পরিসংখ্যান ব্যুরোর লিভিং স্ট্যান্ডার্ডস সার্ভে

কোটি মানুষের আর্তনাদের দলিল

হারুন ইবনে শাহাদাত
২২ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:১৪

অর্থনীতির বহুল প্রচলিত তত্ত্ব— দরিদ্রতা ও দুর্ভিক্ষ সম্পদের অভাবের কারণে আসে না। আসে সুশাসন, গণতন্ত্র ও ইনসাফপূর্ণ বণ্টনে শাসকদের ব্যর্থতার কারণে। বাংলাদেশ বিভিন্ন আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পালাবদলের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে। কিন্তু শাসকদের সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, গণতন্ত্র ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার ব্যর্থতার দায় শোধ করছে এদেশের নিরীহ খেটে খাওয়া জনগণ। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) লিভিং স্ট্যান্ডার্ডস সার্ভে বা জীবনযাত্রার মানসম্পর্কিত জরিপে এ উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটি শুধু জরিপ নয়, কোটি মানুষের নীরব আর্তনাদের অব্যক্ত দলিল।
উদ্বেগজনক চিত্র
জাতীয় পর্যায়ে একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা। জাতীয় পর্যায়ে পরিবারপ্রতি গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। জরিপের তথ্যে উঠে এসেছে, দেশের ৪৭ দশমিক ৪২ শতাংশ পরিবার ঋণগ্রস্ত। এর মধ্যে শহরের তুলনায় গ্রামের পরিবারগুলো বেশি চাপে রয়েছে। নবম জাতীয় বেতনকাঠামোর সুপারিশ তৈরির আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই জরিপ করা হয়। জাতীয় বেতন কমিশনের অনুরোধে জরিপটি করা হয়েছিল গত ২০২৫ সালের ১৪ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর। বিবিএসের দারিদ্র্য ও জীবিকা পরিসংখ্যান সেল ‘জীবনযাত্রার মান জরিপ-২০২৫’ শীর্ষক এ প্রতিবেদন তৈরি করে। তার আগে কম্পিউটারের সহায়তায় ডিজিটাল সাক্ষাৎকার পদ্ধতিতে মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বিবিএস। সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় গ্রাম, শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকার ১৫০টি প্রাথমিক নমুনা এলাকা থেকে মোট ৩ হাজার পরিবারের। বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক বছরে গ্রামাঞ্চলের ৫১ দশমিক ৯১ শতাংশ, শহরাঞ্চলের ৪০ দশমিক ১৯ এবং সিটি করপোরেশন এলাকার ৩২ দশমিক ১১ শতাংশ পরিবার মৌলিক জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে। জরিপের তথ্যানুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা। আর পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপে জাতীয় পর্যায়ে একটি পরিবারের গড় আয় ছিল ৩২ হাজার ৪২২ টাকা এবং গড় ব্যয় ছিল ৩১ হাজার ৫০০ টাকা। বিবিএসের জরিপের তথ্যানুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় সবচেয়ে বেশি, ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা। আর শহরাঞ্চলে প্রতি পরিবারের মাসিক ব্যয় ৩৭ হাজার ৩৪৪ টাকা এবং গ্রামাঞ্চলে ৩২ হাজার ৫৩২ টাকা।
জরিপের তথ্য বলছে, জাতীয় পর্যায়ে পরিবারের মাসিক ব্যয়ের অর্ধেক খাবার এবং অর্ধেক খাবারবহির্ভূত খাতে ব্যয় হয়। তবে অঞ্চলভেদে এই চিত্র আলাদা। যেমন গ্রামাঞ্চলে খাবারের পেছনে ব্যয় বেশি, আর শহরাঞ্চলে ব্যয় বেশি খাবারবহির্ভূত খাতে। সিটি করপোরেশন এলাকার পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয়ের ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশই হয় খাবারবহির্ভূত খাতে।
এদিকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ৫৬ মাস মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম ছিল। বিবিএসের মজুরির সূচক অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার কমে ৭ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তার আগের মাসে এই হার ছিল ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের ৬৩টি পেশায় কম বেতন পাওয়া দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের মাসিক মজুরি পর্যবেক্ষণ করে এই সূচক তৈরি করে বিবিএস।
বিশ্বব্যাংকের গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনৈতিক চাপের পেছনে প্রধান কারণ চার বছর ধরে চলা মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি, যা ধারাবাহিকভাবে পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক মন্থরতা, শ্রমের চাহিদা দুর্বল থাকা এবং মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকায় পরিবারের জীবনযাত্রার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে দেশে দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ২২ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একই সময়ে দৈনিক ৩ ডলারের আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ী, অতিদারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া জ্বালানি সংকটে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনক্ষমতা কমে গেছে। তাতে দেশের শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক বলছে, দেশে দারিদ্র্যের হার চলতি বছর শেষে বেড়ে সাড়ে ২২ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২২ সালের এই হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে এদেশীয় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) গত ১৭ অক্টোবর শনিবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, ২০২৫ সালে দেশের ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ মানুষ উচ্চ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল। সংসার চালানোর ঘাটতি মেটাতে পরিবারগুলোকে হয় ঋণ করতে হচ্ছে, নয়তো সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে।
