ইরানকে শায়েস্তা করার পশ্চিমা অপরাধের সুযোগ নিয়েছে চীন
১৮ জুন ২০২৬ ১০:৫০
॥ ফেরদৌস আহমদ ভূইয়া ॥
চার দশক পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। এ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ইরানকে মেনে নিয়েছে আমেরিকা। ৪৭ বছর ধরে বৈরিতা, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক হুমকি ও শেষ পর্যন্ত হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র অনেকটা নতি স্বীকার করেই ইরানের সাথে এ সমঝোতা স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে। ১৯ জুন শুক্রবার জেনেভায় এ চুক্তিটি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে শান্তির জন্য, কিন্তু বিগত ৪৭ বছরে বিশ্বের আকাশ-বাতাস ও সমুদ্রের পানি অনেক গড়িয়ে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। বিশ্ব রাজনীতির খেলারও গতি প্রকৃতি পাল্টে গেছে। ইরানে মার্কিনপন্থি শাহকে হটিয়ে ইসলামপন্থিরা ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। বিগত ৪৭ বছরে এহেন কোনো প্রতিরোধ পন্থা নেই, যা যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করেনি।
বিগত ৪৭ বছর ধরে তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক অবরোধ আরোপ করার আসল মাহাত্ম্য ছিল ইরানের ইসলামপন্থি সরকারকে মেনে নিতে না পারা। ইরানের কয়েক হাজার কোট ডলার অর্থ আটকিয়ে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবেও পঙ্গু করে দেয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে ইরানের ইসলামপন্থি সরকারগুলোকে ক্ষমতাচ্যুত করে ইরানকে নিয়ন্ত্রনেরও চেষ্টা করেছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলোর অনৈতিক অবরোধ, চাপ, সামরিক হুমকি ও হামলার পরও ইরান তার স্বাধীনতা টিকিয়ে রেখে নিজেদের সামরিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে তার বলয় ও কূটনৈতিক ও সামরিক বিজয় অর্জন করেছে। অবশ্য পশ্চিমাদের অনৈতিক অবরোধের কারণে ইরানকে চীনের সাথে এক অসম চুক্তি করতে হয়েছে। আর চীনও এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ছাড় মূল্যে তেল কিনে অর্থনৈতিক সুবিধা বাগিয়ে নিচ্ছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে যত অবরোধ
১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে ইসলামপন্থিরা ক্ষমতায় আসে। ইসলামপন্থিরা ক্ষমতায় আসার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো ইরানের বিরুদ্ধে ১৯৭৯ সালে অবরোধ আরোপ করে। তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল ও জিম্মি সংকটের জবাবে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। পরবর্তী দশকগুলোয় বিভিন্ন সময়ে এই অবরোধ আরও কঠোর থেকে কঠোর করা হয়।
ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ১৯৮৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ১৯৮৭ ও ১৯৯৫ সালে মার্কিন পণ্য আমদানিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং ১৯৯৫ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের মাধ্যমে সর্বাত্মক বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ২০০২ ও ২০১০ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ ও পরবর্তীতে বারাক ওবামার প্রশাসন আরো কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও ব্যাংকগুলোর ওপর বিধিনিষেধ জারি করে।
‘যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞা’ বনাম ‘অর্থনৈতিক লাইফলাইন’
আমেরিকা ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ (Maximum Pressure) নীতি প্রয়োগ করে একের পর এক কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়েছে। এর ফলে ইরান আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা (SWIFT) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক বাজারে বৈধভাবে তেল বিক্রি করার রাস্তা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর মতো তেলই হচ্ছে ইরানের অর্থনৈতিক লাইফলাইন।
অর্থনৈতিক সংকটের চরম মুহূর্তে চীন ইরানের কাছে একটি ‘লাইফলাইন’ বা বাঁচবার উপায় হিসেবে আবির্ভূত হয়। তাই ইরান বাধ্য হয়ে চীনের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা একটি অসম চুক্তি হিসেবেই বিবেচিত।
ইরানের বাধ্যবাধকতা
অর্থনীতি সচল রাখতে এবং শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে ইরানের যেকোনো উপায়ে তেল বিক্রি করা জরুরি ছিল। পশ্চিমা বিশ্ব মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় ইরানের সামনে চীন ছাড়া আর কোনো বড় বিকল্প ছিল না। ইরানের শাসকবৃন্দ বাধ্য হয়ে চীনের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে চীনও তার কৌশল প্রয়োগ করে ইরানকে অনেকটা কব্জা করে নেয়।
