সংবাদপত্রের পাতা থেকে


১৫ জুলাই ২০২৬ ২০:৫৮

চলতি সপ্তাহে দেশের আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো চট্টগ্রাম বিভাগের বন্যায় হতাহত ও বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি। বেশিরভাগ গণমাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে সংবাদটি সপ্তাহজুড়ে ছেপেছে। এছাড়া টানা বর্ষণে রাজধানীতে জলাবদ্ধতাসহ সারা দেশে বৈরী অবস্থায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষাথীদের ক্ষোভ ও বিক্ষোভ। এছাড়া সংসদে সংবিধান সংস্কার ও সংশোধন নিয়ে উত্তপ্ত অবস্থা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদাবাজি ও অর্থ লুটের ঘটনাটিও বেশ আলোচিত ছিল। আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধও স্থান পেয়েছে গণমাধ্যমের খবরগুলোয়।
গত ১৫ জুলাই বুধবার প্রথম আলো প্রথম পৃষ্ঠায় ‘সংবিধান সংশোধনে নিজের পথে সরকার, অনড় বিরোধী দলও’ একটি সংবাদ ছেপেছে। এতে বলা হয়, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি না মেনে বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের পথেই এগোচ্ছে সরকারি দল। তাদের ভাষ্য, বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে। এজন্য বিশেষ কমিটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারিশ দেবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে সংসদে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হবে।
অন্যদিকে বিশেষ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে সংসদ থেকে ওয়াকআউটের পর পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল ঠিক করছে বিরোধীদল। তাদের পরিকল্পনা, সংসদে বিশেষ কমিটির বিরোধিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথের কর্মসূচি জোরদার করা।
এদিন যুগান্তর ‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, দুর্ভোগ’ শিরোনামে পত্রিকার প্রধান খবর হিসেবে ছেপেছে। এতে লিখেছে- কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সারা দেশে চরম দুর্ভোগে পড়েন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। এরই মধ্যে চলছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক এলাকায় ঘর থেকেও বের হওয়া কঠিন ছিল। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সোমবারের পরীক্ষা পেছানোর দাবি করেছিলেন। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় মন্ত্রণালয় তাদের দাবিকে গুরুত্ব না দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এতে অনেক শিক্ষার্থী বিপাকে পড়ে। বৈরী আবহাওয়ায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গ্রহণ এবং প্রশ্নপত্রের ত্রুটির অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনভর ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।
যুগান্তর চট্টগ্রামের চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। ‘চট্টগ্রামে ভয়ংকর সন্ত্রাসীরা, চাঁদাবাজের দখলে নগরী ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে’ শিরোনামের খবরে লিখেছে- চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী একটি প্রতিষ্ঠানের মালিককে ২ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে দুই দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাঁদা না দেওয়ায় ওই ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে সশস্ত্র হামলা ও লুটপাট করে তার সহযোগীরা। গত সোমবার দুপুরে নগরীর চকবাজার থানাধীন চন্দনপুরা এক্সেস রোডের অফিসে সংঘটিত এ হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
দেশে চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন করেছে দৈনিক সমকাল। পত্রিকাটি ‘এল নিনোর প্রভাবে বাংলাদেশে দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বাড়বে’ শিরোনামে লিখেছে, এল নিনোর প্রভাব আরও জোরালো হওয়ায় বাংলাদেশসহ পূর্ব আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে আগামী কয়েক সপ্তাহে বন্যা, ভূমিধস, তাপপ্রবাহ, খরা ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি)। গত সোমবার প্রকাশিত বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, কেনিয়া, উগান্ডা, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের লাখো মানুষ এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
দেশের জনস্বাস্থ্য নিয়ে দিনের প্রধান প্রতিবেদন করেছে কালের কণ্ঠ। ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধে ঝুঁকিতে কোটি প্রাণ’ শিরোনামের খবরে লিখেছে, দেশের বাজারে নীরবে বিস্তার ঘটছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বাণিজ্য। রাজধানী ঢাকা থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের ফার্মেসি, ওষুধের গুদাম, এমনকি কিছু হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারেও মিলছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ।
