সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
২৫ জুন ২০২৬ ১০:৩৯
মসজিদ-মাদ্রাসা ভাঙার প্রতিবাদে ভারতজুড়ে মুসলিমদের গণ আন্দোলনের ডাক
ভারতে মুসলিমদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিককরণ এবং বিভিন্ন রাজ্যে মসজিদ ও মাদরাসা ভাঙার প্রতিবাদে এক তীব্র গণ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড (এআইএমপিএলবি)। গত সোমবার (২২ জুন) বোর্ডের কার্যনির্বাহী কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বিষয়টির সুষ্ঠু তদারকির জন্য একটি বিশেষ ‘অ্যাকশন কমিটি’ বা সংগ্রাম কমিটিও গঠন করেছে তারা। বোর্ডের মুখপাত্র ড. এস কিউ আর ইলিয়াস সাংবাদিকদের জানান, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোয় মুসলিমদের ঘরবাড়ি, এলাকা, মসজিদ এবং মাদরাসা লক্ষ করে চালানো উচ্ছেদ অভিযান বা ‘বুলডোজার সন্ত্রাস’ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেই সঙ্গে গণপিটুনি (লঞ্চিং), সরকারি অনুষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জোরপূর্বক ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ানোর বাধ্যবাধকতা এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) কার্যকরের মতো ইস্যুগুলোয় ভারতের মুসলিম সমাজ আজ গভীর সংকটের মুখে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলিমদের জীবন, সম্পত্তি, সম্মান, ধর্মীয় অধিকার এবং বিশ্বাস ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হচ্ছে। অথচ দেশের কোনো রাজনৈতিক দলই এমনকি কংগ্রেসও মুসলিমদের এই সংকট নিয়ে জোরালোভাবে সোচ্চার হচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলোর এই উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশের গণতন্ত্রকামী, শান্তিপ্রিয় ও ন্যায়পরায়ণ নাগরিকদের সঙ্গে নিয়ে তারা এই আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করবে। এছাড়া মধ্যপ্রদেশের কামাল মওলা (ভোজশালা) মসজিদ নিয়ে হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়টির ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড। তাদের মতে, ঐতিহাসিক প্রমাণ ও ব্রিটিশ আমলের নথি উপেক্ষা করে এ রায় দেওয়া হয়েছে, যা ১৯৯১ সালের ধর্মীয় উপাসনালয় আইনের পরিপন্থী। বোর্ড আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, দেশের নাগরিকদের ওপর জোর করে ‘বন্দে মাতরম’ চাপিয়ে দেওয়া ভারতের সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করে। যদি কেন্দ্রীয় সরকার এটি বাধ্যতামূলক করার কোনো চেষ্টা করে, তবে বোর্ড আদালতের দ্বারস্থ হবে। পাশাপাশি উত্তরাখণ্ড ও গুজরাটের পর আসাম, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রেও যেভাবে ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের পাঁয়তারা চলছে, তার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভারতের শীর্ষস্থানীয় এই মুসলিম সংগঠনটি। ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর এই মানবাধিকার ও আইনি লড়াইকে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে শিগগিরই একটি বিস্তারিত ও শ্বেতপত্র বা তথ্যসমৃদ্ধ নথি প্রকাশ করা হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সিয়াসত ডেইলি।
মিয়ানমারের মানবিক সঙ্কট আরো গভীর হচ্ছে : জাতিসংঘ
মিয়ানমারের রাজনৈতিক, মানবিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি দিন দিন আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ। গত ১৯ জুন শুক্রবার সাধারণ পরিষদের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে তিনি বলেন, দেশটিতে সহিংসতা, গণবাস্তুচ্যুত হওয়া এবং সংঘটিত অপরাধ ব্যাপকভাবে বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে পুরো অঞ্চলে। ২০২১ সালে সামরিক জান্তা ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক মহল বারবার যুদ্ধ থামানো, আলোচনা ও বেসামরিক মানুষের সুরক্ষার আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি ক্রমাগত জটিল হচ্ছে। জুলি বিশপ স্পষ্ট করে বলেছেন, মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি ভয়াবহ মেরুকরণ ও অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে এবং সেখানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা এখনো অত্যন্ত ভয়াবহ। দেশটির এই দীর্ঘদিনের অস্থিরতা এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত জানান, মিয়ানমার বর্তমানে সাইবার অপরাধের আন্তর্জাতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এটি মেথামফেটামিন ও আফিমের বড় উৎস এবং ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে হতাহতের দিক থেকে বিশ্বে সবার ওপরে রয়েছে। তীব্র খাদ্য সঙ্কটে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ছয়টি দেশের তালিকায় এখন মিয়ানমার অন্যতম। দেশটিতে প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ নিজেদের ভিটেমাটি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং আরো ১৬ লাখ মানুষ আশপাশের অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছে। শুধু বাংলাদেশেই প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও মিয়ানমারের মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির বিশেষ দূত সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়া ঠেকাতে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ থাকার পরও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা মিয়ানমারে তাদের কাজ চালিয়ে যাবে। একইসাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের মানুষের পাশে থাকার এবং তাদের সহায়তার আবেদনে সাড়া দিয়ে সংকট সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। মূলত ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনী বেসামরিক নেতাদের বন্দী করে ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই মিয়ানমারজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ, সংঘাত আর রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। আনাদোলু।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ
দলীয় অভ্যন্তরীণ তীব্র বিদ্রোহ ও নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জের মুখে অবশেষে নতি স্বীকার করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন স্যার কিয়ার স্টারমার। গত সোমবার (২২ জুন) এক নাটকীয় ও আবেগঘন বিবৃতিতে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় দুই বছরের মাথায় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন স্টারমার। তবে অনতিবিলম্বে তিনি ১০ ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ছেন না। স্টারমার জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন। পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে বেশ আবেগপ্রবণ দেখা যায়। একপর্যায়ে তার গলা বুজে আসে। তিনি বলেন, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়ে তিনি এখন তার পরিবারকে সময় দিতে চান। এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য স্ত্রী ভিক্টোরিয়া এবং সন্তানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। লেবার পার্টির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কথা স্বীকার করে স্টারমার বলেন, ‘আমি দলের রায় মেনে নিয়েছি। লেবার পার্টি মনে করছে, আগামী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি আর উপযুক্ত ব্যক্তি নই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তই ছিল ভালোবাসার এই দেশটিকে সবার আগে রাখার জন্য। আর সে কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’ এই সিদ্ধান্তের কথা তিনি ইতোমধ্যে রাজা চার্লসকেও অবহিত করেছেন বলে জানান। গত কয়েকদিন ধরেই কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত দলের ভেতর থেকে আসা এই বিদ্রোহের মুখে তিনি বিদায়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হলেন। এর ফলে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে আবারও এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করল। ব্রেক্সিট ভোটের পর গত ১০ বছরের মধ্যে স্টারমার হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের ষষ্ঠ বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী। এই ঘনঘন নেতৃত্ব পরিবর্তন ব্রিটেনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতাকেই স্পষ্ট করে তুলছে। স্টারমারের উত্তরাধিকারী হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন লেবার পার্টির প্রভাবশালী নেতা এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম। সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে বড় জয়ের পর বার্নহামের ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ফেরার পথ সুগম হয়েছে, যা স্টারমারের বিদায়কে আরও ত্বরান্বিত করেছে। তবে নতুন নেতৃত্ব হিসেবে বার্নহামের আগমন কতটা মসৃণ হবে, তা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে। কারণ পররাষ্ট্রনীতি বা দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এখনো প্রকাশ পায়নি। এছাড়া দলের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও নতুন নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় নামার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। সব মিলিয়ে ব্রিটেনের রাজনীতিতে এখন এক চরম নাটকীয় মুহূর্ত বিরাজ করছে। ডেইলি মেইল।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনা নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায় কালো তালিকার বিরুদ্ধে এবার পাল্টা ও কঠোর আঘাত হানলো চীন। বেইজিংয়ের প্রধান প্রধান কোম্পানিকে মার্কিন সামরিক তালিকার অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশোধ হিসেবে এবার যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে রফতানি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চীন। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে আমেরিকার রেয়ার আর্থ বা বিরল খনিজ উৎপাদক এবং ডিফেন্স বা প্রতিরক্ষা খাতের সাথে যুক্ত বেশকিছু বড় কোম্পানি। জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের অজুহাতে দুই পরাশক্তির মধ্যে যখন একে অপরের কোম্পানিকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রতিযোগিতা চলছে, ঠিক তখনই বেইজিংয়ের এই বড় পদক্ষেপ দুই দেশের বাণিজ্যযুদ্ধকে আরো উসকে দিলো। ইরানের ইংরেজি সংবাদমাধ্যম প্রেসটিভি এ খবর জানিয়েছে। চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত সোমবার (২২ জুন) পরিষ্কার জানিয়েছে যে, তারা মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাথে সম্পর্ক থাকা ১০টি মার্কিন এনটিটি বা প্রতিষ্ঠানকে তাদের রফতানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় যুক্ত করেছে। এর ফলে অ্যাভিওক্সের মতো বিশেষায়িত মোটর নির্মাতা কোম্পানি এবং এমপি মেটেরিয়ালস ও ইউএসএ রেয়ার আর্থের মতো বিরল খনিজ উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধাক্কা খেল। এখন থেকে কোনো চীনা রফতানিকারক এসব মার্কিন কোম্পানিকে ডুয়াল-ইউজ বা দ্বিমুখী ব্যবহারের পণ্য ও প্রযুক্তি সরবরাহ করতে পারবে না, যা বেসামরিক এবং সামরিক উভয় কাজেই ব্যবহার করা যেত। বেইজিং স্পষ্ট করেছে যে, মার্কিন সরকারের বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের জবাব দিতে এবং নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রক্ষা করতেই এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। একইসাথে চীনা রফতানিকারকদের ওইসব মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সাথে চলমান সব ধরনের লেনদেন অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি চীনের ফাইন্যান্স মিনিস্ট্রি বা অর্থ মন্ত্রণালয় আরো ৪৬টি মার্কিন কোম্পানির ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। নতুন নিয়মে চীনা ক্রেতারা এখন থেকে ওই ৪৬টি কোম্পানির তৈরি কোনো পণ্য কিনতে পারবে না। তবে চীনে ব্যবসা পরিচালনা করা মার্কিন অর্থায়নে গড়ে ওঠা এন্টারপ্রাইজ বা প্রতিষ্ঠানগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে এবং তারা স্বাভাবিক কেনাকাটা চালিয়ে যেতে পারবে। চলতি মাসের শুরুর দিকে ওয়াশিংটনের নেয়া এক বিতর্কিত পদক্ষেপের পাল্টা জবাব হিসেবেই বেইজিং এই ব্যবস্থা নিলো। যুক্তরাষ্ট্র তখন বেইজিংয়ের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার অভিযোগ এনে চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা গ্রুপ, সার্চ ইঞ্জিন অপারেটর বাইদু এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল বা বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি ও নিও-র মতো শীর্ষস্থানীয় চীনা কোম্পানিগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল। প্রেসটিভি।
নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল ইসরাইল
ইসরাইলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ ও নীতি পরিবর্তনের দাবিতে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার অভিযোগে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ ও নীতি পরিবর্তনের দাবিতে আবারো বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে ইসরাইলের একাধিক শহরের বাসিন্দারা। একদিকে যখন ইসরাইলের ভেতরে এই তীব্র অসন্তোষ আর বিশৃঙ্খলা চলছে, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী কূটনৈতিক মোড় দেখা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে সুইজারল্যান্ডে সরাসরি আলোচনার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গত শনিবার (১৯ জুন) ইসরাইলের তেলআবিব, জেরুসালেম, হাইফাসহ বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তেলআবিবের হাবিমাহ স্কয়ারের মূল সমাবেশে অংশ নেন ১ হাজারেরও বেশি মানুষ। সেখানে ৭ অক্টোবরের হামলায় স্বজন হারানো কারমিট পাল্টি কাটজির তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের ভুল নীতির কারণে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে পঙ্গু হয়েছে। নেতানিয়াহু কোনো রাজনৈতিক সমাধান ছাড়াই কেবল নিজের ক্ষমতা বাঁচাতে এই যুদ্ধ টেনে নিচ্ছেন। এদিকে, বিক্ষোভ দমাতে জেরুসালেমে নেতানিয়াহুর বাসভবনের কাছে আন্দোলনকারীদের সাউন্ড সিস্টেম বা মাইক কেড়ে নেয় পুলিশ। তবে দমানো যায়নি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ। হাইফার এক সমাবেশে অংশ নিয়ে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সাবেক উপপ্রধান এরান এতজিওন সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের আগে তথাকথিত ‘জাতীয় ঐক্যের’ কথা বলে আসলে সাধারণ মানুষের চোখ বেঁধে রাজনৈতিক বিভেদ আড়াল করার চেষ্টা চলছে। আনোদোলু।
কুরআন অবমাননার বিরুদ্ধে একাট্টা হিমাচল প্রদেশের সব মুসলিম সংগঠন
সোশ্যাল মিডিয়ায় পবিত্র কুরআন নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারতের হিমাচল প্রদেশের মুসলিম সংগঠনগুলো। এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি জমা দিয়েছে তারা। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ধর্মীয় পোস্ট শেয়ার করার পর এক ব্যবহারকারী কমেন্ট বক্সে অত্যন্ত আপত্তিকর ও গালিগালাজপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেন। এই মন্তব্যটি অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পর একটি প্রতিনিধি দল সিরমুরের পুলিশ সুপার (এসপি) নিশ্চিন্ত সিং নেগির সাথে দেখা করে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেয়। ‘আঞ্জুমান ইসলামিয়া’র সভাপতি ববি আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় পবিত্র কুরআনের একটি বাণী পোস্ট করেছিলাম। সেখানে এক ব্যক্তি এসে অত্যন্ত নোংরা ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাইছি।’ মুসলিম নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি প্রশাসন অবিলম্বে এ ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তবে তারা রাজ্যজুড়ে বড় ধরনের গণআন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা জানান, পবিত্র কুরআন মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য বহন করে। যেকোনো পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থকে অবমাননা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আন্দোলনকারীদের একজন বলেন, ‘আমরা বাকস্বাধীনতাকে সম্মান করি, কিন্তু বাকস্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে তা অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করতে বা সমাজে সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি করতে ব্যবহার করা হবে। আমরা আশা করি প্রশাসন আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সামাজিক শান্তি বজায় রাখবে।’ তবে নেতারা একইসাথে সবাইকে আইন নিজের হাতে না নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অনুরোধ করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে হিমাচল প্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে, বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে যে, তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে, তদন্ত চলাকালীন সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং অনলাইনে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিতে বা উসকানিমূলক তথ্য শেয়ার না করতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। দ্য ট্রিবিউন।
ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
সিন্ধু নদীর পানিবণ্টন নিয়ে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সতর্ক করে বলেছেন, দেশের পানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে পাকিস্তান সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। সম্প্রতি টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি পানি ইস্যুকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, সিন্ধু অববাহিকার পানির ওপর পাকিস্তানের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে ইসলামাবাদ প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানাবে। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন হচ্ছে বলে মনে হলে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে। এই মন্তব্য এসেছে দুই দেশের মধ্যে সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে চলমান বিরোধের প্রেক্ষাপটে। কয়েক দিন আগে ভারতের জলশক্তিমন্ত্রী সি আর পাতিল একটি বক্তব্যে ইঙ্গিত দেন যে, ২০২৮ সালের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে সিন্ধু নদীর পানিপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করার সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব হতে পারে। তার সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। মূলত ২০২৫ সালের এপ্রিলে পাহেলগামে সংঘটিত প্রাণঘাতী হামলার পর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ওই ঘটনায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের দায়ী করে এবং ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। ভারতের দাবি, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুক্তি পুনর্বহাল করা হবে না। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত এই চুক্তি অনুযায়ী সিন্ধু নদী ব্যবস্থার পানির বড় অংশ পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। ফলে দেশটির কৃষি, সেচব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য এ পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, পানিপ্রবাহে যেকোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে নদীনির্ভর কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর গুরুতর প্রভাব পড়বে। এ অবস্থায় পানি ইস্যু দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা উত্তেজনার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। এআরওয়াই নিউজ।
