গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা আমাদের অঙ্গীকার–বিরোধীদলীয় নেতা
১৬ জুলাই ২০২৬ ০৯:৪২
স্টাফ রিপোর্টার : সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি প্রত্যাখ্যান করে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা। গত ১৩ জুলাই সোমবার রাতে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত ১৭ সদস্যের সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ সংসদীয় কমিটির ১২ সদস্যের নাম সংসদে প্রস্তাব করেন। সংসদে সদস্যদের নাম প্রস্তাব করার কয়েক মিনিট পরই বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন। বিরোধীদলীয় নেতা জানান, শুরু থেকেই তারা সংবিধান সংশোধনের বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে যোগ দেওয়ার বিপক্ষে ছিলেন। চিফ হুইপ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের সঙ্গে এ কমিটিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে যোগাযোগ করেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমরা কখনো বলিনি যে কমিটির জন্য সদস্যদের নাম দেব। নীতিগতভাবেই আমরা এটি গ্রহণ করিনি। আমরা বলেছি, আমরা জাতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেমন ছিলেন বর্তমান সরকারি দল। নির্বাচনের আগে আমরা সবাই জনগণকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সেই রায় বাস্তবায়ন করব। সেই অঙ্গীকার থেকেই আমরা দুটি শপথ নিয়েছি, একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং আরেকটি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা মনে করি, দুইটা শপথই বহাল আছে। ওই শপথকে পাশ কাটাতে যদি এ কমিটি করা হয়, তাহলে এই প্রস্তাব আমরা প্রত্যাখ্যান করছি এবং আমাদের আগের অবস্থানেই আছি।’
বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনকে জনগণের ইচ্ছার পরিপন্থী উল্লেখ করে রাত ৯টা ২৫ মিনিটে ডা. শফিকুর রহমান সংসদ থেকে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন। এর পর তিনি অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে প্রেস বিফ্রিং করেন। সময় তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, গণতন্ত্র মানে জনগণের রায়কে সম্মান করা। ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশের মতো জনসমর্থনকে যদি সহজেই উপেক্ষা করা হয়, তাহলে জনগণ শুধু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা হারাবে না, বরং বিদ্রোহীও হয়ে উঠতে পারে।’ বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ‘জনগণের এই অভিপ্রায়কে কোনোভাবেই অগ্রাহ্য বা অপমান করা উচিত হবে না। জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা এই কমিটিতে যোগ দেব না এবং এই পর্বে অংশগ্রহণ করব না। জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো হচ্ছে না, বিধায় আমরা ওয়াকআউট করছি।’
সংসদ নেতা তারেক রহমানের পক্ষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। এ কমিটি ১৭ সদস্যের হওয়ার কথা ছিল। এতে পাঁচজনের নাম দিতে বিরোধীদলকে অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে বিরোধীদল কারো নাম দেয়নি। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে অনড় রয়েছে।
চিফ হুইপ সংসদকে জানান, বিরোধীদলের নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করা হলেও তারা কোনো সদস্যের নাম দেননি। তাই আপাতত পাঁচটি পদ শূন্য রেখে ১২ সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হচ্ছে। পরে বিরোধীদল নাম দিলে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি পুনর্গঠন করা হবে।
বিশেষ কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে। কমিটির সদস্যরা হলেনÑ বিএনপির সংসদ সদস্য চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন, মীর হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমিন, শাকিলা ফারজানা, মাহমুদুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের সংসদ সদস্য জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের সংসদ সদস্য নুরুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মো. অলিউল্লাহ।