক্ষেত্রে সরকারকে দুটি বিপরীত ঝুঁকি এড়াতে হবে। প্রথমত, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগ করলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নষ্ট হবে। দ্বিতীয়ত, সহিংসতা মোকাবিলায় অকার্যকরতা দেখালে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার সংস্কার, গোয়েন্দা সংস্থার জবাবদিহি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
সামাজিক সংহতি রক্ষার জন্য শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সহনশীলতা, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং ভিন্নমতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
৯. কূটনৈতিক বহুমুখীকরণের সীমা
তারেক রহমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল ধারণা হতে পারে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’, অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা। কিন্তু এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য শুধু বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো যথেষ্ট নয়; বরং সম্পর্কগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার মতো প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা প্রয়োজন।
চীন থেকে অবকাঠামো বিনিয়োগ, জাপান থেকে প্রযুক্তি ও শিল্প সহযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাজার ও বিনিয়োগ, ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ও জ্বালানি সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স— সবকিছুই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
কিন্তু এসব অংশীদারত্বের মধ্যে স্বার্থের সংঘাত দেখা দিলে বাংলাদেশ কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই হবে প্রকৃত পরীক্ষা।
উদাহরণস্বরূপ, একটি বন্দর প্রকল্পে একাধিক দেশের আগ্রহ থাকলে সরকারের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, অর্থায়নের শর্ত এবং জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তিতে। কোনো দেশকে সন্তুষ্ট করা বা অন্য কোনো দেশকে অসন্তুষ্ট করার ভয় যেন সিদ্ধান্তের প্রধান নিয়ামক না হয়।
একইভাবে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো বাংলাদেশের নিরাপত্তা সক্ষমতা উন্নত করতে পারে। তবে কোনো আনুষ্ঠানিক যৌথ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার আগে তার বাধ্যবাধকতা, সম্ভাব্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এবং অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর প্রভাব সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে। দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও পারস্পরিক প্রতিরক্ষার বাধ্যবাধকতা এক নয়।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হবে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ানো, কিন্তু এমন কোনো একক জোট বা চুক্তিতে আবদ্ধ না হওয়া, যা ভবিষ্যতে জাতীয় স্বার্থানুযায়ী স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত করে।
১০. আগামী দুই বছরের জন্য সরকারের অগ্রাধিকার
তারেক রহমান সরকারের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সাফল্য মূল্যায়নের জন্য আগামী দুই বছর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই সময়ে সরকারের অন্তত পাঁচটি ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানো প্রয়োজন।
প্রথমত, রাজনৈতিক আস্থা পুনর্গঠন। সংসদীয় জবাবদিহি, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ এবং বিরোধীদলের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। মূল্যস্ফীতি কমানো, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
তৃতীয়ত, কর্মসংস্থান। তরুণদের জন্য মানসম্মত কাজ সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং রপ্তানিতে নতুন খাত যুক্ত করা ছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সামাজিক ভিত্তি শক্তিশালী হবে না।
চতুর্থত, প্রতিবেশী কূটনীতি। ভারতের সঙ্গে পানি, সীমান্ত, বাণিজ্য ও প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে। একইসঙ্গে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
পঞ্চমত, রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা। আইনশৃঙ্খলা, জ্বালানি নিরাপত্তা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়নে দৃশ্যমান ফল দেখাতে হবে।
এই অগ্রাধিকারগুলো পরস্পরনির্ভর। রাজনৈতিক আস্থা ছাড়া সংস্কার কঠিন; সংস্কার ছাড়া বিনিয়োগ দুর্বল; বিনিয়োগ ছাড়া কর্মসংস্থান সীমিত; আর অর্থনৈতিক হতাশা বাড়লে রাজনৈতিক মেরুকরণ তীব্র হতে পারে।
নতুন নির্ভরতা নয়, স্বাধীন সিদ্ধান্তের সক্ষমতা
তারেক রহমান সরকারের সামনে মূল প্রশ্নটি ভারত না চীন, যুক্তরাষ্ট্র না রাশিয়া, কিংবা পশ্চিমা জোট না এশীয় অংশীদারত্ব— এমন কোনো দ্বিমুখী পছন্দ নয়। প্রকৃত প্রশ্ন হলো— বাংলাদেশ কীভাবে নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে এসব শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করবে।
বিএনপির নির্বাচনী বিজয় সরকারকে রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু সেই সুযোগের স্থায়িত্ব নির্ভর করবে জনগণের জীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা এবং কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর।
সরকার যদি অর্থনৈতিক সংস্কারের বোঝা ন্যায্যভাবে বণ্টন করতে পারে, বিরোধী রাজনীতির জন্য কার্যকর পরিসর বজায় রাখে, বিচার ও প্রশাসনের স্বাধীনতা শক্তিশালী করে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বকে জাতীয় উন্নয়নের কাজে লাগায়, তাহলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে পারবে।
অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণ, ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম, কর্মসংস্থানের সংকট এবং পররাষ্ট্রনীতিতে অতিরিক্ত নির্ভরতা যদি একসঙ্গে বাড়তে থাকে, তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার রাজনৈতিক সুবিধা দ্রুত সীমিত হয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশের সামনে তাই সবচেয়ে বড় কৌশলগত লক্ষ্য হওয়া উচিত কোনো এক শক্তির প্রভাব বলয়ে প্রবেশ করা নয়, বরং এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া— যার সঙ্গে সব পক্ষ সহযোগিতা করতে আগ্রহী, কিন্তু যে রাষ্ট্র নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে সক্ষম।
তারেক রহমান সরকারের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারিত হবে ক্ষমতা কতটা কেন্দ্রীভূত হলো, তা দিয়ে নয়; বরং রাষ্ট্র কতটা শক্তিশালী, অর্থনীতি কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বাংলাদেশের কূটনীতি কতটা স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠল, তা দিয়ে।