কানাডায় মসজিদের ইমামের ওপর হামলা
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভিক্টোরিয়া শহরে এক মসজিদের ইমামের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল কাউন্সিল অব কানাডিয়ান মুসলিমস (এনসিসিএম)। সংস্থাটি ঘটনাটিকে মুসলিমবিদ্বেষমূলক বা ইসলামোফোবিক হামলা হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। গত শনিবার (২১ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এনসিসিএম জানায়, বিসিএমএ মসজিদের ইমাম শেখ ইব্রাহিম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নামাজ শেষে নিজের গাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় এক অজ্ঞাত ব্যক্তি জোরপূর্বক গাড়ির দরজা খুলে তার ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করে এবং ইমামকে ‘নিজ দেশে ফিরে যাও’ বলে চিৎকার করে। ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বলে জানিয়েছে এনসিসিএম। সংস্থাটির দাবি, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। বিবৃতিতে বলা হয়, একজন ধর্মীয় নেতাকে লক্ষ করে এ ধরনের হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং এটি সমাজে ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়ার উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলেও নীরব থাকা যাবে না; মুসলিমবিদ্বেষ মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এনসিসিএম কানাডার রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন প্রকাশ্যে এ হামলার নিন্দা জানান এবং ঘৃণামূলক অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি এটি ঘৃণামূলক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার উপাদান রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ইমাম শেখ ইব্রাহিমের বর্তমান শারীরিক অবস্থা কিংবা হামলাকারীর বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আনাদোলু এজেন্সি।
৩৭ বছর পর কাবুলে রুশ বাহিনীর নাটকীয় প্রত্যাবর্তন
মধ্য এশিয়া থেকে সোভিয়েতদের ক্ষতবিক্ষত হয়ে ফিরে যাওয়ার এক প্রজন্ম পর, এবং সেখান থেকে মার্কিনদের পাততাড়ি গোটানোর মাত্র পাঁচ বছর বাদে, তালেবান যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও সামরিক সরঞ্জাম দেওয়ার চুক্তি নিয়ে আবারও কাবুলে হাজির রাশিয়া। ১৯৮৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। আমু দরিয়া নদীর ওপর নির্মিত ‘ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’ পার হয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ সৈন্যটি যখন উজবেকিস্তানে ফিরে আসছিল, তখন বিশ্ব রাজনীতিতে এক দীর্ঘশ্বাসের পতন ঘটেছিল। কেউ ভাবেনি যে সমসাময়িক কালের মধ্যে রুশরা আবারও কোনোদিন আফগানিস্তানের মাটিতে পা রাখার সাহস করবে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, আফগানিস্তানের বুকে এই নিষ্ফল ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ জড়ানোর খেসারত হিসেবেই শেষ পর্যন্ত ভেঙে গিয়েছিল পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন। এই ঐতিহাসিক ঘটনার পরই মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ তৎকালীন আফগান প্রতিরোধ যোদ্ধা আহমেদ শাহ মাসুদকে ‘স্নায়ুযুদ্ধ জয়ী আফগান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। তৎকালীন তরুণ কেজিবি এজেন্ট এবং বর্তমান রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের মতো রাশিয়ার জাতীয়তাবাদীদের জন্য আফগানিস্তান থেকে এই পিছুটান ছিল এক চরম ঐতিহাসিক অবমাননা। তবে সময় বদলেছে। বর্তমানে বিশ্ববাসীর নজর যখন ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নিবদ্ধ, ঠিক তখনই অত্যন্ত নীরবে ও চতুরতার সাথে আফগানিস্তানে প্রত্যাবর্তন করেছে রুশ সামরিক বাহিনী। কাবুলের বর্তমান শাসক তালেবানের বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম জোগাতে তারা সই করেছে একটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি। শুধু তাই নয়, মস্কোই এখন বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি যারা তালেবানকে আফগানিস্তানের বৈধ সরকার হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া এখন আঠারো শতকের সেই পুরোনো কৌশল পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছে, যেখানে আফগানিস্তানকে ব্যবহার করে সামগ্রিক ইউরেশীয় অঞ্চলের রাজনীতিতে প্রভাব খাটানো সম্ভব। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, পিটার হপকার্কের ‘দ্য গ্রেট গেম’ থেকে শুরু করে রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের ‘কিম’ সবখানেই আফগান মাটিতে রুশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের তীব্র লড়াইয়ের বিবরণ রয়েছে। তখন ব্রিটিশদের মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের মতো মূল্যবান উপনিবেশকে রুশদের হাত থেকে রক্ষা করা। এমনকি ১৮৫৩ থেকে ১৮৫৬ সাল পর্যন্ত ক্রিমিয়ায়ও (যা বর্তমানে অবরুদ্ধ ইউক্রেনের অংশ) রুশদের রুখতে একজোট হয়ে লড়াই করেছিল ব্রিটিশ, অটোমান এবং ফরাসীরা। ইতিহাসের একজন প্রখর ছাত্র হিসেবে ভøাদিমির পুতিন নিশ্চিতভাবেই রাশিয়ার এই অতীতকে ভুলে যাননি। ধারণা করা হচ্ছে, ৩৭ বছর পর মস্কোর এই নাটকীয় প্রত্যাবর্তন আসলে পশ্চিমা শক্তিগুলোকে বিভ্রান্ত ও চাপে ফেলার একটি নতুন কৌশল। আপাতদৃষ্টিতে আমেরিকা এবং ব্রিটেন এই মুহূর্তে এ বিষয়ে খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছে না। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর এখনো কাবুলের কাছে অবস্থিত সোভিয়েত আমলের তৈরি বাগরাম বিমানঘাঁটিটির দিকে। মার্কিনরা এই ঘাঁটিটির আধুনিকায়ন করেছিল এবং ২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তান ছাড়ার আগ পর্যন্ত এটি ব্যবহার করত। ট্রাম্প ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছেন যে, ভবিষ্যতে চীনের বিরুদ্ধে কৌশলগত সুবিধা পেতে তিনি এই ঘাঁটিটি আবারও আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে চান। ইতিহাসের কী অদ্ভুত নিয়তি! ১৯৮৯ সালে সোভিয়েতরা যেভাবে আফগানিস্তান থেকে বিতাড়িত হয়েছিল, ২০২১ সালে মার্কিনদেরও ঠিক একইভাবে তড়িঘড়ি করে পাততাড়ি গোটাতে বাধ্য করা হয়েছিল। ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসনে এমন অনেক সামরিক কর্মকর্তা রয়েছেন যারা মার্কিনদের এই প্রত্যাহারকে ঠিক ততটাই অপমানজনক মনে করেন, যতটা পুতিনের মতো রুশ কর্মকর্তারা ১৯৮৯ সালের সোভিয়েত প্রত্যাহারকে দেখেছিলেন। আল মাজাল্লা।