বিবিএসের জরিপের তথ্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান সাংবাদিকদের বলেছেন, দেশে চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে। বিবিএসের জরিপে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা বিশ্বাসযোগ্যই মনে হচ্ছে। একটু ভালো থাকা মানুষও এখন ঋণ করছেন। তবে তার কারণ ভিন্ন। সেলিম রায়হান মনে করেন, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া গরিব মানুষ ঋণ করেন খাওয়া-দাওয়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা খরচের জন্য। দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি, বিনিয়োগের শ্লথগতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ার এই সময়ে বিবিএসের জরিপে উঠে আসা ঋণগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যাটা খুবই উদ্বেগের কারণ। এর প্রতিকারের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং দিন দিন বাড়ছে মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ, সংকুচিত হচ্ছে কাজের সুযোগ ও বাড়ছে বেকারত্ব। কিন্তু এ সংকট থেকে উত্তরণে সরকারের তেমন কোনো আন্তরিক উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বরং চাঁদাবাজি, বাজার সিন্ডিকেট, দুর্নীতি— এমনকি ফ্যাসিস্ট আমলের ধারাবাহিতায় অর্থ পাচারও শুরু হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
উন্নতির লক্ষণ নেই
বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। চাল, ডাল, তেল, সবজি থেকে শুরু করে প্রতিটি পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। মুদ্রাস্ফীতির কারণে টাকার মান কমে যাওয়ায় আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের ব্যবধান আকাশচুম্বী হয়েছে। অর্থনৈতিক শ্লথগতির কারণে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। শিক্ষিত বেকার যুবসমাজ থেকে শুরু করে দিনমজুর— সবাই কাজের অভাবে ভুগছেন। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের আয় সংকুচিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে চড়া সুদে ঋণ নিচ্ছেন।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, ‘ঋণ করে সংসার চালানোর এই ধারাবাহিকতা দেশের অর্থনীতির জন্য এক বিরাট টাইমবোমা।’ তাদের মতে, জনগণের হাতে ক্রয়ক্ষমতা না থাকায় অভ্যন্তরীণ বাজার সংকুচিত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থবিরতা ডেকে আনছে। বৈষম্যহীন দেশ গড়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকার ক্ষমতায় এলেও তা বাস্তবায়নের আন্তরিক কোনো উদ্যো নেই।
বৈষম্যহীন দেশ গড়ার বদলে নয়া চলছে দলীয়করণ
বৈষম্যহীন দেশ গড়ার বদলে নয়া চলছে দলীয়করণ। বিএনপি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’— স্লোগানটি দিয়ে জনগণের ভোট নিয়েছে। সরকার গঠনের পর বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক এবং শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েই মূলত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছিল। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে যে, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পূর্বের মতো বা নতুন আঙ্গিকে দলীয়করণের প্রবণতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও ক্ষমতার কাঠামোগত চরিত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং ‘সবার আগে দল’নীতি বাস্তবায়নের ব্যস্ত সরকার। পর্যবেক্ষকদের মতে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের পরিবর্তে মাঠপর্যায়ে এখন ‘সবার আগে দলীয় প্রাধান্য’নীতি কার্যকর রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছে।
বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সমাজ বিজ্ঞানীদের অভিমত
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান বিরোধীদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট এবং দেশের বুদ্ধিজীবী ও সমাজবিজ্ঞানীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের মতে, জুলাই বিপ্লবের পর মাত্র সাত মাসের মধ্যে সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগের স্বৈরাচারী সরকার যে ভুল ও দুর্নীতিগ্রস্ত অর্থনৈতিক পথে হেঁটেছিল, বর্তমান তারেক রহমানের সরকারও একই পথে হাঁটছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আজ দেশের মানুষ চরম অর্থনৈতিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। বিবিএসের জরিপই প্রমাণ করে যে, অর্ধেকের বেশি পরিবার ঋণের জালে বন্দি। অথচ সরকার জনগণের এই মৌলিক সমস্যা সমাধানে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। বৈষম্য দূর করার কথা বলে ক্ষমতায় এসে সরকার এখন নিজেদের দলের আখের গোছাতে ব্যস্ত। সাধারণ মানুষ আজ দিশাহারা।’
সমাজবিজ্ঞানী ড. রফিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘যখন দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং কাজের সুযোগ হারায়, তখন সমাজে অপরাধপ্রবণতা, হতাশা ও আস্থাহীনতা বৃদ্ধি পায়। বৈষম্যহীন সমাজের কথা বলে যদি বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তবে তা রাষ্ট্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়।’ পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, কোটি কোটি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের শিকারে পরিণত করতে না চাইলে সরকারের উচিত বিরোধীদলকে সাথে নিয়ে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ের মতো জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করে সামনে অগ্রসর হতে হবে। তা না হলে সুশাসনের অভাবে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বাড়বে। সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের অত্যাচার ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে মানুষের আর্তনাদ বাড়তেই থাকবে।
কোটি মানুষের আর্তনাদ
রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিবিএসের জরিপের এই ভয়ংকর চিত্র কোনো সাধারণ পরিসংখ্যান নয়; এটি কোটি মানুষের বাস্তব জীবনের আর্তনাদ। রাজনৈতিক স্লোগান ও প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরিতে সাধারণ মানুষের পেটের ক্ষুধা মেটে না। সময় এসেছে দলীয় সংকীর্ণতা ভুলে জাতীয় স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দেওয়ার। অন্যথায় অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং ঋণের এই চক্র দেশকে এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

হারুন ইবনে শাহাদাত

পুরোনো খেলায় দিল্লি
২২ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:০২

প্রশাসন দলীয়করণের কবলে
২২ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:০০

সম্পর্কিত খবর