চীনের কৌশল
চীন কোনো যুদ্ধ না করে, বরং ইরানের এই নিরুপায় পরিস্থিতির পূর্ণ সুযোগ নেয়। তারা ইরানকে বোঝাতে সক্ষম হয় যে, নিষেধাজ্ঞার বাজারে চীনই একমাত্র বন্ধু যে তাদের তেল কিনবে এবং বিনিময়ে তাদের ধ্বংসপ্রায় অবকাঠামোয় পুঁজি দেবে। তারপর চীন অবিশ্বাস্য মূল্যে ইরানের তেল ও ‘নিশ্চিত ছাড়’-এর (Steep Discounts) সুযোগ নেয়। ইরানও বাধ্য হয়ে ছাড় দিয়ে চীনের কাছে তেল বিক্রি করতে রাজি হয়। তেল ক্রয়সহ অর্থনৈতিক বিষয়ে চীন ইরানের সাথে একটি চুক্তি করে।
চুক্তির শর্তানুযায়ী, চীন আগামী ২৫ বছর ধরে ইরানের তেল ও গ্যাস কেনার ক্ষেত্রে ‘প্রথম অগ্রাধিকার’ পাবে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যতই বাড়ুক না কেন, চীন সবসময় সস্তায় এবং নিশ্চিতভাবে তেল পেয়ে যাবে, যা চীনের বিশাল জ্বালানি চাহিদার নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
চুক্তি অনুযায়ী, চীন কিন্তু বাজারমূল্যে ইরানি তেল কিনছে না। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি নেওয়ার অজুহাতে চীন প্রতি ব্যারেলে ৮ থেকে ১২ ডলার পর্যন্ত বিশাল ছাড় (Discount) পায়।
ইরানের চীনের কাছে ছাড়মূল্যে তেল বিক্রি ও ৪০০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করে তার দেশের অর্থনীতি তথা অর্থনৈতিক লাইফলাইনকে সচল রাখে।
কী সেই ইরান ও চীন অসম চুক্তি
যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনা ও চাপের কারণে পশ্চিমা বিশ্ব ইরানের ওপর অবরোধ আরোপের প্রেক্ষিতে তেহরানকে তার ভূূ-রাজনৈতিক কৌশলকে সাজাতে হয়েছে অনেক কিছু ছাড় দিতে হচ্ছে। পশ্চিমা অপশক্তি যখন রাজনৈতিক, বানিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও সামরিকসহ সব দিক থেকে তেহরানের ওপর অনৈতিক অবরোধ চাপিয়ে দেয়ায় ইরান অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন হয়। তখন ইরান তার দেশ ও অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে চীনের সাথে অনেক ছাড় দিয়ে এক ২৫ সালা একটি চুক্তি করে। ২০২১ সালের ইরান-চীন চুক্তি করে। ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্রী ইরান ও গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের মধ্যকার পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ এ নামে করা চুক্তিটি হলো দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক ২৫ বছর মেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতা কর্মসূচি।
২০২১ সালের ২৭ মার্চ ইরানের রাজধানী তেহরানে তৎকালীন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন। এ চুক্তির আওতায় চীন আগামী ২৫ বছর ইরানে ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।
চীন এ চুক্তির আওতায় বিশাল অর্থনৈতিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা হাতে নেয়। এই চুক্তির আওতায় চীন আগামী ২৫ বছরে ইরানের অর্থনীতি, ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, বন্দর, রেলওয়ে, স্বাস্থ্যসেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রায় ৪০,০০০ কোটি (৪০০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করেছে।
বিপুল বিনিয়োগের বিনিময়ে ইরান চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির জন্য নিয়মিত, স্থিতিশীল এবং হ্রাসকৃত (ছাড়) মূল্যে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করার মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে।
চুক্তিতে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ, মহড়া, যৌথ সামরিক গবেষণা, অস্ত্র তৈরি এবং গোয়েন্দা তথ্য বা গুপ্তচর তথ্য ভাগাভাগি করা।
চীন ইরানকে তাদের নিজস্ব ‘বেইডু’ (Beidou) স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, যা ইরানের সামরিক ও ড্রোন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের বৈশ্বিক অবকাঠামো প্রকল্প বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI)–এর সাথে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়েছে।
‘ইরান যুদ্ধ : যুক্তরাষ্ট্রের অহংকার ভাঙল যেভাবে’