সামরিক খাতে সৌদির ঐতিহাসিক মাইলফলক
সামরিক খাতে পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর হওয়ার পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে সৌদি আরব। ইউরোপের বাইরে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নিজেদের মাটিতেই রাজকীয় সৌদি বিমান বাহিনীর অত্যন্ত জটিল ও অত্যাধুনিক ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমানের সফল ‘হেভি ওভারহলিং’ বা পূর্ণাঙ্গ কারিগরি সংস্কার সম্পন্ন করেছে তারা। সৌদি আরবের তায়েফে অবস্থিত কিং ফাহদ বিমান ঘাঁটিতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই মহাযজ্ঞ সম্পন্ন হয়, যা বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা খাতে সৌদির ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। সামরিক বিমান চালনায় ‘২,৫০০-ঘণ্টার হেভি মেইনটেন্যান্স ওভারহলিং’-কে অন্যতম কঠিন ও জটিল প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় যুদ্ধবিমানের পুরো কাঠামো বা এয়ারফ্রেম খুলে আলাদা করা হয়। এরপর প্রতিটি অভ্যন্তরীণ পার্টস এবং এভিয়নিক্স বা ইলেকট্রনিক্স সিস্টেম অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করা হয়। সবশেষে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন করে বিমানটিকে আবার সম্পূর্ণ যুদ্ধোপযোগী করে তোলা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে ১৮০ দিন বা প্রায় ৬ মাস সময় লেগেছে। অতীতে এ ধরনের জটিল কাজের জন্য বিমানগুলোকে ইউরোপের বিশেষায়িত ডিপো বা কারখানায় পাঠাতে হতো। এই পুরো হেভি ওভারহলিং প্রক্রিয়ার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো, এতে নিয়োজিত কর্মীবাহিনীর ৮০ শতাংশই ছিলেন সৌদি প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ান। অর্থাৎ পশ্চিমাদের ওপর নির্ভর না করে সৌদি আরব এখন নিজেই নিজের যুদ্ধবিমান সচল রাখার প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করেছে। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’-এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো সামরিক ব্যয়ের অন্তত ৫০ শতাংশ স্থানীয়করণ করা। টাইফুন জেটের এই সফল সংস্কার সেই লক্ষ্য পূরণের একটি বড় এবং ব্যবহারিক প্রমাণ। বর্তমানে সৌদি আরবের বিমান বাহিনীতে ৭২টি ইউরোফাইটার টাইফুন রয়েছে, যার মধ্যে ৭১টিই পুরোদমে সক্রিয়। বহুল আলোচিত ব্রিটিশ কোম্পানি বিএই সিস্টেমস এবং সৌদি পার্টনার আল-সালাম এয়ারক্রাফটের বছরের পর বছর যৌথ প্রচেষ্টার ফসল এই সাফল্য। এর আগে সৌদির অ্যাডভান্সড ইলেকট্রনিক কোম্পানি ইউরোপের বাইরে প্রথম অনুমোদিত টাইফুন এভিয়নিক্স রিপেয়ার এজেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। রিয়াদ বর্তমানে আরও ৪৮টি নতুন ইউরোফাইটার টাইফুন কেনার জন্য চূড়ান্ত আলোচনা চালাচ্ছে। নতুন এই কিস্তি যুক্ত হলে সৌদির টাইফুন বহর দাঁড়াবে ১২০টিতে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তায়েফের এই মেইনটেন্যান্স সেন্টারটি যেভাবে নিজেকে প্রমাণ করেছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য টাইফুন বিমানের প্রধান রিপেয়ার হাব বা মেরামতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। ডিফেন্স ব্লগ।
লেবাননে ইসরাইলের রাসায়নিক আগ্রাসনের নেপথ্যে জার্মানির হাত
লেবাননের সীমান্ত এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর নিষিদ্ধ শ্বেত ফসফরাস ও ক্ষতিকর গ্লাইফোসেট ব্যবহারের পেছনে জার্মানির বহুজাতিক রাসায়নিক কোম্পানি বায়ার গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা মেডিকো ইন্টারন্যাশনাল। ইসরাইলি আগ্রাসনে ব্যবহৃত এসব মারাত্মক রাসায়নিকের উৎস মূলত জার্মানির বায়ার গ্রুপের মালিকানাধীন কারখানা। লেবানন ও সিরিয়ার অধিকৃত অঞ্চলে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এই পরিবেশ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের খবর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। লেবাননের কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা অনুযায়ী, আক্রান্ত এলাকার কিছু নমুনায় স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ গুণ বেশি গ্লাইফোসেটের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্যকে ভয়াবহ ঝুঁকিতে ফেলেছে। ইসরাইলের এই রাসায়নিক যুদ্ধাপরাধের সাথে জার্মানির যোগসূত্রটি তৈরি হয়েছে ২০১৮ সালে, যখন জার্মানির বায়ার গ্রুপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্লাইফোসেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মনসান্টো কিনে নেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সোডা স্প্রিংসে অবস্থিত বায়ারের কারখানা থেকেই এই শ্বেত ফসফরাস মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে সরবরাহ করা হয়েছে বলে জোরালো প্রমাণ মিলেছে। গাজা ও লেবাননে ইসরাইলের চালানো গণহত্যা ও আগ্রাসনে জার্মানির তৈরি অস্ত্র, যুদ্ধজাহাজ এবং রাসায়নিকের এ অন্যায় ব্যবহার নিয়ে খোদ জার্মানির বুন্দেসটাগেও (পার্লামেন্ট) আলোচনা হয়েছে। তবে মার্কিন ও পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যমগুলো বরাবরই ইসরাইলের এসব যুদ্ধাপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করে আসছে। ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উদ্ভিদ বা আগাছানাশক এই বিষাক্ত গ্লাইফোসেট ইসরাইল ২০১৪ সালেই গাজা উপত্যকার অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রথম পরীক্ষা করেছিল। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর যে হামলা চালিয়েছে, সেখানেও এই শ্বেত ফসফরাস ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসন শ্বেত ফসফরাস ও গ্লাইফোসেট তৈরির মূল উপাদান এলিমেন্টাল ফসফরাসকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছে। বায়ারের পরিচালনা পর্ষদ সরাসরি ইসরাইল বা মার্কিন সামরিক বাহিনীকে গ্লাইফোসেট দেয়ার কথা অস্বীকার করলেও শ্বেত ফসফরাস সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে তারা রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে। এই নীরবতা ইসরাইলি আগ্রাসনে বায়ার্সের সরাসরি মদদ দেয়ার প্রমাণকেই আরো স্পষ্ট করে তুলেছে। মিডলইস্ট মনিটর।
কাতারে গ্যাস স্থাপনায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ১৩, আহত ৬৬
