বুদ্ধদেব বসুর ‘সাহিত্যে পাকিস্তান অসম্ভব’র জবাব

সাহিত্যে সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য


১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২৫

॥ আবুল মনসুর আহমদ ॥
খ্যাতনামা সাহিত্যিক শ্রীযুক্ত বুদ্ধদেব বসু সম্প্রতি একটি খবরের কাগজের এক বিশেষ সংখ্যা ‘সাহিত্যে পাকিস্তান অসম্ভব’ নামে একটি প্রবন্ধ লিখিয়াছেন। এ প্রবন্ধে বুদ্ধদেব বাবু বলিয়াছেন যে, মেয়ে সাহিত্যিকদের যেমন মহিলা লেখক বা লেখিকা নামে অভিহিত হওয়া উচিত নয়, তেমনি ইসলাম-ধর্মী সাহিত্যিকদেরও মুসলমান লেখক বা মুসলিম সাহিত্যিক বলিয়া পরিচিত হওয়া উচিত নয়। এটা খোদ মেয়েদের ও মুসলমানদেরই আত্মমর্যাদার হানিকর। কোনোরকমে দু-চার লাইন মেলাতে পারলেই ‘মহিলা কবি’ আখ্যা পাওয়া যায় বলিয়া অথবা কোনো একটা উন্মত্ত প্রলাপ ছাপার অক্ষরে বের করতে পারলেই ‘মহিলা ঔপন্যাসিক’ হিসেবে মাল্য লাভের সম্ভাবনা থাকে বলিয়াই মেয়ে লেখকরা মহিলা লেখক বা লেখিকা নামে অভিহিত হইবার জন্য ব্যগ্র, ইহাই বুদ্ধদেব বাবুর মতো। ঠিক সেরূপ দু-একটা ভালো কবিতা কি গল্প লিখেই মুসলমান পরিচালিত পত্রিকায় ‘প্রধান লেখক বলে ঘোষিত’ হইবার আশাতেই নাকি ইসলাম-ধর্মী লেখকরা শুধু লেখক নামে অভিহিত না হইয়া মুসলমান লেখকরূপে অবিহিত হইতে চান। বুদ্ধদের বাবুর মতে, এটাই পাকিস্তানি মনোভাব। এ ধরনের মনোভাব আগে ছিল না, এটা সম্প্রতি দেখা দিয়েছে এবং ক্রমেই বাড়িয়ে চলেছে। স্বাতন্ত্র্য-মত্ততা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মুসলমানদের মনে পার্থিব স্বর্গের স্বপ্ন এনে দিয়েছে সেই স্বাতন্ত্র্যকে সাহিত্য ক্ষেত্রে আনিতে চান বলিয়াই নাকি মুসলমান লেখকরা শুধু লেখক ও সাহিত্যিক না হইয়া মুসলমান লেখক ও মুসলমান সাহিত্যিকরূপে নিজেদের অনপনেয় অপমানে চিহ্নিত করিতেছেন।
আমি নিজেকে বুদ্ধদেব বাবুর মতো অতটা মেয়েদের-মুরুব্বি মনে করি না। অবলা-দুর্বলা নারীরক্ষায় যে শিভালরী ও নাইট ইরান্ট মনোভাবের দরকার আমার মধ্যে সে বীরত্বের অভাব দেখিতেছি। আমি মনে করি, আমাদের মেয়েদের সকলে না হোক অন্তত সাহিত্যিক মেয়েরা আত্মরক্ষায় ও আত্মপক্ষ সমর্থনে সক্ষম। বিশেষত আমি যেখানে দেখিতেছি, শ্রদ্ধেয় স্বর্ণকুমারী দেবী, অনুরূপা দেবী ও নিরূপমা দেবী প্রভৃতি মহিলা ঔপন্যাসিকের উপন্যাস খোদ বুদ্ধদেব বাবুর উপন্যাসের চেয়ে কোনো অংশেই উন্মত্ত প্রলাপ নয়, আমি যেখানে বুঝিতেছি, শ্রদ্ধেয় গিরীন্দ্রমোহিনী, রাধারাণী, কামিনী রায় ও মিসেস সুফিয়া কামালের (পূর্বে সুফিয়া এন হোসেন) কবিতা বুদ্ধদেব বাবুর কবিতার চেয়ে কোনো অংশেই দু-চার লাইনের মিল মাত্র নয়; তখন আমি কী রূপে বিশ্বাস করিব যেকোনো রকমে দু-চার লাইন মেলাতে পারলেই মহিলা কবি আখ্যা পাওয়া যায়? অথবা কোনো একটা উন্মত্ত প্রলাপ ছাপার অক্ষর বের করতে পারলেই ঔপন্যাসিক হিসেবে মাল্যলাভের সম্ভাবনা রহিয়াছে?
আমার ধারণা বরং এই যে, মেয়ে লেখকদের লেখিকা করিয়াছে বাংলা ব্যাকরণ, মেয়েরা নিজেরা নয়। এর প্রতিবাদ মেয়ে নয় বুদ্ধদেব বাবু সকলের আগে করেন নাই, করিয়াছেন স্বয়ং মেয়েরাই। শ্রদ্ধেয় সরলা দেবী অধুনালুপ্ত ভারতীয় সম্পাদকই ছিলেন, সম্পাদিকা ছিলেন না। বুদ্ধদেব বাবুর মতো বীর বাঙলা সাহিত্যে আর কতজন আছেন জানি না। কিন্তু এই ব্যাকরণ দ্রোহিতার জন্য শ্রদ্ধেয় সরলা দেবীকে তার সাহিত্যিক ভ্রাতাদের নিকট কম গাল খাইতে হয় নাই। বুদ্ধদেব বাবু মুসলমানদিগকে মেয়েদের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড় করাইয়াছেন, এ সম্মানের জন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ দিতেছি। কিন্তু মেয়েদের পক্ষে কোনো কথা না বলিয়া আমরা নিজেদের কথাই বলিতেছি।
বুদ্ধদেব বাবু প্রতিভাশালী লেখক। তার চেয়ে বড় কথা এই যে, তার মনটা আধুনিক এবং তার দৃষ্টিটা উদার। সুতরাং সাহিত্য সম্পর্কে তার কথা আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গেই শুনিয়া থাকি। তিনি তার আলোচ্য প্রবন্ধে বলিয়াছেন যে, তিনি রাজনৈতিক নন, এবং নন বলিয়াই বিশাল ভারতকে অনেকগুলো খণ্ড ক্ষুদ্র স্থানে বিভক্ত করবার প্রস্তাবে বিমূঢ় মৌনই তার একমাত্র মন্তব্য। বুদ্ধদেব বাবু আমাদিগকে বুঝাইতে চাহিয়াছেন যে, বিশাল ভারতের রাজনৈতিক ভাগাভাগির বেলায় তিনি চুপ করিয়া মনের দুঃখ মনেই চাপিয়া রাখিতেছিলেন, কারণ তিনি রাজনৈতিক নন। কিন্তু এই রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্যকে এতদিনে সাহিত্যে টানিয়া আনা হইতেছে দেখিয়া তিনি আর চুপ করিয়া থাকিতে পারিলেন না; তার বুকে আর বরদাশত হইল না; কারণ তিনি সাহিত্যিক।
কথাটা ঠিক নয়। বুদ্ধদেব বাবুর আধুনিক মন এবং উদার দৃষ্টিও তাকে এখানে ফাঁকি দিয়াছে। তিনি রাজনৈতিক নন এ কথা ঠিক নয়। রাজনৈতিক চৈতন্য হইতেই তিনি পাকিস্তানের এই প্রতিবাদ করিয়াছেন, সাহিত্যিক চৈতন্য হইতে নয়। মেয়ে সাহিত্যিকরা ‘মহিলা সাহিত্যিক’ ও ‘লেখিকা’রূপে পরিচিত হইয়া আসিতেছেন বাঙলা সাহিত্যের সৃষ্টি হইতেই। মুসলমান সাহিত্যিকরা স্বতন্ত্র বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির প্রতিষ্ঠা করিয়াছেন পঁচিশ বছর আগে। সুতরাং এ স্বাতন্ত্র্যবোধ সম্প্রতি দেখা দেয় নাই। তবু বাঙলার লেখক সমাজ অর্থাৎ বুদ্ধদেব বাবুরা অর্থাৎ হিন্দু সাহিত্যিকরা এতদিন এই ব্যবস্থার প্রতিবাদ করেন নাই। বরঞ্চ ‘বাঙলার সংবাদপত্রে’র অর্থাৎ হিন্দু-সংবাদপত্রের পৃষ্ঠায় মুসলমান গুণ্ডাদের মতোই মুসলমান লেখকরাও এক স্বতন্ত্র গোষ্ঠী হিসাবেই অভিহিত হইয়া আসিতেছিল। ‘মুসলমানদের জন্য অনপনেয় কলঙ্ক’ এ বোধ হিন্দুদের অর্থাৎ বাঙলার লেখক সমাজের কোনোদিন ছিল, এতদিন আমরা তা বুঝতে পারি নাই। বরঞ্চ সাহিত্য ক্ষেত্রে বাঙলার লেখক সমাজের কাছে এটা খুব স্বাভাবিক বলিয়াই মনে হইতেছিল বলিয়া বোধ হয়। আজ মুসলমানদের তরফ হইতে রাজনৈতিক পাকিস্তানের দাবি উঠিয়াছে বলিয়া যেমন অখণ্ড ভারতের প্রতি দাবি উঠিয়াছে; তেমনি বুদ্ধদেব বাবুর অখণ্ড বাঙলা সাহিত্যের এই নিতান্ত রাজনৈতিক দাবি তুলিয়াছেন এবং মেয়ে সাহিত্যিকদের খামাখা এই বিতর্কে টানিয়া আনিয়াছেন। ফলত রাজনৈতিক ‘পাকিস্তানের দাবি’ না উঠিলে, বাঙলা সাহিত্যে মুসলমান লেখকদের এই ‘অনপনেয় কলঙ্কের’ জন্য বুদ্ধদেব বাবুর প্রাণ ব্যথাইয়া উঠিত কিনা সন্দেহ।
বস্তুত এটাই স্বাভাবিক। সাহিত্য মানবজীবন হইতে বিচ্ছিন্ন একটা হাওয়ায়ী জিনিস নয় এবং মানবজীবনকেও রাজনীতি হইতে বিচ্ছিন্ন করা অসম্ভব। সুতরাং সাহিত্যের সঙ্গে রাজনীতি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বুদ্ধদেব বাবুর উপন্যাসে স্বীকৃত না হইলেও, তার নিজের জীবনেরই প্রতি পরতে পরতে এটা তিনি দেখিতে পাইবেন যে, যৌনক্ষুধার চেয়ে মানুষের পেটের ক্ষুধা কম শক্তিশালী অনুভূতি নয়। অপরের বিয়ে করা বউয়ের প্রতি লোভ হওয়ার নামকে ‘প্রেম’ আখ্যা দিলে অপরের অনাবশ্যক ধনের প্রতি লোভ হওয়াটাকে কিছুতেই ‘অপ্রেম’ আখ্যা দেওয়া যায় না। দুনিয়ার হাজার মেয়ে মানুষ পড়িয়া থাকিতে একজনের বউ চুরি করিয়া লইয়া যাওয়াকেই আমরা আর্টের রূপ দিতেছি। অথচ দরিদ্রদের ক্ষুধার অন্ন কাড়িয়া-নেওয়া ধনস্তূপের দিকে যদি অন্নহীনরা বেআইনিভাবে একটু হাত বাড়ায় তবে আমরা তাকে ঘৃণা করিতেছি। এ-ব্যবস্থার প্রতিবাদকে বাঙলার লেখক সমাজ রাজনৈতিক আবর্জনা ও আর্টবিরোধী পার্থিব ব্যাপার বলিয়াই আসিতেছেন। স্বয়ং বুদ্ধদেব বাবু এই আর্টবাদীদের গণ্ডি হইতে ‘স্বতন্ত্র’ হইবার চেষ্টা করিতেছেন বলিয়াই বোধ হয়। তাই তিনি রাজনীতি হইতে যুক্ত নন। এটা ভালো কথা। এখানেই বুদ্ধদেব বাবু আমাদের নমস্য। কিন্তু রাজনীতির বিপদও কম নয়। এটা মানুষকে সাম্রাজ্যবাদীও করিয়া তুলিতে পারে। ‘অখণ্ড ভারতীয়’রা যেমন অন্তত নিজেদের অজ্ঞাতসারেও সাম্রাজ্যবাদের সমর্থন করিতেছেন, তেমনি বুদ্ধদেব বাবুও নিজের অজ্ঞাতসারেই বোধ হয়, ‘অখণ্ড বাঙলা সাহিত্যের’ নামে সাম্রাজ্যবাদী মনোভাবেরই পরিচয় দিতেছেন। বস্তুত সাহিত্যিক কোনো দাম নাই; শুধু রাজনৈতিক সেøাগান হিসাবেই ইহা শক্তিশালী সেøাগান। কারণ রাজনীতিতে পাকিস্তান সম্ভব-অসম্ভব ও আবশ্যক-অনাবশ্যক দুই-ই হইতে পারে, কিন্তু সাহিত্যে পাকিস্তান শুধু সম্ভব নয়— স্বাভাবিক এবং দরকারি। সাহিত্যকে রিপাবলিক অব লেটারস অভিহিত করিয়া বুদ্ধদেব বাবু স্বীকার করিয়াছেন যে, সাহিত্যে যতটা দেওয়ানী আজাদী, ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রহিয়াছে, রাজনীতি ক্ষেত্রে ততটা নাই। সাহিত্যে সাম্রাজ্যবাদের প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। কাজেই অখণ্ড বাঙলা সাহিত্যের যে চিৎকার বুদ্ধদেব বাবু করিয়াছেন, এর সাহিত্যিক কোনো অর্থ নাই।
এই দিক হইতে বুদ্ধদেব বাবুর আলোচ্য প্রবন্ধের অনেকখানিই তার প্রতিপাদ্য বিষয়ের জন্য অবান্তর সুতরাং এক্ষেত্রে অর্থহীন। তিনি সাহিত্যে মুসলমানদের স্বাতন্ত্র্যের প্রতিবাদেই এত সব উঁচুদরের লম্বা লম্বা পিঠ-চাপড়ানি কথা বলিয়াছেন। কিন্তু নিজের সব কথা এক কোপে তিনি নিজেই কাটিয়া ফেলিয়াছেন। নিজের প্রতিপাদ্য বিষয়ের বিরুদ্ধেই তিনি অকাট্য যুক্তি দিয়াছেন। তিনি বলিয়াছেন আমরা মুসলমানদের জীবনের কথা তাদের মুখেই শুনবো। বর্তমান সময়ে এ কাজ অমুসলমানের দ্বারা হতে পারে না।
আর অধিক কথা দরকার নই, এইটুকুই যথেষ্ট। মুসলমানদের জীবনের কথা মুসলমানকেই লিখিতে হইবে; হিন্দুদের দ্বারা এটা অসম্ভব; এ কথা যদি সত্য হয় তবে বুদ্ধদেব বাবু কলহ করিতেছেন কী লইয়া? বাঙালি মুসলমান তার নিজের জীবন-কথা তার নিজের ভাষাতেই বলিবে। স্বয়ং বুদ্ধদেব বাবুও সগৌরবে স্বীকার করিয়াছেন ‘মুসলমানদের জীবন সম্বন্ধে আমরা কিছুই জানি না।’ সুতরাং মুসলমান সাহিত্যিকদের এমন একটা কাজ করিতে হইবে, যার সম্বন্ধে হিন্দুরা কিছু জানেন না এবং যা তাদের দ্বারা অসম্ভব। এত সব ব্যাপার স্বীকার করিয়া লইবার পরও বুদ্ধদেব বাবুর অজ্ঞাতসারে তার মনে সাম্রাজ্যবাদী অসঙ্গতি প্রবেশ করিয়াছে। বুদ্ধদেব বাবু বলিয়াছেন ‘আমরা মুসলমানদের জীবন সম্বন্ধে কিছুই জানি না এবং এটা আমাদের দোষ নয়।’
পার্ল বাকের মত, মার্কিন খ্রিষ্টান মেয়েলোক কয়েকটি বছর চীনের এক শহরে বাস করিয়া বৌদ্ধ চীনাদের সমাজ জীবনের খুঁটিনাটি জানিতে পারিলেন; খ্রিষ্টান ইউরোপের লেখকরা দু-চার সপ্তাহের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে বেড়াইতে আসিয়া ইরানি-তুরানি-আরবি-মিসরি মুসলমানদের নিখুঁত জীবনচিত্র আঁকিতে পারিলেন, আর হাজার বছর এক দেশে বাস করিয়া এক ভাষায় কথা বলিয়া একই খোরাক-পোশাক ব্যবহার করিয়াও বাঙলার লেখক সমাজ বাংলার শতকরা পঞ্চান্নজন অধিবাসীর জীবনের কিছুই জানিতে পারিলেন না, সে দোষ নিশ্চয় বুদ্ধদেব বাবুর নয়— সে দোষ আলবৎ হতভাগ্য মুসলমান সমাজেরই। বাঙলার লেখক সমাজ বিবেকবান বলিয়াই তারা মুসলমান বাবুর্চি-বেয়ারা ছাড়া আর কারো সম্বন্ধে কিছু লেখেন নাই। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে অভিমান করা ছেলেমানুষি, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা নিরর্থক। কারণ বুদ্ধদেব বাবু নিজেই বলিয়াছেন, ‘হিন্দু-মুসলমানের সামাজিক মিলনের ক্ষেত্র নিতান্তত সংকীর্ণ পারস্পরিক মেলামেশা এত কম।’
সংকীর্ণ ও কম নিশ্চয়ই, কিন্তু সে দোষ আমাদের মুসলমানদের নয়। কিন্তু যার দোষেই হোক, হিন্দু-মুসলমানে কম মেলামেশা বলিয়াই বোধ হয় বঙ্কিমচন্দ্রের ত্রিশ বছরের ডিপুটি জীবনে একজন মুসলমান সহকর্মীর সঙ্গে তার জানাশোনা হয় নাই; তার বদলে বহুদিন আগে-মরা-মোগল বাদশা-বেগমদের সঙ্গে মেলামেশার তার সুবিধা হইয়াছিল। হিন্দু কোনো উকিল ঔপন্যাসিকের সঙ্গে মুসলমান-মক্কেলের, হিন্দু কোনো জমিদার-কবির সঙ্গে মুসলমান-প্রজার, হিন্দু কোনো অধ্যাপক— সাহিত্যিকের সঙ্গে কোনো মুসলমান-ছাত্রের, মেলামেশা হয় নাই; এজন্য দোষ আমরা হিন্দুদিগকে দেই না এবং দেই না বলিয়াই নীরবে আমরাই আমাদের আত্মপ্রকাশের সাধনা করিতেছি। হিন্দু দেশবাসীর কাছে আমরা আত্মপরিচয় দিবারও প্রয়াস পাইতেছি। আমাদের জীবন হিন্দুরা সাহিত্যে ফুটাইতে পারেন নাই, পারিবেনও না। কাজেই, এ কাজ আমাদেরই করিতে হইবে এবং আমার মতো করিয়া আমাদের শক্তি ও প্রতিভা অনুসারেই তা করিতে হইবে। আমাদের সাহিত্য আমাদের ভাষাতেই হইবে। আমাদের ভাষা যদি বাঙলা হয় তবে বাঙলাতেই আমাদের জীবন রূপায়িত হইয়া উঠিবে। বুদ্ধদেব বাবুর তাতে চিন্তিত হইবার কারণ নাই; কারণ তাতে বাঙলা সাহিত্যই সম্পদশালী হইবে। আর আমাদের ভাষাকে যদি বুদ্ধদেব বাবু বাঙলা বলিয়া স্বীকার না করেন, তবে আমাদের জীবন জানিবার জন্য বুদ্ধদেব বাবুকে আমাদের ভাষা শিখিতে হইবে। কারণ বুদ্ধদেব বাবু বলিয়াছেন ‘আমরা মুসলমানের জীবন জানতে চাই।’
যদি মুসলমানদের সত্যিকার জীবন বুদ্ধদেব বাবু জানতে চান তবে তিনি মুসলমানদের গলা টিপিয়া ধরিতে চান কেন? তিনি যার কিছুই জানেন না, যা ফুটাইতে তারা পারিবেন না বলিয়া কেবলি জবাব দিয়াছেন, সে কাজ তিনি হুকুম বা ফরমায়েশ দিতে আসিলেন কেন কোনটুকুকে তিনি সাহিত্যে পাকিস্তান বলিয়া অভিহিত করিতে চান? মুসলমানদের গার্হস্থ্য জীবনের নিত্যব্যবহার্য আরবি-ফারসি শব্দের আমদানিকে? বুদ্ধদেব বাবুর মতো আধুনিক ও বৈজ্ঞানিকমনা সাহিত্যিককে আমরা এতটা সংকীর্ণ মনে করিতে পারিতেছি না। আশা করি, বুদ্ধদেব বাবু বাঙলা সাহিত্যকে হিন্দুর হেঁসেল অথবা অন্তত সরস্বতী দেবীর মন্দির মনে করেন না— যাতে নামাজ-রোজা, হজ-জাকাতকে পিছনে ফেলিয়া, পায়জামা তহবন্দের বদলে ধুতি ও নামাবলী পরিয়া বদনার পানির বদলে গাড়ুর গঙ্গাজল হাতে লইয়া, প্রবেশ করিতে হইবে। তবে বুদ্ধদেব বাবুর আপত্তি কীসে? শুধু কি মুসলমান-সাহিত্যিক এই বিশেষণ? এ-নাম কি মুসলমান সাহিত্যিকরা নিজেরা লইয়াছেন? না বুদ্ধদেব বাবুরা বলিয়াছেন, ‘আজকের দিনের নজরুল ইসলাম বা জসীমউদদীন মুসলমানিত্বের গণ্ডির মধ্যেই হয়তো আটকে আছেন, বাংলার সাহিত্যজগতের সঙ্গে ভালো করে তাদের পরিচয়ই হচ্ছে না। তাদের সঙ্গে আমাদের অর্থাৎ বাঙলার লেখক সমাজের— যোগাযোগ ক্ষীণ, ভাব-বিনিময় নাম মাত্র। এই যে নজরুল ইসলাম ও জসীমউদদীনকে ‘তারা’ করিয়া বুদ্ধদেব বাবু নিজকেই আমরা অর্থাৎ বাঙলার লেখক সমাজ করিয়া বসিলেন, এর সাহিত্যিক কদর্য্যতা ও শিষ্টাচারগত দারিদ্র্যের কথা না হয় নাই বলিলাম; নজরুল প্রতিভা ও জসীমউদদীনের মনীষাকে তারা করিয়া বুদ্ধদেব বাবু নিজেকেই বাঙলার লেখক সমাজের আমরা বলিয়া কতটা ওজন-জ্ঞানের পরিচয় দিয়েছেন, সে কথাও এখানে না হয় নাই তুলিলাম। কিন্তু এখানে এটা ত দেখা গেল যে, বুদ্ধদেব বাবুর মতো আধুনিক সাহিত্যিকও বাঙলার লেখক সমাজের আমরার মধ্যে নজরুল ইসলামের স্থান দেন নাই। নজরুল ইসলামের সঙ্গে বাঙলার লেখক সমাজের যে যোগাযোগ ক্ষীণ সেটাও কি নজরুল ইসলামের দোষ? যে নজরুল ইসলাম বাঙলা সাহিত্যে বিশেষত কাব্যে ও সঙ্গীতে নতুন রূপ ও প্রাণ দিয়াছেন, যিনি কাব্যে অসংখ্য নতুন ছন্দ ও গানে পাঁচ হাজারের মতো নতুন সুর দিয়াছেন, নাটকে-সিনেমায়-গ্রামোফোনে-রেডিওতে যার হাজার হাজার সঙ্গীত গীত হইতেছে; সেই নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা কি বাঙলার লেখক সমাজের কর্তব্য নয়? বাঙলার লেখক সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা কি এই নজরুল ইসলামেরই একতরফা কর্তব্য? নজরুল ইসলাম সম্বন্ধে এত বেশি বলিলাম এজন্য যে, ইনি সাহিত্যে পাকিস্তান ত দূরের কথা, রাজনৈতিক পাকিস্তানেও শুধু মুসলমান কবি বা মুসলমান সাহিত্যিক বলিয়া অভিহিত করেন নাই। তিনি বাঙলার ‘জাতীয় কবি’ হইবার দাবি ও সাধনাই করিয়াছেন; সে অধিকারও তার আছে। তিনি শুধু ঈদ, কুরবানি ও মহররমের কবিতাই লেখেন নাই; তিনি শ্যামা-সঙ্গীত, গঙ্গা-স্তোত্র এবং রাধা-প্রেমের সঙ্গীতও গাহিয়াছেন তবু কি তিনি বাঙলার সাহিত্যজগতের বা বাঙলার লেখক সমাজের একজন আমরা হইতে পারিয়াছেন? স্বয়ং বুদ্ধদেব বাবুই তাকে মুসলমানের গণ্ডিতে আবদ্ধ করিয়াছেন। নজরুল ইসলাম প্রভৃতি যে দু-চারজন মুসলমান লেখকের মধ্যে বুদ্ধদেব বাবু প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন অথবা যারা দু-চারটি ভালো কবিতা বা গল্প লিখেছেন, বাঙলার সাহিত্যজগৎ বা বাঙলার লেখক সমাজ তাদের কী মর্যাদা দিয়াছেন? বুদ্ধদেব বাবু ভারত-সচিব মি. আমেরীয় ভাষায় আমাদিগকে স্মরণ করাইয়া দিয়াছেন যে, সাহিত্যিকদের মর্যাদা কেউ কাউকে হাতে তুলে দিতে পারে না; এ অর্জন করে নিতে হয় নিজের জীবনের সাধনায়। অথচ আমরা বর্ধমানের মহারাজাধিরাজ ও কাসিমবাজারের মহারাজাকে বঙ্গীয় সাহিত্য-সম্মিলনির সভাপতিরূপে দেখিয়াছি। অন্যান্য মুসলমানের কথা নাই বলিলাম; মীর মশাররফ হোসেন ও কবি কায়কোবাদকেও বাঙলার লেখক সমাজ উক্ত মহারাজাদ্বয়েরও সমান সাহিত্যিক মর্যাদা দিয়াছেন কি?
এসব কথা আমি অভিমান করিয়াও বলিতেছি না; অভিযোগ করিয়াও বলিতেছি না। কারণ বুদ্ধদেব বাবুর কাছে অভিমান করা ছেলেমানুষি এবং অভিযোগ করা নিরর্থক। আমি শুধু প্রকৃত সত্যের সম্মুখীন হইব। সত্যের সাধনাই সাহিত্যিকের সাধনা; বাস্তবের রূপায়ণই সাহিত্যের প্রাণ। সত্য গোপন করিয়া অথবা ভণ্ডামি করিয়া সত্যিকারের সাহিত্য সৃষ্টি করা যায় না। এই অপরাধেই বাঙলা সাহিত্য সত্যিকারের বাঙলা সাহিত্য আজো হয় নাই; বাঙলার মাটির সঙ্গে এ সাহিত্যের আজো প্রাণের যোগ-প্রতিষ্ঠা এজন্যই হয় নাই। আর্টের নামে বুদ্ধদেব বাবুর বাঙালি লেখক সমাজ এ যাবত রচনা করিয়াছেন, সেটা হইয়া উঠিয়াছে সুদৃশ্য শ্বেতমর্মরের ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল; তাজমহল তো দূরের কথা, বাঙলার কুটিরের প্রাণও সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয় নাই।
বুদ্ধদেব বাবুরা রাগ করিবেন না; তারা সত্যকে স্বীকার করিয়া লউন। সাহিত্যকে তারা কৃষ্টির আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মবিকাশের স্বাধীনতার লীলাভূমি বলিয়া মানিয়া লউন। তবেই তারা বুঝিবেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সাহিত্যিকদের দৃষ্টিতে কালচার‌্যাল অটনমী ছাড়া আর কিছুই নয়। খোদার বিচিত্র দুনিয়ার সত্যিকার প্রতিবিম্ব মানুষের মন, আর মানুষের মনের বিচিত্র বিকাশের ক্ষেত্র এই সাহিত্য। এখানে বুদ্ধদেব বাবুরা সকলকার কৃষ্টিকে স্বাধীনভাবে সফল হইবার সুযোগ দিন। বাগানের কৃত্রিম সৌন্দর্য সাহিত্যের আদর্শ। কল্পনার উচ্চতাই সাহিত্যের প্রাণ। অনুভূতির তীব্রতা কালচারাল অটনমীতেই সম্ভব। বিভিন্ন দেশের যেসব মনীষীর সাহিত্য সৃষ্টি বিশ্ব-সাহিত্যে অমরত্বের মর্যাদা লাভ করিয়াছে তারা নিজেদের ভাষায় নিজেদের কৃষ্টিকেই রূপায়িত করিয়াছেন— কৃত্রিম বিশ্ব-কৃষ্টির বড়মানুষী ফলান নাই। কাজেই বুদ্ধদেব বাবুরা এখানে হুকুমের দৌরাত্ম্য আমদানি করিবেন না। মানুষের আত্মার টুঁটি চাপিয়ে আর যেই ধরুক, সাহিত্যিক বুদ্ধদেব বাবুরা বাবুরা ধরিবেন না।
মুসলমান দেশবাসীর প্রতি বুদ্ধদেব বাবুরা একটু বিশ্বাস রাখুন। তাদের বুদ্ধির প্রতি একটুখানি শ্রদ্ধা অর্জনের চেষ্টা করুন। নিজেদের বুদ্ধির নির্ভুলতায় তারা অতটা আত্মহারা হইবেন না। তারা বিশ্বাস করুন, মুসলমান সাহিত্যিকরা বাঙলা সাহিত্যেরই সাধনা করিতে চান। তারা চণ্ডীদাস বিদ্যাপতি, বঙ্কিম, মাইকেল রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্রের সাহিত্য হইতেই সাহিত্যিক প্রেরণা লাভ করিয়াছেন এ কথাও বুদ্ধদেব বাবুরা বিশ্বাস করুন। বুদ্ধদেব বাবুরা মুসলমানদের কিছুই পাঠ করেন নাই বলিয়া মুসলমানরাও হিন্দুদের কিছুই পাঠ করেন নাই, বুদ্ধদেব বাবু এটাও মনে করিবেন না। বুদ্ধদেব বাবুরা মুসলমানদের কিছুই জানেন না বলিয়া মুসলমানরাও হিন্দুদের কিছুই জানেন না, ইহাও বুদ্ধদেব বাবুরা মনে করিবেন না। এসব পাঠ-টাঠ করিয়া, বুঝিয়া-সুজিয়াই মুসলমানেরা আত্মবিকাশ করিতে চায় এবং তা মাতৃভাষার সাহায্যেই করিতে চায়। বুদ্ধদেব বাবু ধমক দিয়েছেন, আমরা মুসলমান সাহিত্যিকরা যদি তার পছন্দমতো সাহিত্য সাধনা না করি তবে যেন আমরা বাঙলা সাহিত্য সেবা ত্যাগ করিয়া উর্দু সাহিত্য ধরি। বুদ্ধদেব বাবুর এ-ধমকে আমরা ভড়কাইয়া যাইব