বিবিসির বিশ্লেষণে ‘ইরান যুদ্ধ : যুক্তরাষ্ট্রের অহংকার ভাঙল যেভাবে’- এ শিরোনামে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ এখন পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় ভুলের এক উদাহরণ হয়ে থাকবে। এ যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভবিষ্যতে শত্রুদের দমানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
এ যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল উৎপাদনকারী আরব দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জোট বা বন্ধুত্বে ফাটল ধরেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চরম অশান্তি ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে আরব দেশগুলো নিজেদের ‘স্থিতিশীলতার প্রতীক’ হিসেবে গড়ে তুলেছিল। এটি ছিল তাদের ব্যবসায়িক মডেল বা মূল শক্তি। কিন্তু এ যুদ্ধের কারণে তাদের সেই স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তি এতটাই নষ্ট হয়েছে যে, তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বা মেরামত করতে এখন বহু বছর লেগে যাবে।
এসব দেশের কর্মকর্তারা এখন গোপনে জোট পরিবর্তনের কথা বলছেন। তারা সমুদ্রের ওপারের দেশ ইরানের সঙ্গে মানিয়ে চলার পথ খোঁজার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও তার বিপুল পরিমাণ আধুনিক অস্ত্র ফুরিয়ে ফেলেছে। সেইসঙ্গে তার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অন্যদিকে চীন পুরো বিষয় খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে।
শেষ মুহূর্তে বড় কোনো বাধা না এলে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান হবে। মূলত তেহরানের শক্তি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করেই এ যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। যুদ্ধের কারণে যাদের জীবন লণ্ডভণ্ড হয়েছে, তারা এখন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলবেন। বিশেষ করে যুদ্ধের সামনের সারিতে থাকা বেসামরিক মানুষেরা বড় বাঁচা বাঁচবেন।
ইরানি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলো যদি সত্য হয়, তাহলে এই চুক্তির মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করা, নৌ অবরোধ ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করা এবং ইরানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানানো ও তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার।
কিন্তু ক্ষত শুকাবে কিভাবে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক এক বড় ঘটনা এবং এটা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিসহ বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত। মূল প্রশ্ন শুধু স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া নথির বিষয়বস্তু নয়। এর গভীরতর বাস্তবতা হলো প্রায় পাঁচ দশকের সংঘাতের পর ওয়াশিংটন হয়তো অবশেষে সেই বাস্তবতা স্বীকার করছে, যা ঘটনাপ্রবাহ ইতোমধ্যেই দেখিয়ে দিয়েছে: মধ্যপ্রাচ্যের গতিপথ এককভাবে নির্ধারণ করার যে যুগে যুক্তরাষ্ট্র ছিল একচ্ছত্র শক্তি, সেই যুগ ধীরে ধীরে শেষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে বিগত পাঁচ দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব ইরানের সাথে যে অনৈতিক অবরোধ ও হামলা করেছে সে ক্ষত কি ইরানের জনগণ ভুলবে?
তারপরও বিশ্ববাসী অধীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সার্বিক শান্তি চুক্তি স্থাপনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসুক। দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের খবরে ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম চার শতাংশ কমেছে, যা বিগত তিন মাসের সর্বনিম্ন। বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা এ চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। কারণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অনৈতিক হামলার কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও জ¦ালানি সরবরাহ ও মূল্যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়। আর এ তেল ও জ¦ালানি সরবরাহের সাথে বিশ্ব অর্থনীতি এখন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কারণ এ যুদ্ধ শুধু ইরান নয়, সারা বিশ্বকে প্রভাবিত করেছে; বিশেষ করে বিশ্বের রাজনৈতিক ও বিশেষ করে অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা, পশ্চিমা বিশ্ব ওয়াশিংটনের অনৈতিক অবরোধ ও যুদ্ধের প্রতি অন্ধ সমর্থন না জানিয়ে, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রেখে বিশ্ব শান্তির জন্য কাজ করবে।
লেখক : বার্তা সম্পাদক, সাপ্তাহিক সোনার বাংলা।
ই-মেইল : ferdous.ab@gmail.com