কাতারের রাস লাফান শিল্পনগরীর একটি গ্যাস স্থাপনায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৬৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বাংলাদেশিসহ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, তানজানিয়া, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, গিনি ও কাতারের নাগরিক রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ভারতীয় ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিরা রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ বিন শ্রেদা আল-কাবি। গত সোমবার (২২ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে আল-কাবি জানান, রোববার সন্ধ্যায় রাস লাফান শিল্পনগরীর বারজান স্থানীয় গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে পরিচালন কার্যক্রম শুরু করার সময় আকস্মিকভাবে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই জরুরি পরিষেবার দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতদের মধ্যে বাংলাদেশিসহ ভারত, পাকিস্তান, তানজানিয়া, গিনি, নেপাল, কেনিয়া ও নাইজেরিয়ার নাগরিক রয়েছেন। তবে নিহত ১৩ জনের মধ্যে ঠিক কতজন ভারতীয় এবং কতজন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনার পর দোহায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় দূতাবাস বলেছে, রাস লাফানে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি তারা গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছে। নিহত ও আহতদের পরিবারের সহায়তার জন্য ভারতীয় দূতাবাস দুটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে। পাশাপাশি একটি বিশেষ ই-মেইল ঠিকানাও খোলা হয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা ও তথ্য পেতে পারে। এর আগে ভারতীয় দূতাবাস ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে জানিয়েছিল, এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। বিবৃতিতে কাতার সরকারের পাশাপাশি দেশটির জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয় এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা ও নিখোঁজদের নিরাপদে ফিরে আসার কামনা জানানো হয়। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দ্য হিন্দু।
মার্কিন কিংবদন্তি অর্থনীতিবিদ গ্রিনস্প্যান আর নেই
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ অ্যালান গ্রিনস্প্যান মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গ্রিনস্প্যানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার স্ত্রী আন্দ্রেয়া মিচেল। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, পারকিনসন রোগজনিত জটিলতায় অ্যালান গ্রিনস্প্যানের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে কয়েক দশক ধরে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গ্রিনস্প্যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং নিজের ভুল স্বীকার করতেও তিনি সবসময় সৎ ছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যালান গ্রিনস্প্যানকে দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন অর্থনীতির ‘মায়েস্ত্রো’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো। কারণ ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৯৮৭ সালে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন গ্রিনস্প্যান। এরপর ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রায় দুই দশক বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির নেতৃত্ব দেন তিনি। তার মেয়াদকালে যুক্তরাষ্ট্র এক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের সময় অতিক্রম করে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট উভয় দলের একাধিক মার্কিন প্রেসিডেন্টের আমলে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অ্যালান গ্রিনস্প্যান। তার নীতিগত সিদ্ধান্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, বৈশ্বিক আর্থিক বাজার ও বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণেও গভীর প্রভাব ফেলেছিল। অর্থনীতি ও আর্থিক খাতে অসামান্য অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছিলেন এই প্রবীণ অর্থনীতিবিদ। তার মৃত্যুতে বিশ্ব অর্থনীতি অঙ্গনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল। বিবিসি।
বর্ণ বা ধর্মভিত্তিক সহিংসতার কোনো স্থান নেই : স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনস্টার
স্কটল্যান্ডের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন সেখানকার ফার্স্ট মিনস্টার জন সুইনি। এ সময় তিনি মুসলিমদের প্রতি তার সংহতি প্রকাশ করতে চান। নিশ্চিত করতে চান যে, তার সরকার সব ধরনের সহিংসতা, বিভাজন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। এটি এমন সময় হচ্ছে যখন এডিনবরায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে একাধিক হামলা হয়েছে। এ হামলায় ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ওই ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের বয়স ২২, ২৪, ২৭ ও ৩৯। তাদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তবে কারও আঘাতই জীবনঘাতী নয় বলে জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে সুইনি বলেন, স্কটল্যান্ডে বর্ণভিত্তিক বা ধর্মভিত্তিক সহিংসতার কোনো স্থান নেই। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেনÑ ভুক্তভোগীরা এবং ঘটনাটির কারণে উদ্বিগ্ন সম্প্রদায় সবার প্রতিই আমার সহানুভূতি রইল। আমাদের সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে এডিনবরায় ঘটে যাওয়া এই ঘৃণ্য হামলার তীব্র নিন্দা জানাতে হবে। ইসলামবিদ্বেষী ঘৃণা নিন্দনীয় এবং সাম্প্রতিক সময়ে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে বিভাজন তৈরির যেকোনো চেষ্টা আমরা গ্রহণ করতে পারি না। স্কটল্যান্ডে বসবাসকারী সবাই, যারা এখানে জন্মেছেন এবং যারা স্কটল্যান্ডকে নিজেদের ঘর বানিয়েছেন তারা স্কটল্যান্ডের আশা, সহনশীলতা ও সংহতির মূল্যবোধকে প্রতিফলিত করেন। এই মূল্যবোধগুলো অবশ্যই লালন, রক্ষা ও শক্তিশালী করতে হবে। আমাদের সবাইকে একসঙ্গে এগুলো নিশ্চিত করতে হবে। কমিউনিটিগুলো যেন নিরাপদ ও সমর্থিত বোধ করে, সেজন্য পুলিশ স্কটল্যান্ড যে কাজ করে যাচ্ছে তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমি কমিউনিটিকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, আমার সরকার সব ধরনের সহিংসতা, বিভাজন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেবে। বিবিসি।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতলেন ট্রাম্প-সমর্থিত আবেলার্দো
