প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদান

দেশের মর্যাদা ও কূটনৈতিক প্রভাব বাড়বে


১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:৫০

সোনার বাংলা রিপোর্ট : প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের (টঘএঅ) অধিবেশনে যোগ দিতে প্রথমবারের মতো আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন। ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নতুন অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই সফরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি উপস্থিতি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা ও কূটনৈতিক প্রভাব বহুগুণ বাড়বে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যানুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। ২১ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন। এর মধ্যে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে তার নির্ধারিত ভাষণ দেয়ার কথা। সফরকালে তিনি সান ফ্রান্সিসকোতেও প্রবাসীদের নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেবেন।
সূত্রটি আরো উল্লেখ করেছে, জাতিসংঘের এই বহুপক্ষীয় মঞ্চে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রোডম্যাপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরাই প্রধানমন্ত্রীর এ মিশনের প্রধান লক্ষ্য।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বহুপক্ষীয় জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের সাইডলাইনে বিশেষ উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আয়োজন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কূটনীতিবিদদের মতে, এই সফর বাংলাদেশের সুদূরপ্রসারী কূটনৈতিক সুবিধা আদায়ের বিরাট সুযোগ। তারা বিগত পতিত হাসিনা সরকার সরকারের আমলে জনগণের কোটি কোটি টাকা খরচ করে শত শত সদস্যের বিশালাকার সফরসঙ্গী নিয়ে নিউইয়র্ক যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার তাগিদ দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে একটি সূত্র জানিয়েছে, মূলত পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ছোট একটি কার্যকর সরকারি দল গঠন করা হয়েছে। এছাড়া এসএসএফসহ আবশ্যকীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং প্রেস উইংয়ের নির্দিষ্ট সংবাদকর্মীরা এই বহরে অন্তর্ভুক্ত আছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর কেবল জাতিসংঘের বার্ষিক নিয়মমাফিক উপস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। পরিমিত ব্যয় ও একটি সুনির্দিষ্ট জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এজেন্ডা নিয়ে এই সফর পরিচালিত হলে, ব্যয়িত রাষ্ট্রীয় খরচের বিপরীতে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অর্জনের অনুপাত অত্যন্ত ইতিবাচক হবে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।