হামে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকির মধ্যে থাকা শিশুদের নিয়ে প্রতিবেদন করেছে মানবজমিন। ‘হাম উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু’ শিরোনামের খবরে লিখেছে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ৯৯০ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। গতকাল (১৪ জলাই মঙ্গলবার) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেইসঙ্গে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক শিশুর। গত ১৫ই মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৭১ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৫টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭৬৬টি শিশু মারা গেছে।
আমার দেশ পত্রিকা ১৫ জুলাই প্রথম পৃষ্ঠায় ‘রেলওয়ের বিজ্ঞাপনে একক নিয়ন্ত্রণ চান জিকে শামীম’ শিরোনোমের একটি খবর গুরুত্বের সাথে ছেপেছে। এতে বলা হয়েছে, রেলওয়ের সব স্টেশন, স্থাপনা, অবকাঠামো ও প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন স্থাপনে টানা ১০ বছর এককভাবে ব্যবহার করতে চান কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের আলোচিত নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম। এ বিষয়ে তাকে ‘প্রয়োজনীয় সহযোগিতা’ দিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে লিখিতভাবে নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। রেল মন্ত্রণালয়ের সূত্র আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিতর্কিত ও নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতার আবেদনে মন্ত্রীর এমন লিখিত নির্দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে মন্ত্রণালয়, রেলওয়ে সদর দপ্তর এবং এর অধীন সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে।
দৈনিক নয়া দিগন্ত ‘ইরানের সাথে ফের যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা ট্রাম্পের’ শিরোনামের খবরে লিখেছে, ইরানে টানা তৃতীয় রাতের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আবার অবরোধ আরোপের পরিকল্পনা করেছেন। একই সাথে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ফি নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এর বাইরে ইরানে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন বা কুহ-ই কোলাং গাজ লা পর্বত ধ্বংস করারও হুমকি দিয়েছেন তিনি। তবে আশার বাণী হিসেবে বলেছেন, ইরানের সাথে এখনো একটি চুক্তি সম্ভব।
পত্রিকাটি দেশের অর্থনীতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে। ‘আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বন্ড ইস্যু করে ঋণ করতে চায় সরকার’ শিরোনামে শেষ পৃষ্ঠার প্রধান খবর বলেছে, স্থানীয় বাজার থেকে অতিরিক্ত ঋণ না নেয়ার পক্ষপাতি সরকার। তবে জরুরি প্রয়োজনে ব্যয় নির্বাহের জন্য আন্তর্জাতিক বন্ড মার্কেট থেকে ঋণ নেবে সরকার। বাংলাদেশ সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাথে বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে এই বার্তাটি দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বাংলাদেশ ও হংকংবিষয়ক মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনার অর্থ বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। সেখানে অর্থ বিভাগের ঋণ ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে একথা তুলে ধরা হয় বলে জানা গেছে।
গত ১৫ জুলাই দৈনিক ইত্তেফাক ‘এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের রায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন’ শিরোনামে একটি খবরে লিখেছে, সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ২টায় সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি হলেন সাইফুর রহমান। তিনি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়া গ্রামের মো. তাহিদ মিয়ার ছেলে।
দৈনিক বণিক বার্তা ‘দেশের ৬৭ শতাংশের বেশি তরণই অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন’ শিরোনামে গত ১৫ জুলাই একটি প্রধান খবর ছেপেছে। এতে লিখেছে- দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সংঘাত ও বৈষম্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন বাংলাদেশের তরুণরা। এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান, অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান কিংবা প্রতিবেশী ভারতের তুলনায়ও দেশে তরুণদের মধ্যে এসব বিষয়ে উদ্বেগের হার বেশি। যদিও এ সময়েই জনমিতিক লভ্যাংশের (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে বাংলাদেশ। তরুণদের সংখ্যাধিক্যের এ সুফল ২০৪০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করেন গবেষকরা।