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থি প্রার্থী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা অল্প ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। প্রাথমিক ভোট গণনায় ৯৯ শতাংশের বেশি ফল বিশ্লেষণের পর তাকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। এই নির্বাচনী ফল ঘিরে দেশটিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা পেয়েছেন ৪৯ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বামপন্থি প্রার্থী ইভান সেপেদা পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। খুব সামান্য এই ব্যবধানের কারণে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগেই পরিস্থিতি ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। নির্বাচনী ফল ঘোষণার পর বারানকিয়া শহরে হাজারো সমর্থকের সামনে বিজয় উদযাপন করেন ডি লা এসপ্রিয়েলা। তিনি বলেন, এটি কলম্বিয়ার জন্য নতুন এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা, যেখানে জনগণের মতামতই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি। তিনি আরও জানান, যারা তাকে ভোট দেননি, তাদেরও তিনি সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন। অন্যদিকে পরাজিত প্রার্থী ইভান সেপেদা ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেন, পূর্ণাঙ্গ যাচাই ও আনুষ্ঠানিক গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ফলকে চূড়ান্ত হিসেবে ধরা যাবে না। তার এই অবস্থানের কারণে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডি লা এসপ্রিয়েলার বিজয়কে কেন্দ্র করে তার সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে উদযাপন করেন। জাতীয় পতাকা, ফুটবল দলের জার্সি এবং সংগীতের মাধ্যমে তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কিছু জায়গায় উত্তেজনাও দেখা যায়, যদিও অধিকাংশ এলাকায় পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণে। তবে কলম্বিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালীতে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন পতাকা পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডি লা এসপ্রিয়েলার জয়কে স্বাগত জানান। তিনি তার নিরাপত্তা ও মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থানের প্রশংসা করেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কয়েকজন ডানপন্থি নেতা এই ফলকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। ডি লা এসপ্রিয়েলা পেশায় আইনজীবী ও ব্যবসায়ী। রাজনীতিতে এটি তার প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার কঠোর নিরাপত্তা নীতি ও জনতাবাদী অবস্থান নিয়ে ইতোমধ্যে তাকে বিভিন্ন মহলে নায়িব বুকেলের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। এপি।
দনবাস দখলের দ্বারপ্রান্তে রুশ বাহিনী
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্ত্যন্তীনিভকায় (কড়ংঃুধহঃুহরাশধ) ঢুকে পড়েছে রুশ বাহিনী। পুরো শহরটি বর্তমানে কার্যত একটি ‘গ্রে জোনে’ বা নিয়ন্ত্রণহীন এলাকায় পরিণত হয়েছে। ইউক্রেনীয় সেনাদের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, রুশ সেনারা শহরটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। কোস্ত্যন্তীনিভকাকে বলা হয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রবেশদ্বার। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শহরের পতন ঘটলে ক্রেমলিনের জন্য ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে দেশটির শেষ দুটি শক্তিশালী ঘাঁটি ক্রামাতোরস্ক এবং স্লোভিয়ানস্কের দিকে অগ্রসর হওয়া সহজ হবে। এর ফলে পুরো দনবাস অঞ্চল সম্পূর্ণভাবে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা এই যুদ্ধে মস্কোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ইউক্রেনের এক ড্রোন পাইলট নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, রুশ ইনফ্যান্ট্রি বা পদাতিক বাহিনী ইউক্রেনীয় লাইনের পেছন দিক থেকে শহরে অনুপ্রবেশ করছে। শহুরে যুদ্ধের (টৎনধহ ধিৎভধৎব) প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তাদের হটিয়ে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, সরবরাহ রুটগুলো নিয়মিত আক্রান্ত হচ্ছে এবং বড় লজিস্টিক ড্রোনগুলো ভূপাতিত করা হচ্ছে। এমনকি রুশ বাহিনী এখন এতটাই কাছাকাছি চলে এসেছে যে তারা সাধারণ ও সস্তা চীনা ড্রোন ব্যবহার করেই ইউক্রেনীয় ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করে ধ্বংস করছে। এদিকে ইউক্রেনের ১৯তম কর্পসের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওলেক্সান্দর বাকুলিন দাবি করেছেন, পরিস্থিতি এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শত্রু পক্ষ সফল হতে পারেনি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, শহরের ভেতরে এখনও প্রায় ১৩০ জন রুশ সেনা অবস্থান করছে। অন্যদিকে ফ্রন্টলাইন পর্যবেক্ষণকারী ইউক্রেনীয় প্রজেক্ট ‘ডিপস্টেট’ (উববঢ়ঝঃধঃব) অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে জানিয়েছে, কোস্ত্যন্তীনিভকার পতন এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। আর এটি ঘটলে পার্শ্ববর্তী ক্রামাতোরস্ক শহরে অবস্থান করা ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য চরম বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। সম্মুখভাগে লড়াই করা ইউক্রেনীয় সেনারা জানিয়েছেন, তারা পর্যাপ্ত সেনা সহায়তা পাচ্ছেন না এবং ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার মতো নতুন সৈন্যও পাঠানো হচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার ভেতরে তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা এবং ক্রিমিয়ায় তীব্র জ্বালানি সংকটের খবর থেকে বিশ্ববাসীর মনোযোগ সরাতেই ক্রেমলিন এখন যেকোনো মূল্যে দ্রুত কোস্ত্যন্তীনিভকা দখল করতে চাইছে। রয়টার্স।
গাজায় ইসরাইলি হামলায় সাংবাদিকসহ নিহত ১১
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২০ জুন শনিবার ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য এবং আল-জাজিরার একজন ক্যামেরাপারসন রয়েছেন। গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানিয়েছে, গাজা সিটির সাবরা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে রাতভর চালানো হামলায় আল-সাফাদি পরিবারের চার সদস্য- স্বামী, স্ত্রী এবং তাদের দুই কন্যা নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আরো ১২ জন আহত হয়েছেন। গাজার আল-শিফা হাসপাতাল এ চারজনের লাশ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নিহতদের আত্মীয় নায়েল আল-সাফাদি বলেন, ‘প্রায় ২টার দিকে আমার চাচাতো ভাইরা ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন তাদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। তাদের হামাসের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, কিছুতেই জড়িত নন। তারা শুধু নির্মল শিশু’। হামলায় বেঁচে যাওয়া মোহাম্মদ আল-সাফাদি বলেন, ‘আল্লাহর কসম, আমি এখনো স্বপ্নে আছি- আমি কখনো ভাবিনি আমাদের সাথে এমন হবে। আমি একজন বেসামরিক নাগরিক। আল্লাহর কসম, আমি কখনো অস্ত্র বহন করিনি বা গুলি চালাইনি। তোমরা আমার কাছ থেকে কী চাও? যাকে খুঁজছ তাকে ধরো, এতে আমার কী দোষ’? অন্যদিকে, আল-শিফা হাসপাতাল জানিয়েছে, গাজা সিটির উত্তরে একটি চৌরাস্তার কাছে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় আরো একজনের লাশ তারা পেয়েছে। এরপর গত শনিবার (২০ জুন) পৃথক ইসরাইলি হামলায় আরো ছয়জন নিহত হয়েছেন। সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি বাড়িতে ইসরাইলি বিমান হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আহমেদ উইশাহ। তিনি ওই চ্যানেলের ক্যামেরাম্যান ছিলেন। আল-জাজিরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি তাদের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘অপরাধের ধারাবাহিকতা’। এ নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর গাজায় আল-জাজিরার নিহত কর্মী ও সাংবাদিকের সংখ্যা ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় কমপক্ষে ১,০১২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। হামাস ইসরাইলকে প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে এবং গাজা ভূখণ্ডে রক্তপাত অব্যাহত রয়েছে। এই ধ্বংসাত্মক হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধের প্রচেষ্টা এখনো থমকে রয়েছে। ডন অনলাইন।
ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ‘ব্রেকিং ব্যাড’খ্যাত মার্কিন অভিনেতা এস্পোসিতো
মার্কিন টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়ানকার্লো এস্পোসিতো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজে গাস ফ্রিং চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেতা বর্তমানে সৌদি আরবে একটি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন। সেখানেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন। সৌদি আরবের জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির প্রধান তুর্কি আল-শেখ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এস্পোসিতো শাহাদাহ পাঠের মাধ্যমে ইসলামে দীক্ষিত হন। শুটিং চলাকালে তিনি একটি মসজিদে সহকর্মীদের সঙ্গে নামাজেও অংশ নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে তাকে মুসল্লিদের সঙ্গে কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। তুর্কি আল-শেখ জানান, সৌদি আরবে অবস্থানকালে স্থানীয় মুসলিম সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয়, তাদের জীবনযাপন ও ইতিবাচক আচরণ এস্পোসিতোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। দেশটির মানুষের আন্তরিকতা, অতিথিপরায়ণতা এবং সামাজিক সম্প্রীতিরও প্রশংসা করেছেন এই হলিউড অভিনেতা। দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয়জীবনে জিয়ানকার্লো এস্পোসিতো টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিশেষ অবস্থান তৈরি করেছেন। ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং তাকে একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কারের মনোনয়ন এনে দিয়েছে। এছাড়া ‘বেটার কল সল’ ও ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান’-এর মতো জনপ্রিয় সিরিজেও তার অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের সমানভাবে মুগ্ধ করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, এস্পোসিতো বর্তমানে ‘সেভেন ডগস’ নামের একটি উচ্চ বাজেটের চলচ্চিত্রের কাজ নিয়ে সৌদি আরবে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাতা ও তারকাদের আকৃষ্ট করে দেশটির বিনোদন খাতকে আরও বিকশিত করার যে পরিকল্পনা সৌদি আরব বাস্তবায়ন করছে, এই প্রকল্পকে তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আনাদোলু এজেন্সি।
বলিভিয়ায় বিক্ষোভ দমনে জরুরি অবস্থা জারি
বলিভিয়ায় টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কারণে দেশটির প্রেসিডেন্ট গত শনিবার (২০জুন) দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সড়ক অবরোধ অপসারণে সেনাবাহিনী ও বুলডোজার মোতায়েন করা হয়েছে। এসব অবরোধের কারণে দেশটির স্বাভাবিক জনজীবন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির। গত ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে শ্রমিক ইউনিয়ন, আদিবাসী সংগঠন ও কোকা চাষিদের বিভিন্ন গোষ্ঠী দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। এই গোষ্ঠীগুলো শহরগুলোতে বিক্ষোভ মিছিল করছে এবং সড়কে পাথর, গাছের গুঁড়ি ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যোগাযোগব্যবস্থা অচল করে দিয়েছে। এসব অবরোধের কারণে দেশের বড় বড় শহরে জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে অর্থনীতিতে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে এবং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে গত দুই দশকের মধ্যে বলিভিয়ার প্রথম অসমাজতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুমকি সৃষ্টি করেছে। সংকট নিরসনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ২০ জুন শনিবার ভোরে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ সতর্ক করে বলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংকট মোকাবিলায় তিনি ৯০ দিনের জন্য দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। জরুরি অবস্থার আওতায় বিক্ষোভ-সমাবেশের অধিকার সীমিত করা হয়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরে সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এএফপির সাংবাদিকেরা জানান, প্রেসিডেন্টের ভাষণের কয়েক ঘণ্টা পরই এল আলতো শহরে সেনা ও সশস্ত্র পুলিশের বহর দেখা যায়। একইসঙ্গে বুলডোজার দিয়ে বিভিন্ন সড়ক অবরোধ অপসারণ শুরু করা হয়। সেখানে অনেক বাসিন্দাকে নিরাপত্তা বাহিনীর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাতে দেখা গেছে। এ সময় এক ব্যক্তি একটি পিকআপ ট্রাকের পেছনে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তার হাতে রুটিভর্তি একটি ব্যাগ তুলে দেন। এএফপিকে ৩৯ বছর বয়সী দোকানদার কার্লা বুত্রোন বলেন, ‘আমি খুবই খুশি।’ তিনি আরও বলেন, গত প্রায় ৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে এল আলতোতে কাজকর্ম, স্বাভাবিক চলাচল সবই ব্যাহত ছিল। এএফপি।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান