বাংলাদেশের গ্যাস ভারতের নিঃশব্দ লুণ্ঠন
২৫ আগস্ট ২০২৬ ২২:৪১
অফশোর অনুসন্ধানে এগিয়ে প্রতিবেশী, পিছিয়ে দেশ
॥ সৈয়দ খালিদ হোসেন ॥
এক পাশে বাংলাদেশ, অন্য পাশে ভারত। মাঝখানে আন্তর্জাতিক সীমান্ত। মাটির ওপরে সীমারেখা স্পষ্ট হলেও ভূগর্ভে সেই সীমারেখা নেই। বিশেষ করে কোনো গ্যাসক্ষেত্র যদি দুই দেশের সীমান্তের নিচে একই ভূতাত্ত্বিক কাঠামোর মধ্যে বিস্তৃত থাকে, তাহলে এক দেশের কূপে উৎপাদনের ফলে অন্য দেশের অংশে চাপ ও গ্যাসের প্রবাহে পরিবর্তন হতে পারে। অনেক সময় এটিকে গ্যাসপ্রবাহের পরিবর্তন হিসেবে দেখলে চলবে না, সীমান্তে ‘পাম্প বসিয়ে বাংলাদেশের গ্যাস শূন্য করে দিচ্ছে ভারত’- এমন অংকই মেলাতে হবে। যেটি ‘নিঃশব্দ লুণ্ঠনও’ বলা যায়। কারণ, বাংলাদেশ অংশে গ্যাস কূপ অনুন্ধানের নামে মাটি খোঁড়াখুঁড়িতে যখন ১৪ বছর কাটিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন ভারত চোখ বন্ধ করে ঘুমায়নি। বরং দেশটি একের পর অনুসন্ধান ও উত্তোলন সমানভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সীমান্তের একেবারে কাছাকাছি ভারতের ত্রিপুরায় বছরের পর বছর ধরে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন চলছে। ভারতীয় সরকারি নথিতে ত্রিপুরার একাধিক গ্যাসক্ষেত্র থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনের তথ্যও রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে- এই উৎপাদনের কোনো অংশ কি বাংলাদেশের ভূগর্ভস্থ গ্যাস মজুদের সঙ্গে যুক্ত? আর যদি যুক্ত হয়, তাহলে বাংলাদেশ কি নিজস্ব গ্যাস হারাচ্ছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে (ভূগর্ভস্থ ও সমুদ্র) থাকা গ্যাসাধার থেকে ভারতের গ্যাস উত্তোলনের কারণে বাংলাদেশের অংশে চাপ কমছে কি না, গ্যাসের প্রবাহের দিক পরিবর্তন হচ্ছে কি না কিংবা মজুদের ওপর প্রভাব পড়ছে কি না- এসব নির্ণয় খুবই জরুরি। এজন্য ভূতাত্ত্বিক তথ্য, কূপের চাপ, উৎপাদনহার ও সিসমিক ডাটা (ভূগর্ভের/সমুদ্রতলের নিচের শিলাস্তরগুলোর একটি ‘শব্দভিত্তিক ছবি’ বা মানচিত্রভিত্তিক তথ্য) বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
সীমান্ত থেকে এক কিলোমিটারেরও কম দূরে অনুসন্ধান ভারতের
ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরার বারামুড়া-দেবতামুড়া এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম চলছে। সংশ্লিষ্ট পরিবেশগত নথিতে অনুসন্ধান এলাকার পূর্ব সীমানা থেকে বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্তের দূরত্ব এক কিলোমিটারেরও কম বলে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের সীমান্তের খুব কাছেই ভারতের অনুসন্ধান এলাকা। ত্রিপুরায় ভারত যে গ্যাস তুলছে, সেটি নিয়ে সন্দেহের ঊর্ধ্বে। ভারতের Directorate General of Hydrocarbons-এর ২০২৪-২৫ সালের প্রতিবেদনে ত্রিপুরার আগরতলা ডোম, কোনাবান, মানিক্যানগর-রোখিয়া, বারামুড়া ও সুন্দরবাড়িসহ একাধিক উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্রের তথ্য দেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে মোট ৩৭৫টি উৎপাদনরত কূপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে আগরতলা ডোমের সঞ্চিত উৎপাদন ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ঘনমিটার, কোনাবানে ৭ দশমিক ৭, মানিক্যানগর-রোখিয়ায় ৪ দশমিক ২, বারামুড়ায় ২ দশমিক ৫ এবং সুন্দরবাড়িতে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ঘনমিটার উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ সীমান্তের ওপারে ত্রিপুরায় গ্যাস অনুসন্ধান শুধু কাগজে-কলমে নেই; সেখানে দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদনও চলছে। আর সীশান্তের অতি নিকট থেকে ভারতের গ্যাস উত্তোলনের ফলে বাংলাদেশ অংশ থাকা গ্যাসেও ভারতের অংশ চলে যাচ্ছে- এটাই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুন্দরবাড়ি-১৬: সীমান্ত অঞ্চলে নতুন গ্যাসের সন্ধান
ত্রিপুরার সুন্দরবাড়ি এলাকায় ভারত সরকারের মালিকানাধীন বৃহৎ রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি Oil and Natural Gas Corporation Limited (ONGC)-এর Sundulbari-16 অনুসন্ধান কূপ পরীক্ষার সময় উল্লেখযোগ্য গ্যাসপ্রবাহ পাওয়া যায়। ভারতের Directorate General of Hydrocarbons (DGH) বা হাইড্রোকার্বন মহাপরিচালকের দপ্তর প্রকাশিত সরকারি নথিতে বিভিন্ন পরীক্ষায় কূপটি সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৭৫ ঘনমিটার গ্যাস প্রতিদিন প্রবাহ দেখিয়েছে। নথিতে এটিকে নতুন গ্যাসের পুল হিসেবে চিহ্নিত করে ওই এলাকায় আরও অনুসন্ধানের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের সীমান্তের কাছাকাছি ত্রিপুরা অঞ্চলে ভারতের গ্যাস সম্পদের উপস্থিতি যে বাস্তব, তা সরকারি তথ্যেই স্পষ্ট।
এখানে প্রশ্ন হচ্ছে- ‘এই গ্যাস কি শুধু ভারতের ভূখণ্ডের ভূতাত্ত্বিক কাঠামোর নিজস্ব সম্পদ, নাকি একই গ্যাসাধার বাংলাদেশের ভূগর্ভেও বিস্তৃত? এ প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ হলে সীমান্তের কাছাকাছি কূপ থেকে দিয়ে ‘বাংলাদেশের গ্যাস ভারতে চলে যাচ্ছে’ বা কৌশলে বাংলাদেশের গ্যাস চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে ভারত। ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভূগর্ভে যেহেতু সীমানা নেই, সেহেতু এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের গ্যাস নিয়ে যাচ্ছে ভারত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি একটি গ্যাসক্ষেত্র দুই দেশের ভূখণ্ডের নিচে একইভাবে বিস্তৃত হয় এবং এক পাশে কূপ খনন করে উৎপাদন করা হয়, তাহলে অন্য পাশের গ্যাস সেই উৎপাদন ব্যবস্থার প্রভাবে আসতে পারে। ভারত যদি নিজের অংশে গ্যাস পেয়ে থাকে এবং সেটি আলাদা গ্যাসক্ষেত্র হয়, তাহলে সেটি ভারতেরই সম্পদ। কিন্তু সীমান্তঘেঁষা একই গ্যাসাধার হলে বিষয়টি ভিন্ন। বাংলাদেশ ও ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ভূখণ্ড বৃহত্তর একই ভূতাত্ত্বিক ব্যবস্থার অংশ হওয়ায় ভারতের কোনো কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হলে বাংলাদেশের অংশ থেকে গ্যাস চলে যায়।
বঙ্গোপসাগরেও ভারতের অনুসন্ধান
২০১৪ সালের আন্তর্জাতিক সালিশি রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হয়। সেই রায়ে দুই দেশের সামুদ্রিক অধিকার ক্ষেত্রের সীমা নির্ধারণ করা হয়। এরপর ভারত নিজের সমুদ্রসীমায় বঙ্গোপসাগরের বেঙ্গল-পূর্ণিয়া অববাহিকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে BP-OSHP-2022/1 (Bengal–Purnea Basin-Gi GKwU shallow-water offshore exploration block) নামে প্রায় ৫ হাজার ৭৫৫ বর্গকিলোমিটারের একটি অগভীর সমুদ্র ব্লক Oil and Natural Gas Corporation Limited (ONGC)-এর কাছে যায়। ভারতীয় সরকারি তথ্যানুযায়ী, এটি অনুসন্ধানাধীন ব্লক। জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরের অফশোর অংশে ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস উৎপাদন এলাকা হলো কৃষ্ণা-গোদাবরী বেসিন, যা অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে অবস্থিত। এই বেসিনের গভীর সমুদ্র ব্লকগুলোয় একাধিক বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কে জি-ডি-৬ ব্লক, যেখানে ভারতের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার ভেতরে থাকা অফশোর ব্লকগুলোয় সম্ভাব্য গ্যাস মজুদের সম্ভাবনা রয়েছে। এখনো পুরোপুরি প্রমাণিত নয়, তবে এগুলোকে সম্ভাব্য সম্পদ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
