৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস

নির্বাচিত সরকারের আচরণ হতাশাজনক


২৫ আগস্ট ২০২৬ ২২:১৩

স্টাফ রিপোর্টার : প্রতি বছরের মতো এবারও ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হবে। এবারের গুম দিবসের প্রতিপাদ্য হলো- ‘ Victims first. Actions now’, (ভুক্তভোগীই প্রথম। এখনই পদক্ষেপ বা আগে ভুক্তভোগী, এখনই করণীয়)। ২০২৬ সাল ‘বলপূর্বক অন্তর্ধান (গুম) থেকে সকল ব্যক্তিকে সুরক্ষার আন্তর্জাতিক সনদ’ গৃহীত হওয়ার ২০তম বার্ষিকী। জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী গুমের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, স্মরণ এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাতে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়ে আসছে। কারণ গৃহীত বা পাস হয়েছিল ২০ ডিসেম্বর ২০০৬ সালে। সেই হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালটি এই ঐতিহাসিক সনদ গ্রহণের ২০তম বার্ষিকী (CED20)।
৩০ আগস্ট তারিখটিকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয় ২০১১ সালে। অর্থাৎ দিবসটি পালনের বয়স হিসাব করলে ২০২৬ সালে এসে এটি হয় ১৬তম দিবস। কিন্তু ‘সুরক্ষার আন্তর্জাতিক সনদ’ গৃহীত বা পাস হয়েছিল ২০ ডিসেম্বর ২০০৬ সালে।
বাংলাদেশে বিগত পতিত ফ্যাসিস্ট ও সন্ত্রাসের দায়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দেড় যুগে বাংলাদেশ গুমরাজ্যে পরিণত হয়েছিলো। দেশবাসী আশা করেছিলো, ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের পর গুমের বিচার ও এ-সংক্রান্ত কঠিন আইন করবে নির্বাচিত সরকার। কিন্তু দুঃখজনক হলেও বিএনপি আগের পথে হাঁটছে বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পাস না করায় সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। আগের অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগে গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দেশ পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ড. নাবিলা ইদ্রিস বলেছেন যে, খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০২৬, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং র‌্যাব-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত নতুন আইনগুলোয় অপরাধে অভিযুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেই নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যেসব সংস্থা বা বাহিনী মানবাধিকার লঙ্ঘন বা গুমের অভিযোগে অভিযুক্ত, তাদের নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে স্বাধীনভাবে তদন্ত করার সুযোগ রাখা হলে বিচার ও জবাবদিহি চরমভাবে ব্যাহত হবে। এর মাধ্যমে মূলত স্বাধীন তদন্তের পথ সংকুচিত করা হয়েছে এবং এতে ভুক্তভোগী কিংবা অভিযুক্ত কোনো পক্ষই প্রকৃত সুরক্ষা পাবে না।