হরিপুরে আমাই দিঘীর সৌন্দর্য ভেঙে পড়েছে, আয়ের টাকা কার হাতে?


২২ জুলাই ২০২৬ ১৫:০৮

হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা : জেলা সদর হতে ৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন পাখি ডাকা শান্ত পরিবেশের মধ্যেখানে দিঘীটি খনন করেন তৎকালীন হরিপুরের জমিদার। দুই একর ৯৩ শতক জমির পুকুরটি খননের সময়কাল থেকে অদ্যাবধি পানি শুকিয়ে যায়নি- এমনটি জানান স্থানীয়রা।
উপজেলা র্নিবাহী কর্মকর্তা জানান, এই পুকুর ডাক দেওয়া হয় না, এটি উপজেলা পরিষদ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত এবং সাহেরত ফরমেটের আওতার বাইরে। বীর মক্তিযোদ্ধা নগেন পালসহ আরও অনেকে জানান, টিকিটের মাধ্যমে ছিপ বা হুইল ছিপের সাহায্যে পুকুরটিতে মাছ শিকার করা হতো। কিন্তু টিকিটের মাধ্যমে আয় হওয়া অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে তার স্পষ্টতা নেই।
বিগত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে এডিপি খাত থেকে পুনরায় পুকুরটি সংস্কার বাবদ ৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। খনন কাজটি পরিচালনা ও সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল করিম। এই দিঘির পাড়ে প্রতিদিন সন্ধ্যাকালীন ও প্রাতঃসকালবেলা অফিস স্টাফ এবং স্থানীয়দের অনেকেই ব্যায়াম হাঁটাহাটি করতেন। কিন্তু আজ সেটি বিলীনের পথে, দেখার যেন কেউ নাই?
জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার জন্য দিঘীর চার পাড়ের ওপর ঢালাই দিয়ে ওপরে বিট টালী/টাইলস স্থাপন করা হলেও তা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, পুকুর পাড়টিতে বসানো টাইলসগুলোর অনেকগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। হাঁটার পথটির সাইডের কোথাও কোথাও মাঝের টাইলস উঠে গিয়ে খাল খন্দকে পরিণত হতে চলেছে। টাইলসের অংশগুলো অনেক স্থানে ভেঙে পড়েছে। দিঘীর চার ধারে সিমেন্টের খুঁটি, তারের বেড়া দিয়ে ধারে ধারে মালটা, কমলালেবু, ড্রাগন, কাজুবাদামসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলবান বৃক্ষ, ফুলের গাছ রোপন করা হয়েছিল। কিছু গাছ থাকলেও পরির্চযা ও সংরক্ষণের অভাবে তারের বেড়া খুটি ভেঙে পড়ায় সৌন্দর্য বিলীন হতে বসেছে। দিঘীর দক্ষিণ পূর্বকোনে একটি নার্সারি রয়েছে। তার পাশেই অনেকগুলো তালগাছের শিশু চারা রয়েছে। এই ছোট গাছগুলো পানি ও পরির্চযার অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চন্দন কর জানান, দিঘীর তিন দিকে মজবুত করে সীমানা প্রচীর, লাইটিং, সিসি ক্যমেরা স্থাপন করার পর মাদকসেবীদের উৎখাত করতে পাকা রাস্তাটি মেরামত করে জনর্দুভোগ কমানোর চেষ্টা করব। এলাকাবসীর দাবি, পর্যাপ্ত বরাদ্ধ দিয়ে পুকুরটির সংস্কার করে হাঁটার উপযোগী ও দৃষ্টিনন্দন করতে হবে। যার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা ও সৌন্দর্যবর্ধন দুটিই হবে। একইসঙ্গে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অপরাধীদের প্রবেশ বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা যেন নেয়া হয়।