‘সমুদ্র মন্থন’ অনুসন্ধান প্রকল্প অনুমোদন ভারতের
ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ‘সমুদ্র মন্থন’ অর্থাৎ দেশটির জাতীয় অফশোর অনুসন্ধান প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এটি পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের একটি কেন্দ্রীয় খাতের প্রকল্প, যার জন্য ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য ৮৪,০৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদিত হয়েছে। ভারতের অফশোর শক্তি সম্ভাবনাকে উন্মোচন করার জন্য ‘সমুদ্র মন্থন’ হবে আধুনিক প্রকল্প। ভারত সরকারের ভাষ্য এটি ভারতের শক্তি সুরক্ষাকে শক্তিশালী করা, দেশীয় অনুসন্ধান ও উৎপাদনকে ত্বরান্বিত করা, প্রযুক্তিগত নেতৃত্বকে উৎসাহিত করা এবং ‘বিক্ষুব্ধ ভারত’-এর স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই প্রকল্পটি অফশোর অনুসন্ধান ভ্যালু চেইন জুড়ে বিস্তৃত হস্তক্ষেপের একটি ব্যাপক পরিসরকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর আওতায় বৃহৎ পরিসরে উচ্চমানের সিসমিক ডাটা সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও ব্যাখ্যা, গভীর ও অতিগভীর জলে অনুসন্ধানমূলক ড্রিলিংয়ের গতি বৃদ্ধি, সীমান্ত অববাহিকায় বৈজ্ঞানিক ড্রিলিং, সাধারণ অফশোর উৎপাদন ও নিষ্কাশন পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং একটি সমন্বিত তেল ও গ্যাস উৎপাদন ও পরিষেবা অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা রয়েছে। এতে ডিজিটাল প্রোগ্রাম ব্যবস্থাপনা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি গ্রহণ, অংশীজনদের সম্পৃক্ততা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য বিশেষ বিধানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা দেশটির অফশোর অনুসন্ধান ও উৎপাদনকে ত্বরান্বিত করার জন্য একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম তৈরি করবে।
সমুদ্র মন্থন প্রকল্পটি ৬০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন তেল সমতুল্য (MMTOE)-এর বেশি মজুদ বৃদ্ধিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে, অফশোর অনুসন্ধান কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে, দেশে তেল ও গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর অধীনে দেশীয় উৎপাদনকে শক্তিশালী করবে এবং অফশোর প্রযুক্তি ও পরিষেবার জন্য একটি বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলবে। এই প্রকল্পটি অনুসন্ধান ও উৎপাদন ভ্যালু চেইনজুড়ে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে এবং শিল্প, উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ তৈরি করবে।
অথচ ২০১২ সালের পরও বড় আবিষ্কার নেই বাংলাদেশের
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর বাংলাদেশের সামনে বিশাল সামুদ্রিক অঞ্চল উন্মুক্ত হয়। এরপর ২০১২ সালের অফশোর বিডিং রাউন্ডে ভারতের ONGC Videsh, Oil India এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স-BAPEX) যৌথভাবে SS-04 ও SS-09 ব্লক পায়। পরবর্তীতে সেখানে অনুসন্ধান কার্যক্রমও হয়। কিন্তু বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে এখনো বড় বাণিজ্যিক গ্যাস আবিষ্কার হয়নি। অন্যদিকে ভারত নিজের অফশোর অঞ্চলে অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে। ভারতীয় সরকার ২০২৬ সালে ‘সমুদ্র মন্থন’ নামে বড় আকারের জাতীয় অফশোর অনুসন্ধান কর্মসূচি অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে গভীর ও অতিগভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান, সিসমিক জরিপ ও ড্রিলিং বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তাহলে আশা কোথায়?
বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে বঙ্গোপসাগরের গভীর ও অগভীর সমুদ্র এলাকার মধ্যে গভীর সমুদ্রে ১৫টি ও অগভীর সমুদ্রে ১১টি ব্লকসহ মোট ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের পর ৫টি বিদেশি কোম্পানি ডাটা প্যাকেজ কিনেছে। তবে এখন পর্যন্ত কতোটি কোম্পানি দরপত্র নিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পেট্রোবাংলার সূত্রে জানা গেছে, এখনো দরপত্র জমা দেওয়ার অনেক সময়ে (৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ২০২৬) রয়েছে। অফশোর বিডিং রাউন্ডের (আন্তর্জাতিক দরপত্র) বিষয়ে অনেক কোম্পানি আগ্রহ দেখাচ্ছে। জানা যায়, সিঙ্গাপুরভিত্তিক আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানি ক্রিসএনার্জি, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি বিরিংগিয়া এনার্জি গ্লোবালের লোকাল এজেন্ট বিরিংগিয়া পাওয়ার বাংলাদেশ লিমিটেড, পিয়াল এনার্জি অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, জাপানি কোম্পানি অনোডা ইনকরপোরেটেড এবং নরওয়েজিয়ান কোম্পানি রিস্টাড এনার্জি সমুদ্রের ডাটা প্যাকেজ কিনেছে। এর মধ্যে ক্রিস এনার্জি বাংলাদেশের ৯ নম্বর ব্লকে অবস্থিত কুমিল্লার বাঙ্গুরা গ্যাসক্ষেত্রে কাজ করছে।
এর আগে ২০২৪ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। তখন ৭টি বহুজাতিক কোম্পানি দরপত্র কিনলেও কেউই তা জমা দেয়নি। তখন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় ‘বিডিং রাউন্ড-২০২৪’। পরবর্তীকালে এর কারণ অনুসন্ধানে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত কমিটির সুপারিশে পিএসসি-২০২৬-এ একাধিক সংশোধনী আনা হয়। এতে গ্যাসের দাম নির্ধারণে পাঁচ বছরের গড় বাজারদর বিবেচনা এবং তথ্য প্যাকেজের মূল্য ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে এবারের দরপত্রে বেশি সাড়া পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ভূগর্ভে তো আর বর্ডার নাই। তো ফিল্ড যদি কমন হয় এবং ওরা (ভারত) যদি একটা ড্রিল করে, তো তখন তো ওই আমাদের এদিকের (বাংলাদেশ অংশের) গ্যাস তো ওখানে (ভারতে) যেতে পারে। অনেক সময় কূপের এক কিলোমিটার দূরত্বে গ্যাস পাওয়া যায় না। কিন্তু একেবারেই যদি বাংলাদেশের বর্ডারঘেঁষে তারা (ভারত) কূপ খনন করে, তাহলে অবশ্যই আমাদেরও গ্যাস হয়তো তারা পেয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমার কথা হচ্ছেÑ আমাদের গ্যাসের এখন এত ডিমান্ড, ফলে আমাদের নিজের স্থলভাগে আমাদের বর্ডারের মধ্যে এরিয়ায় আমাদের গ্যাস বের করতে হবে, এজন্য অনুসন্ধান চালাতে হবে।
ড. ইজাজ হোসেন বলেন, আমরা তো সমুদ্র জয় করলাম, তা কত বছর হয়ে গেল। অনেক বছর হয়ে গেল। এত বছরেও আমরা ভালোভাবে করতে পারলাম না। একেবারেই করি নাই, সেটা বলা যায় না। গ্যাসের কিছু সন্ধানও পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু তখন আমাদের অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাত খরচ বেশি চেয়েছিল। ফলে কিন্তু তখন আমরা ইন্টারেস্টেড ছিলাম না, সরকার তখন বলেছিল না চুক্তির বাইরে আমরা কিছু করতে পারব না, করে নাই। ড. ইজাজ হোসেন এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, এখন আমাদের যেটা করতে হবে গভীর সমুদ্রে আমাদেরও অনুসন্ধান করতে হবে। গভীর সমুদ্রে পাওয়ার ব্যাপারে তো টেন্ডার হয়েছে। তো দেখা যাক ওখানে যদি আমরা কিছু পাই।
বুয়েটের পেট্রোলিয়াম প্রকৌশল বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম বলেন, সীমান্ত এলাকায় গ্যাস কূপ রয়েছে কিনা, তা অনুসন্ধান দরকার আছে এবং এটা খুই জরুরি। তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আগেও চেষ্টা হয়েছিল অনুসন্ধানের। এবারও টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। দেখা যাক, প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নেয় কিনা।