বাংলাদেশ প্রতিদিন গত ১৫ জুলাই ‘পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে উঠছে ক্ষতচিহ্ন’ শিরোনামে পত্রিকার প্রধান খবরে বলেছে, আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়িঘরে ফিরেও নেই স্বস্তি। ঘরগুলো এখনো থাকার অনুপযুক্ত। অনেকের মাটির ঘর ধসে পড়েছে। মিলছে না প্রয়োজনীয় ওষুধ। চলছে খাবারের তীব্র সংকট। অনেক এলাকায় সড়ক বিধ্বস্ত হয়ে বিচ্ছিন্ন রয়েছে যোগাযোগ। সঙ্গে সাপের উপদ্রব। শুধু কক্সবাজারেই ১ হাজার ৬১৩টি বসতবাড়ি, ২ হাজার ৪৮ কিলোমিটার সড়ক, ৭৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত ১৪ জুলাই যুগান্তর প্রধান খবর হিসেবে দেশের মেধা পাচারের বিষয়টি তুলে ধরেছে। ‘দেশের প্রদীপ জ্বলে বিদেশে’ শিরোনামের খবরে বলা হয়, উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিবছর হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। তবে তাদের বড় একটি অংশই পড়াশোনা শেষ করে আর দেশে ফিরছে না। উন্নত কর্মপরিবেশ, গবেষণার বিস্তৃত সুযোগ, উচ্চ বেতন, স্থায়ী বসবাসের সুযোগ এবং উন্নতমানের জীবন আকর্ষণে তারা বিদেশেই ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন। ফলে দেশের তরুণ মেধাবীদের আলোয় আলোকিত হচ্ছে বিশ্বের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার, হাসপাতাল, প্রযুক্তিসহ নানা প্রতিষ্ঠান।
প্রথম আলো গত ১৪ জুলাই ‘পানি কমছে, লড়াই টিকে থাকার’ শিরোনামে প্রধান খবর ছেপেছে । প্রতিবেদনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বরাতে এতে বলা হয়েছে, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, মৌলভীবাজারের ৫৯ উপজেলা বন্যা প্লাবিত হয়েছে। এসব অঞ্চলে বন্যার পানি কমে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে ক্ষতির চিত্র। বাসিন্দারা ঘরবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে শুরু হয়েছে টিকে থাকার নতুন লড়াই।
গত ১৪ জুলাই আমার দেশ প্রথম পৃষ্ঠায় গুরুত্বের সাথে ‘ডিআইজি আনিসের ‘জঙ্গি নাটক’ ৯ বছর পর নির্দোষ চার পরিবার’ শিরোনামে একটি সংবাদ ছেপেছে। খবরটিতে বলা হয়- যশোরে চার পরিবারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ‘জঙ্গি’ নাটক মামলা দীর্ঘ ৯ বছর পর শেষ হয়েছে। জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনার পতনের পর সম্প্রতি আদালত তাদের নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস দিয়েছে। এ মামলায় ভুক্তভোগী তানজির আহমেদ, মো. মহিউদ্দিন, মেহেদী হাসান পাশা ও সাদ্দাম ইয়াসির সজলের জীবন ও ক্যারিয়ার তছনছ হয়ে গেছে।
তাদের অভিযোগ, এ মামলার নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করেছেন যশোরের তৎকালীন পুলিশ সুপার ও পরবর্তী সময়ে রাজশাহীর ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, তার নির্দেশে তরুণদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলার পাশাপাশি আবু সাঈদ নামে বিএনপির এক কর্মীকে কথিত ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে।
পত্রিকাটি ‘সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন, বিরোধীদলের ওয়াকআউট’ শিরোনামে আরেকটি খবর ছেপেছে। এতে বলা হয়, সংবিধান সংস্কার পরিষদকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেছে বিরোধীদল। গত সোমবার রাতে কমিটি গঠনের সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধীদল ওয়াকআউট করে। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সংসদ নেতার পক্ষে এ কমিটির নাম প্রস্তাব করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগের ঘোষণা মতে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের কথা থাকলেও বিরোধী দল সদস্যদের নাম প্রস্তাব না করায় ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা গত ১৪ জুলাই ‘গাইবান্ধার সেই হরিদাস চন্দ্র রিমান্ডে’ শিরোনামে একটি সংবাদ ছেপেছে। এতে বলা হয়, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
গত রোববার রাতে গাইবান্ধা জেলা পুলিশের সহায়তায় পলাশবাড়ীর রামমন্দির থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল সোমবার দুপুরে হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেফতারের বিষয়টি জানান গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জসীম উদ্দিন। মুঠোফোনে তিনি জানান, ঢাকায় দায়ের হওয়া মানি লন্ডারিং মামলায় হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেফতার করা হয়। তার ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১০ কোটি টাকা অবৈধ লেনদেন ছিল, এটা নগদ লেনদেন। এ ছাড়া হুন্ডির মাধ্যমেও লেনদেন হয়েছে।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা- আবু জায়েদ আনসারী