না। মুসলমান সাহিত্যিকরা সফলতার সঙ্গে উর্দুর আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করিয়াছে। বাঙলা ভাষাকেই তারা মাতৃভাষা রূপে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছে। বাঙলা ভাষার সাহায্যে তারা নিজেদের জীবনের বিকাশ করিতে চায়। উর্দুওয়ালা কোট-প্যান্টধারী মাওলানাদের ধমকেও বাঙালি মুসলমান তার মাতৃভাষা ত্যাগ করে নাই, কোট-প্যান্টধারী পণ্ডিতদের ধমকেও তারা মাতৃভাষা ত্যাগ করিবে না।
কিন্তু সেটা হইবে বাঙালি মুসলমানদের মাতৃভাষা-হিন্দুর মাতৃভাষা নয়া বিদ্যাসাগর প্রভৃতির পাণ্ডিত্যের ধাক্কায় যদি উচ্চশ্রেণির হিন্দুরা মাতৃভাষ্য ত্যাগ করিয়াই থাকে, তবে বাঙলার মুসলমান তাহাদিগকে বিলাত-ফেরত ব্যারিস্টারদের মতোই অনুকরণের অযোগ্য মনে করিবে। তাদের ধমকে তারা মাতৃভাষার স্বকীয়তা নষ্ট করিবে না। মুসলমানরাই বাঙলা ভাষা সৃষ্টি করিয়াছে, বাঙলা-সাহিত্যও সৃষ্টি করিয়াছে। তারাই বুদ্ধদেব বাবু বিশ্বাস করুন, তারাই বাংলা সাহিত্যকে আরো উন্নত করিবে। বুদ্ধদেব বাবুদের কাছে রবীন্দ্র-সাহিত্যই বাঙলা সাহিত্যের চরম বিকাশ বিবেচিত হইতে পারে, কিন্তু বাংলার মুসলমান তা মনে করে না। বাংলা সাহিত্যকে তার আরো উন্নত করিতে চায়। এটা মুসলমানদের তুকাব্বরী নয়। মুসলমান বাঙলা তথা ভারতের, শিল্প-সাহিত্য কৃষ্টি সভ্যতাকে উন্নত ছাড়া অবনত কখনো করে নাই। তারা এসরাব সোরা, সেরাজ, পেখওয়াজ, দিয়া সঙ্গীত-শিল্পকে উন্নত করিয়াছে। জুতা-মোজা আচকান-চাপকান, শিরওয়ানী-পাজামা-তহবন্দ-টুপি-পাগড়ি দিয়া পোষাককে সভ্য-ভব্য করিয়াছে, পিঁয়াজ-রসুন, মুরগি দিয়া পোলাও-কোর্মা পাকাইয়া তারা খোরাককে সুখাদ্য করিয়াছে; বুদ্ধদেব বাবু বিশ্বাস করুন, মাতৃভাষাকে এবং এর সাহিত্যকে তারা আরো উন্নত করিতে চায়। বাঙলার পাড়াগাঁয়ে চারি কোটি মুসলমানের মুখে যে অফুরন্ত শব্দ-সম্পদ আছাড়িয়া মরিতেছে, সাহিত্যের মর্যাদায় যদি তারা বাঙলার অভিধানে স্থান পায়, তবে বাঙলা ভাষা হইয়া উঠিবে ভারতের আন্তর্জাতিক ভাষা; বাঙলা সাহিত্য হইয়া উঠিবে নিখিল ভারতীয় জাতীয় সাহিত্য। পিঁয়াজ-রসুনের গন্ধে, মুরগির অত্যাচরে ও পাজামা-তহবন্দ-টুপির অসভ্যতায় বুদ্ধদেব বাবুরা এককালে অতিষ্ঠ হইয়া উঠিয়াছিলেন। সে ভীতি তাদের এখন গিয়াছে। মুসলিম-ভাষাভীতি ও তাদের তেমনি দূর হউক; নয়া বাঙলার নয়া ভাষা ভারতের শ্রেষ্ঠ ভাষা হইয়া উঠুক; বুদ্ধদেব বাবুর সাহিত্যিক মন সে শুভক্ষণের জন্য প্রস্তুত হইয়া থাকুক, ইহাই আমাদের সবচেয়ে বড়ো প্রার্থনা।
(লেখক : সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের যুক্তফ্রন্ট সরকারের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী ছিলেন। উল্লেখ্য, তিনি ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের বাবা।)

বাংলা ভাষায় নবীপ্রেমের কবিতা ও গান
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২৯

প্রতিশোধ নয়, উদারতা
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২৬

সাহিত্যে সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২৫

গ্রন্থ পরিচিতি
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২১

মোশাররফ হোসেন খান
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:২০